কিছুমিছু

কে চায় নিচে যেতে মৃত্যুর আগে

  মোকাম্মেল হোসেন ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

ক্যান্টিন পাঁচতলায়। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এক সহকর্মী সেখানে এসে ‘ওয়েটিং লিস্টে’ নাম লেখানোর পর জানতে চাইলেন-

: ভাই কি নিচে যাবেন?

প্রশ্নের উত্তর এক শব্দে দেয়া যায়। সেদিকে গেলাম না; রহস্য করে বললাম-

: কে চায় নিচে যেতে মৃত্যুর আগে?

কোনোরকম চিন্তা করে কথাগুলো বলিনি। বলার পরে মনে হতে লাগল, আরে! মারাত্মক কথা বলে ফেলেছি তো! বিখ্যাত কারও মুখে উচ্চারিত হলে এ বাক্য কালোত্তীর্ণ হতো- এটা নিশ্চিত। আমরা হচ্ছি নছুফছু মার্কা মানুষ। দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে নছুফছুরা অনেক কথাই বলে থাকে। সময়ের দায় নেই সেগুলো মনে রাখার।

ক্যান্টিনে আগের মতো ভিড় নেই। সেই হৈ-হুল্লোড়ও নেই। লোকজন দীর্ঘদিনের সহকর্মী-বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে কথা বলছে ‘নিরাপদ’ দূরত্ব বজায় রেখে; নিচুস্বরে। নিতান্ত বাধ্য হয়ে যারা এখানে এসেছে, কোনোমতে যার যার প্রয়োজন মিটিয়ে চুপচাপ চলে যাচ্ছে। ঋতুরাজ বসন্তকাল অতিবাহিত করছে বাংলার প্রকৃতি; অথচ চারপাশের দৃশ্য, পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। ফুলেরা ইতোমধ্যে মাধুর্য হারিয়েছে, কোকিলের কণ্ঠে সুর নেই, শিমূল ফুল ঘিরে পাখিদের গান নেই। এ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে পৃথিবী। ভয়ংকর করোনার সুপ্ত-জীবাণুবাহক হয়ে কে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া তো অনেক পরের কথা, অনুমান করাও দুষ্কর। বন্ধু হয়ে যে পাশে বসছে, স্বজন হয়ে যে কাছে আসছে- সে মৃত্যুদূতরূপে আবির্ভূত হয়েছে কিনা, জানা নেই। একটা ভয়, আতঙ্ক গ্রাস করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ নামের প্রাণীকে।

চায়ের কাপ সামনে নিয়ে কিছুক্ষণ আগে উচ্চারিত বাক্যের ওজন সম্পর্কে ভাবছি। গ্রামের ইঙ্গু বেপারির কথা মনে পড়ল। অনেক বছর আগের কথা। গ্রীষ্মের দুপুরে পুকুরে গোসল করতে এসেছেন ইঙ্গু বেপারি। ছাগলের ক্ষেত খাওয়া নিয়ে পুকুরঘাটে ব্যাঙ্গা হাজির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হল। ঝগড়া তুমুল পর্যায়ে পৌঁছার পর প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বেঙ্গা হাজী বললেন-

: পুঙ্গির পুত, আর একটা কথা কইলে ৮০ হাত মাটির নিচে পুঁইত্যা ফেলামু।

ইঙ্গু বেপারি বেঙ্গা হাজির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। বললেন-

: বাপের বেটা হইলে আয়; ৮০ হাত তো দূরস্থান, আধা ইঞ্চি মাটির নিচে ডাবাইতে পারলে এই গেরাম ছাইড়া রংপুর যামুগা।

অবধারিত নিয়তি হিসেবে মৃত্যু একদিন ইঙ্গু বেপারির জীবন-সুতা ধরে টান দিল। মসজিদের মাইকে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেয়া হল এভাবে- কায়দাপাড়া নিবাসী অমুকের আব্বা তমুকের বড় ভাই ইঙ্গু বেপারি অদ্য সকাল আট ঘটিকায় ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন...

