নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে

  অমিত রায় চৌধুরী ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতায়ন

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি একমত হয়েছে যে, সুন্দরবন এখনও বিপদাপন্ন নয়। রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে পরিবেশবাদী আন্দোলনের মুখে বিশ্ব সংস্থার এমন সনদ বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিয়েছে- এ কথা বলা যায়।

সঙ্গত কারণেই সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানিয়েছে। ঠাণ্ডাযুদ্ধ উত্তরপর্বে জলবায়ু ও বিশ্ব প্রকৃতির বিপন্নতার মতো ইস্যুগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

দারিদ্র্যমুক্তি ও বিশ্বশান্তি অর্জনের পাশাপাশি ধরিত্রীকে নিরাপদ রাখার এজেন্ডা প্রথাগত ভাবনার ছককে বদলে দিতে থাকে। বিশ্বের ক্রমাগত উষ্ণায়ন রোধে করণীয় নির্ধারণে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নীতিগত ঐক্য এখন দৃশ্যমান।

তবে ধনী ও শিল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহের কৌশল, আঞ্চলিক স্বার্থ ও ভূ-রাজনীতি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার এই বৈশ্বিক আন্দোলনকে যে দুর্বল করে ফেলছে তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বস্তুত বাংলাদেশেও সুন্দরবনকে ঘিরে এমন কোনো অতি সক্রিয়তা, স্বার্থদ্বন্দ্ব বা রাজনীতি জাতিগত উন্নয়নের মহৎ লক্ষ্য থেকে আমাদের বিচ্যুত করছে কিনা- তা ভাবনার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে ঠিক হয়েছে, শিল্পোন্নত দেশগুলো সিএফসি নির্গমন কমিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। কারণ তাদের এই শিল্পবর্জ্য জলবায়ু দূষণের জন্য মুখ্যত দায়ী; অথচ যার কুফল আছড়ে পড়তে শুরু করেছে অনেকটাই দরিদ্র, উপকূলবর্তী দেশগুলোর ওপর, যাদের এ ক্ষেত্রে করণীয় খুব কমই আছে।

মেধা ও সম্পদে অগ্রগামী রাষ্ট্রগুলো ওয়াকিবহাল যে, প্রকৃতি বিপন্ন হলে গোটা মানবসভ্যতাই হুমকির মুখে পড়ে যাবে, তবুও তাৎক্ষণিক স্বার্থের হাতছানি ধনী দেশগুলোকে উদারভাবে দূষণরোধে এগিয়ে আসতে বিরত রাখছে। কারণটি নিহিত আছে মানুষের আদি প্রবৃত্তির মাঝে যা ক্রমাগত মানুষকে স্বল্পদর্শী স্বার্থপরতায় আচ্ছন্ন করে রাখে। সম্প্রতি এক খবরে দেখা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম অক্সিজেন ভাণ্ডার দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন বনভূমি আশঙ্কাজনকভাবে উজাড় হয়ে যাচ্ছে; যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার বৈশ্বিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে।

কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বনাঞ্চলে নতুন করে বসতি স্থাপনকারী মানুষের বিকল্প ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান করতে না পারলে জীববৈচিত্র্যের জন্য অপরিহার্য এই বনজ সম্পদটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। জীবনের অমোঘ সত্য এই যে, জৈবিক তাড়না সভ্যতার ব্যাকরণকে সহসাই অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে।

সভ্যতার বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনযাপনের মান বেড়েছে, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন উপভোগের আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে। মানুষ বন উজাড় করে বসতি নির্মাণ করেছে, শিল্প-কলকারখানা হয়েছে, আবার প্রকৃতি তার আপন নিয়মে সভ্যতার এই বর্ধনশীল উৎকর্ষকে প্রশ্রয় দিয়েছে, সৃষ্টি ও লয়ের মাঝেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য অটুট থেকেছে।

