দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করতে হবে
jugantor
দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করতে হবে

  ড. এম অহিদুজ্জামান  

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

গত ২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘রিভিউ অব দি ইমপ্লিমেন্টেশন অব দি ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশন’-এর দশম সেশনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন- ‘বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতিসংক্রান্ত বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে দুর্নীতির যে কোনো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৩ সেপ্টেম্বর)।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করা হলেও কেন দুর্নীতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যশোর-খুলনা মহাসড়ক, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আরও কিছু সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। যার মধ্যে শিশু, কিশোরী, যুবতী, মহিলা, এমনকি বৃদ্ধাসহ নানা বয়সী নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনপূর্বক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

কে নেই ধর্ষকের কাতারে! মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত কেউ না কেউ বর্তমান সময়ে এ অভিযোগে অভিযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ করে বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করার পরও দুর্নীতি না কমার কারণ জানতে চেয়েছেন। আমি মনে করি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের মানুষের সেবায় যাতে আন্তরিক হন এবং কোনো রকম দুর্নীতি ছাড়াই রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদন করেন সেটি নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করেন।

কিন্তু আমরা সত্যিকারার্থে অবলোকন করি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ হলেও তাতে দুর্নীতি ন্যূনতম কমেনি, বরং অনেকাংশে সেটা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।

শুধু যে অভাব থেকেই মানুষ দুর্নীতি করে তা নয়, বরং দুর্নীতির পেছনে কাজ করে মানুষের লোভ-লালসা, অভিলাষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। আমরা যদি দুর্নীতি নিয়ে সত্যিকার অর্থে গবেষণা করি, তাহলে দেখতে পাব অভাব থেকে মানুষ যদি দুর্নীতি করত তাহলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি কমে যেত।

মূলত লোভ-লালসা, বিলাসী জীবনযাপন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সমাজে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে ফেলার মানসিকতা থেকেই দুর্নীতির শুরু। এ দুর্নীতির মধ্যে মূলত আর্থিক দুর্নীতি ও চরিত্রগত দুর্নীতি আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাজে গতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যেই সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করা হয়। কিন্তু কথায় আছে চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী।

এক সময় বাংলা অভিধানে পুকুর চুরি প্রবাদটি ব্যবহৃত হতো; কিন্তু এখন দীঘি চুরি, সাগর চুরি কিংবা মহাসাগর চুরি বাংলা অভিধানে সংযোজিত হওয়ার দাবি রাখে। বর্তমান সময়ে দুর্নীতির পরিমাণ শত, সহস্র, অযুত, কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কিছু অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির কারণে তার সুফল সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর কোনো ধর্ম-সংস্কৃতিতেই দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়া হয়নি।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি করার অন্যতম একটি উপায় হল সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে সময় বর্ধিতকরণ। কারণ, সময়ের সঙ্গে অর্থ বরাদ্দের একটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হলে সেখানে অনির্ধারিতভাবে অর্থ বরাদ্দও বৃদ্ধি করতে হয়।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ঠিকাদাররা কিংবা প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ইচ্ছা করেই সুনির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না করে অযথা এর সময় বৃদ্ধি করেন, সঙ্গে টাকার বরাদ্দও বাড়াতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, যখন আমরা কোনো কাজ কিংবা প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করি, তখন তো সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে কোন কাজ কত দিনে সম্পন্ন করতে হবে এবং তার জন্য কত বরাদ্দ থাকবে।

সবকিছু জেনে-বুঝেই তো তারা কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন, তাহলে কেন পরবর্তী সময়ে সময় ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি? অথচ আমরা কিছু দিন আগে দেখলাম, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি প্রায় ছয় মাস দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু ও মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ রাখে।

এ জন্য তারা প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোরও আবেদন করে; কিন্তু সেই ৬ মাস তো দূরে থাক আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই তারা বাংলাদেশের তিন-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করেছে। শুধু তাই নয়, তিন সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা তারা সরকারকে ফেরতও দিয়েছে।

অথচ দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে উল্টো দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজের সময় ও পরিধি নিজেরা ইচ্ছে করেই বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প কিংবা ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের কথা বলতে পারি।