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, গ্রামের প্রবীণ এ ব্যক্তির ওফাত লাভের কোনো তাৎপর্যই ছিল না আমার কাছে। আজ এত বছর পরে মনে হতে লাগল, ইঙ্গু বেপারির মৃত্যু নতুন এক তাৎপর্য নিয়ে আমার সামনে হাজির হয়েছে। ইঙ্গু বেপারির চ্যালেঞ্জ ছিল- আধা ইঞ্চি মাটির নিচেও তাকে নেয়া যাবে না। মৃত্যু এসে এমন ফয়সালা দিল- ইঞ্চি বা ফুট নয়, সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হল তাকে।

নিচে যাওয়ার সর্বশেষ সিঁড়ি মৃত্যু হলেও জীবদ্দশায় অনেক মানুষকে নিচে নামতে দেখা যায়। দেশে করোনাকাল শুরুর প্রাক-মুহূর্তে দেশের হাটবাজারে, এমনকি ওষুধের দোকানেও এ বাস্তবতা চোখে পড়েছে। মানবিকতাকে ছিঁকায় তুলে নিচে নামতে নামতে নির্দ্বিধায়-নির্বিচারে তারা পকেট স্ফীত করেছে। আবারও গ্রামে যেতে হচ্ছে। এবারের চরিত্র গ্রামের মস্তবড় একজন জোতদার। বৈধ-অবৈধ পথে তার উপার্জিত সহায়-সম্পদ প্রচুর। এসব তিনি আগলে রাখেন গভীর মমতায়, পরম যত্নে। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী; এমনকি অভুক্ত পথচারী, নিরন্ন-রোগাক্রান্ত অসহায় কোনো মানুষও তার করুণা ও কৃপালাভে ব্যর্থ হয়। কৈশোরে একদিন তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কানে এলো- জোতদারের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করছেন। ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামীর উদ্দেশে তিনি বললেন, কিরপনের ধন বক্কিলায় খায়; আপনের ধনসম্পদও বক্কিলাদের পেটেই হান্দাব। পরে দেখেছি, জোতদারের স্ত্রীর কথাই সত্যে পরিণত হয়েছে। জোতদার পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী হতে না হতেই তার পুত্র-কন্যা-ওয়ারিশরা সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে প্রথমে কলহ, পরে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে; পরিণতিতে মারামারি-কাটাকাটি, থানা-পুলিশ, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়েছে। জোতদার তার জীবদ্দশায়ই অসহায় চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন- উটপাখির ডিম আগলে রাখার মতো তিনি যে ধনসম্পদ আগলে রেখেছিলেন এতদিন, তা উকিল-মোক্তার, থানার বড়বাবু-ছোটবাবু, গ্রামের টাউট-বাটপাড়সহ বারো ভূতে লুটেপুটে খাচ্ছে। আমাদের সমাজে অনেকেই নানা উপায়ে অর্থবিত্ত লাভ করেন; সম্পদের পাহাড় গড়েন। অনেকে আবার সম্পদ দেশে রাখতেও ভরসা পান না; বিদেশে পাচার করেন। লাভ কী? আমার যে সম্পদে মানবতার ‘হক’ নেই, দরিদ্র-দুর্গতজনের ‘জাকাত’ নেই; তার কোনো সুবাস নেই, গৌরব নেই, স্থায়িত্ব নেই। মৃত্যুর পর আমার নিরলংকার শরীরের মতোই সেগুলো পচে যাবে, গলে যাবে, দুর্গন্ধ ছড়াবে।

বাসায় ফিরতেই পাশের কক্ষ থেকে গোলগুটি বেগমের এলান ভেসে এলো-

: গোসলখানায় দুই বালতি গরম পানি রাখা আছে। এক বালতিতে গায়ের কাপড়চোপড় ভিজাইয়া রাখবাইন; আরেক বালতির পানি দিয়া গাও-গোসল করবাইন।

যতই দিন যাচ্ছে, নিয়মকানুন দেখছি ততই কঠোর হচ্ছে। এর আগে বাথরুমে এক বালতি গরম পানির ব্যবস্থা থাকত নিজের গোসলের জন্য। আজ কাপড়চোপড়ের গোসলও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গোসলখানার দিকে যেতে যেতে বললাম-

: জুতার কী ব্যবস্থা?

