মই বেয়ে উঠে মইকে ছুড়ে ফেলা!

  আফজালুল বাসার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতায়ন

ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, হলোকস্টে শুধু ইহুদিদের নয় পোলিশ, রুশ, স্লাভস সবাইকেই নিশ্চিহ্ন করে লিবেনস্রাউম (জার্মানদের নিজভূমি) বানানোর চেষ্টা হয়েছিল।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এ লক্ষ্যে কয়েক কোটি মানুষকে তারা হত্যা করেছিল। যুদ্ধে দুই হাজার মাইল রুশ সীমান্তে এবং ভেতরে ২ দশমিক ৬ কোটি রুশকে হত্যা করা হয়েছিল মর্মেও উল্লেখ আছে।

তাই বলা হয়ে থাকে, মিত্রপক্ষের পক্ষে ‘বুচারস বিলের’ অধিকাংশই শোধ করেন স্টালিন। লেনিনের মৃত্যুর পর দেশের ভেতরে-বাইরে দুই ফ্রন্টে শ্রেণিসংগ্রাম চালানো, সমাজতান্ত্রিক যৌথ খামার এবং শিল্পায়ন করা, বিশ্ব-ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লালফৌজ নিয়ে বিজয় অর্জন করতে কমিউনিস্ট পার্টিকে নেতৃত্ব দেয়া- এসবই সম্পাদন করেছেন তিনি।

একদিকে বিশ্ব-ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছিল, অপরদিকে বিশ্বের বুকে প্রথমবারের মতো কমপক্ষে ৩৬ বছর স্থায়ী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। এ মহান, ঐতিহাসিক ও বিস্ময়কর বিজয় অর্জন করার পথে তিনি ভুলত্রুটি করে ফেলতে পারেন, সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবু ন্যায্য কারণেই রাশিয়ার ও বিশ্বের বহু মানুষ স্টালিনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। কিন্তু তার ভূমিকাকে প্রশংসা করার বদলে হিটলারের করা কয়েক কোটি রুশ হত্যাকাণ্ডের দায় তার ওপর চাপিয়ে একটি দানবীয় চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরা পরাজিত পক্ষের মিথ্যা প্রচারণা মাত্র।

এখন এমন মিথ্যা প্রচারণা কারা করেন? স্টালিনের প্রখ্যাত ভাষ্যকার হীরেন মুখার্জি তার ‘স্টালিন উত্তরাধিকার হাতির দাঁতে খুঁত, তবু হাতির দাঁত’ গ্রন্থে লিখেছেন : ‘১৯১৭-র নভেম্বর বিপ্লব ও তার পরবর্তী ঘটনা ছিল ঐতিহাসিক বিপর্যয় (রাশিয়া ও অন্যত্র বিভিন্ন ধরনের কমিউনিস্ট বিরোধীরা যে ধারণা পোষণ করেন), ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েতের বিজয় ছিল হর্ষ প্রকাশের নয়, দুঃখ প্রকাশের ঘটনা, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের দ্বারা আরও বিকশিত (ভালো-মন্দসহ) সমাজতন্ত্রের বিশ্বব্যাপী অগ্রগতি এখন যে বাধাগ্রস্ত ও পরাস্ত হয়েছে, তা বিশ্বের মঙ্গলের জন্যই- এবংবিধ পূর্ব ধারণা ব্যতিরেকে স্টালিন যুগ ও স্টালিন সম্পর্কে কোনোরকম অখ্যাতির কালিমালেপন করা সম্ভব নয়।’

এ মিথ্যা প্রচারকরা হলেন সমাজতন্ত্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধী পক্ষ, সারা বিশ্বের কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা-মেহনতি মানুষের শত্রু। মেহনতিদের এ রাষ্ট্রব্যবস্থাটিকে ধ্বংস করার জন্য ১৯৫৩ সালের ৫ মার্চ স্টালিনের মৃত্যুর পর থেকে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভগণ তাদের চক্রান্তকারী প্রতিভাকে নিয়োজিত করেছিলেন, যার ক্রমপরিণতি রুশ সমাজতন্ত্রের পতন, গ্লাস্তনস্ত ও পেরস্ত্রইকা।

১৯৪৯ সালে ক্রুশ্চেভ স্টালিনের জন্মদিনে ‘জনগণের স্টালিনীয় বন্ধুত্ব : আমাদের মাতৃভূমির অপরাজেয় প্রতিভূ’ প্রবন্ধে স্টালিনকে ‘পিতা’, ‘মহান শিক্ষাগুরু’ ‘পৃথিবীর সমুদয় শ্রমজীবী মানুষের নেতা’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন।

অথচ স্টালিনের মৃত্যুর পর কুখ্যাত ২০তম কংগ্রেসে (১৯৫৬) এ ক্রুশ্চেভই তাকে ‘স্বেচ্ছাচারী’, ‘ভয়াবহ অপরাধী’, ‘হত্যাকারী’ ইত্যাদি হিসেবে অভিহিত করলেন। এ দৃষ্টান্ত থেকেই আমরা বুঝে নিতে পারি ক্রুশ্চেভ কী ধরনের লোক ছিলেন।

