দেশপ্রেমের চশমা: নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানোর সুযোগ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন নিয়ে যতটা না জনগণের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে।

তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ নির্বাচন ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতা-মন্ত্রীরা ইভিএমের পক্ষে সাফাই গাইছেন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইভিএমের পক্ষে ওকালতি করছেন সিইসি ও কমিশনাররা। কমিশনারদের একজন বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা বেশি করে আসেন এবং নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারেন সে ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করছেন। অথচ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা ইভিএমে ভোট চান কিনা, সে বিষয়টি তারা মোটেও আমলে নিতে চাইছেন না।

অধিকাংশ দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নির্বাচন ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসি জানে, এ দেশের অধিকাংশ ভোটার প্রযুক্তি সচেতন নন। বিশেষ করে শ্রমিক, রিকশাওয়ালা ও কম শিক্ষিত ভোটাররা ইভিএমে ভোট প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ কারণে ইভিএমে ভোট হলে অনেকে ভোট দিতে আসেন না। প্রশ্নবিদ্ধ একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে ৬টি সংসদীয় আসনে ওই নির্বাচনে ইভিএমে ভোট হয়েছিল, সে কেন্দ্রগুলোয় ভোট পড়েছিল কাগজের ব্যালটে ভোট হওয়া কেন্দ্রগুলোয় প্রদত্ত ভোটের চেয়ে অনেক কম। এসব জানার পরও যদি ইসির সত্যিই ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকত, তাহলে তারা এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করত না। সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রী আর সিইসি ও ইসি কমিশনারদের ইভিএম নিয়ে এমন ইতিবাচক আলোচনা তো ভোটাররা আগেও শুনেছেন; কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণে জটিলতা কাটেনি। ভোটাররা এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রার্থীরা ইভিএমের ওপর একটুও আস্থাভাজন হতে পারেননি।

ইসি ভোটের কয়েকদিন আগে সব কেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্র করা হবে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনজন করে শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ভোটের দু’দিন আগে মক ভোটিং করার পরিকল্পনা করেছে। আরও বলা হচ্ছে, তরুণ ভোটারদের ভোটদানে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করার কথা। এ ছাড়া প্রতি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর কারিগরি সদস্য রাখার কথাও শোনানো হচ্ছে। কিন্তু এসব মিষ্টি কথায় বিরোধীদলীয় প্রার্থী বা ভোটারদের মন ভরছে না।

তারা ইভিএমের ওপর আস্থাভাজন হতে পারছেন না। ভোটের আগে ইভিএম নিয়ে অনেক মিষ্টি কথা বললেও ইসি তাদের ক্রয় করা ইভিএমে যে কাগজের ব্যবহার নেই, সে কথা বলছে না। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে এর হ্যাকপ্রুফনেস যাচাই করা হয়েছে কিনা, এমন তথ্যও দিচ্ছে না। নির্বাচনে যারা প্রার্থী হচ্ছেন, তাদের কাগজের ব্যালটে নির্বাচন করার অনুরোধ আমলে নিচ্ছে না। ইভিএমে সমস্যা হলে ভোট পুনর্গণনার ব্যবস্থা না থাকার কথাও উচ্চারণ করছে না। বলছে না ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার সুযোগ থাকার কথা।

এমনিতেই দেশে গণতন্ত্রের এখন দুরবস্থা চলছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে চাইছেন না। ইতিপূর্বে ভোট কেন্দ্রে গিয়েও অনেকে দেখেছেন যে, তাদের ভোট আগে দেয়া হয়ে গেছে। গত সংসদ নির্বাচনে যে ৬টি নির্বাচনী এলাকায় ইভিএমে ভোট হয়েছিল, সেসব আসনের ভোট কেন্দ্রগুলোয় কিছুসংখ্যক বুথে ইভিএম মেশিনের পাশে একজন ক্ষমতাসীনদলীয় লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে ভোটারদের প্রাইভেসি নষ্ট হয়েছে। অনেকে অপরিচিত লোকের সামনে ভোট প্রদানে অসম্মতি প্রকাশ করলে সে বিষয় নিয়ে ওইসব কেন্দ্রে হট্টগোল হয়েছে। অনেক বুথে অশিক্ষিত মহিলাদের ভোট এসব ব্যক্তিরা দিয়ে দিয়েছেন। এসব বিষয নিয়ে ইসি কথা বলছে না। এ ছাড়াও ইভিএমের যান্ত্রিক ত্রুটি, নির্বাচনী কাজে জড়িতদের বিশেষ দলের পক্ষে ভোট পাইয়ে দেয়ার সুযোগ, ভোটার ভেরিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল বা ভিভিপিএটি না থাকায় ভোট পুনর্গণনার সুযোগ না থাকার কথাগুলো নিয়ে ইসি নীরব থাকছে।

ইভিএমের উল্লিখিত কারিগরি ও অন্যান্য অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ মেশিনে ভোট নেয়ার ইসির আগ্রহের শেষ নেই। কেবল স্থানীয় সরকার নির্বাচনই নয়, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে সরকার খুশি। কারণ সরকার সারা দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে পারলেও নিজ দলীয় জনপ্রিয়তা বাড়াতে পেরেছে বলে প্রতীয়মান হয় না। কারণ উন্নয়নের সঙ্গে ব্যাপকভাবে বেড়েছে দুর্নীতি, আর্থিক খাতের অবনমন ও মানিলন্ডারিং। পর্দা, বালিশ ও ক্যাসিনো দুর্নীতির নমুনায় দুর্নীতির মহামারী দৃশ্যমান হয়েছে।

সেই সঙ্গে হামলা-মামলা করে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনের রাজনীতি করায় সরকার জনসমর্থন হারাচ্ছে। কাজেই যদি নিরপেক্ষভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়, তাহলে সরকারি দলের পক্ষে নির্বাচন জেতা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে জন্য নির্বাচনের দিন বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্টদের শক্তি প্রয়োগ করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচনে জেতার দুর্নাম কুড়ানোর চেয়ে ইভিএমে নির্বাচন করে নীরবে নিঃশব্দে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে নির্বাচনে জেতাকে হয়তো অধিকতর ভালো মনে করছে সরকারি দল। এ কারণেই হয়তো সরকারি পরামর্শে ইসি জনগণ বা ভোটারদের মতামতের তোয়াক্কা না করে ইভিএমে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।

অন্যদিক থেকে বলা যায়, ভোটারদের মানসিক যন্ত্রণা দেয়ার কোনো অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কাগজের ব্যালটে ভোট দিয়ে একজন ভোটার যে মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি পান, ইভিএমে ভোট দিয়ে তিনি তা পান না। কাগজের ব্যালটটি ভোটার হাত দিয়ে ধরতে পারেন, সে ব্যালটে তিনি সিল মারতে পারেন, ব্যালটটি নিজে ভাঁজ করতে পারেন এবং সবশেষে তিনি তা নিজ হাতে ট্রান্সপারেন্ট ব্যালট বাক্সে ফেলতে পারেন। ব্যালটটি বাক্সে ঢোকার দৃশ্য ভোটার নিজ চোখে দেখতে পারেন। কিন্তু ইভিএমে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি এতসব সুযোগ পান না। এ ক্ষেত্রে তিনি কেবল একটি বোতামে টিপ দিতে পারেন। তার ভোট কোথায় গেল তিনি তা দেখতে বা বুঝতে পারেন না। ফলে তিনি এক ধরনের সন্দেহের মধ্যে থাকেন। ফলাফল ঘোষণার পর তার সমর্থিত প্রার্থী হেরে গেলে তিনি এই ভেবে মনোকষ্ট পান যে, তার প্রদত্ত ভোট হয়তো কাঙ্ক্ষিত মার্কায় পড়েনি। ভোটারদের মনে ইসির এমন মনোবেদনা সৃষ্টির অধিকার নেই। সে কারণে ইসি যদি সত্যিই ইভিএমে নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তাদের এ মেশিনে কাগজের এমন ব্যবহার যুক্ত করা উচিত যে, ব্যাংকের এটিএম মেশিনে টাকা তোলার পর কোনো ব্যক্তি যেমন একটি কাগজের টুকরাতে তার বিবরণ পান, এ ক্ষেত্রেও যেন ভোটার কোন মার্কায় ভোট দিলেন তার একটি তাৎক্ষণিক প্রমাণপত্র পান।

