মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশীদের গুরুত্ব

  অঙ্কিত পান্ডে ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোদি

দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ নেয়ার সবে দুই সপ্তাহ পার হয়েছে; তবে এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথের একটি ধারণা পাওয়া গেছে।

সাবেক কূটনীতিক এস জয়শঙ্করকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের মধ্য দিয়ে পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছেন মোদি। জুনের শুরুর দিকের তার কূটনৈতিক এজেন্ডাও এতটা বিস্ময়কর ছিল না।

এটি শুরু হয়েছে খোদ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে, যা সূক্ষ্মভাবে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল, বিশেষত আঞ্চলিক নেতাদের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে।

২০১৪ সালে ফিরে গেলে, মোদি তখন সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন বা সার্কের নেতাদের নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এবার অন্য একটি গ্রুপ বিমসটেক বা বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

এ গ্রুপটিতে অন্তর্ভুক্ত আছে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান- থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার ছাড়া যার বেশিরভাগ আবার সার্কেরও সদস্য।

আমন্ত্রণ রক্ষা করে মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট, নেপাল ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং থাইল্যান্ডের একজন বিশেষ প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছিলেন।

এছাড়া কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবে জিনবেকভ এবং মৌরিতানিয়ার প্রধানমন্ত্রী যুগনাউথও মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন।

বিমসটেকের ওপর জোর দেয়া থেকে যে বিষয়টি প্রতিবিম্বিত হয় তা হল, প্রথম মোদি সরকারের নেয়া পদক্ষেপ থেকে ব্যতিক্রমীভাবে সরে আসার পর পূর্বমুখী সংযোগ ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ থেকে নয়াদিল্লির ফিরে আসার আগ্রহ এবং ভারতের পুরনো ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণ ও একে আরও উদ্যমী করে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি গ্রহণ।

শপথ গ্রহণের পর বিদেশ সফরের প্রস্তুতির আগে খুব কম সময়ই নষ্ট করেছেন মোদি। ৮ ও ৯ জুন নয়াদিল্লি থেকে দক্ষিণমুখী বিমানে চড়ে বসেছিলেন তিনি মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা সফরের জন্য।

ইতিমধ্যে ৭ ও ৮ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে উত্তর-পূর্বমুখী ভ্রমণে ভুটান গেছেন। মোদি ও জয়শঙ্করের মাঝে ভারতের প্রতিবেশীদের ব্যাপারে জোর দেয়ার বিষয়টি ছিল সন্দেহাতীত।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদি তার প্রথম বিদেশ সফরে ভুটানকে বেছে নিয়েছিলেন। এবার মালদ্বীপ ও শ্রীলংকাকে বেছে নেয়ার মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে নয়াদিল্লির স্বার্থের বিষয়টিতে জোর দেয়া হল।

মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের উপস্থিতি এবং পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারতের ভৌগোলিক অগ্রাধিকারের বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে বোধগম্য হয়েছে।

ভারত মহাসাগর, হিমালয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (ভারতীয় উত্তর-পূর্ব পথের মধ্য দিয়ে) রয়েছে ফোকাসের মধ্যে। ২০১৬ সালের শেষদিক থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দ্রুত বৈরী হতে শুরু হওয়ার পর এ প্রবণতা এরই মধ্যে গড়ে উঠছে।

গত গ্রীষ্মে মালদ্বীপে বিস্ময়কর নির্বাচনী ফলাফলের পর সেখানে একটি ভারতপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে। মালদ্বীপের সঙ্গে শক্তিশালী ও বিশেষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী নয়াদিল্লি।

ইতিমধ্যে শ্রীলংকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হয়ে পড়েছে জটিল এবং সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষত ইসলামিক স্টেটের দাবি করা ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার পর।

বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মোদি বোমা হামলায় বিধ্বস্ত কলম্বোর একটি গির্জায় অনির্ধারিত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।

মোদির প্রথম এ কয়টি দেশ সফর থেকে যে বিষয়টি কিছুটা হলেও প্রতীয়মান হয়েছে তা হল, ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পরিচালিত হচ্ছে চীন সংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে।

সেক্ষেত্রে প্রতিবেশীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও ভুটান- এই দেশগুলোর ব্যাপারে মোদি তার দ্বিতীয় মেয়াদে যে বিশেষ নজর রাখবেন, ভারত সেই বার্তাটিই দিচ্ছে। আরও বিস্তৃতভাবে বললে, নয়াদিল্লির বার্তাটি স্পষ্ট- ‘প্রতিবেশী প্রথম’ পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেও বহাল থাকছে।

দ্য ডিপ্লোমেট থেকে ভাষান্তর : সাইফুল ইসলাম

অঙ্কিত পান্ডে : দ্য ডিপ্লোমেটের সম্পাদক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×