১৯৩৬-৩৮ সালে মস্কোতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরকার জার্মান ফ্যাসিস্টদের সহযোগী জিনোভিয়েভ, কামেনেভ, রাদেক, বুখারিন প্রমুখের বিচার হয়েছিল। স্টালিন ৫ম বাহিনী উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এ সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল বলেন, ‘হিটলার রাশিয়ায় যে ৫ম বাহিনীর আশা করেছিল, সেটা পায়নি।’ পেলে রাশিয়া হয়তো টিকে থাকত না বা টিকে থাকা অনেক কঠিন হতো। সাম্রাজ্যবাদীরা এবং সমাজতন্ত্র ধ্বংসকারী রুশ নেতারা তাদের নির্দোষ অভিহিত করে প্রোপাগান্ডা চালান। অথচ মস্কোবিচার কোনো নির্দেশিত বিচার ছিল না। বিচার হয়েছিল খোলা আদালতে, যেখানে উপস্থিত থাকতেন বিদেশি আইনজ্ঞ, সাংবাদিক, কূটনীতিকসহ অনেকেই।

১৯৩৪ সালে স্টালিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী কিরভকে হত্যা করা হয় জার্মান-বাল্টিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের চক্রগুলো এর দায় চাপায় স্টালিনের ওপর।

কিরভ হত্যার বিচারে দেখা যায়, ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করে এবং তাদের শাস্তি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ ই ডেভিস মস্কোবিচার সম্পর্কে তার ‘মিশন টু মস্কো’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘এই বিচারের মধ্যে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য অভিযুক্তদের ওপর কোনো জবরদস্তি ছিল না এবং সোভিয়েত রাষ্ট্র অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে।

অকাট্য প্রমাণ, সাক্ষ্য ও জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা একে একে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হয়।’

স্টালিন সম্পর্কে অবিরাম কুৎসা রটনা, মিথ্যা প্রচারণা এবং তার দানবীয় চিত্র অঙ্কনকারীরা এর আগে লেনিনকে আক্রমণ করতেন। লেনিনের মৃত্যুর পর তার ওপর আক্রমণের পরিমাণ হ্রাস করে পুরোটা নজর দেন স্টালিনের দিকে।

তারা চক্রান্ত করে বলেন, স্টালিন হল লেনিনবিরোধী। তারা স্টালিনকে খুন-খারাবির নেতা, জনশত্রু, সমাজতন্ত্র ধ্বংসকারী ইত্যাদি মিথ্যা কালিমালেপন করেন। তাকে মূর্খ ও নির্দয় হিসেবে অভিহিত করেন।

হিটলার, নাৎসি বাহিনী, ইতালীয় ও জাপানি ফ্যাসিস্ট এবং রুশ কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে লুকিয়ে থাকা তাদের এজেন্টরা তার মৃত্যু কামনা করতেন। তারা সব ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি তারা লেনিনকেও জার্মানির চর বলেছিলেন- তিনি যখন জার্মানের সঙ্গে ব্রেস্ত-লিতক্স চুক্তি করেন। লেনিনকে তারা হত্যা করতে চেষ্টা করেছেন, প্রায় সফলও হয়েছেন- গুলিটা ফানি কাপলানের পিস্তল থেকে বের হয়েছিল; কিন্তু ছুড়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদীরা।

ব্যক্তিজীবনে স্টালিন কেমন ছিলেন? ব্রিটিশ দম্পতি বিয়াট্রিস ওয়েব ও সিডনি ওয়েব সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র দেখার জন্য গিয়েছিলেন। তারা লিখেছেন, স্টালিনের সন্তানরা যে স্কুলে পড়ত সেখানে বলা ছিল, স্টালিনের ছেলেমেয়ে হিসেবে তাদের পরিচয় যেন কেউ না জানে এবং তারা যেন কোনো বিশেষ সুবিধা না পায়।

স্টালিনের একজন পুত্র তরুণ রুশ ক্যাপ্টেন নাৎসি বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে নাৎসিরা প্রস্তাব পাঠান একজন বন্দি নাৎসি জেনারেলকে মুক্তি দিলে তারা স্টালিনের পুত্রকেও মুক্তি দেবেন। স্টালিন এ প্রস্তাবে সম্মত হননি। বলেছিলেন, অন্য বন্দিদের ভাগ্যে যা হবে, পুত্রের ভাগ্যেও তাই হবে। পুত্র আর ফেরত আসেনি। তার স্ত্রী নাদেজদা এলুলুয়েভা ছিলেন একজন সাধারণ শ্রমিক।

তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন, ‘নিজের যোগ্যতায় কমরেড স্টালিন রাষ্ট্রনায়ক পদে আছেন, আর আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আমি হয়েছি একজন সাধারণ শ্রমিক। সবাই আমরা নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজতন্ত্রের জন্য কাজ করছি।’