: জুতার আবার কী ব্যবস্থা! আপনেরে যে বাকসো দিছি, সেই বাকসের মধ্যে রাখবাইন।

বাসায় সবার নিদমহল, কাপড়ের পোঁটলা, জুতার ডিপো আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ভাগ্যিস, ফিলিপাইনের সাবেক ফার্স্টলেডি ইমেলদা মার্কোসের মতো আমার হাজার-হাজার জুতা জোড়া নেই। থাকলে এসময় বাইরের কোনো গুদাম ভাড়া নিতে হতো। গোসল সেরে বের হতেই গোলগুটি বেগম স্যুপের বাটি হাতে দৃশ্যমান হল। কিছুদিন ধরে বড়সড় একটা জামবাটিতে ভাতের মাড় ও ডিমের সঙ্গে কাঁচা হলুদ, আদা, নিমপাতা, তুলসীপাতা, কালোজিরা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি লবঙ্গ, তেজপাতা ইত্যাদির সংমিশ্রণে তৈরি স্যুপ পরিবেশন করছে গোলগুটি বেগম। তার ধারণা- নিয়মিত এ স্যুপ খেলে ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি তফাতে থাকবে। করোনাভাইরাস যেহেতু ঠাণ্ডা ও সর্দি-কাশির খালাতো ভাই; তাই খালাতো ভাইয়েরা দূরে থাকলে, সেও দূরে থাকবে। চুকচুক করে গরম স্যুপ খাচ্ছি- উৎকণ্ঠা মেশানো স্বরে গোলগুটি বেগম বলল-

: আপনেরে একটা কথা কই?

: কী কথা?

: দুনিয়ার সব অফিস-আদালত বন্ধ। আপনের অফিস বন্ধ

দেয় না?

: অফিস বন্ধ কইরা দিলে মানুষ খবরাখবর জানবে কেমনে?

: এই সময় মানুষ নিজের জান বাঁচাইতে কূল পাইতেছে না; অন্যের খবরাখবর, দেশ-বিদেশের সংবাদ দিয়া তারা কী করবে?

: আরে! এখনই তো আরও বেশি বেশি সংবাদ ও তথ্য জানা দরকার। তোমার কাছে যদি সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য না থাকে তাইলে তুমি যথোপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণ করবা কেমনে? তবে তোমারে বইলা রাখতেছি...

: কী!

: ভবিষ্যতে যদি রোবট সহজলভ্য হয়, তখন এইরকম কোনো সংকটকালে মানুষ হয়তো সরাসরি স্পটে না যাইয়া প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়া ব্যক্তিগত রোবট পাঠাইয়া দিবে। রোবট যাইয়া সব কাজকর্ম সমাধা কইরা আসবে। বুঝলা, রোবট হইল একটা চিজ! বাপের বেটা বাক্কা বেটা। তুমি যে প্রোগ্রাম তার মাথায় সেট কইরা দিবা; নাট-বল্টু ও তার ছিন্নভিন্ন না হওয়া পর্যন্ত সে নির্দেশ পালনে অনড়-অটল থাকবে। কেউ তারে ফিরাইতে পারবে না।

: তাইলে তো মানুষের চাইতে রোবটই ভালা।

: তা তো ভালাই; তবে একটা সমস্যা আছে।

: কী সমস্যা?

: রোবটের মধ্যে মানুষের মতো প্রেম-ভালোবাসা নাই। আবেগ-অনুভূতি নাই। মানবিকতা নাই। তুমি এমন একটা রাজ্যের কথা চিন্তা করো- যে রাজ্যে প্রেম নাই, ভালোবাসা নাই, মানবিকতা নাই; সেই রাজ্যে তুমি কতক্ষণ থাকতে পারবা?

