ভারতে নির্বাচন ও একটি নির্দোষ প্রত্যাশা

  অমিত রায় চৌধুরী ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশে এবার যত আলোচনা হয়েছে, সাম্প্রতিক অতীতে তা খুব একটি দেখা যায়নি। একটি দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি ও দর্শন, রাজনৈতিক অনুশীলনের গতিপ্রকৃতি সন্নিহিত জনপদের সমাজ মননকে কখনও প্রচ্ছন্ন, কখনও প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তবে একথাও সত্যি যে, পৃথক পৃথক রাষ্ট্র ও সমাজ কোনো একটি অভিন্ন নৈতিক, আদর্শিক বা দার্শনিক ছাঁচে গড়ে ওঠে না; বরং ভৌগোলিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন বিচারধারা অনুসরণ করে চলে- এমনকি মতাদর্শের নিরিখে প্রতিবেশী দেশগুলোও অনেক সময় বিপ্রতীপ মেরুতে অবস্থান করে।

১৩০ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। ৫৪৩টি আসনবিশিষ্ট লোকসভায় ৩৫৩টি আসন দখল করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট টানা দ্বিতীয়বার ভারত শাসনের জনাদেশ পেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়ী হওয়ার পর উল্লসিত দলীয় অনুগামীদের উদ্দেশে বলেছেন- এবার বিরোধীরা ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশকে ধোঁকা দিতে পারেনি। ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-এর সঙ্গে ‘সবকা বিস্ওয়াস’ যোগ করলেও সমকালীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতবাহী। এই বিপুল বিজয়ের নেপথ্যে যে অতি জাতীয়তাবাদী হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগ কাজ করেছে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দেশ বিভাগের সত্তর বছর পর ভারতীয় নাগরিকের মনোভূমিতে কেন এ বিস্ময়কর বাঁক নির্বাচনের ফলাফল নির্ণায়ক হয়ে গেল- তা রাজনীতি সমীক্ষকদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে।

১৯৪৭ সালের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হয়। প্রায় এক কোটি হিন্দু-মুসলমান-শিখ বাস্তুচ্যুত হয়। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগ হলেও ভারতীয় জনসাধারণ গান্ধী-নেহেরু-কালাম আদৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিল। ভারতে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভাবার প্রয়োজন অনুভব করেনি; বরং দেশের মূলস্রোতে একাত্ম থেকে তারা ভারতের জাতীয় রাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ নীতিনির্ধারণী সব ক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রেখেছে। সামাজিক সহিষ্ণুতা ও উদার বহুত্বের সুবিধা ভারত পুরোমাত্রায় ভোগ করেছে। এভাবেই দেশটি আজ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মানদণ্ডে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়ে উঠেছে; অথচ এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে ভারতে হিন্দুত্ব ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ইস্যুটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল- তা নিশ্চয়ই বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ইতিহাস, জনবিন্যাস, ভাষা ও ধর্মীয় বিভিন্নতাকে ভারত মর্যাদা দিলেও কর্তৃত্ববাদী পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরতন্ত্র তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানকে কার্যত সংখ্যালঘু মুক্ত করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়। কিন্তু বহু সংস্কৃতিবাদী সমাজকে অগ্রাহ্য করলে একটি জাতিগোষ্ঠীর কত করুণ অবস্থা হতে পারে, তা আজকের সন্ত্রাস-বিক্ষুব্ধ, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর ও অকার্যকর রাষ্ট্র পাকিস্তানকে দেখলেই সহজে অনুমান করা যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতাকামী বাঙালি, বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসলীলার শিকার হয়ে ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশান্তরী হওয়ার প্রবণতা কমেনি; বরং ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর অনেকটা রাষ্ট্রীয় মদদেই হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগ অব্যাহত থাকে। জীবন-সম্ভ্রম, সম্পদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় সংখ্যালঘু জনসাধারণ দেশান্তরী হয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে বর্তমান বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যানুপাত ছিল ২৮ শতাংশ। তা ’৭১ সালে নেমে দাঁড়ায় ২১ শতাংশে; অথচ বর্তমানে সেই হার ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