কোথাও নদীর এক কূল জাগে, অন্য কূল ভাসে। প্রকৃতির আপন খেয়ালেই চলে ভাঙার এই খেলা। প্রকৃতির নিয়মেই বনাঞ্চলের সংকোচন ঘটে। সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। উপকূলবর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল এক সময় সুন্দরবনেরই অংশ ছিল।

এসব জনপদের আনাচে-কানাচে বাঘ, বানর, দুর্লভ পাখি অথবা বিষাক্ত সরীসৃপের দেখা মিলেছে নিকট অতীতেও- এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মুখে মুখে এখনও জীবন্ত। শত বছরের পুরনো জনপদে ব্যবহৃত ভূমি খনন করলে আজও দেখা মিলবে মাটির নিচে সুন্দরবনের গাছপালা, জীব-জন্তুর জীবাশ্মের অস্তিত্ব। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বিগত দু’শ বছর আগের আয়তনের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবন এক-তৃতীয়াংশে সংকুচিত হয়েছে।

প্রকৃতির এই ক্ষয়ের গতিকে মানুষ শ্লথ করে নানা বুদ্ধির সহযোগে, কখনও বনায়ন বা কখনও অভয়ারণ্য তৈরি অথবা নিত্যনতুন উদ্ভাবনী কৌশল প্রয়োগে। অন্যদিকে সভ্যতার অগ্রগতি, শিল্পায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার- প্রকৃতির স্বাভাবিক বিস্তারের পথে ঈষৎ বাধা হয়ে দাঁড়াবে এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে সভ্যতার জয়রথ তাতে থমকে দাঁড়ায় না, বুদ্ধির আলোয়, যুক্তির পথরেখায় সময়ের স্রোতে ভেসে সে এগিয়ে চলে নিরন্তর, নিরবধি।

প্রকৃতির এই সংকোচন-প্রসারণ, উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া অত্যন্ত জাগতিক। মানুষ তার মেধা, জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির সাহচর্যে বিলুপ্তির এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে, অভিযোজনের নতুন নতুন অধ্যায় উন্মোচিত করে আপন মহিমায়। তবে সঙ্গতই প্রশ্ন ওঠে- বনরক্ষার ইস্যুটি তাহলে কতটা রাজনৈতিক, কতটা বাস্তবভিত্তিক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে একাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে।

সুন্দরবনের গাছপালা উজাড় করা, ফাঁদ পেতে পশু-পাখি হত্যা করা, সুন্দরবনের গভীরে প্রবাহিত নদী-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা- এমন ঘটনা শুধু সুন্দরবন বা লাগোয়া জনপদে নয়, সারা দেশেই এ ধরনের বিবেকহীন প্রকৃতি নিধনের নিদর্শন আমাদের চারপাশে নিয়ত দৃশ্যমান।

ভূগর্ভস্থ জল ও বিদ্যুতের নিষ্ঠুর অপচয় চলে নির্বোধ উল্লাসে। যুগের পর যুগ নদী দখল, পাড় দখল, বৃক্ষ নিধন আমাদের নৈমিত্তিক চর্চার অঙ্গীভূত হয়েছে। শুধু সুন্দরবন নয়, সন্নিহিত জনপদ যা একসময় বিভিন্ন বিরল শ্রেণীর পশু-পাখি, মাছের চারণক্ষেত্র ছিল, সেখানে প্রতিকারহীন নির্বিচার নিধনের ফলে তা আজ প্রায় প্রাণহীন মরুভূমিতে পরিণত। গুটিকয়েক পশুপ্রেমিকের ক্ষীণ কণ্ঠ মাঝে মধ্যে শোনা গেলেও তা নিয়ে কোনো বড়সড় প্রতিবাদ দেখা যায়নি।

নদীখেকো, বনখেকো, খালখেকো, ভূমিদস্যু ইত্যাদি শব্দবন্ধ ব্যবহার করেই আমরা আত্মশ্লাঘা অনুভব করেছি। প্লাস্টিক থেকে জৈব বর্জ্য যেভাবে বাংলাদেশের জলাশয়গুলোকে বিপন্ন করছে তা নজিরবিহীন। আর প্রকৃতির বিরুদ্ধে সভ্যতার এই রণসজ্জা একদিনের নয়, সুন্দরবনের এই ক্ষয়ও কোনো নির্দিষ্ট কারণে নয়, প্রয়োজন ও প্রবৃত্তির মিশ্রণ পরিপার্শ্বকে ক্রমশ বৈরী করে তুলেছে।

আজ যে সত্য প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত- তা হল জীববৈচিত্র্যের হিংস্রতম ঘাতক মানুষ নিজেই। মানুষের সর্বভূক লালসা মানুষ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির অনিবার্য সহাবস্থানকে বিপন্ন করে তুলেছে।

বনের গভীরে মানুষের অবাধ বিচরণ, জলদস্যুদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই, গভীর জঙ্গল অপরাধের কেন্দ বিন্দুতে পরিণত হওয়া, এমনকি বনাঞ্চলের অতি সংবেদনশীল সীমানায় মেলা উপলক্ষে অবিশ্বাস্য জনস্রোত কিংবা অভ্যন্তরীণ নৌপথে শত শত জাহাজের নিত্য আনাগোনা সুন্দরবনের শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশের পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে, বিপর্যস্ত করেছে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য।

এ কথা সত্যি, জৈব জ্বালানি ব্যবহার করলে প্রকৃতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব অনিবার্য। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে মানুষকে বিকল্প পথের সন্ধানে কৌশলী অগ্রাধিকার নির্বাচন করতে হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীতে ৮০০ মিলিয়ন গতানুতিক চাকরির বাজার দখল করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন; সে কারণে অবশ্যই প্রযুক্তি অস্পৃশ্য হবে না। বরং চাকরির চারিত্র্যকে পুনর্বিন্যাস করা অপরিহার্য হয়ে উঠবে। বিদ্যুৎ শহরে এখন নিরবচ্ছিন্ন, অন্তর্ভুক্তিমুলক উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামেও এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি।

শহরে থেকে গ্রামের দুর্ভোগকে সমস্ত সত্তা দিয়ে অনুভব করা খুব সহজ নয়। বরং শহর থেকে গ্রামে এসে সুন্দরবন বা সমুদ্র সৈকতে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপভোগ করা যায়, কল্পনায় একটা আদর্শ প্রকৃতির নান্দনিক শিল্পকর্মের নির্মাণও মানুষের সহজাত বৃত্তি।

কিন্তু বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের বিদ্যুতের প্রয়োজন কিংবা মৌলিক নাগরিক বঞ্চনা নগর সভ্যতার সব সুবিধা ভোগকারী একজন নাগরিকের পক্ষে অনুধাবন করা অনেক কষ্টকর। অত্যন্ত নির্মম হলেও এ কথা বুঝতে হবে যে, একদা সন্ত্রাসজর্জরিত এ অঞ্চলের মানুষ এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিংকেও হয়তো নীরবে সমর্থনই করেছিল। এটি জেনেও যে, ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত মঙ্গলজনক নয়। আসলে আমজনতার এক ধরনের সহজাত আত্মরক্ষা বা নিরাপত্তাবোধ আছে যা কেতাবি ছকে অনেক ক্ষেত্রেই বাঁধা যায় না।

সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি শুধু বিশ্ব ঐতিহ্যের মাহাত্ম্যকে খর্ব করে না, আমাদের জাতিগত সক্ষমতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ নির্মাণের ফলে মূল্যবান এই প্রাকৃতিক সম্পদ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ল বা তার অভিঘাত অনাগত সময়ে কতটা প্রলম্বিত হতে পারে। অন্যদিকে সমকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জনপদকে এগিয়ে নেয়া বা জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনের পথে বিদ্যুৎ নিয়ামক হিসেবে কতটা অগ্রাধিকার দাবি করতে পারে- তার বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে পড়ছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন- কেন্দ টি চালু হলে বিষাক্ত বর্জ্য ছাই বাতাস বা জলাশয়কে দূষিত করতে পারে, কয়লাবাহী জাহাজের কোলাহলময় যাতায়াত গভীর জঙ্গলের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করবে, দূষণ কণা বনভূমিতে ছড়িয়ে যাবে, বিপুল জলরাশির নিত্য ব্যবহার দূষণ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি করবে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো- বিশ্বে ষাট শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। চীন আশি শতাংশ, ভারত আটষট্টি শতাংশ। দ্বিতীয়ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বলছেন- ফ্লাই অ্যাশ যথাযথভাবে ডাম্পিং করা ও কারখানায় তা চক্রাকারে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তাদের মতে, প্রতিদিন যেখানে দেড়শ’ জাহাজ চলাচল করে, সেখানে নিরাপত্তার মোড়কে সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত দু’টি জাহাজে কয়লা পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া রূপসা নদীর ওপর নির্মীয়মান রেলসেতু ব্যবহারের মাধ্যমে নৌপথকে এড়িয়ে বিকল্প রেলপথে কয়লা পরিবহনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আর প্রতিদিন যেখানে দুইবার জোয়ার-ভাটা হয়, সেখানে নদী দূষণের আশঙ্কা খুব কমই থাকে। এরপরও যদি কোনো দৈব দুর্বিপাকে দূষণ এড়ানো না যায়, তবে তার মাত্রা এতই সহনীয় পর্যায়ে থাকবে; যা সুন্দরবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না।

প্রস্তাবিত রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৮৩৪ একর জমির ওপর দেশের এ বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে; যা কার্যত ৫০ মিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মাত্র ১০ বছর আগেও দেশের ৪৫ শতাংশ নাগরিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন, এখন বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ৮৫ শতাংশ। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টি, নারীস্বাস্থ্য- সব মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে তালমিলিয়ে এগিয়ে নেয়ার পথে এক নিরাপদ সঙ্গী বিদ্যুৎ; যা শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান- সব ক্ষেত্রেই সুষম বিকাশ নিশ্চিত করবে। বিগত এক দশকে আধুনিক নাগরিক সেবার নাগালের বাইরে থাকা ক্ষুধাপীড়িত জনগোষ্ঠীর স্বনির্ভরতা অর্জনের অফুরন্ত সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে।

মোংলা বন্দরকে সচল করা, ইপিজেড চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ স্থাপনের মতো কাজ সম্পন্ন হয়েছে- যা সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এ অঞ্চলের মানুষ নিশ্চিতভাবে এ বিদ্যুৎ কেন্দ থেকে লাভবান হবে; রুদ্র প্রকৃতির রূঢ় ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে যে উপকূলবাসী কোমর বেঁধে লড়াই করে, ঘোর অনিশ্চয়তায় নিত্য প্রহর গোনে, তাদের সম্ভাবনার দিকচক্রে যখন কোনো আলোর রেখা জমাট অন্ধকার দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন নগর সভ্যতায় পরম যত্নে লালিত কোনো পরিবেশবিদের পক্ষে তাদের আপ্লুত হৃদয়ের উচ্ছ্বসিত স্পন্দন অনুভব করা সম্ভব নয়।

পাশাপাশি বিশ্ব প্রকৃতির বিপন্নতা রুখে দেয়ার বৈশ্বিক অঙ্গীকারে সুন্দরবনের পরিবেশগত নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এ দেশের সরকার ও জনগণ সর্বাত্মক নিষ্ঠা ও সততার পরিচয় দেবে- এমন বিশ্বাস আমরা রাখতেই পারি।

অমিত রায় চৌধুরী : সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×