ইতিমধ্যে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের অনেকেই ইভিএমে নির্বাচন না করতে ইসিকে অনুরোধ করেছেন। উল্লেখ্য, এই ইসি ২০১৭ সালে দায়িত্বে আসার কিছুদিন পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিল। তখনও সরকারি দল বাদে অধিকাংশ দলই কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু এই ইসির কাজকর্ম দেখে মনে হয় তারা সরকারের পরামর্শ শুনতে ও মানতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তা না হলে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নবম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে, তার একটিও বিতর্কমুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এবং অধিকাংশ দলের বিরোধিতার পরও ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করত না ইসি। ইসি যদি এ নির্বাচন ইভিএমে করতে পারে তাহলে নির্বাচন যেমনই হোক না কেন, সরকারি দল ও ইসি এর পক্ষে জোরালো সাফাই গাইবে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ডিজিটাল জারিজুরি করে সরকারি দলের বিজয় সুনিশ্চিত করার পথে একধাপ এগিয়ে যাবে।

আলোচ্য সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিএনপি। সরকারি দল বাদে অন্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পক্ষ থেকেও কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু ইসি তাদের পরামর্শ শুনছে না। ইসি নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। বিএনপি থেকে জোরালো ভাষায় সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারকে ‘ভোটাধিকার হত্যার এক নিঃশব্দ দুরভিসন্ধিমূলক প্রকল্প’ এবং ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটাধিকার হত্যার মহাষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও তা বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। আমরা আশা করি, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন জনগণের অধিকারহানির আশঙ্কা থাকায় ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করবে। একই সঙ্গে তারা প্রচলিত ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করে জনগণের ভোটাধিকার নির্বিঘ্ন করবেন’ (যুগান্তর, ০৬.০১.২০২০)। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইভিএমে ভোট গ্রহণকে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিঃশব্দে নীরবে ভোট চুরির প্রকল্প’ উল্লেখ করে বলেন, ‘জনগণ সারাদিন ভোট দিলে কোনো লাভ হবে না। ইভিএমের প্রোগ্রাম যেভাবে সেট করা আছে সেভাবেই ফলাফল আসবে।’ উল্লেখ্য, সিইসি কিছুদিন আগে বলেছেন, যদি ‘সবাই বলেন, ইভিএম দিয়ে ভালোভাবে নির্বাচন করা যায় না, তাহলে করব না’ (যুগান্তর-২৫-১২-২০১৯)। এখন ইসির উচিত ভোটাররা ব্যালটে না ইভিএমে ভোট চান সে বিষয়টি জরিপ করে তাদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আর তা না করে ইসি কারও অনুরোধ আমলে না নিয়ে চালাকি ও একগুঁয়েমি করে ইভিএমে নির্বাচন করলে সে নির্বাচনে না বাড়বে ভোটারদের অংশগ্রহণ, না পাবে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা।

নবম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে প্রতিটি নির্বাচনে যারা নির্বাচনী দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত ছিল তাদের কারও শাস্তি না হওয়ায় এসব দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়েছে। এখন হঠাৎ করে ইসি তাদের স্বভাব বদলে দিতে পারবে না। তবে মন্দের ভালো হিসেবে ইসির উচিত সিটি নির্বাচন ভালো করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ জন্য নিুলিখিত প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা দরকার। যথা-

(ক) ইভিএমের পরিবর্তে কাগজের ব্যালটে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া; (খ) বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের রাজনৈতিক কারণে হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধের উদ্যোগ নেয়া; (গ) সব দলীয় প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করা; (ঘ) নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গকারী প্রার্থীদের প্রতি দৃশ্যমানভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; (ঙ) নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পোশাকধারী বাহিনীর দলনিরপেক্ষ ভূমিকা সুনিশ্চিত করা; (চ) নির্বাচনের ৩-৪ দিন আগে থেকে ২-৩ দিন পর পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা; (ছ) দেশি ও বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সব রকম সহযোগিতা প্রদান করা; এবং (জ) নির্বাচনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

ভুলে গেলে চলবে না, নির্বাচনী ব্যবস্থায় এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে না পারলে অসুস্থ গণতন্ত্র কোমায় চলে যাবে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ধসে পড়বে। ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এ কারণে সরকার ও ইসির মনে রাখতে হবে, আসন্ন সিটি নির্বাচন গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর সুযোগ এনে দিয়েছে। সরকার ও ইসির উচিত হবে যে কোনো মূল্যে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করে নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফেরাতে এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।

 

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]