স্বদেশ ভাবনা

বিএনপির এখন সামনে তাকানোর সময়

  আবদুল লতিফ মন্ডল ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি

বিএনপি আগামীতে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে এবং জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৬টি আসন পাওয়া বিএনপি প্রথমে জাতীয় সংসদে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত নিলেও ‘দলের ভাঙন এড়াতে’ সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সংসদে যোগদানের পর সব নির্বাচনে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া দলটির আর কোনো বিকল্প ছিল না।

অনেকটা নিজেদের ভুলের কারণে এবং বাকিটা সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও কূটকৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে বিএনপি আজ পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে বিএনপির ভেঙে পড়া উচিত হবে না। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, যেমন করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পর্যুদস্ত আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

গত ৫ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলটি আগামীতে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মর্মে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দলীয় প্রতীকেই অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তও নেয় বিএনপি। উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ায় ওই নির্বাচনের পরপরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার শত্রুতা অনেক পুরনো। এতে শুধু দলীয় স্বার্থ জড়িত নয়, বরং এর পেছনে মূল কারণ দু’দলের নেত্রীর মধ্যকার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বৈরিতা এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শ্রী রাধা দত্তের মতে, তাদের মধ্যকার শত্রুতা বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকে ঘিরে। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের প্রতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের সহানুভূতি প্রদর্শনে যেমন বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের শত্রুতা বৃদ্ধি পায়, তেমনই ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান হত্যায় পরোক্ষ সমর্থনের জন্য বিএনপি আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে (Bangladesh: A Fragile Democracy)।

প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা আগের মতো গত ১৬ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডে খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যোগাযোগ ছিল’ (যুগান্তর, ১৭ আগস্ট)। আর যে ব্যক্তিগত স্বার্থ দু’দলের নেত্রীর মধ্যে শত্রুতা জিয়ে রেখেছে তা হল তাদের উভয়ের পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা আওয়ামী লীগের অনেক দিনের মনোবাঞ্ছা। আর এ মনোবাঞ্ছা পূরণে বিএনপি বারবার আওয়ামী লীগের পাতানো ফাঁদে পা দিয়েছে। যেসব ভুলের মাধ্যমে বিএনপি আওয়ামী লীগের পাতানো ফাঁদে পা দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে নিজ দায়িত্বসহ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।

তৎকালীন সংবিধান মোতাবেক সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদের প্রথম দাবিদার হলেও বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আপত্তির কারণে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অপারগতা জানালে বিএনপি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকল্প কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পদক্ষেপ না নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সর্বশেষ পন্থা হিসেবে তাদের মনোনীত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে নিজ দায়িত্বসহ প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজ দায়িত্বসহ প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ প্রথমে তাকে মেনে নিলেও পরে এটিকে নবম সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা হিসেবে অভিহিত করে। আওয়ামী লীগ থেকে ঘোষণা করা হয়, তারা নিজে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ছোট দলগুলো ২২ জানুয়ারি ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নবম সাধারণ নির্বাচন বর্জন করবে। প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করলে রাজনৈতিক সংকট গুরুতর আকার ধারণ করে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার এবং উপদেষ্টারা নিজ নিজ পদে ইস্তফা দেন। দু’বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় সেনাসমর্থিত নির্দলীয় সরকার। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে নিজ দায়িত্বসহ প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ বিএনপির একটি বড় ভুল ছিল।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গায় সেনাসমর্থিত নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার জন্য জনগণ বিএনপিকে অনেকটা দায়ী করে। আওয়ামী লীগ তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিএনপির এই ভুলকে সঠিকভাবে কাজে লাগায়। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

দুই. দশম সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনে আমন্ত্রণের জবাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার তাৎক্ষণিক সম্মতি প্রদান না করা। উল্লেখ্য, নবম সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর দু’বছর পার হতেই আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।

জনগণ আওয়ামী লীগের এ পদক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি। সাধারণ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়তে থাকে। এ দাবিতে আন্দোলন বেগবান হতে থাকলে সরকারের অস্বস্তি বেড়ে যায়। সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের জন্য দশম সংসদ নির্বাচনের আড়াই মাস আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের জন্য টেলিফোনে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত সংলাপের দিনের পরদিন পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আহূত হরতালের মেয়াদ বহাল থাকায় খালেদা জিয়া পরবর্তী কোনোদিনে যে কোনো জায়গায় তার সঙ্গে সংলাপে বসার সম্মতি দেন। এ সংলাপ আর হয়নি। অনেকে মনে করেন, গণভবনে আলোচনায় বসার জন্য খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনে আমন্ত্রণ ও তাৎক্ষণিক সম্মতি প্রদানের তাগিদ ছিল লোক দেখানো এবং সময় পার করার কৌশল।

কারণ আওয়ামী লীগ কখনও বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী ছিল না এবং আওয়ামী লীগ কখনও চায়নি বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সরকারের কৌশল বুঝতে ব্যর্থ হয় বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সংলাপে যোগ না দিয়ে দলটি সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেয়। রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বিএনপির সংলাপে আগ্রহ নেই- এমন বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগ কোনো কার্পণ্য করেনি।

তিন. দশম সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দেশি-বিদেশি সুহৃদদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল বিএনপির একটি মারাত্মক ভুল। এ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভের সমূহ সম্ভাবনা ছিল।

অধিকাংশ আসনে জয়লাভ না করলেও বিএনপি ১০০ থেকে ১২০টি আসনে জয়লাভ করত এবং একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত হতো। সে ক্ষেত্রে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপিকে কঠিন সময় পার করতে হতো না এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকারি দল নজিরবিহীন অনিয়মের আশ্রয় নিতে পারত না।

চার. একাদশ সাধারণ নির্বাচনে যোগদান বিএনপির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী বা সমর্থক নেই এমন কয়েকটি দলের সঙ্গে নির্বাচনী মোর্চা বিএনপির কোনো উপকারে আসেনি। বিশেষ করে মোর্চার একটি দলের একজন নেতা সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকায় বিএনপি নির্বাচনে ফোকাস হারিয়ে ফেলে। দলীয় চেয়ারপারসন জেলে থাকায় এবং সিনিয়র সহসভাপতি একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে অবস্থান করায় বিএনপির উচিত ছিল রাজনীতিতে সক্রিয় নিজেদের একজন নেতার নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোটকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করা।

তাছাড়া অন্য দুটি কারণে জনগণ বিএনপি দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এদের একটি হল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা। এ হামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আওয়ামী লীগের বহু নেতা ও কর্মী হতাহত হন। স্বাভাবিকভাবে এর দায়ভার পড়ে শাসকদল বিএনপির ওপর।

এতে বিএনপির প্রতি জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অন্য কারণটি হল, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিএনপি সরকারের অনীহা। বিএনপির ২০০১-০৬ মেয়াদে দেশ পরপর চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। অবশ্য আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলের শেষ বছরে দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বে দুর্নীতিতে প্রথম হয়।

দেশ পরপর একনাগাড়ে চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি সরকার দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে। এতে মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। এ সবের প্রতিফলন ঘটে নবম সাধারণ নির্বাচনে। বিএনপি নবম সাধারণ নির্বাচনে ভীষণভাবে পরাজিত হয়।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপিকে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দলটির এখন প্রথম কাজ হবে তৃণমূলসহ সব পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির রয়েছে এক বিরাট কর্মীবাহিনী। বিগত দিনে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিদারুণ কষ্টে রয়েছেন, তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় যারা সরকারের রুজু করা মামলা-মোকদ্দমায় আসামি হয়েছেন তাদের আইনি সহায়তা দিতে হবে।

মোটকথা, তাদের মধ্যে বিশ্বাস জাগাতে হবে যে, দল আপদে-বিপদে তাদের সঙ্গে আছে। তাছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের যেসব নেতা চলতি বছরের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তাদের ধৈর্য ধারণে অনুপ্রাণিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে কমিটি গঠনে ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করতে হবে।

তৃতীয়ত, বিএনপিকে জোরেশোরে গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং এসব কার্যক্রমে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোট প্রদানের অধিকার রক্ষার্থে দলটির কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। চতুর্থত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচনে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে জয়ের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে।

পঞ্চমত, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মুক্ত’ করতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন জোগাড়ে জোর উদ্যোগ নিতে হবে। ষষ্ঠত, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা না দেখা গেলে আগামী জাতীয় কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনে বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সময়কালের জন্য আরেকটি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করে রাজনীতিতে সশরীরে সক্রিয় এমন একজন সিনিয়র নেতাকে ওই পদে বসিয়ে তার নেতৃত্বে দল পরিচালনা করা অনেকে সময়ের দাবি বলে মনে করেন।

দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই। একদলীয় দশম সংসদ নির্বাচন এবং নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে অত্যন্ত দুর্বল করে ফেলেছে।

দুর্বল গণতন্ত্রকে সবল করতে বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য যেটুকু স্পেস বা সুযোগ থাকা পয়োজন বর্তমানে তা নেই। এটা দিতে হবে। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যসব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হোক- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×