পশ্চিমতীর নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবস্থান

  ড. মো. রফিকুল ইসলাম ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমতীর

জর্ডান নদী, পশ্চিমতীর বা ওয়েস্ট ব্যাংক, গাজা, গোলান মালভূমি এবং জেরুজালেম- এ পাঁচটি স্থানের নাম জানে না, এমন কোনো সচেতন মানুষ বোধহয় দুনিয়াতে খুব কমই আছেন। তবে নতুন প্রজন্মের কথা একটু আলাদা। কারণ তাদের অধিকাংশই এখন পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

সংবাদপত্রের পাতায় নজর পড়লেই কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার পর্দার দিকে তাকালেই এ পাঁচটি স্থান নিয়ে কোনো না কোনো সংবাদ থাকবেই। জর্ডান নদী হল এমন একটি বিখ্যাত নদী, যার বর্ণনা কোরআনের তাফসিরসহ বহু ধর্মীয় কিতাবে পাওয়া যায়। দু’পাশের পাহাড়বেষ্টিত ভূমির প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে প্রবহমান এ নদীটি খুব একটা প্রশস্ত নয়।

বড় ধরনের একটা বাংলাদেশি খালের মতোই প্রশস্ত; কিন্তু বেশ খরস্রোতা নদী। নদীটি উত্তর দিকে অবস্থিত গ্যালিলি সাগর (যার আরবি নাম লেক তাবারি) থেকে দক্ষিণ দিকে ডেড-সি নামক এক অভিশপ্ত সাগর পর্যন্ত প্রবহমান রয়েছে।

জর্ডান নদীর পশ্চিমতীর মূলত নদীটি পশ্চিম তটরেখা থেকে পূর্ব জেরুজালেম নগরী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ একটি অঞ্চল। আর সিরিয়া ভূখণ্ডের গোলান মালভূমি (বর্তমানে ইসরাইলের দখলে) হল, গ্যালিলি সাগরের পূর্বতীর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি উচ্চ মালভূমি; যার সামরিক এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

বক্ষমান প্রবন্ধটিতে নতুন প্রজন্মসহ প্রায় ৩০ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সামনে পশ্চিমতীর, গোলান মালভূমি এবং জেরুজালেম নগরীতে অবৈধ ইসরাইলি রাষ্ট্রের দখলদারিত্বের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে; সেইসঙ্গে পশ্চিমতীরে দখলদারিত্বের প্রশ্নে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবস্থান অতীতে কেমন ছিল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী হতে পারে, সে সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, এবার আসুন; নিকট-ইতিহাসের পাতা থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করি। প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন ছিল উসমানীয় খেলাফতের অন্তর্গত একটি অঞ্চল। সেখানে আরব এবং মুসলিমরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে কিছু খ্রিস্টান ও ইহুদি সেখানে বসবাস করত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) পর উসমানীয় খেলাফত কার্যত ভেঙে পড়েছিল ব্রিটিশদের দীর্ঘদিনের নানামুখী চক্রান্ত এবং মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় খেলাফতের খলিফা ব্রিটিশদের বিপক্ষে এবং জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান অক্ষশক্তি পরাজিত হয় এবং ব্রিটেনের মিত্রশক্তি বিজয়ী হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নবগঠিত ‘লিগ অব নেশন’-এর এক প্রস্তাবের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন শাসন করার জন্য ব্রিটেনকে ‘ম্যান্ডেট’ দেয়া হয়।

হালুয়া-রুটি ভাগের মতো পুরো মধ্যপ্রাচ্য তখন কার্যত ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছিল ব্রিটেন আর ফ্রান্স। ব্রিটিশ ‘ম্যান্ডেটারি’ শাসন চলাকালে প্যালেস্টাইনে এক পর্যায়ে আরব জাতীয়তাবাদী এবং ইহুদিবাদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর ব্রিটেনে প্রচণ্ড আর্থিক সংকট থাকার কারণে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা এ অঞ্চলটি তখন ফিলিস্তিনি আর ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ সরকার।

এর পেছনে অবশ্য নিহিত ছিল ইহুদিদের দীর্ঘদিনের জায়নিস্ট আন্দোলন এবং কেইম ওয়াইজম্যান নামক একজন ইহুদি রসায়ন বিজ্ঞানীর কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি; যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোরের সঙ্গে ১৯১৭ সালের ৯ নভেম্বর মাসে গোপনে সম্পাদিত হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে বিলাতে গ্লিসারলের মতো রাসায়নিক বিস্ফোরক দ্রব্যের দারুণ অভাব দেখা দেয়। ওই সময় গ্লিসারল ছিল মূল বিস্ফোরক পদার্থ, যা যুদ্ধে ব্যবহৃত হতো ডিনামাইট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে।