প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে গোলগুটি বেগম আর্দ্র চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। পরিবেশ হালকা করার জন্য বললাম-

: বুঝলা! এখন যেমন দেখা হয়- মানুষের কয়টা বাড়ি, কয়টা গাড়ি ইত্যাদি; রোবট যুগে দেখা হবে, কার কয়টা রোবট আছে। তখন ধরো, কলেবলে আমিও কয়েকটা রোবটের মালিক হইয়া গেলাম। একটারে রাখলাম আমার ব্যক্তিগত খাই-খেদমত আর বাজারঘাট করার জন্য। আরেকটা বাচ্চা-কাচ্চাদের স্কুল-কলেজে আনা-নেয়ার কাজে নিয়োজিত করলাম। আরেকটারে তোমার হাওলা কইরা দিলাম- রান্নাবান্না, কাটাকুটা, বাছাবাছি, ধোয়ামোছা ইত্যাদি করার জন্য। একবার চিন্তা করো তো- বিষয়টা কেমন মারেক্কাজ।

আমার কথা শুনে দোকানের ঝাপ ফেলার মতো ঝুপ করে গোলগুটি বেগম মাথা নিচে নামাল। তারপর মুখ দিয়ে হা করে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বলল-

: স্বপনে খাইলাম আমি কত মণ্ডা-মিঠাই-ছানা; ঘুম ভাঙলে দেখি মুখে পুইল্যা একটা ত্যানা। আপনে স্বপনে কতকিছু করলেন, কতকিছু খাইলেন; শেষে ত্যানা লইয়া বাইড়াবাইড়ি।

গোলগুটি বেগমের কথা নীরবে মেনে নিলাম। তবে এটাও তো সত্য- স্বপ্নহীন জীবন মানুষের নয়; বন্য বরাহের। স্বপ্ন ছিল- স্বপ্ন আছে বলেই মানুষ আজ এই পর্যন্ত পৌঁছেছে; সভ্যতা এ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অতীতের অনেক দুর্যোগ-দুর্বিপাক, রোগ-শোক-আতঙ্ক মানুষ জয় করেছে স্বপ্নের জোরেই। এ স্বপ্নই তাকে করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক উদ্ভাবনে প্রেরণা জোগাচ্ছে; জয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করছে। হঠাৎ এ সময় পাশের কক্ষ থেকে শোরগোল শোনা গেল। বিপদের আঁচ পাওয়া হরিণের মতো মাথা উঁচু করে কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকার পর গোলগুটি বেগম বলল-

: কী করি; কইনছে!

: কী হইছে?

: পোলাপান তো ঘরে থাকবার চাইতেছে না।

: কও কী! এই সময় ঘর ছাইড়া বাইরে যাবে কি মরবার লাইগা! বইয়ের মধ্যে মাথা ঢুকাইতে বলো।

: কত আর পড়ব! পড়তে পড়তে হাঁপাইয়া উঠছে।

: এইটা তো ঠিক কথা কইলা না। যে কোনো কাজের সঙ্গে আনন্দ যোগ হইলে সেইটা আর নিরানন্দ থাকে না; মানুষ সেই কাজ করতে গিয়া হাঁপাইয়া উঠে না। তোমার ছেলেদের অধ্যয়নের সঙ্গে আনন্দযোগ করতে বলবা; তাইলেই আর হাঁপ ধরবে না।

: আসলে ঘরে থাকতে থাকতে অধৈর্য হইয়া গেছে। খালি ছটফট করে।

: এইটা হইল মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। অফিস কামাই করার জন্য, কাজে ফাঁকি দেয়ার জন্য, স্কুলে গরহাজির থাকার জন্য স্বাভাবিক টাইমে কতজনে কত অজুহাত, কত বাহানা তৈরি করে। আর বর্তমানে সরকার যখন ছুটি ঘোষণা করছে সবাইরে ঘরে থাকার জন্য; তখন খোলা আকাশ দেখার জন্য, ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য, মোড়ে মোড়ে আড্ডা দেয়ার জন্য মানুষের মন খালি বাইরাম-বাইরাম করতেছে। হাঃ! আরে পাগল! উৎসব-আনন্দ করার জন্য তো এই ছুটি না। এই ছুটি হইল পরিবার-সমাজ-দেশ ও নিজের সুরক্ষার জন্য।