একই সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট নব্য আওয়ামী লীগ সেজে এসব প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দিনরাত দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন; কিন্তু দুর্নীতিবাজদের কারণে তার এ পরিশ্রমের সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

শুধু যে দুর্নীতি হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়; এ দুর্নীতির ফলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারও হচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধু বাকশালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমগ্র দেশ থেকে দুর্নীতির শেষ শেকড় উপড়ে ফেলার জন্য দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ইদানীং কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কিছু সুযোগসন্ধানী নব্য আওয়ামী লীগ সেজে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

আমার মাঝে মধ্যে বিস্ময় লাগে, প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশ গঠনের জন্য যখন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখন আমরা কেন এ দুর্নীতিকে কমাতে পারছি না!

অনেক সময় আবার দেখা যায়, অনেকে ঘুষ দেয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। তারা যদি কাক্সিক্ষত মানুষটিকে ঘুষ দিতে না পারেন, তাহলে তাদের আর দুঃখের সীমা থাকে না। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক সময় সরকারি প্রকল্পে মাত্র দুই হাজার টাকা ফাঁকি দেয়ার জন্য এ দুর্নীতিবাজরা পঁচিশ হাজার টাকা ঘুষ দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

সাধারণত দেখা যায়, এ দুর্নীতিবাজ শ্রেণি সর্বদা সমাজের উচ্চপর্যায়ে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে রাখে। এ ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আরেকটি প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়, তারা নিজেদের বৈধ করার জন্য সমাজের সৎ, নৈতিক ও উন্নত চরিত্রবান মানুষকেও দুর্নীতিবাজ প্রমাণে সচেষ্ট থাকেন। এটি তাদের একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

আমাদের সমাজে এখনও সৎ, যোগ্য ও উন্নত চরিত্রসম্পন্ন মানুষ বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা তাদের সম্মানে কালিমালেপন ও নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে সচেষ্ট থাকে। আর একশ্রেণির মানুষও তাদের সহযোগিতা করে থাকেন।

এরা হল মূলত দুর্নীতিবাজদের উচ্ছিষ্টভোজী। সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হবে এসব সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করে পুরস্কৃত করা। নচেৎ তারা যথাযথ সম্মান নিয়ে নির্বিঘ্নে মানুষের সেবা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবেন।

আমাদের বাংলা অভিধানে একটি প্রবাদ প্রবচন বহুল প্রচলিত ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’। ঠিক তেমনি সৎ ও চরিত্রবান মানুষকে লালন করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ, তারাই রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ঠিক রেখে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

এবার আসি দুদক চেয়ারম্যানের কথায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দুর্নীতির যে কোনো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ কিন্তু দুদক চেয়ারম্যানকে মনে রাখতে হবে, এ দুর্নীতি দূরীকরণের জন্য সর্বাগ্রে দুদকের সব পর্যায়ে সৎ, নিষ্ঠা ও চরিত্রবান কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার।

আর তাদের যথাযথ সম্মানী, ব্যক্তি জীবনের নিশ্চয়তা ও যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। তাদের ভালো কাজের জন্য যথাযথ পুরস্কৃত করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

প্রয়োজনে তাদের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে তাদের সমুদয় অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দেশব্যাপী তাদের তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে, যাতে অন্যরা দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকে।

পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সীমাহীন দুর্নীতি, অপশাসন, নৈরাজ্য ও বিদেশে অর্থ পাচারের ফলে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

সে সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত রূপ। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সততা, নৈতিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতির কারণে তার এ প্রচেষ্টার সুফল অনেক সময় সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। সরকারের নিুপর্যায়ে যারা আছেন কিংবা যারা নব্য আওয়ামী লীগ সেজেছেন, তাদের সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র বর্তমানে আমরা দেখতে পাই। সরকারের আমলা থেকে শুরু করে ছাত্র-শিক্ষক পর্যন্ত আজ দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে; কিন্তু সে সুফল ভোগ করতে হলে সবার আগে দরকার সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাই সাড়া দেবে এবং সব ধরনের দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে যাব।

ড. এম অহিদুজ্জামান : অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করতে হবে

 ড. এম অহিদুজ্জামান 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্নীতি
দুর্নীতি। প্রতীকী ছবি

গত ২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘রিভিউ অব দি ইমপ্লিমেন্টেশন অব দি ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশন’-এর দশম সেশনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন- ‘বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতিসংক্রান্ত বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে দুর্নীতির যে কোনো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৩ সেপ্টেম্বর)।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করা হলেও কেন দুর্নীতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যশোর-খুলনা মহাসড়ক, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আরও কিছু সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। যার মধ্যে শিশু, কিশোরী, যুবতী, মহিলা, এমনকি বৃদ্ধাসহ নানা বয়সী নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনপূর্বক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

কে নেই ধর্ষকের কাতারে! মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত কেউ না কেউ বর্তমান সময়ে এ অভিযোগে অভিযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ করে বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করার পরও দুর্নীতি না কমার কারণ জানতে চেয়েছেন। আমি মনে করি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের মানুষের সেবায় যাতে আন্তরিক হন এবং কোনো রকম দুর্নীতি ছাড়াই রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদন করেন সেটি নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করেন।

কিন্তু আমরা সত্যিকারার্থে অবলোকন করি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ হলেও তাতে দুর্নীতি ন্যূনতম কমেনি, বরং অনেকাংশে সেটা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।

শুধু যে অভাব থেকেই মানুষ দুর্নীতি করে তা নয়, বরং দুর্নীতির পেছনে কাজ করে মানুষের লোভ-লালসা, অভিলাষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। আমরা যদি দুর্নীতি নিয়ে সত্যিকার অর্থে গবেষণা করি, তাহলে দেখতে পাব অভাব থেকে মানুষ যদি দুর্নীতি করত তাহলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি কমে যেত।

মূলত লোভ-লালসা, বিলাসী জীবনযাপন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সমাজে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে ফেলার মানসিকতা থেকেই দুর্নীতির শুরু। এ দুর্নীতির মধ্যে মূলত আর্থিক দুর্নীতি ও চরিত্রগত দুর্নীতি আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাজে গতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যেই সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ করা হয়। কিন্তু কথায় আছে চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী।

এক সময় বাংলা অভিধানে পুকুর চুরি প্রবাদটি ব্যবহৃত হতো; কিন্তু এখন দীঘি চুরি, সাগর চুরি কিংবা মহাসাগর চুরি বাংলা অভিধানে সংযোজিত হওয়ার দাবি রাখে। বর্তমান সময়ে দুর্নীতির পরিমাণ শত, সহস্র, অযুত, কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কিছু অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির কারণে তার সুফল সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর কোনো ধর্ম-সংস্কৃতিতেই দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়া হয়নি।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি করার অন্যতম একটি উপায় হল সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে সময় বর্ধিতকরণ। কারণ, সময়ের সঙ্গে অর্থ বরাদ্দের একটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হলে সেখানে অনির্ধারিতভাবে অর্থ বরাদ্দও বৃদ্ধি করতে হয়।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ঠিকাদাররা কিংবা প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ইচ্ছা করেই সুনির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না করে অযথা এর সময় বৃদ্ধি করেন, সঙ্গে টাকার বরাদ্দও বাড়াতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, যখন আমরা কোনো কাজ কিংবা প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করি, তখন তো সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে কোন কাজ কত দিনে সম্পন্ন করতে হবে এবং তার জন্য কত বরাদ্দ থাকবে।

সবকিছু জেনে-বুঝেই তো তারা কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন, তাহলে কেন পরবর্তী সময়ে সময় ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি? অথচ আমরা কিছু দিন আগে দেখলাম, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি প্রায় ছয় মাস দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু ও মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ রাখে।

এ জন্য তারা প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোরও আবেদন করে; কিন্তু সেই ৬ মাস তো দূরে থাক আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই তারা বাংলাদেশের তিন-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করেছে। শুধু তাই নয়, তিন সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা তারা সরকারকে ফেরতও দিয়েছে।

অথচ দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে উল্টো দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজের সময় ও পরিধি নিজেরা ইচ্ছে করেই বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প কিংবা ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের কথা বলতে পারি।

একই সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট নব্য আওয়ামী লীগ সেজে এসব প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দিনরাত দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন; কিন্তু দুর্নীতিবাজদের কারণে তার এ পরিশ্রমের সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

শুধু যে দুর্নীতি হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়; এ দুর্নীতির ফলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারও হচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধু বাকশালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমগ্র দেশ থেকে দুর্নীতির শেষ শেকড় উপড়ে ফেলার জন্য দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ইদানীং কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কিছু সুযোগসন্ধানী নব্য আওয়ামী লীগ সেজে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

আমার মাঝে মধ্যে বিস্ময় লাগে, প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশ গঠনের জন্য যখন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখন আমরা কেন এ দুর্নীতিকে কমাতে পারছি না!

অনেক সময় আবার দেখা যায়, অনেকে ঘুষ দেয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। তারা যদি কাক্সিক্ষত মানুষটিকে ঘুষ দিতে না পারেন, তাহলে তাদের আর দুঃখের সীমা থাকে না। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক সময় সরকারি প্রকল্পে মাত্র দুই হাজার টাকা ফাঁকি দেয়ার জন্য এ দুর্নীতিবাজরা পঁচিশ হাজার টাকা ঘুষ দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

সাধারণত দেখা যায়, এ দুর্নীতিবাজ শ্রেণি সর্বদা সমাজের উচ্চপর্যায়ে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে রাখে। এ ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আরেকটি প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়, তারা নিজেদের বৈধ করার জন্য সমাজের সৎ, নৈতিক ও উন্নত চরিত্রবান মানুষকেও দুর্নীতিবাজ প্রমাণে সচেষ্ট থাকেন। এটি তাদের একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

আমাদের সমাজে এখনও সৎ, যোগ্য ও উন্নত চরিত্রসম্পন্ন মানুষ বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা তাদের সম্মানে কালিমালেপন ও নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে সচেষ্ট থাকে। আর একশ্রেণির মানুষও তাদের সহযোগিতা করে থাকেন।

এরা হল মূলত দুর্নীতিবাজদের উচ্ছিষ্টভোজী। সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হবে এসব সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করে পুরস্কৃত করা। নচেৎ তারা যথাযথ সম্মান নিয়ে নির্বিঘ্নে মানুষের সেবা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবেন।

আমাদের বাংলা অভিধানে একটি প্রবাদ প্রবচন বহুল প্রচলিত ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’। ঠিক তেমনি সৎ ও চরিত্রবান মানুষকে লালন করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ, তারাই রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ঠিক রেখে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

এবার আসি দুদক চেয়ারম্যানের কথায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দুর্নীতির যে কোনো ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ কিন্তু দুদক চেয়ারম্যানকে মনে রাখতে হবে, এ দুর্নীতি দূরীকরণের জন্য সর্বাগ্রে দুদকের সব পর্যায়ে সৎ, নিষ্ঠা ও চরিত্রবান কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার।

আর তাদের যথাযথ সম্মানী, ব্যক্তি জীবনের নিশ্চয়তা ও যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। তাদের ভালো কাজের জন্য যথাযথ পুরস্কৃত করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

প্রয়োজনে তাদের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে তাদের সমুদয় অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দেশব্যাপী তাদের তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে, যাতে অন্যরা দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকে।

পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সীমাহীন দুর্নীতি, অপশাসন, নৈরাজ্য ও বিদেশে অর্থ পাচারের ফলে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

সে সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত রূপ। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সততা, নৈতিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতির কারণে তার এ প্রচেষ্টার সুফল অনেক সময় সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। সরকারের নিুপর্যায়ে যারা আছেন কিংবা যারা নব্য আওয়ামী লীগ সেজেছেন, তাদের সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র বর্তমানে আমরা দেখতে পাই। সরকারের আমলা থেকে শুরু করে ছাত্র-শিক্ষক পর্যন্ত আজ দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে; কিন্তু সে সুফল ভোগ করতে হলে সবার আগে দরকার সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাই সাড়া দেবে এবং সব ধরনের দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে যাব।

ড. এম অহিদুজ্জামান : অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়