খোলা জানালা: করোনা কীভাবে বদলে দিয়েছে সমাজকে

  তারেক শামসুর রেহমান ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারী এখন সমাজকে বদলে দিয়েছে। এর অনেক দৃষ্টান্ত আমরা দিতে পারব। সব দৃষ্টান্তই সংবাদপত্র থেকে পাওয়া। একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি ১৬ ঘণ্টায় ৬ হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন। হাসপাতালগুলো তাকে ভর্তি নিল না, কারণ, চিকিৎসকের সন্দেহ ছিল তিনি করোনা আক্রান্ত রোগী। একজন মুক্তিযোদ্ধা, যাকে সরকার বিনে পয়সায় পূর্ণ চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিয়েছে, তিনি মারা গেলেন কোনোরকম চিকিৎসা ছাড়াই! আসলে সত্যিকার অর্থেই আমরা জানি না তিনি আদৌ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। রিফাত একটি ছোট্ট ছেলে, লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছিল। ৩১ মার্চ শারীরিক সমস্যা প্রকট হয়ে উঠলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একে একে ৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নেয়া হয়েছিল; কিন্তু কেউ তাকে ভর্তি নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় রিফাত মারা যায় (বাংলা ট্রিবিউন, ৩১ মার্চ)। আরও একটি খবর।

এটি দিয়েছেন তারই ছাত্র জাকির হোসেন, যিনি নিজেও শিক্ষক। যাকে নিয়ে এ সংবাদ, তিনি অধ্যাপক শাহ আলম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও আইন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। জাকির হোসেন লিখেছেন, তার চিকিৎসার জন্য (শাহ আলম) একের পর এক হাসপাতালকে অনুরোধ করা হলেও তারা সবাই চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত তার ঠাঁই হয়েছিল ঢাকার আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে। অথচ তার দরকার ছিল নিউরো নয়, অন্য বিশেষজ্ঞ। তার পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, যার ফলে রক্তবমি হচ্ছিল।

ডাক্তাররা করোনা-আতঙ্কে ভুগছেন। কোনো রোগী এলেই মনে করছেন করোনা আক্রান্ত রোগী। তাই চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ২ এপ্রিল যুগান্তরের শীর্ষ সংবাদ ছিল; ‘হাসপাতালে ভর্তি-সেবা বন্ধ : চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা’। এটাই হচ্ছে আসল চিত্র- এ সময়টাতে সর্দি-কাশি থাকে অনেকের। হালকা জ্বর থাকে। অনেকে অ্যালার্জিতে ভোগেন। অ্যালার্জির কারণে সর্দি-কাশি হয়; কিন্তু একটা ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে- সর্দি-কাশি মানেই যেন করোনা। একজন ডাক্তার, তার পেশাই তাকে বলে দেয়- এ কাজটি একটি সেবামূলক কাজ। এখন ডাক্তার, হাসপাতালগুলো যদি সেবা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে আমরা যাই কোথায়? ডাক্তাররাও মানুষ, আমরা এটি বুঝি। তাদের জন্য পিপিই নেই। করোনাভীতি তাদের মাঝে কাজ করা স্বাভাবিক।

তবে চীন, ইতালির ডাক্তারদের দিকে তাকান। চীনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক ডাক্তার মারা গেছেন। নার্সরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন মুখে মাস্ক পরে থাকায় চেহারাটি বদলে গেছে। মুখের স্থায়ী দাগের ছবিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখলে রীতিমতো ভয় পেতে হয়। ইতালির ডাক্তাররা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে নিজেরা যে যেখানে পারছেন, সেখানে কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। মানবসেবা। জীবনের ঝুঁকি আছে। সহকর্মীরা মারা গেছেন এবং যাচ্ছেন, এটি জেনেও সেবা দিতে তারা পিছপা হননি। আর আমাদের দেশের ডাক্তাররা কি না রোগী দেখলেই ভয় পাচ্ছেন! আমি ডাক্তারদের ছোট করতে চাচ্ছি না।

ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক ডাক্তারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই এবং এখনও পাচ্ছি। অধ্যাপক ডা. নাজির আহমদের কথা বলতে পারি, যিনি দীর্ঘদিন আমার হার্টের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিউইয়র্কে যিনি আমার হার্টে রিং পরিয়েছিলেন, তিনি অধ্যাপক নাজিরের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এরা আমাদের গর্ব। সুতরাং সবাইকে আমি এক কাতারে দেখতে চাই না। করোনার কারণে কীভাবে মানুষ বদলে যাচ্ছে, এটি তার একটি প্রমাণ মাত্র।

বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যুর মিছিল যখন বাড়ছে এবং আগামী আরও এক সপ্তাহ যখন ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে, তখন দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, বাংলাদেশে আমাদের মাঝে খুব বেশি সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। যখন প্রধানমন্ত্রীর কতগুলো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে, যেমন ‘অতি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের না হওয়া’, ‘বাইরে বের হলে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলা’- এ নির্দেশও আমরা মানছি না। কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেয়া যাক।

স্থান : উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। ভদ্রলোক ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার ম্যানেজার, তিনি সরকারি ও পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে নিয়মিত বাসায় আড্ডা বসাতেন। যেখানে তার আইসোলেশনে থাকার কথা, সেখানে প্রতিদিন তার বাসায় অতিথি আসতেন। সেখানকার কমিটি এ ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা তাকে জানিয়ে দিলে তিনি লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দেন। কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দেন। বহিরাগতদের ডেকে এনে একটা অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। পরে তার বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় জিডি করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা যদি এ ধরনের আচরণ করেন, তিনি শুধু সরকারি আদেশই লঙ্ঘন করলেন না, বরং ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তিকেও একটি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলেন।

দৃষ্টান্ত-২ : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখে ত্রাণ বিতরণ করার সময় হুড়োহুড়ি লেগে যায়, যেন একটা যুদ্ধ, কে আগে ত্রাণ নেবে। যেখানে বারবার বলা হচ্ছে একজনের সঙ্গে আরেকজনের দূরত্ব ন্যূনতম এক মিটার বজায় রাখতে হবে, সেখানে হুড়োহুড়ি করে ত্রাণ নেয়া কি প্রকারন্তরে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া হল না? যারা ত্রাণ বিতরণ করলেন, তাদের কি উচিত ছিল না বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া? নিঃসন্দেহে তাদের উদ্যোগকে আমরা প্রশংসা করব; কিন্তু ত্রাণের নামে যদি করোনার ঝুঁকি থাকে, তাহলে তা তো প্রশংসা পেতে পারে না। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার বড় অভাব। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি। বিদেশে কোথাও কোথাও মাত্র ৩ জনের উপস্থিতিও নিষিদ্ধ।

দৃষ্টান্ত-৩ : ২ এপ্রিলের ঢাকা। যেখানে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, সেনাবাহিনী রাস্তায় নামানো হয়েছে, সেখানে টিভি চ্যানেলগুলো বলছে অকারণে মানুষ রাস্তায় জমায়েত হচ্ছে, গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছে, পাড়া-মহল্লায় জটলা করছে। একজন সংবাদকর্মী একটি ছবি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। কুড়িল বিশ্বরোডের ছবি, সেখানে যানজট। এহসান জুয়েলের পোস্টে কমেন্ট করেছেন ১০৩ জন। তাহলে প্রশ্ন ওঠে সেনাবাহিনী কোথায়? এখানে লকডাউন কাজ করল না কেন? পুলিশ আর সেনাবাহিনী দিয়ে কি সাধারণ মানুষের সচেতনতা তৈরি করা যাবে?

দৃষ্টান্ত-৪ : সৈয়দ বাকি জিন্নাহর একটি ‘পোস্ট’ ফেসবুকে। তাতে দুটি ছবি- একটি বাংলাদেশের কোনো একটি ব্যাংকের, অপরটি সম্ভবত ফিলিপাইনের একটি ব্যাংক। দুটি ব্যাংকের লেনদেনের কর্মকাণ্ড ভিন্নতর। বাংলাদেশে যেখানে ব্যাংকের ভেতরে গ্রাহকরা সবাই গাদাগাদি করে তাদের কাজ করছেন, সেখানে ফিলিপাইনে নিরাপদ দূরত্বে থেকে লাঠির মাথায় লাগানো ঝুড়ির মাধ্যমে চেক কিংবা অন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেখানে করোনাভাইরাসটি কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি, সেখানে বাংলাদেশে মানুষের গাদাগাদি করে তাদের কাজ সারছেন! এ ধরনের শতশত দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। আরেকটি ছবি- তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের মাস্ক বা গ্লাভস না নিয়ে এক দুস্থকে এক মগ চাল দিচ্ছেন। মগে এভাবে চাল দেয়ার ছবি আবার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। করোনা সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকার কথা। তাহলে গাদাগাদি করে কোনো ধরনের সুরক্ষা না নিয়ে ত্রাণ বিতরণের (এক মগ চাল!) ছবি তুলে তা প্রকাশ করার উদ্দেশ্য কী? আরও একটি সংবাদ, ছাপা হয়েছে আমাদের সময় ডটকমে।

