বৈষম্য কমানোর হাতুড়ে সমাধান কোটা পদ্ধতি

  ড. আ ব দু ল ল তি ফ মা সু ম ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা

শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদণ্ড তাহলে মেধা এর হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখে মেধা। জ্ঞান ও শিক্ষার সমন্বয়ে একটি জাতি তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে, যে জাতি মেধার লালন করে না তারা অগ্রগতির পথে ধাবিত হতে পারে না। স্বাধীনতার বিগত প্রায় ৫০ বছরে মেধার লালন না হয়ে ক্রমশ সুবিধার তোষণ হয়েছে। এজন্য বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই ‘ব্রেন ড্রেন’-এর কথা বলেন। বিদেশে মেধা পাচারের চেয়েও অভিজ্ঞতা বলছে, সিভিল সার্ভিসে অধিকতর সর্বনাশ ঘটেছে। কতিপয় সংবেদনশীল কারণে কোটা প্রথার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীরা অগ্রাধিকার পায়নি, বরং সুবিধাবাদীরা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য লাভ করেছে। দীর্ঘকাল ধরে মেধার বদলে কোটা তথা সুবিধা অব্যাহত থাকায় যুবসমাজে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেধাবীরা ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েও চাকরি পান না। আর সুবিধাভোগীরা ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে চাকরি পান- এ ধরনের তথ্য প্রমাণিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

এভাবে মেধার অবমূল্যায়ন মেনে নেয়া যায় না। ফলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে। ৪ মার্চ শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে সূচিত এ আন্দোলন গত কয়েক বছর ধরে চলছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থরক্ষার এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক লেবাস দেয়ায় বিগত বছরগুলোতে তারা তেমন এগোতে পারেননি। তবে বর্তমান আন্দোলন ধারাবাহিক ও বেগবান বলে মনে হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রী সমীপে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। ৩ মার্চের মধ্যে তারা দাবি পূরণ চান। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ হয়নি বলে ৪ মার্চ তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি দেন। পূর্বঘোষিত ৫ দফা দাবি পূরণের জন্য তারা ১৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি মানা না হলে ১৪ মার্চ সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। ওইদিন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। গত সপ্তাহে একই দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল এবং দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালিত হয়। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টিতে সাধারণ ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এক সময় আন্দোলনটি ব্যাপক রূপ লাভ করতে পারে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, বর্তমান কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক। এজন্য তারা চাচ্ছেন বিদ্যমান প্রাধিকার কোটা সংস্কার করে কমানো হোক। তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে তারা তাদের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ নিয়োগ হয় বিভিন্ন অগ্রাধিকার কোটায়। বাকি ৪৪ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। কোটার ব্যাপকতায় মেধাবীদের চাকরির সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ, মহিলা কোটায় ১০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটায় ১ শতাংশ নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, এ মুহূর্তে সংস্কারের সম্ভাবনা নেই। তবে অগ্রাধিকার কোটার পর পদ যাতে শূন্য না রাখতে হয় সে বিষয়ে কিছু করা যায় কিনা তারা সেটা বিবেচনা করে দেখবেন। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত ৫ দফা দাবি হল এ রকম- ১. কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, ২. কোটাযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া,

৩. কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না দেয়া,

৪. সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা,

৫. নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার

না করা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য- বৈষম্য দূর করার জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এখন নিজেই এটা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তারা সতর্কতার সঙ্গে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। তারা স্লোগান দেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘এত বেকার থাকতে কোটার পদ শূন্য কেন?’ বিক্ষোভে তারা নানা ধরনের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সরকার সম্ভবত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির বিপরীতে কর্মসূচি রাখছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড। তারা বলছেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে একটি মহল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মেধাহীন বলে অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের সরকারি চাকরি থেকে দূরে রাখতে বারবার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের আবেদন ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রধান কারণ দেশে বিরাজমান বড় ধরনের বেকার সমস্যা। পরিসংখ্যান বলছে, চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের মতো। দেশে বেকার সমস্যার ভয়াবহতা বিসিএসে দরখাস্তের সংখ্যা থেকে সহজেই বোঝা যায়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৩৮তম বিসিএসে দরখাস্তকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার। এত ব্যাপকসংখ্যক বেকারের দেশে আড়াই লাখ শূন্যপদে নিয়োগ দিতে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পদগুলো বিজ্ঞাপিত না হওয়ার পেছনে কোটা সংরক্ষণ, নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনীহা এবং রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে। চাকরির সুযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে কোটা ব্যবস্থা। বিসিএসের মেধা তালিকা থেকে ৪৪ শতাংশ নিয়োগ হয়, বাকি ৫৬ শতাংশ আসে কোটা থেকে। নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও একই কোটা পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির ক্ষেত্রে কোটার অবস্থা আরও ভয়াবহ। এ ক্ষেত্রে মেধা তালিকা থেকে ৩০ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ পূরণ করা হয় কোটা থেকে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা রয়েছে। কোটার কারণে

প্রশাসনে হাজার হাজার পদ খালি থাকছে। ২৮-৩২তম বিসিএসের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যোগ্য প্রার্থী না থাকায় ৪ হাজার ২৮৭টি পদ খালি রাখতে হয়েছে। আরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক কোটা থেকে আরেক কোটায় নিয়োগ দেয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৮৩৩টির মধ্যে ৭৭৮টি পদ পূরণ করা হয়। এভাবে প্রতিবছর অনেক পদ