সমাজ বাস্তবতায় আরও যে পরিবর্তনটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হল- খোদ পাকিস্তান আমলে বা ’৭০-র দশকে সামাজিক পরিসরে ধর্মীয় বিভাজনের যে চিহ্ন অস্পষ্ট ছিল, পোশাক-পরিচ্ছদে, আচার-আচরণে, উৎসব-মিলনে, ভাষা-সংস্কৃতিতে যে নৈকট্য ও সাযুজ্য ছিল; বিগত কয়েক দশকে তা যেন কোথাও উধাও হয়ে গেছে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে আবহে আজ এক মনোজাগতিক বিচ্ছিন্নতা-বিভেদ ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠছে; যা শুধু একটি আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের জন্য দুর্ভাগ্যজনক নয়, একটি উন্নত অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে অন্তরায়। যদিও এটি অনস্বীকার্য যে, বিগত দশ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা বোধ করায় দেশত্যাগের হার কমে এসেছে। তবে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ভারতীয় জনসাধারণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অব্যাহত উদ্বাস্তুর কাফেলা ভারতের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এসব দেশ থেকে আসা কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা স্থানীয় ভূমিপুত্রদের সংখ্যাকে ছাপিয়ে গেলে স্থানীয় জনসাধারণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এভাবে অদূর ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ঘৃণা সৃষ্টি এবং তা থেকে জাতিগত সহিংসতা দেখা দিতে পারে। ভারতীয় জনতা পার্টি অত্যন্ত কৌশলে নাগরিকদের এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিকে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতকে আজ একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও পরিণত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করার কৃতিত্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের। শিল্প, কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বৈদেশিক নীতি- সব ক্ষেত্রেই এ দলটি দেশটিকে এগিয়ে নিয়েছে। গান্ধী বা নেহেরু শুধু ভারতের নয়, গণতন্ত্রকামী বিশ্বের কাছে এখনও আইকন। তবে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা দেয়। অতিমাত্রায় পরিবারকেন্দ্রিকতা, কর্তৃত্বপরায়ণ মানসিকতা, দুর্নীতির অভিযোগ দলটির ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। অন্যদিকে কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে বিজেপি বাদে অন্য কোনো দল জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোনো জায়গা পায়নি। বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলোর নির্বাচনী জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণে উৎসাহী হলেও তাদের মতাদর্শিক ভিন্নতা, স্থানীয় বিভেদ, ক্ষমতা বণ্টনে মতানৈক্য, ন্যূনতম কর্মসূচি নির্ধারণে অস্থিরতা; এমনকি সর্বজনগ্রাহ্য নেতা নির্বাচনে ব্যর্থতা জোট বা জোটের স্থায়িত্ব সম্পর্কে ভারতীয় জনমানসে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সুসংগঠিত ক্যাডারভিত্তিক বিজেপি মানুষের প্রত্যাশার দোরগোড়ায় অবলীলায় পৌঁছে যায়।

আগ্রাসী জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রিকতা সমকালীন বিশ্ব রাজনীতির পরিসরকে ক্রমে ক্রমে গ্রাস করছে বলে মনে হয়। আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য হয়ে এশিয়া- সর্বত্র এমনই বৈশ্বিক প্রবণতাকে বিশেষ যুগলক্ষণ বলে মনে হচ্ছে। চীন-পাকিস্তানের সামরিক-অর্থনৈতিক আঁতাত ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এমনই ধারণা ভারতীয় জনমানসে দৃঢ়মূল হচ্ছে। পুলওয়ামা বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক প্রত্যাঘাত এক ধরনের জাতীয়তাবাদী আবেগে ভারতবাসীকে ভাসিয়েছে। ডোকলাম ইস্যুতেও সরকারের দৃঢ়তা ভারতীয়দের জাত্যাভিমানকে সংহত করেছে এবং তা মোদি সরকারের ভাবমূর্তিকে কার্যত উন্নত করেছে।