ইরিনা স্কারিয়াতিনা অভিজাত জার পরিবারের সদস্য ছিলেন। বিপ্লবের সময় তার জেনারেল পিতা এবং কাউন্টেস মাতা- উভয়ে নিহত হন। দীর্ঘদিন আমেরিকায় বাস করে ফিরে আসার পর তার লেখা ‘ফিরে দেখা’ নামের স্মৃতিকথায় সোভিয়েত ইউনিয়ন বিস্ময়কর হিসেবে দেখা দিল।

স্টালিনের স্ত্রীর মৃত্যু হলে পরদিন ইরিনা খবরটি লোকমুখে শুনেছেন। তখন তিনি মস্কোতে। খবরটি শিরোনাম হয়নি, প্রথম পাতাতেও ছাপা হয়নি। ছাপা হয়েছিল তৃতীয় পৃষ্ঠায় সংক্ষিপ্ত আকারে এবং নিচের দিকে। ইরিনা লক্ষ করেন বিচারকাজ সহজ হয়ে গেছে, অপরাধ কমেছে, জেলখানার সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন জাত বুর্জোয়া হয়েও ১৯৩০ সালে রাশিয়ায় গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের যে প্রশংসা করেছেন এবং অসাধারণ উন্নতিতে বিস্মিত ও প্রভাবিত হয়েছেন, তা স্মরণ করা যেতে পারে। রাশিয়ার চিঠিতে (১৯৩১) তিনি লিখেছেন, ‘সমবায় জয়ী হোক’। সমাজতন্ত্র সমবায়েরই শক্তি। মাত্র দু’সপ্তাহ সোভিয়েতে থেকে তিনি দেখেছেন, ‘শিক্ষার বিস্তার অভাবনীয়, সংস্কৃতির সর্বজনীন চর্চা ও উৎকর্ষ অত্যন্ত উঁচু মানের।’ সর্বোপরি দেখেছেন, রাষ্ট্রের চেয়ে সমাজ বড় হয়ে উঠেছে, বৈষম্য নেই, অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্টালিন ডিক্টেটর ছিলেন না, ছিলেন যথার্থ গণতন্ত্রী। দেশের কোটি কোটি মানুষের মতামত নিয়ে সংবিধান রচিত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত নিতেন সবাই মিলে, একা নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে জয়লাভ তার কাছে ছিল গুরুত্বপূর্ণ, নিজের নিরাপত্তা নয়।

তার ৫৮তম জন্মদিনে এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার সমাজতন্ত্র রক্ষার জন্য, বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির জন্য আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমি লড়ে যাব।’

ভারতের প্রথম দিককার কমিউনিস্ট নেতা মানবতাবাদী এমএন রায় বেশকিছু দিন সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিলেন। তিনি তার Men I Met গ্রন্থে লেখেন, লেনিন ও স্টালিন দু’জনের সময়েই ট্রটস্কির রোমান্টিক বিপ্লবী চিন্তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি- ‘পার্টির অভ্যন্তরে স্টালিন ও ট্রটস্কির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যদি শেষ পর্যন্ত ট্রটস্কির জয় হতো এবং স্টালিনকে বিদায় নিতে হতো, তাহলে আজ আমরা সোভিয়েত ইউনিয়ন নামে যে দেশ দেখতে পাচ্ছি, তার কোনো অস্তিত্বই থাকত না।’

বিখ্যাত দার্শনিক ভিটগেনস্টাইন তার ‘ট্রাকটেটাস’ গ্রন্থের শেষে লিখেছেন, তার বচনকে ব্যবহার করে দার্শনিকরা সেসব বচনকে ছাড়িয়ে উঠেছেন। এটা কেমন? এটা হল, মই ব্যবহার করে উপরে ওঠার পর মইকে ছুড়ে ফেলে দেয়া।

কেউ কেউ বলছেন, স্টালিন এখন ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে- বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে তাকে আঁকড়ে না থেকে সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে হাত লাগানো। তার মানে তারাও সমাজতন্ত্র চান!

কেমন সমাজতন্ত্র? ৩৬ বছরের রুশ অর্জনকে বাদ দিয়ে সমাজতন্ত্র সমর্থন করা হল মই ব্যবহার করে উপরে ওঠার পর মইকে ছুড়ে ফেলে দেয়া। এরা ক্রুশ্চেভদের মতোই সমাজতন্ত্রী!

এরা লাফিয়ে চলেন, বাদ দিয়ে দিয়ে। প্রকৃতই যারা সমাজতন্ত্র চান তাদের জন্য এ উপদেশ প্রয়োজন নেই, তাদের বুদ্ধিমান হওয়ারও প্রয়োজন নেই। কারণ বোকা বুড়ো পাহাড় সরিয়েছিলেন। বর্তমান বিশ্বে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের মরণদশার আলামত স্পষ্ট, তারা যুদ্ধ ও ঝগড়ায় লিপ্ত, চরম সংকটে পতিত। তাদের পতন দ্রুততর করার জন্য গোকুলে বাড়িছে সে।

আফজালুল বাসার : লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×