বলা হচ্ছে, ৫ মাসের স্বাক্ষর নিয়ে দেয়া হচ্ছে ৩ মাসের চাল। স্থান ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা। অপর একটি দৃশ্য। এক মন্ত্রী বক্তৃতা দিচ্ছেন। উপস্থিত আছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কারও মুখে মাস্ক নেই। মন্ত্রী ঘোষণা দিলেন ‘প্রয়োজনে স্টেডিয়ামে হাসপাতাল বানানো যাবে’ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)। করোনার ভয়াবহতা নিয়ে কথা বললেন; কিন্তু সুরক্ষা নিলেন না মন্ত্রী! একজন মন্ত্রী যদি সুরক্ষা না নেন, তাহলে অন্যরা নেবে কেন? যেখানে সীমান্ত ‘সিলগালা’ করে দেয়ার কথা, সেখানে আমরা দেখলাম ‘ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করছে শতশত যাত্রী’ (ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম)।

এটা কি ‘ফেক নিউজ’? আমি জানি না। ৩০ মার্চের প্রতিবেদন ছিল সেটি। ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এখন যারা ভারত থেকে আসছেন, তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। তাদের কেউ যদি ভাইরাসটি বহন করে এনে থাকেন, তা কি ঝুঁকি সৃষ্টি করল না? করোনা পরীক্ষা নিয়েও আছে নানা কথা। একটি সংবাদপত্রের খবর : ‘ল্যাব’ নেই, তবুও করোনার টেস্টিং কিট পেল সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যুগান্তরের ১ এপ্রিলের খবর ‘আইইডিসিআরের কর্তৃত্বে নিষ্ক্রিয় ৭ ল্যাব’। কী ভয়ংকর কথা! যেখানে মানুষ পাগলের মতো ভয়ে করোনা টেস্ট করাতে চায় এবং যেখানে সরকার একাধিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে ওই পরীক্ষা করার, সেখানে আইইডিসিআর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় কেন? এটা কি বিশেষ কোনো ‘ব্যক্তি’ নিজের ইচ্ছাপূরণ ও করোনা ইস্যুকে ব্যবহার করে তার ইমেজ বৃদ্ধি করতে চান? এটি নিন্দনীয় এবং অপরাধযোগ্য।

আমরা, আমজনতা করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছি বলে মনে হয় না। না হলে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের মতো গুলশান-বনানী সড়কেও এত গাড়ির ভিড় কেন? আমাদের সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে। এজন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। কড়াকড়ি আরোপ না করলে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ফাঁদে আমরা পড়ে যেতে পারি! আমার নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আমি হাজার মানুষের বিপদ ডেকে আনতে পারি না। ফেক নিউজের ব্যাপারেও সরকারের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যে কোনো ‘ফেক নিউজ’ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। পৃথিবীর সব দেশের বড় শহরগুলো এখন ‘লকডাউন’।

অত্যন্ত কঠোরতার সঙ্গে তা পালন করা হচ্ছে। আমরা সেসব দৃষ্টান্ত গ্রহণ করতে পারি। প্রয়োজনে পুলিশ জনগণের সাহায্যে এগিয়ে আসবে; কিন্তু সাধারণের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ প্রয়োজনের স্বার্থেই রাস্তায় বের হন। এসব কর্মজীবী মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছানো প্রয়োজন। চালের দাম বেড়েছে। ওষুধের দামও বেড়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত- তাদের প্রত্যেককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেবেন- তা হতে পারে না। করোনাভাইরাসকে অনেকে পুঁজি করছেন- এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটাও জরুরি।

তারেক শামসুর রেহমান : প্রফেসর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত