নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

ভালো-মন্দের বাজেট

  ড. আর এম দেবনাথ ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

এতদিন প্রশ্ন ছিল, কেমন হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট? আজ থেকে প্রশ্ন- কেমন হল নতুন বাজেট? এর উত্তর সহজ নয়। সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটে জিনিসপত্রের দাম বাড়ল কিনা এটাই বড় প্রশ্ন। মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্ন, কর হ্রাস-বৃদ্ধি হল কিনা।

আর অর্থনীতিবিদদের কাছে প্রশ্ন অনেক : মূল্যস্ফীতি, আয়-ব্যয়, উন্নয়ন কর্মসূচি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, সরকারি ঋণ, রেমিটেন্স, আমদানি-রফতানি থেকে শুরু করে আরও অনেক বিষয়।

যেদিক দিয়েই বিবেচনা করা হোক না কেন, নতুন বাজেটকে অতি ব্যতিক্রমী একটা বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না। অথচ বিগত কিছুদিন ধরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কথা শুনে মনে হয়েছিল এবার ভীষণ ব্যতিক্রমী একটা বাজেট আমরা উপহার পাব। কিন্তু তিনি অসুস্থ অবস্থায় যে বাজেট দিয়েছেন তা অন্যান্য বছরের বাজেটের মতোই।

বাজেটের মূলকথা রাজস্ব ব্যয় কত, আর ওই টাকা কোত্থেকে জোগাড় করা হবে। দ্বিতীয় দিক হচ্ছে উন্নয়ন বাজেট। আয়-ব্যয়ের পর উন্নয়নের জন্য কিছু টাকা থাকবে কিনা। এসব প্রশ্ন উঠে এ কারণে যে, আমাদের আয় কম, ব্যয় বেশি। এর জন্য ঋণ করতে হয় বাজার থেকে। শেষ ফল উন্নয়নের জন্য টাকা থাকে না। এর জন্যও ঋণ করতে হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ভাগ্যেও তাই ঘটেছে। আয়-কম, ব্যয় বেশি। বরং দেখা যাচ্ছে, বিগত চার বছরে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে খরচ, অথচ আয় সেভাবে বাড়ছে না। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে খরচ বেড়েছে ৯৪ শতাংশ, বিপরীতে আয় বেড়েছে ৮৯ শতাংশ।

এর ফলে ঘাটতি বৃদ্ধির দিকে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ঘাটতি এক, আবার চার বছর আগের তুলনায় আরেক। তখন ঘাটতি ছিল সাড়ে তিন শতাংশ, আর এখন ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি থেকে আমাদের মুক্তি নেই। মুক্তি আছে যদি আমরা বেশি বেশি কর আদায় করতে পারি, বিশেষ করে আয়কর। অথচ দেখা যাচ্ছে এটি হচ্ছে না।

কয়েক বছরের পরিসংখ্যান নিলে দেখা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আয়ে আয়করের অবদান হ্রাস পেয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এনবিআরের মোট আয়ে আয়করের অবদান ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা হবে ৩৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, ‘যাহা বায়ান্ন তাহাই তেপ্পান্ন’।

আমরা রাজস্ব আহরণে অপারগ হয়ে দিনদিনই নির্ভরশীল হচ্ছি পরোক্ষ করের ওপর যা অবিচারের একটা অস্ত্র। যেমন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। চার বছরে এর অবদান এক শতাংশ বাড়বে বলে নতুন বাজেটে বলা হয়েছে। এ ভ্যাটে গরিব ও মধ্যবিত্তের অবদান বেশি। এর করহার সবার জন্য এক। গরিবের জন্য যা, অতি ধনীর জন্যও তাই। এতে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে। এর বড় শিকার আমরা।

এ ধরনের পরোক্ষ করের কারণে দেশে বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রেও তাই। এর ওপরও আমাদের নজর বেশি। এর দ্বারা বোঝাতে চাইছি, আমাদের সরকার বাজেটের খরচের জন্য গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার সাহস করে ধনীদের, বিত্তবানদের ওপর কর বসাতেই পারছে না।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে খরচের বাজেট ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর মোট আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার হচ্ছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অতএব বাজেট ঘাটতির পরিমাণ (অনুদান ব্যতীত) ১ লাখ ৪৫ হজার ৩৮০ কোটি টাকা। ঘাটতির বিপরীতে উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণটা মেলালে পরিষ্কার বোঝা যাবে আমরা উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ঋণের ওপরই নির্ভরশীল। এটা হতো না যদি কর আয় বাড়ানো যেত।

অনেকদিন ধরে শুনছি এক কোটি করদাতা করা হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। যত জুলুম সব পুরনো করদাতাদের ওপরই। এমনকি ধনীদেরকে ধরা হয় না। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেটা হচ্ছে- করদাতাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। করমুক্ত আয়সীমা, করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