বাচ্চাদের ঘরে আবদ্ধ থাকার অনুপ্রেরণা দিতে রবীন্দ্রনাথের কবিতার আশ্রয় নিলাম। তার একটি কবিতার অনুকরণে জোরে জোরে আবৃত্তি করলাম-

: বিশ্ব কাঁপিছে করোনা আতঙ্কে, কে কখন কাইত হয় কে জানে; ওগো অহন তোমরা যাইও না ঘরের বাহিরে।

কবিতা শুনে গোলগুটি বেগম মুখটিপে হাসল। তার উদ্দেশে বললাম-

: এক কাজ করো।

: কী কাজ?

: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে যে ৩১ দফা নির্দেশনা দিছেন, সেইটা ছেলেদের মুখস্থ করতে বলো। তুমি মুখস্থ করো।

অবাক হয়ে গোলগুটি বেগম বলল-

: আমি মুখস্থ করবাম কীজন্য!

: তোমারই তো আরও বেশি কইরা মুখস্থ করা দরকার। নেপোলিয়ন একটা বড় সুন্দর কথা বইলা গেছেন। জানো সেইটা?

: কী কথা?

: জাতির উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, তোমরা আমারে শিক্ষিত মা দেও; আমি তোমরারে শিক্ষিত জাতি উপহার দিবাম। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বর্তমানকালে জীবিত থাকলে কী কইতেন, জানো?

: কী কইতেন?

: তোমরা আমারে করোনা-সচেতন মা দেও; আমি তোমরারে নিরাপদ দেশ উপহার দিবাম।

করোনার কথা শুনে গোলগুটি বেগমের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। অনুচ্চস্বরে সে জানতে চাইল-

: এই কথা কি সত্য- দেশে প্রচুর মানুষ মারা যাইতেছে; সরকার সেইটা গোপন করতেছে।

হা-হা করে কিছুক্ষণ হাসার পর বললাম-

: বর্তমানে অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে একটা মাছির উড়াউড়িও যেখানে মানুষের চোখ এড়াইয়া যাইতেছে না; সেইখানে বেশুমার মৃত্যুর ঘটনা সরকার লুকাবে কেমনে? তাছাড়া সরকার তথ্য লুকাবে কেন! তথ্য গোপন করলে সরকারের তো লাভ নাই; বরং ক্ষতি। এমন আজগুবি কথা তুমি কই পাইলা?

: একজন ফোন কইরা কইল, সে নাকি ফেসবুকে দেখছে।

: ফেসবুক হইল গুজবের কান্দি। এইসব গুজবে কান দিবা না।

ফেসবুক কী জিনিস- সেটা কয়েকদিন আগে আবার টের পেলাম। রাতেরবেলা গ্রামের একজন ফোন বলল-

: ভাইজান, আপনের ফেসবুকে একটু যাইনছে।

: আমার তো ফেসবুক নাই। কেন! ফেসবুক কী করছে?

: ফেসবুকে বলে এক গেন্দার কথা লেখছে। মায়ের পেট বাইর হইয়াই সে একটা সূরা কইতে কইতে কালাজিরা, গোলমরিচ আর আদা মিশানো পানি খাওয়ার নির্দেশ দিয়া মইরা গেছে।

বললাম-

: মায়ের পেট থেইকা গেন্দা বাইর হোক কিংবা না বাইর হোক; সে বাঁইচ্যা থাকুক কিংবা মইরা যাক; তার মুখে কুদরতি জবান ছুটুক কিংবা না ছুটুক; কালোজিরা, গোলমরিচ, আদা- তিনটাই উপকারি বস্তু। আল্লাহ-রাসূলের নাম লইয়া খাইতে থাক; এতে লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই।

মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত