শতফুল ফুটতে দাও

সামনে সুদিন, না দুর্দিন?

  ড. মাহবুব উল্লাহ্ ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শতফুল

একটি দেশ কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে উন্নত দেশে পরিণত হয়। মোটা দাগে বলা যায়, কৃষি সমাজ থেকে শিল্পায়িত সমাজে রূপান্তরের মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নত দেশে পরিণত হয়। বেশিরভাগ উন্নত দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এ বৈশিষ্ট্যটিই সামনে চলে আসে।

পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি শিল্পায়িত সমাজ গড়ে তোলা। এ বিচারে দুটি সিস্টেমের লক্ষ্য এক হলেও প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি ভিন্ন।

কৃষক সমাজ থেকে শিল্পায়িত সমাজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক উভয় ব্যবস্থাতেই খুবই কষ্টকর। ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লবের প্রাক-মুহূর্তে ঘটেছিল এক ধরনের কৃষি বিপ্লব। হঠাৎ করে ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপের বাজারে ভেড়ার পশমের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকে। শীতপ্রধান দেশে ভেড়ার পশম ব্যবহার করে উলেন বস্ত্র তৈরি করা হয়।

ইংল্যান্ডের ভূস্বামীরা দেখতে পেল প্রথাগত কৃষির তুলনায় ভেড়ার চাষ লাভজনক। এ ভূস্বামীরা বর্গাচাষীদের দিয়ে জমিতে ফসলের চাষ করাত। কিন্তু এ ধরনের কৃষি ভূস্বামীদের জন্য কম লাভজনক হওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিল পশুপালন, বিশেষ করে ভেড়া পালনের কাজ করবে। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভূস্বামীরা লাখ লাখ বর্গাচাষীকে জমি থেকে উচ্ছেদ করে। ভূস্বামীরা তাদের মালিকানাধীন জমিগুলো ভেড়া দিয়ে ঘেরাও করে ফেলে। এ ঘেরাওয়ের মধ্যেই ভেড়ার চাষ শুরু হয়। অন্যদিকে জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া কৃষকরা জীবন-জীবিকার আশায় ব্রিটেনের শহরগুলোতে হিজরত করে। শহরে আগত ভূমিহীন এ কৃষকদের জীবনযাপন ছিল খুবই কষ্টের। তারা বস্তিতে থাকত। এ বস্তিজীবন বাংলাদেশে আমরা যে ধরনের বস্তিজীবনের সঙ্গে পরিচিত তার তুলনায় খুবই নিুপর্যায়ের ছিল। পূতিগন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নারী ও পুরুষ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া কৃষকদের দিনযাপন করতে হতো। এ সময় ব্রিটেনে কাকতালীয়ভাবে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক বিরাট উল্লম্ফন ঘটে। এর ফলে বস্ত্র বয়ন ও রেল যোগাযোগ শিল্প গড়ে ওঠে। যেসব বিনিয়োগকারী এসব শিল্প, বিশেষ করে বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ করে তারা পেয়ে যায় খুবই কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য একটি শ্রমিকগোষ্ঠী। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশুসহ প্রায় সব বয়সের শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কম মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগের ফলে কারখানা মালিকদের পক্ষে প্রচুর মুনাফা করা সম্ভব হয়। এ মুনাফার অর্থ তারা আরও নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজে ব্যবহার করে। এভাবেই কৃষি অর্থনীতিভিত্তিক ব্রিটেন শিল্পায়িত অর্থনীতির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু এর জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে কৃষক থেকে মজুরে পরিণত হওয়া মানুষগুলোকে। তাদের দৈনিক ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। এর মধ্যে নারী ও শিশু শ্রমিকরাও ছিল। এজন্যই বলা যায় আধুনিক শিল্প সভ্যতা গড়ে উঠেছে শ্রমিকের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে।

অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নে শিল্পায়নের জন্য স্তালিন যে পরিকল্পনা করেন তাতেও কৃষকদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। একদিকে প্রয়োজন ছিল শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করা, অন্যদিকে কারখানায় উৎপাদিত পণ্য লাভজনক দামে বিক্রয় করা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শিল্প ও কৃষির মধ্যে বাণিজ্য শর্ত কৃষিপণ্যের জন্য প্রতিকূল করে রাখা হয়। অর্থাৎ কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কৃষিপণ্য সংগ্রহ করা হতো। কৃষিপণ্য দু’ভাবে ব্যবহৃত হতো। প্রথমত শিল্প শ্রমিকদের মজুরি পণ্য হিসেবে। মজুরি পণ্য হল সেসব সামগ্রী, যেগুলো শিল্প শ্রমিকরা তাদের দৈনন্দিন ভোগের জন্য ব্যবহার করত। দ্বিতীয়ত, কৃষিতে উৎপাদিত অনেক পণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলার কথা বলা যায়। তুলা বস্ত্রশিল্পের প্রধান উপকরণ। অর্থনৈতিক ইতিহাস বলে, যেসব দেশ শিল্পায়িত হয়েছে, সেসব দেশে প্রাথমিকভাবে যে শিল্প গড়ে তুলেছে তা হল বস্ত্রশিল্প। সেজন্যই উন্নয়ন অর্থনীতিতে Textile First বলে একটি কথা চালু আছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে একটি শিল্পখাত ছিল। এ শিল্পখাত মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে পাকিস্তান থেকে প্রাপ্ত। এসব শিল্পের বেশিরভাগ মালিক ছিল অবাঙালি পাকিস্তানিরা। এরা যখন বুঝতে পারল যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা তাদের মালিকানাধীন কল-কারখানাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। এসব কল-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আমদানির বিকল্প শিল্পনীতির আওতায়। এর ফলে এসব শিল্প ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য লাভ করে। এসব শিল্পের মধ্যে ছিল বস্ত্র, চিনি, দিয়াশলাই, অ্যালুমিনিয়াম, কাগজসহ বিভিন্ন রকম শিল্প। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাটকে ভিত্তি করে বেশ বড় আকারের পাটশিল্পও গড়ে ওঠে। পাটকলগুলোতে উৎপাদিত পাটসামগ্রী বিদেশে রফতানি হতো। অনেকেই যে তথ্যটি জানেন না তা হল- অর্থনীতির চুলচেরা বিচারে পাটশিল্প সত্যিকারার্থে লাভজনক ছিল না। পাকিস্তান সরকার অনুসৃত বোনাস ভাউচার স্কিমের ফলে এ শিল্প কৃত্রিমভাবে লাভজনক হয়। এ সত্যটি জানা গেছে অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমানের এক গবেষণা থেকে। তখন বিশ্ববাজারে পাটপণ্যের বিরাট চাহিদা ছিল। কারণ তখনও পাটের সুতোর বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম তন্তুর উৎপাদন শুরু হয়নি। কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনের ফলে পাটশিল্প বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু তৎকালীন সরকার সমাজতন্ত্রের নামে বাড়তি পদক্ষেপ হিসেবে বাঙালি মালিকদের শিল্প-কারখানাও জাতীয়করণ করে। অচিরেই জাতীয়করণ করা শিল্প-কারখানাগুলো অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি এবং পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে নিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে অধিকাংশই বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়। এ লোকসানই ছিল একশ্রেণীর নব্য ধনীর ফুলেফেঁপে ওঠার উৎস। এ শ্রেণীর হাতে বিপুল কালো টাকা পুঞ্জীভূত হয়। এরাই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়ার প্রধানশক্তি হিসেবে কাজ করে। বস্তুত এ প্রক্রিয়াটির সূচনা হয় স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যক্তি বিনিয়োগের সিলিং ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পর। এটাই হল শিল্পায়নের নামে বাংলাদেশে নব্য শিল্প মালিকদের উত্থানের কাহিনী। এরা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য যত চেঁচামেচি করেছে, বাস্তব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য তারা সেই পরিমাণে এগিয়ে আসেনি। এছাড়া কালো টাকার মালিক হওয়ার অনেক উপায় ছিল। যেমন যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্যের অভাবের সুযোগে ভয়ানক মুনাফাখোরি, চোরাকারবার এবং নানা ধরনের দুর্নীতি। পরিষ্কারভাবেই দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে যেভাবে শিল্প মালিক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছিল, তার তুলনায় বাংলাদেশের গল্পটি একেবারেই ভিন্ন। এসব নেতিবাচক দৃষ্টান্ত সত্ত্বেও স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশে একটি নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটেছে।

মুক্তিযুদ্ধ সমাজতন্ত্রকে অন্যতম আদর্শ হিসেবে ধারণ করলেও মুক্তি শেষে আমরা বেদনাদায়কভাবে লক্ষ করলাম সিক্সটিনথ ডিভিশনের উদ্ভব। এরা অবাঙালিদের বাড়িঘর, দোকানপাট দখল করল। এর পাশাপাশি তরুণ সমাজের মধ্যে আরেকটি গোষ্ঠীর উদ্ভব লক্ষ করা গেল। এদের তখন বলা হতো ব্রিফকেস ব্যবসায়ী। ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ল। তখন মনে হচ্ছিল সমাজতন্ত্র নয়, ব্যবসায়ী হওয়ার জন্যই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চিন্তাভাবনার জগতে বিরাট পরিবর্তন এলো। এ চিন্তাভাবনার সার কথা ছিল অর্থবিত্তহীন জীবন অর্থহীন। তাই অর্থের পেছনে ছুটতে হবে। এসব ডামাডোলের মধ্যেও বাংলাদেশে পোশাক শিল্প খাত যেভাবে গড়ে উঠেছে তার ইতিহাস গৌরব করার মতো। এটি সম্ভব হয়েছিল দেশ গার্মেন্টের মালিক নুরুল কাদের খান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানির সিইও’র মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে। বিশ্ব অর্থনীতির এক বাস্তবতার আলোকে দক্ষিণ কোরিয়া পোশাক শিল্প থেকে হাত গুটাতে থাকে এবং বাংলাদেশকে এর গন্তব্যস্থল হিসেবে নির্ধারণ করে। পোশাক শিল্প খাত রাষ্ট্রপতি জিয়ার কাছ থেকে বিপুল নীতিসহায়তা পেয়েছিল। এর মধ্যে ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস অন্যতম। এছাড়া আছে ক্যাশ ইনসেনটিভ। পোশাক শিল্প খাত বাংলাদেশের সস্তা নারী শ্রমিকদের ওপর ভর করে বিকশিত হয়েছে এবং প্রচুর পুঁজিরও সঞ্চয় ঘটিয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শিল্পের অন্যান্য খাতে বহুমুখীকরণ হয়নি।

২০০১-২০০২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ২০ শতাংশ, শিল্প খাতের অবদান ছিল ২৩.৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের অবদান ছিল ৫৬.২ শতাংশ। এরপর প্রতি বছরই জিডিপির কাঠামোতে খাতভিত্তিক অবদানে পরিবর্তন ঘটে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩.৭ শতাংশ, শিল্পের অবদান ৫১.১৯ শতাংশ। শতকরা হিসাবে জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে এলেও এ খাতেই এখনও সর্বাধিক কর্মসংস্থান হয়। কর্মসংস্থানের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সেবা খাত এবং তারপর আছে শিল্প খাত। কৃষি খাতের অভ্যন্তরেও পরিবর্তন এসেছে। মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন এবং বাগান কৃষি খাতে নতুনত্ব যোগ করেছে। সেবা খাতে মোবাইল টেলিফোন ও গ্যাস খাতের মতো আধুনিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলেও সেবা খাত এখনও বিপুলভাবে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে। সেবা খাতে যারা নিয়োজিত তাদের বড় অংশই ক্ষুধার জ্বালা নিবারণের জন্য খুটে খাওয়ার কাজ করছেন। এসব কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে রাখার কাজ। সেবা খাতে উন্নতি ও আনুষ্ঠানিকতা আনতে হলে বাংলাদেশকে অনেক পথ পরিক্রমণ করতে হবে। তবে এসব পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতির দুর্বলতম অংশটি হল ব্যাংকিং খাত। এ খাতে ১ লাখ কোটি টাকার অধিক পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমে উঠেছে। কারা এ ঋণ পাচ্ছে তার চিত্রটি স্বচ্ছ নয়। অন্যদিকে সত্যিকারে বিনিয়োগে আগ্রহীরা ঋণ পাচ্ছে না। পেলেও চড়া হারে সুদ দিতে হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে আসন্ন বাজেট হবে বিশালভাবে ঘাটতি অর্থায়নভিত্তিক। এ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে। এর ফলে ব্যক্তিখাতে ঋণ দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে এবং ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও নিরুৎসাহিত হবে। এর পাশাপাশি মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতির বোঝা বহন করতে হবে ভয়ে জড়সড় সাধারণ মানুষকে। তাই সামনে সুদিন, না দুর্দিন বুঝে ওঠা কঠিন।

১২.০৬.২০১৯

ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×