অথচ গত ৩-৪ বছরের প্রতি বছরে ৫-সাড়ে ৫ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। কথায় কথায় ভারতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অথচ তাদের করমুক্ত আয়সীমা আমাদের দ্বিগুণেরও বেশি। দেখা যাচ্ছে, তথাকথিত সম্পদ করেও এবার রেয়াত দেয়া হয়েছে।

এর সীমা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বড় ধনীদের গৃহ-সম্পত্তির মালিকদেরকে ধরা হয় না। তাদের সম্পদ কর দিতে হয় না। এবারও এর কোনো প্রতিকার হল না। উল্টো দেখা যাচ্ছে, কালো টাকা বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীকে আয়ের উৎস প্রদর্শন করতে হবে না।

এদিকে সম্পদের ব্যবহারের চিত্রটি কী? ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা কোথায় খরচ করা হবে? ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দের সঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনা করলে দেখা যায়, মোট বরাদ্দের অংশ হিসেবে খরচ বাড়বে ‘শিক্ষা ও প্রযুক্তি’তে। যেসব খাতে বাড়বে সেগুলো হচ্ছে : পরিবহন ও যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, জনপ্রশাসন ও গৃহায়ন। কমেছে সুদব্যয়, স্বাস্থ্য খাতের খরচ, কৃষির বরাদ্দ, প্রতিরক্ষার ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে। উল্লেখযোগ্য, স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় হ্রাস কি ভালো লক্ষণ? মজার তথ্য হচ্ছে সুদব্যয়।

একশ্রেণীর লোক সমানে বলে যাচ্ছে সুদব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের সুদের জন্য সরকারের মোট সুদব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ঘটনা হচ্ছে টাকার অঙ্কে বাড়লেও শতকরা হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমবে। এবারের বাজেটে খরচ সংকুলানের জন্য ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। কীভাবে তা সম্ভব? সরকার সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। তাদের অবস্থা তো ভালো নয়। তারা তারল্য সংকটে আছে। ছয় শতাংশ হারে আমানত নিতে গিয়ে তারা এখন আমানত পাচ্ছে না।

কিছু বেসরকারি ব্যাংক ৯-১০ শতাংশ হারে আমানত নিচ্ছে। তারা আমানত ও ঋণের ওপর সুদের তারতম্য ‘স্প্রেড’ও মানছে না। এ অবস্থায় রাজস্ব আয় নিয়মিতভাবে বাড়লে সরকার ব্যাংক ঋণ জোগাড় করবে কীভাবে? করেও যদি তাহলে তো বেসরকারি খাত কোনো ঋণ পাবে না। ইতিমধ্যেই খবর বেসরকারি খাত ঋণ পাচ্ছে না। বস্তুত এ খাতে ঋণ সরবরাহ কমছে।

এর সঙ্গে সম্পর্ক বেসরকারি বিনিয়োগের। এর পরিমাণও স্থবির। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে সীমিত হয়ে আছে। অথচ সরকার ‘জিডিপি’ প্রবৃদ্ধির হার ধরেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগকে স্থবির রেখে কীভাবে তা সম্ভব বোঝা যায় না। আর এটি না হলে সরকার যে ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলে বাজেটে অঙ্গীকার করেছে তা কীভাবে সম্ভব হবে?

যে ব্যাংক খাত দেশে এত সমালোচনার মধ্যে পড়েছে, সেই খাতের ওপর খুব বেশি সংস্কার প্রস্তাব নেই। অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের জন্য বেশ কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ঋণখেলাপের সংজ্ঞা বদল করেছিলেন। কিন্তু ওইসব পদক্ষেপ উচ্চ আদালতে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ঋণখেলাপ সমস্যা আরও বেড়েছে। ভালো গ্রাহকরা এখন টাকা ফেরত দিচ্ছে না। বাজেটে তিনি বলেছেন, উদ্যোক্তাদের ‘এক্সিটের’ ব্যবস্থা করবেন।

ভালো কথা, এর জন্য তো দেউলিয়া আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করতে হবে। অনেক সময়ের প্রশ্ন কিন্তু। তারপর কথা ছিল ‘ব্যাংক কমিশনের’ একটা প্রস্তাব আসবে। কিন্তু নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ সম্পর্কে কোনো অঙ্গীকারই করলেন না। ঋণখেলাপি সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সংজ্ঞা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি প্রস্তাব করেছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে শেয়ারবাজার থেকে ঋণ নেয় তার ব্যবস্থা করবেন। আমরা ‘ব্যাংক ফিন্যান্স কোড’ গ্রোথ মডেল অনুসরণ করছি।

এর থেকে বেরিয়ে শেয়ারবাজারকে মূলধনের জায়গা করা হবে- এটি ভালো কথা। এই কথা শুনছি অনেকদিন ধরে। কঠিন কাজ। আমাদের বড় ব্যবসায়ীরা জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে চান বলে মনে হয় না। ব্যাংকিং খাত যে সমস্যায় ভুগছে তার অন্য একটি দিক আছে। সরকারের ‘নয়ছয়’ দুর্নীতি মূলত বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে একটি অবস্থান। এর ফলে এই খাতে বিরাট সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় স্বল্পমেয়াদি আমানত ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সৃষ্ট মিসম্যাচের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত (টার্ম ডিপোজিট) এখন ৯০ শতাংশের ওপরে। বাকিটা ডিমান্ড ডিপোজিট (তলবি আমানত)। এই তথ্যটিকেও অর্থমন্ত্রী তার বিবেচনায় আনবেন বলে আশা করি।

