কৃষক বাঁচাতে জরুরি অঞ্চলভিত্তিক কৃষি সমবায় কেন্দ্র

  মো. শামসুল আলম ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষক
কৃষক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকই দেশের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষিকাজে আবহমানকালের ব্যবহৃত গরু, মহিষ, লাঙল-জোয়ালের দিন এখন শেষ। কৃষক প্রয়োজনে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে যে শুধু চাষাবাদ করছে তা-ই নয়, বরং শস্যকর্তন ও মাড়াই কাজেও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

চাষাবাদে উন্নত বীজ, সার, সেচ, কীটনাশকসহ রোগবালাই ও আগাছা দমনে ওষুধ ব্যবহার করছে। ইদানীং কৃষিকাজে কৃষি শ্রমিকের অভাবে মজুরি অনেক হওয়ায় চাষাবাদে কৃষকের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি প্রান্তিক কৃষককে অবস্থাভেদে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় অথবা ধারদেনা করে আবাদের কাজে হাত দিতে হয়।

হাতেগোনা কয়েকজনকে বাদ দিলে বেশিরভাগ কৃষক অল্প জমির মালিক কিংবা বর্গাচাষী হওয়ায় কৃষকের এ টাকার উৎস শুধু তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য বিক্রয়মূল্য; কিন্তু কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কৃষকের এ কষ্টার্জিত ফসলে লাভবান হচ্ছে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী অসাধু ব্যবসায়ী।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দালাল ১০ টাকায় কিনে বিক্রি করে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের উৎপাদিত বোরো ধান নিয়ে চাষী পড়ছে বিপাকে। এ ভেজা ধান শুকানোর সুযোগ না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় ধান কাটা মাত্র মাড়াই করে বিক্রি করতেই হয়।

এ ধান বিক্রি করেই শ্রমিকের মজুরিসহ ধারে কেনা বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, চাষের হাল ইত্যাদির পাওনা পরিশোধ করতে হয়। কৃষকের এ অসহায়ত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু রাইস মিল-চাতাল মালিকরা ধান ক্রয়ে গড়িমসি বা সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকার ঘোষিত ধানের নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি তো দূরে থাক, অর্ধেক মূল্যেও ক্রয় করে না। এজন্য সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। অথচ সরকার তাদের ধান ক্রয় বাবদ প্রচুর ঋণ দিচ্ছে।

কৃষক সমাজ আজ বৈষম্যের শিকার। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক মণ ধান বিক্রি করেও এক কেজি মাংস বা মাছ কেনার টাকার সংস্থান হয় না। আদরের মেয়েজামাইকে ইলিশ মাছ খাওয়ানোর সাধ থাকলেও সাধ্য নেই; এজন্য তিন মণ ধান বিক্রি করতে হয়।

সন্তানদের লেখাপড়া কোনোরকমে গ্রামের স্কুলে এসএসসি পর্যন্ত পড়াতেই হিমশিম খাচ্ছেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক সন্তানের জন্য কমপক্ষে মাসে ১৫ মণ; বছরে প্রায় ২০০ মণ ধান বিক্রি করার প্রয়োজন হয়, যা প্রান্তিক কৃষকের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গত কয়েক বছর ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় কৃষককে নাকাল করে ফেলেছে।

বোরো ধান আবাদে কৃষক সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। আর তাই কৃষক ধান চাষে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছে। এমনকি অনেকে কৃষি পেশা পরিবর্তন করছে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ একর চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে।

দেশের মোট শ্রমশক্তির অর্ধেক প্রত্যক্ষ এবং ২০ শতাংশ পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা যে কোনো সরকারের জন্য বিরাট স্বস্তির বিষয়। একে ধরে রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ দরকার। অন্যথায় মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেটা হবে জাতির জন্য বিপর্যয়কর। ধান চাষে অনীহা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ছাড়া সবকিছুরই মূল্য বাড়ে, এতে কারও কিছু যায় আসে না। তাহলে কৃষক কেন তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে না? দেশের জিডিপিতে কৃষকের অবদান অনেক। মনে রাখতে হবে, কৃষিই হল বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি। দেশকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই কৃষককে বাঁচাতে হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। এবার বাজেটে কৃষির উন্নতির জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকার ধান সংরক্ষণের জন্য ২০০ প্যাডি-সাইলো নির্মাণ এবং কৃষিখাতে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যা খুবই আশাব্যঞ্জক সংবাদ। প্রাজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গ্রামকে শহরায়ন করা হবে গ্রামের নিসর্গ-প্রকৃতি ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই।

শহরের সব নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে গ্রামেও।’ আর আমাদের জাতির জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্নই ছিল দুঃখী মানুষ ও কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো।

মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নত আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তথা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের আশি শতাংশ মানুষ কৃষক সমাজের সক্রিয় অংশীদারিত্ব ছাড়া সম্ভব নয়।

তাই কৃষক তথা দেশকে বাঁচাতে খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার দেশের উত্তরাঞ্চলে অঞ্চলভিত্তিক প্রতি ৫-৬ বর্গমাইলে একটি করে ‘কৃষি সমবায় কেন্দ্র’ (অন্য যে কোনো নামেও হতে পারে) নির্মাণ করা খুবই জরুরি।

কৃষিকে সার্বিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য সেখানে থাকবে- ১. প্রয়োজনীয় ক্ষমতাসম্পন্ন অটো রাইস মিল ২. ধান শুকানোর যন্ত্র ৩. গুদাম ঘর ৪. শস্য কাটা ও মাড়াই কল ৫. জমি চাষের ট্রাক্টর ৬. পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট ট্রাক ৭. চারা রোপণের যন্ত্র ৮. শস্য রোপণ যন্ত্র ৯. কৃষি হাসপাতাল ১০. কৃষিবান্ধব ব্যাংক ইত্যাদিসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।