এজন্য জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়ের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের কাছে গ্লিসারল ছিল অন্যতম প্রধান একটি প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান। ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ প্রয়োজনীয়তার সুযোগ বুঝে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন অধ্যাপক কেইম ওয়াইজম্যান তখন ব্রিটিশ সরকারকে বলেছিলেন, একটি বিশেষ শর্তে তিনি গ্লিসারলের বিকল্প বিস্ফোরক উপাদান এসিটন উৎপাদন করে চাহিদা মোতাবেক ব্রিটিশ সরকারকে সহযোগিতা করতে রাজি আছেন।

আর সে শর্তটি ছিল, যুদ্ধে জিতলে প্যালেস্টাইনে গড়ে দিতে হবে একটি ইহুদি আবাস ভূমি। এতে ব্রিটিশ সরকার অতি দ্রুত রাজি হয়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণে এসিটন বিস্ফোরক ব্যবহার করে যুদ্ধে পরাজয়ের পরিবর্তে ব্রিটেনসহ মিত্রশক্তি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী হয়।

প্রথম মহাযুদ্ধে তুর্কিদের পরাজয়ের পর প্যালেস্টাইন আসে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। ১৯১৭ সালে আর্থার জেমস বেলফোরের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালের ১৪ মে প্রতিষ্ঠিত হয় অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র; কিন্তু গোটা আরবজাতি এটি প্রত্যাখ্যান করে এবং যুদ্ধ বেধে যায়।

পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ৬ দিন দখলদার ইসরাইল এবং আবর বিশ্বের তিনটি দেশ যথাক্রমে মিসর, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল; তা মূলত ৬ দিনের যুদ্ধ বা তৃতীয় আরব-ইসরাইলি যুদ্ধ নামে খ্যাত।

এ যুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক জোটের সরাসরি মদদপুষ্ট ইসরাইলি বাহিনী ৬ দিনের মধ্যে ১. মিসরের গাজা ও সিনাই উপত্যকা, ২. জর্ডানের জর্দান নদীর পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম এবং ৩. সিরিয়ার গোলান উপত্যকা ও কানিত্রা শহরটি জবরদখল করে নেয়। এ যুদ্ধের পর জেরুজালেমের ওপর দখলদার ইসরাইল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৬৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শত শত ঘটনা ঘটলেও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাউর হয়েছিল জেরুজালেম শহরটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অবৈধ ইসরাইলি রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোয় আবারও চাউর হয়েছিল গোলান মালভূমিতে অবৈধ ইসরাইলি রাষ্ট্রের অবৈধ দখলদারিত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। উপরে উল্লেখিত দুটি ঘটনার পর চলতি বছরের (২০১৯) সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে আবারও বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোয় চাউর হয়েছে জর্ডান নদীর পশ্চিমতীর অঞ্চলটি ইসরাইলিদের দখলে নেয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০১৯ সালে মার্চ মাসে যথাক্রমে জেরুজালেম নগরী এবং গোলান মালভূমির প্রকৃত মালিকানা প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত, একগুঁয়েমি ও গোঁয়ার্তুমি ভূমিকার কারণে অবৈধ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এটা ধরেই নিয়েছেন, পশ্চিমতীর পুরোপুরি দখল করার পর সেখান থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ করে সব এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপন নিশ্চিত করলেও মুসলিম জাহান থেকে সামরিক বাধার কোনো আশঙ্কা নেই; তবে কিছু নিন্দাসূচক বিবৃতি আসবে।

কিন্তু তার পরপরই আরেকটি নতুন ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোর দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে দিয়ে পশ্চিমতীর দখলদারিত্বের ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়া যাবে।

ইতিমধ্যে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ (১৭/৯/২০১৯) ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জর্ডান নদীর পশ্চিমতীর দখলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

সেইসঙ্গে গাজা ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমতীর দখলের আগ্রাসী ঘোষণাকে অবৈধ ও অগ্রহণীয় বলে ঘোষণা করেছে তুরস্ক। এক বিবৃতিতে আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের দায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আরব লীগ নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং সৌদি আরবও আলাদা বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি ওআইসিকে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।

২২টি আরব দেশ নিয়ে গঠিত সংগঠন আরব লীগ বলেছে, নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা বিপজ্জনকভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে এবং শান্তি ধ্বংস করবে। ফিলিস্তিনিরা বলেছে, এ পদক্ষেপ অবৈধ। জাতিসংঘ বলেছে, এটি নতুন শান্তি আলোচনার সুযোগ নষ্ট করবে।

প্রশ্ন হল, এ ধরনের সস্তা ও দায়সারা গোছের কিছু বিবৃতি না দিয়ে বরং আন্তর্জাতিকভাবে একটি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলকে থামাতে বাধ্য করার মতো কোনো দৃঢ় সামরিক পদক্ষেপ তুরস্ক তথা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো গড়ে তুলতে পারবে কি?