বৈদেশিক কূটনীতির পরিসরে নরেন্দ্র মোদি অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বর্তমানে বিবেচিত। ইন্দিরা গান্ধীর পর কোনো ভারতীয় নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এতটা মর্যাদা ও মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেননি। আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি চীনের সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ককে দক্ষতার সঙ্গে তিনি যুগপৎ এগিয়ে নিতে পেরেছেন। জটিল কূটনীতির অঙ্কে নরেন্দ্র মোদিকে পাকা খেলোয়াড়ই মনে হয়েছে; এমনকি বৈরী পাকিস্তান মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের প্রতি যথেষ্ট নমনীয় এবং দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আঞ্চলিক স্বার্থে উষ্ণতর করার জন্য কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগী বলে মনে হয়। ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক বর্তমানে যথেষ্ট ভালো। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক উষ্ণ। সীমান্ত, জ্বালানি, নৌ-বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, মহাকাশ গবেষণা ও যোগাযোগ অবকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তি দু’দেশকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ ভারত নেবে না- এমন আশ্বাসও বাংলাদেশ আদায় করে নিয়েছে। মমতা ব্যানার্জিকে বুঝিয়ে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে ভারত বুঝিয়ে দেবে- এদেশের জনগণের এমনই প্রত্যাশা।

আজ বিশ্ব ছোট হয়ে এসেছে। একের সমস্যায় অন্যকে মূল্য দিতে হয়। প্রতিবেশী রুগ্ন, অপুষ্ট বা মাদকাসক্ত থাকলে নিজেও নিরাপদ ও সুস্থ থাকা যায় না। তেমনিভাবেই নিজের ঘরে ঘৃণা পুষে রেখে অন্যের কাছ থেকে ঔদার্য আশা করা যায় না। বিদ্বেষের বিষ কোনো সীমানা মানে না। হিংসা ক্রমাগত প্রতিহিংসার বিষ ছড়ায়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার যে আদি প্রবৃত্তি মানুষ বহন করে চলে, তারই হিংস্র আস্ফালন প্রগতির সাবলীল গতিকে ব্যাহত করে। ব্যক্তি চরিত্রের এই আদি দ্বন্দ্ব গোষ্ঠীর সামগ্রিক চেতনাকে কলুষিত করে, মানুষের শাশ্বত কল্যাণকামী প্রত্যাশাও হয়তো বিঘ্নিত হয়; মিথ্যার কপট মুখ প্রকট হয়ে ধরা পড়ে নিয়ত আত্মসমীক্ষণে। তবে বিভ্রান্তির এ ধোঁয়াশা সাময়িক। যুক্তির আলো কুয়াশাচ্ছন্ন এই আকাশকে মুক্ত করে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে।

ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচন শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের জন্যই কিছু গূঢ় নৈতিক বার্তা রেখে যাচ্ছে। অতি জাতীয়তাবাদী আবেগ কিংবা বিভাজনের রাজনীতি কোনো সমাজকে শক্তিশালী করে না; বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বহুত্ববাদী সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকারই দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে পারে। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় তরুণদের কর্মসংস্থান, পরিবেশ দূষণ ও আয় বৈষম্য নিরসনের কর্মসূচিই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কোনো জনপদের বঞ্চনা, অতৃপ্তি, অসন্তোষ অন্যের মাঝে সহজেই সংক্রমিত হয়। তাই মানবজাতির অস্তিত্বের স্বার্থে সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে যাত্রী হতে গেলে আমাদের সামাজিক সহিষ্ণুতা, অন্তর্ভুক্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার সংস্কৃতিতে ফিরে আসার বিকল্প নেই। বিশ্বের সব জাতিগত, ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘুর অধিকার সুনিশ্চিত রাখাও সমষ্টির দায়। আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জানমাল, ধর্মপালন বা সম্পত্তির অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়; সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, প্রকৃতিতে ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ সব জীবের পারস্পরিক রসায়ন জীবন-শৃঙ্খলার জন্যই অপরিহার্য। জীবনচক্র বিপন্ন হলে প্রকৃতির বিধ্বংসী প্রত্যাঘাত সভ্যতার ধ্বংসকেই অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। জীবনচক্রে ছোট-বড় সব জীবের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি একটি সমাজেও সব জাতি, উপ-জাতি, নৃ-গোষ্ঠী বা লিঙ্গের স্বাভাবিক সহাবস্থান সমাজ জীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ; আর এর বিচ্যুতি গোটা সভ্যতার জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কাজেই বিযুক্তি নয়, সংযুক্তি; ঘৃণা নয়, সম্প্রীতিই হোক আজকের নির্দোষ প্রত্যাশা।

অমিত রায় চৌধুরী : সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×