প্রাথমিক পর্যায়ে অটো রাইস মিলটি হলেই ৭০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হবে; কারণ ওই অঞ্চলের বোরো মৌসুমের সব ধান থেকে সঙ্গে সঙ্গে চাল করা হলে সংরক্ষণের সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। সরকারও সরাসরি প্রতি কৃষকের কাছ থেকে আনুপাতিক হারে ধান ক্রয় করতে পারবে। কৃষকও দালালের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সমবায় কেন্দ্রের অধীন অঞ্চলের সব আবাদযোগ্য জমির আইল তুলে দিয়ে (প্রয়োজনে আইন করে) খণ্ড খণ্ড জমির অপসারণ ঘটিয়ে জমির একত্রীকরণ করে আধুনিক যান্ত্রিক চাষ পদ্ধতির প্রসার ঘটিয়ে সার্বিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় এনে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ শুরু করা হলে কৃষিবিপ্লব ঘটানো সহজ হবে।

সারা দেশে জমির আইল তুলে দিলে বৃহত্তর বগুড়া জেলার সমআয়তন পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি এমনিতেই বেড়ে যাবে। রংপুর বিভাগের আবাদযোগ্য জমি সমতল হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে ওই অঞ্চলে কৃষি সমবায় কেন্দ্র স্থাপনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু আজ আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার আদর্শ ও স্বপ্ন বেঁচে আছে। আর আছে সোনার বাংলাদেশ এবং তার সাহসী কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের উত্তরাঞ্চল হচ্ছে খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার। এ অঞ্চলের একটি অবহেলিত জনপদের নাম ঠাকুরগাঁও। আর ঠাকুরগাঁও সদরের শেষ দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত পাঁচটি গ্রামের নাম মোহাম্মদপুর, মাতৃগাঁও, রামপুর, রসুলপুর ও গিলাবাড়ি। দেশ স্বাধীনের পর বাপ-দাদার মুখে শুনতাম- এবার আমাদের এলাকায় স্কুল হবে, রাস্তা-ঘাট হবে; এমনকি টাঙন নদীতে ব্রিজও হবে।

এত বড় আশা-ভরসার সাহস জুগিয়েছিলেন বৃহত্তর দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুখ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদানকারী; যিনি ছিলেন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিষ্য, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, দিনাজপুর বার কাউন্সিল সভাপতি এবং ১৯৭০-৭৩-এর নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঠাকুরগাঁও সদর মোহাম্মদপুর গ্রামের ক্ষণজন্মা সর্বজনপ্রিয় অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান (১৯২০-১৯৯১)।

জাতির দুর্ভাগ্য, জাতির জনকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রাজনীতি তথা দেশ উল্টো পথে চলতে শুরু করলে ওই অঞ্চল রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে, যা এখনও পূরণ হয়নি। আর তাই এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া এখনও তেমনভাবে লাগেনি। মুজিবনগর সরকার অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ৭ ও ৬নং সেক্টরের অর্ধেক অঞ্চলের জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদায় সিভিল অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার পদে দায়িত্ব প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ ধাপে ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর শহরে চূড়ান্ত আঘাত হানার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিলিগুড়ির ভারতীয় ক্যান্টনমেন্টে তিনি জেনারেল জগজিত সিং অরোরার সঙ্গে মিলিত হন। স্বাধীনতা সংগ্রামের এ অকুতোভয় নেতা মিত্রবাহিনীর অগ্রগামী দলের সঙ্গে ৪ ডিসেম্বর ’৭১ ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলার গৌরবের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেন।

’৭৫-এর পটপরিবর্তনের ফলে জীবদ্দশায় তার নিজের প্রিয় দল সরকার গঠন করতে পারেনি; এখন নিজের দল পরপর তিনবার সরকার গঠন করে যোগ্যতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে।

এ নিরহঙ্কার মহৎপ্রাণ ব্যক্তির স্মৃতির উদ্দেশ্যে দেশের প্রথম ‘কৃষি সমবায় কেন্দ্র’টি তারই স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম মোহাম্মদপুর, মাতৃগাঁও, রামপুর, রসুলপুর, গিলাবাড়ির মধ্যবর্তী স্থান রসুলপুরে মনোরঞ্জন বাবুর মিল-চাতাল এলাকায় স্থাপন করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল- সমবায়েই উন্নয়ন। ১৯৭২ সালে ৩০ জুন সমবায় সম্মেলনে তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন- ভাইয়েরা আমার; আসুন, সমবায়ের জাদুর স্পর্শে সুপ্ত গ্রামবাংলাকে জাগিয়ে তুলি। নবসৃষ্টির উন্মাদনায় আর জীবনের জয়গানে তাকে মুখরিত করি।

পরিশেষে উল্লেখ করতে চাই, কৃষি সমবায় কেন্দ্র তৈরিতে অবকাঠামোসহ সব ধরনের খরচাদি আমরা কৃষকই নির্দিষ্ট সময়ে ধান দিয়ে পরিশোধ করব; অথবা কেন্দ্র তৈরির খরচ যা হবে, তা শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আমরা ঋণখেলাপি হতে চাই না, ইচ্ছেও নেই। প্যাডি-সাইলো তৈরি কিংবা কৃষি প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দের অর্থ দিয়ে সমবায় কেন্দ্র তৈরি করা যায় কিনা, বিবেচনায় আনা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, কৃষিমন্ত্রী, এলজিআরডিমন্ত্রী এবং দেশের কর্ণধার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

মো. শামসুল আলম : অতিরিক্ত প্রধান রসায়নবিদ, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×