উত্তরে বলা যায়, আপাতদৃষ্টিতে তা সম্ভব নয়। কারণ ১৯৪৮ সালের ১৪ মে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে ৫৭টি মুসলিম দেশের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের কোনো নজির দেখা যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। সৌদির বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস (মুহাম্মদ বিন সালমান) নিজে একজন ইহুদি মাতার গর্ভে জন্ম নেয়ার কারণে এবং রাজপ্রাসাদে বাল্যকালে ইথিওপিয়ান আরেকজন ইহুদি নারীর হাতে বেড়ে ওঠার কারণে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি তার ব্যাপক ভালোবাসা রয়েছে- এ কথাটি তিনি নিজেই একজন ইহুদি জায়নিস্ট সাংবাদিকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের সময় স্বীকার করেছেন।

সাক্ষাৎকারটি ইউটিউব থেকে যে কোনো মুসলিম শুনে আশ্চর্য হবেন। এমবিএস ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, সোদি আরব এবং ইসরাইলের মধ্যে আর কোনো যুদ্ধ হবে না। সংযুক্ত আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের ভাষ্যও একই রকম।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী হলেও ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামরিক অভিযান চালানোর মতো কোনো পর্যায়ে নেই ওই চারটি দেশ।

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সম্প্রতি পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ার ইঙ্গিত এবং ইরানের পরমাণু বোমা তৈরি করার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। এর আগ পর্যন্ত ইরান-সিরিয়ার যৌথ সামরিক সমর্থিত লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের গাজাভিত্তিক হামাস মুজাহিদিন গ্রুপ দুটি ইসরাইলকে সার্বক্ষণিক তটস্থ রাখবে।

অতীত ইতিহাসও বলে দেয়, বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। আবর লীগ এবং ওআইসি নামক দুটি সংস্থা শুধু বিবৃতি দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কারণ ওই দুটি সংস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেকেই ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গোপন এজেন্ট।

পরিশেষে বলতে হয়, অতীতের যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে নোংরাভাবে ইহুদি সন্ত্রাসীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার এক গোপন চুক্তি।

শুধু ট্রাম্পই নন, এমন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতে ছিল না, যিনি ক্ষমতায় আসার জন্য ইহুদি লবির দ্বারস্থ হননি। প্রতিটি মার্কিন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টেরই হাত-পা সবসময় বাঁধা থাকে ইহুদি লবির অদৃশ্য সুতায়।

ইহুদি লবির মদদপুষ্টে ক্ষমতায় আসার পরপরই একের পর এক ইহুদি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য ট্রাম্পের পাগলামি শুরু হয়ে যায়। এসিড টেস্ট হিসেবে ট্রাম্প প্রথমেই বেছে নেন মুসলিমদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মসজিদের শহর জেরুজালেমকে।

ওয়াশিংটনের একজন বিবিসি সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইহুদিদের সমর্থন পেতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনে জিতলে তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন এবং মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করবেন।

২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন। এরপর ট্রাম্প দ্বিতীয় এসিড টেস্ট শুরু করেন গোলান মালভূমির সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নিয়ে।

২৫ মার্চ ২০১৯ সালে মার্কিন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দিয়ে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে আরেকটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্পের তৃতীয় এসিড টেস্টের বিষয় হল, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই জর্ডান নদীর পশ্চিমতীর দখলের জন্য নেতানিয়াহুকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণে সর্বশক্তি নিয়োগ করা।

মুসলিম বিশ্বের ২২ জাতির আরব লীগ ও ৫৭টি দেশের ওআইসি সংস্থা- এ দুটোর কেউ এটা মেনে নেবে কিনা, তাতে ট্রাম্পসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশের কিছুই যায় আসে না।

ড. মো. রফিকুল ইসলাম : বিজ্ঞানী; সহযোগী অধ্যাপক, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাবিপ্রবি

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×