এ বছরের বাজেট প্রসঙ্গে

  বদরুদ্দীন উমর ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট
বাজেট। ছবি: যুগান্তর

এ বছরের বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাজেটটির এমন অবস্থা যে, এর ওপর লেখা এক কষ্টসাধ্য ও একঘেয়ে ব্যাপার। কারণ প্রতি বছর বাজেটের যে অবস্থা হয়, এটির অবস্থা তারই মতো। এর আকার অবশ্য খুব বড়।

লাখ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু এই বাজেটে কী আছে এবং এর মধ্যে কার জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তার দিকে তাকালে এর চরিত্র ভালোভাবেই বোঝা যায়।

প্রথা অনুযায়ী বাজেট ঘোষণার পর এর ওপর Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS), Centre for Policy Dialogue (CPD) ইত্যাদি সংস্থা এবং অন্য শীর্ষস্থানীয় সংস্থার অর্থনীতিবিদরা কিছু আলোচনা-সমালোচনা করেছেন প্রতি বছরের মতো।

এদের এসব সমালোচনার প্রধান দিক হচ্ছে, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে থেকে কিছু রদবদলের প্রস্তাব। যেভাবে তারা এ কাজ করেছেন এবং যেভাবে তারা এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তার ওপর কোনো আলোচনা না করে আমি এর অন্য দিক নিয়েই আলোচনা করব।

আমি আলোচনা করব মূলত এ বাজেটে জনগণের জন্য কী আছে ও কী নেই সে বিষয়ে।

বাজেটের গুণকীর্তন করে সরকারপক্ষ থেকে এর উন্নয়নের প্রস্তাবসমূহ নিয়ে অনেক ঢেঁড়ি পেটানো হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু এই ‘উন্নয়ন’ বলতে কী বোঝায় সেটাই বড় প্রশ্ন। এ নিয়ে শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের কোনো কথা তাদের আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নেই।

কিন্তু প্রাথমিকভাবে বলা যায় যে, এ বাজেটে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন মধ্যবিত্তের দেহ থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টেনে নেয়ার প্রস্তাবই করা হয়েছে। এদিক দিয়ে পূর্ববর্তী বছরের বাজেটগুলোর সঙ্গে এই বাজেটের কোনো পার্থক্য নেই। উপরোক্ত অবস্থা আগের থেকে আরও খারাপ দাঁড়িয়েছে।

করের বোঝা জনগণের ওপর যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে জনস্বার্থের ক্ষেত্রে বেপরোয়া নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে। গ্যাসের দাম ডাবল চুলার ক্ষেত্রে বাড়িয়ে ৮০০ টাকার পরিবর্তে করা হয়েছে ৯৭৫ টাকা। অর্থাৎ এক লাফে বৃদ্ধি হয়েছে ১৭৫ টাকা!! এটা এক বেপরোয়া ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই না।

যেহেতু এই বৃদ্ধি জনগণের অর্থনৈতিক জীবন ছাড়া শিল্পক্ষেত্রেও অসুবিধার সৃষ্টি করবে, এ কারণে এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা ও শিল্প-ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বার্থের লোকরা কিছু সমালোচনা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকেও এর কিছু প্রতিবাদ হয়েছে, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এর জবাবে বলেছেন, দেশের ‘উন্নয়নের’ স্বার্থে জনগণকে এই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে উন্নয়ন বলতে কী বোঝায় তার হদিস নিলে দেখা যাবে যে, এর সঙ্গে জনগণের জীবনের উন্নতির কোনো সম্পর্ক নেই।

যেসব বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে তার দ্বারা দেশের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে, প্রবৃদ্ধির উন্নতি হবে, ধনিক শ্রেণী ও ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ইত্যাদির জন্য বড় আকারে লুটপাটের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু এই ‘উন্নয়ন’ জনগণকে স্পর্শ করবে না। উপরন্তু এর জন্য জনগণের জীবনে দুর্দশা বৃদ্ধি পাবে। কাজেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হবে জনস্বার্থকে হিসাবের বাইরে রেখে।

বাংলাদেশে এখন প্রধানত এবং বেশ শক্তিশালীভাবে ব্যবসায়ী শ্রেণী তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। যে কোনো পুজিবাদী এবং পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত দেশেও সাধারণত ব্যবসায়ীরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই নিজদের স্বার্থ রক্ষা ও উদ্ধার করে।

কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শক্তি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যবসায়ী, শিল্পমালিক ইত্যাদি শ্রেণির লোকরা নিজেরাই সরকারি কর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বর্তমান সরকারের মধ্যেও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের পদ দখল করে আছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৮০ শতাংশের মতো।

বাকি যারা আছেন তাদেরও অধিকাংশ কোনো না কোনোভাবে ব্যবসায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই একেকজন দুর্নীতির মহারাজ। এর প্রতিফলনই বাজেটের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে।

এর মধ্যে লুটপাটের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটাও ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ইত্যাদি ধনিক শ্রেণীর লোকদেরই স্বার্থে। বাংলাদেশের বাজেট এই শ্রেণী কাঠামোর মধ্যেই বন্দি আছে।

বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির যে কথা হয় এবং এর যে হিসাব দেয়া হয়, সেখানে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ, গার্মেন্ট শিল্প থেকে প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রার আয় ইত্যাদিই একটা বড় অংশ। কিন্তু এটা সবাই জানে যে, বিদেশে কর্মরত যে বাংলাদেশি শ্রমিকরা আছেন, তারা বিভিন্ন দেশের ধনিকদের ও তাদের রাষ্ট্রের দ্বারা অবিশ্বাস্যভাবে নিপীড়িত ও শোষিত।

তারা এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো থেকে বিশেষ কোনো সাহায্য-সহযোগিতাই পায় না। বিদেশে কর্মরত এই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার কোনো দায়িত্ব এদের আছে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সরকারের দৃষ্টি এদের সামান্যতম স্বার্থ রক্ষার দিকে নেই।

তাদের একমাত্র লক্ষ্য, এই শ্রমিকদের উপার্জন এবং বাংলাদেশে তাদের অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধি! শ্রমিকদের এই উপার্জন ভাঙিয়ে সেটা দেশের ‘উন্নয়নের’ জন্য ব্যয় করা। এছাড়া দেশে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি থেকে নিয়ে বিদ্যমান মজুরি সময়মতো দেয়ার ক্ষেত্রেও এদের উদাসীনতার শেষ নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জুট মিল শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরির জন্য যেভাবে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেছেন, তার প্রতি এদের আচরণের মধ্যেই সেটা দেখা গেল। এছাড়া গার্মেন্ট শ্রমিকদের মধ্যেও বকেয়া মজুরি নিয়ে আন্দোলন দেখা যায়।

বকেয়া মজুরি ছাড়াও তাদেরকে এত নিম্ন মজুরি দেয়া হয়, যার দ্বারা মনুষ্যচিত জীবনযাপন সম্ভব নয়। এ নিয়ে যতই আন্দোলন করা হোক, মালিক ও সরকারপক্ষ এ ক্ষেত্রে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতির দ্বারাই পরিচালিত হয়। এসব শ্রমিক বাংলাদেশের ‘উন্নয়নের’ ক্ষেত্রে সব থেকে বড় অবদান রাখলেও সরকার প্রকৃতপক্ষে এদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন।

বাংলাদেশে কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন-মধ্যবিত্তদের, বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত লোকদের জীবনে দুদর্শার শেষ নেই। কোনো ক্ষেত্রেই এদের অবস্থা মনুষ্যচিত ও সভ্য জীবনযাপনের মতো নয়। এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। শুধু এর মাত্র কয়েকটি দিকই উল্লেখ করা যায়। প্রথমেই দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে জনগণের চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে।

এক্ষেত্রে চরম দুরবস্থা। গ্রামাঞ্চলে জনগণের চিকিৎসার কোনো প্রকৃত ব্যবস্থা নেই। সামান্যসংখ্যক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে কোনো উপযুক্ত চিকিৎসক নিয়মিত নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন না। তাদের অনেকেই অনেক সময় নিজের কর্তব্য স্থানের বাইরে থাকেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং অন্যান্য সুবিধারও নিদারুণ অভাব।

এ কারণে চিকিৎসার জন্য গ্রামের কৃষক পরিবার এবং অন্য গরিবদেরকে ঢাকা অথবা অন্যান্য শহরে আসতে হয়। এর ব্যয় বহন তাদের দ্বারা সম্ভব নয়। এ কারণে তাদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গরু-ছাগল থেকে নিয়ে জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা এজন্যই গ্রামাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা জমি হারিয়ে ভূমিহীন হচ্ছেন।

গ্রামাঞ্চলে ও শহরগুলোতে যতসংখ্যক হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র দরকার, তার কাছাকাছিও বাংলাদেশে নেই। যেখানে শত শত হাসপাতাল এবং হাজার হাজার অন্য চিকিৎসাকেন্দ্র দরকার, সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নেই।

ঢাকা এবং অন্যান্য শহরে যে সামান্য সংখ্যক সরকারি হাসপাতাল আছে সেগুলোতে গেলে এগুলোর শোচনীয় অবস্থা এবং রোগীদের দুর্দশা সহজেই লক্ষণীয়। এ দিক দিয়ে দেখলে বোঝা যাবে সরকার জনগণের চিকিৎসা বিষয়ে কতখানি নির্মমভাবে উদাসীন।

এ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য শত শত নতুন হাসপাতাল, হাজার হাজার চিকিৎসাকেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টার দরকার হলেও বাজেটে তার কোনো স্থান নেই। প্রয়োজনীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের অভাবে দেশে এখন ১০ হাজার পাস করা চিকিৎসক কর্মহীন! প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে তা হাস্যকর।

অর্থাৎ ‘উন্নয়ন’ বলতে এক্ষেত্রে কোনো উন্নয়নই বোঝায় না। কাজেই দেশের উন্নয়নের জন্য এই শ্রেণির লোকদের কাছে ত্যাগের দাবি করলেও সরকারের বাজেটে এদের কোনো স্থান নেই। উন্নয়ন বলতে জনগণের জীবনের উন্নতির কোনো চিন্তাই এদের নেই।

উন্নয়নের অর্থ হল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সে প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যবসায়ী, ব্যাংকারসহ সমগ্র ধনিক শ্রেণির স্বার্থ উদ্ধার এবং ব্যাপক লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি।

কিন্তু শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রে নয়, জনগণের জীবনের সব ক্ষেত্রেই এ অবস্থা। তাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাবে গ্রাম ও শহরের গরিবদের জন্য প্রকৃতপক্ষে কিছুই নেই। ঢাকা এবং অন্যান্য শহরে অনেক ব্যয়বহুল স্কুল-কলেজ আছে, যেখানে মোটামুটি এক ধরনের শিক্ষা দেয়া হয়।

ভালো শিক্ষকরা এগুলোতে ছাত্রদের পাঠদান করেন। এজন্য পরীক্ষাতেও এরা ভালো ফল করে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অনেক স্কুল থেকে কোনো ছাত্রই পরীক্ষায় পাস করে না। অর্থাৎ এগুলোতে যে শিক্ষাব্যবস্থা আছে তা শোচনীয়।

কিন্তু এই সমস্যার এ দিকটি বিবেচনা না করে উল্টো এগুলোকে শাস্তি দেয়ার জন্য বন্ধ করে দেয়ার হুমকি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়। এই স্কুলগুলোর শিক্ষকদের নিজেদের ভালো শিক্ষা বলে কিছু নেই, তারা শিক্ষকতার অযোগ্য। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

দরকার গ্রাম ও শহরাঞ্চলে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ। ভালো শিক্ষক, ভালো স্কুল, গৃহ উপযুক্ত আসবাবপত্র। কিন্তু এদিক দিয়ে গ্রামের মানুষগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। এসব দিক বিবেচনা করে বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে বরাদ্দ দরকার, তার কিছুই নেই। এক্ষেত্রে উন্নতিকে সরকার তাদের ‘উন্নয়নের’ হিসাবের মধ্যে রাখে না।

জনগণের বাসস্থানের দিকে তাকালেও এই একই চিত্র দেখা যায়। শহরাঞ্চলে বস্তিগুলোর অবস্থা মানুষের বাসের অযোগ্য। এছাড়া সাধারণভাবে গরিবদের গৃহসমস্যা প্রকট। পানির অবস্থা শোচনীয়। খাওয়ার পানির সংকট তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক বড় সমস্যা। এসব ক্ষেত্রে বিরাট আকারে বিনিয়োগ দরকার হলেও বাজেটে কিছুই নেই।

এককথায় বলতে গেলে, সাধারণ মানুষের, কৃষক-শ্রমিকদের, নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর করবৃদ্ধির চিন্তা ছাড়া তাদের উপকারের জন্য ব্যয়বৃদ্ধির কোনো চিন্তা সরকারের নেই। যা আছে তা হল জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে ‘উন্নয়ন’। ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও লুটপাটকারী ধনিক শ্রেণির শাসন যেখানে বলবৎ সেখানে এছাড়া আর কী-ই বা সম্ভব?

১৪.৭.২০১৯

বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×