উপরোক্ত দুর্বলতাগুলো থাকা সত্ত্বেও বাজেটের কতগুলো ভালো দিক রয়েছে। যুবকদের মধ্যে ব্যবসার উদ্যোগ সৃষ্টি করার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে নতুন বাজেটে। এতে ‘স্টার্টআপ’ উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে হয়। রেমিটেন্সের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বৈধনামে রেমিটেন্সকে উৎসাহিত করার জন্য আগামী বছর থেকে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে।

কেউ কেউ বলেছিল, টাকার অবমূল্যায়ন করার জন্য। এটি না করে প্রণোদনার সিদ্ধান্ত আমি সমর্থন করি। টাকার অবমূল্যায়ন মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। বাজারকে অস্থিতিশীল করবে। বরং আমি মনে করি, ব্যবসায়ীদের ৯ শতাংশ হারে ঋণ দেয়া এবং ৬ শতাংশ হারে আমানত দেয়ার যে সিদ্ধান্ত তা বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যাংকের যে লোকসান হয় তা-ও প্রণোদনার মাধ্যমে ফয়সালা করা যায়। সরকার তা ভেবে দেখতে পারে। আমার গ্রাম আমার শহর ধারণাটি চমৎকার। গ্রামগুলো শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করুক সবাই আমরা চাই। তবে গ্রামের বৈশিষ্ট্যগুলো যাতে বজায় থাকে সে ব্যবস্থাও দরকার।

সামাজিক সুরক্ষার বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। দৃশ্যত তা ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু এখানে দুটো বিষয় বিবেচনার আছে। সামাজিক সুরক্ষার বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ টাকা অপচয় হয়। তা রোধ করা দরকার। আর এই বরাদ্দ বৃদ্ধি যদি অসহায় মানুষ বৃদ্ধির লক্ষণ হয়, তাহলে অবশ্যই ভাবতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি সিদ্ধান্তটি প্রশংসাযোগ্য। কৃষিতে শস্য বীমার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। শস্যহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে। আমি যতদূর জানি ভারত, চীন, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশে শস্য বীমার অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমির মালিক। ফসল ভিন্ন ভিন্ন।

বীমার প্রিমিয়াম ঠিক করা, তার পুনঃবীমা করা এবং ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করে কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কাজটি হবে কঠিন। এর চেয়ে সরকার বন্যা, খরা ইত্যাদিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বিনামূল্যে পরবর্তী ফসল পর্যন্ত চাল দিতে পারে, বিনামূল্যে সার-বীজ দিতে পারে। ঋণ মওকুফ করতে পারে। এটা বরং বাস্তবসম্মত, দুর্র্নীতির আশঙ্কা কম।

সোনা আমদানির ওপর ‘স্পেসিফিক ডিউটি’ হ্রাস করা হয়েছে। এর ফল ভালো হবে। চোরাচালান নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করি। করমুক্তি লভ্যাংশ বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এতে শেয়ারবাজার উপকৃত হবে বলে মনে হয়।

পোল্ট্রি-ডেইরি-ফিশ মিল্ক, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার, ক্যান্সার রোগের ওষুধ আমদানি, কাঁচামাল আমদানি, পাদুকা শিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, পরিবহন খাতে ব্যবহৃত উপকরণ ইত্যাদির ওপর যেসব পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তাতে সবাই কমবেশি উপকৃত হবে।

পরিশেষে একটা কথা উল্লেখ করতেই হয়। দৃশ্যত শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের ভালো একটি অংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ শতকরা হিসাবে হ্রাস পেয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। এসব পুনঃবিবেচনার দাবি রাখে।

আরও বলা দরকার, কোনো বাজেটেই ভালো ফল আসবে না যতদিন পর্যন্ত না রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা দৃঢ় হয়। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রাজস্ব আহরণের জন্য তিনি উপজেলায় অফিস করবেন। এতে একটা সতর্কবার্তা দিতে হয়। অফিস হোক, কিন্তু তা যেন জমিদারদের ‘নায়েবের’ অফিস না হয়। ভূমি অফিসের কারণেই মানুষ তটস্থ। তার ওপর আয়কর। একটু সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বৈকি।

বলা দরকার, খরচের গুণগত মান রক্ষা করতে হবে। এক টাকার কাজ এক টাকায় করা উচিত। তাহলে কম বাজেট দিয়েও বেশি কাজ করা যাবে। প্রতি বছর বৃহত্তম বাজেট করতে হবে না। অপচয়, চুরি-চামারি বন্ধ করতে পারলে কম টাকাতেও বেশি কাজ সম্ভব।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×