খালি থেকে যায়।

কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল কোনো অনগ্রসর জনশ্রেণীকে এগিয়ে নেয়া। ব্রিটিশ আমলে প্রথমত, প্রশাসনিক সার্ভিসে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এবং দ্বিতীয়ত, ভারতীয় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কোটা ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীকালে পশ্চাৎপদ মুসলমানদের এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে কোটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কোটা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর কোটা ব্যবস্থার আধিক্য লক্ষ করা যায়। ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংস্থাপন সচিব এমএম জামানের স্বাক্ষরে এক নির্বাহী আদেশে কোটা পদ্ধতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের ওই আদেশে মাত্র ২০ শতাংশ ছিল মেধা কোটা, ৪০ শতাংশ জেলা কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ১০ শতাংশ যুদ্ধবিধ্বস্ত নারী কোটা। ১৯৭৬ সালে এ কোটা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে মেধা কোটায় বরাদ্দ রাখা হয় ৪০ শতাংশ, জেলা কোটায় ২০ শতাংশ। পরবর্তীকালে মেধা কোটায় নানা ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা হয়। কিন্তু মেধার পক্ষে কোনো সরকারের দৃঢ় সমর্থন পরিলক্ষিত হয় না। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলন দিন দিন জোরদার হয়েছে। প্রশাসন ও শিক্ষা জগতের প্রধান চিন্তকদের সমর্থন সংস্কারের পক্ষে। এখন এটা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মেধা বনাম কোটা বিতর্কটির সারসংক্ষেপ এভাবে উপস্থাপন করা যায়- সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের ১ ধারায় ‘নিয়োগ লাভে যে সুযোগের সমতা’র নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, কোটা কার্যক্রমের মাধ্যমে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। এর পরপরই ২৯ অনুচ্ছেদের ২ ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।’ সংবিধানে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য ৩-এর ‘ক’ ধারায় যে বিশেষ বিধানের কথা বলা হয়েছে তা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। বিগত প্রায় ৫০ বছরে এসব জনগোষ্ঠী যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। নারীরা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমতা অর্জন করেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ নারী কোটা বরং পুরুষদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও ২০ শতাংশ কোটা যা পোষ্য কোটা নামে অভিহিত হয়েছে, তাও অযৌক্তিক ও সংবিধানের চেতনাবিরোধী। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সন্তানদের প্রতি ‘বিশেষ বিবেচনা’ বা অগ্রাধিকার প্রদান করা যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি সংবেদনশীল। যাদের রক্তে ও ত্যাগে স্বাধীন হয়েছে এ দেশ, তাদের প্রতি আমরা অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকব। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরপরই যখন এ কোটা প্রবর্তন করা হয় তখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা এই কোটা ব্যবস্থাকে সমর্থন করেননি। তাদের যুক্তি ছিল আত্মত্যাগের বিষয়টি সুবিধা দ্বারা পরিসমর্থিত হতে পারে না। তারা সম্মান প্রদর্শকসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কোটা ব্যবহারের পরিসংখ্যান প্রায় ৫০ বছর পর এর অকার্যকারিতা প্রমাণ করে। এটি বংশানুক্রমিক করায় উত্তরাধিকার সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় পরিবর্তনের যে রাজনৈতিক অন্যায় পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা কোটা ব্যবস্থার অযৌক্তিকতা প্রমাণ করছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির তথ্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বড় বড় লোকেরা বড় বড় সুবিধা নেয়ার জন্য স্বাধীনতার এত বছর পরও নকল সার্টিফিকেট বানাচ্ছে। এ সবকিছুই মুক্তিযোদ্ধা কোটার অকার্যকারিতা প্রমাণ করছে। তবে সত্যিকার বিবেচনা পাওয়ার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা ও অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারীরা যেমন বঞ্চিত হবেন না, তেমনি কোটা ব্যবস্থার অপপ্রয়োগ রোধ করা যাবে। বর্তমান সময়ের আরেকটি অঘোষিত কোটা হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনা। সব সরকারের সময়ে বিশেষ তালিকার কথা শোনা গেছে।

এ সবকিছুই মেধার স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং চাকরিপ্রার্থীরা উপর্যুক্ত বিষয়াবলির কারণে চরম হতাশা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অসহায়ত্ব অনুভব করছে। এ অবস্থার অবসানের জন্য বিসিএসসহ সর্বত্র শুধু মেধার বিবেচনায় সব নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এখনও যদি কোনো গোষ্ঠী আনুকূল্যের দাবি রাখে তাহলে সর্বত্র আমরা যেমন তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ বিবেচনা বা অগ্রাধিকার নির্ণয় করি- নিয়োগের ক্ষেত্রে সেটা সরকারের অনুসৃত নীতির অংশ হতে পারে। সুবিধাভোগীরা কোনোমতেই বারবার রাষ্ট্রের সুবিধা নিতে পারে না। ভারতে কোনো কোটার সুবিধা এক ব্যক্তি একবারই পেতে পারে। বাংলাদেশে কোটার ব্যাপকতা এতই বেশি যে শুধু চাকরি নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনে প্রতিটি ক্ষেত্রে এ অন্যায্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মনীষী সক্রেটিস বলেছেন, ‘জ্ঞানই শক্তি’। আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এর প্রতিফলন ঘটুক।ড. আবদুল লতিফ মাসুম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter