তৃতীয় মত

আছে দুঃখ আছে মৃত্যু, আছে ক্ষুব্ধ মনের অভিযোগও

  আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৮ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধু ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে যত দুঃখ পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছি তার শেষযাত্রার খবর শুনে। যিনি খবরটা বলেছেন, তিনিও খবরটা বলার সময় কেঁদেছেন। বললেন, অমন মানুষ বাংলাদেশে আর হবে না। সিএমএইচ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে, সেখানেই তার মৃতদেহকে গোসল দেয়া, জানাজা শেষে সোজা আজিমপুর গোরস্থানে নিয়ে সমাহিত করা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে পর্যন্ত জানা গিয়েছিল তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পর শোনা গেল তার দেহে করোনাভাইরাস ছিল। তাই তার স্বজন ও জনবিহীন এই অন্তিমযাত্রা।

যে মানুষটির মৃত্যুতে ঢাকার বুকে শোকস্তব্ধ হাজার হাজার মানুষের ঢল নামার কথা ছিল, যার মৃতদেহ শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে এনে ফুলে ফুলে ভরে যাওয়ার কথা ছিল, তিনি নীরবে, নিঃশব্দে, নিঃসঙ্গভাবে চলে গেলেন।

এজন্য কাকে দোষ দেব? কাউকে দোষ দিতে পারি না, একমাত্র নিজেদের ভাগ্যকে ছাড়া। করোনা শুধু আমাদের প্রাণ হননই করছে না, হনন করছে আমাদের সমস্ত মানবিকতাকে।

শেখ হাসিনাকে দোষ দেই না। দোষ দেই আমাদের গোটা সমাজকে, আমাদের বিশ্বসমাজকে। করোনার ভয়ে আমাদের গোটা সমাজদেহ, গোটা সামাজিকতা এমন করে অচল হয়ে যাবে? কই, ব্রিটেনে, আমেরিকায় তা তো হয়নি! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, ব্যক্তিগতভাবে আনিসুজ্জামানের জন্য যা করেছেন, তার কোনো তুলনা নেই। এটা তিনি সব শিল্পী, সাহিত্যিক, বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার জন্যই করে থাকেন।

এরশাদের আমলে শিল্পী কামরুল হাসান একটি সভামঞ্চেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন, তখন শেখ হাসিনাই মৃতপ্রায় শিল্পীকে নিজের গাড়িতে চড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়েছিলেন, সৈয়দ শামসুল হকসহ বহু শিল্পী-সাহিত্যিকের চিকিৎসা খরচ বহন করেছেন।

আনিসুজ্জামানকেও উন্নত চিকিৎসাদানের জন্য তারই নির্দেশে ইউনিভার্সাল হাসপাতাল থেকে সিএমএইচে নেয়া হয়। মৃত্যুর পর তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

শেখ হাসিনা তার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমরা কোনো দায়িত্ব পালন করেছি কি? শেষযাত্রায় তার কফিনে আমরা একটি ফুল রেখেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি কি? আমাদের মিডিয়া প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলাম, আড়াই কলামে মৃত্যুর খবরটি ছেপেই দায়িত্ব শেষ করেছে। মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবরটিকে আরও একটু ভালো ট্রিটমেন্ট কি দেয়া যেত না?

আনিসুজ্জামান রবীন্দ্রনাথ নন। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে তার তুল্য বুদ্ধিজীবী আর কেউ আছেন বলে মনে করি না। তিনি আমার প্রায় সমবয়সী বন্ধু ছিলেন। তার সঙ্গে আমার মতান্তরও হয়েছে। তবু বলি, তিনি ছিলেন একজন মনীষী। এভাবে তার চলে যাওয়া আমাকে দারুণ ব্যথা দিয়েছে। তিনি দেশকে অনেক দিয়েছেন। তার বিনিময়ে তার শেষযাত্রায় আমরা কী দিলাম? অজুহাত, করোনা।

আমার তখন খুবই ছোট বয়স। তবু মনে আছে, রবীন্দ্রনাথ যখন মারা যান, তখন কলকাতার প্রিন্টিং মিডিয়ায় লাইফ-সাইজ ছবি ছাপা হয়েছিল। আনন্দবাজার পত্রিকায় ব্যানার হেডিং দেয়া হয়েছিল। বিশ্বের কবি বাংলার রবি অস্তাচলে।

লন্ডনের একটি দৈনিক রবীন্দ্রনাথের দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে ছেপে লিখেছিল- দি ভয়েস অব হিউম্যানিটি ইজ ডেড। ফরাসি দৈনিকে হেডিং দেয়া হয়েছিল- গড অব লিটারেচার পাসেজ এয়োয়ে। শেষোক্ত খবর অবশ্য বড় হয়ে জেনেছিলাম।

এই সেদিন মারা গেছেন কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। সারা ঢাকায় শোকের মহাপ্লাবন বয়ে গিয়েছিল। একটি জাতীয় দৈনিকে তো প্রথম পাতায় শুধু তার লাইফ সাইজ ছবি ছেপে হেডিং দেয়া হয়েছিল, ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’। করোনার থাবা যতই অকরুণ হোক, আমি মনে করি তিন কলামের চেয়ে আরেকটু বেশি ট্রিটমেট কি দেয়া যেত না? এটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষোভ। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়।

আমার আরও ক্ষোভ, তার চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে। তিনি যখন হাসপাতালে যান, তখন বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তার দেহে যে করোনা নেই, তা ইউনিভার্সাল হাসপাতালে পরীক্ষা হয়েছিল কি? সিএমএইচে আনার পরও পরীক্ষা করা হয়নি। পরীক্ষা করা হয়েছে তার মৃত্যুর পর। এখন এই হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স যারা তাকে চিকিৎসাসেবা দানের জন্য তার সান্নিধ্যে গিয়েছিলেন তারা সম্ভবত সবাই ভীত, তাদের অজান্তে তাদের দেহে এই রোগ সংক্রমিত হয়েছে কি না। কিন্তু তিনি বেঁচে থাকতে যদি জানা যেত তার শরীরে এই ভাইরাস ঢুকেছে (সম্ভবত হাসপাতালের চিকিৎসকদের অসাবধানতার জন্য ঢুকেছে) তাহলে তার জীবন রক্ষার একটি শেষ চেষ্টা কি করা যেত না?

মানুষ মরণশীল। আনিসুজ্জামানেরও পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে। এই পরিণত বয়সেও তার মৃত্যুতে দুঃখ অবশ্যই আছে। কিন্তু এর চেয়েও বেশি দুঃখ পেয়েছি, তাকে যেভাবে শেষ বিদায় নিতে হল তা দেখে। তবু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার ফলে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এ সম্মানটুকুও তিনি পেতেন না।

খালেদা জিয়া শেষবার প্রধানমন্ত্রী পদে বসেই এই অজাতশত্রু মানুষটিকে বাংলা একাডেমির সভাপতির পদ থেকে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে অপসারিত করেছিলেন।

আনিসুজ্জামান যেদিন মারা যান, সেদিন বাংলা সাহিত্যের এক দিকপাল দেবেশ রায়ও মারা গেছেন। এগুলো হচ্ছে কাকতালীয় ব্যাপার। লন্ডনে যেদিন বার্নার্ড শ’ মারা যান, সেদিন পশ্চিমবঙ্গের এক শহরে মারা যান বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘পথের পাঁচালির’ অমর স্রষ্টা। দেবেশ রায় করোনায় মারা যাননি, তাই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছে ভালোভাবে। ফুলে ফুলে তার মরদেহ ভরে গেছে। মানুষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

আনিসুজ্জামানের অথবা আমাদের কপাল খারাপ। তাই মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত হল তার শরীরে করোনাভাইরাস আছে। আর সেজন্য তার এই নিঃসঙ্গ শেষযাত্রা। ঢাকার এক প্রবীণ বন্ধুকে বলেছিলাম মনের এই দুঃখের কথা।

তিনি বললেন, ‘তোমার সবকিছুতেই দোষ ধরার বাতিক আছে। কোভিড-১৯-এর ফলে সারা বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও যে ভয়াবহ অবস্থা, তার মধ্যে তুমি চাচ্ছ হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ঢাকার রাস্তায় হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের যেমন ঢল নেমেছিল, তেমনি নামবে আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে।

তিনি হুমায়ূন আহমেদের চেয়েও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। কিন্তু সময়টা দেখছ তো? মানুষ নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। এ সময় ইচ্ছা থাকলেও তাদের শোক প্রকাশের জন্য রাস্তায় নামার সুযোগ নেই।

তাকে সবিনয়ে নিউইয়র্কের একটি সাম্প্রতিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। একজন জনপ্রিয় ধার্মিক পুরুষের মৃত্যুতে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে ১৪৪ ধারা ভেঙে ২৫ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। লন্ডনে অনুরূপ এক জনপ্রিয় মানুষের মৃত্যুতে তার গুণমুগ্ধরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরস্পরের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে তার কফিনে ফুল দিয়েছেন। কফিন থেকেও সরকার-নির্দেশিত দূরত্ব তারা বজায় রেখে দঁড়িয়েছেন। কারণ মৃত মানুষটিরও ছিল কোভিড-১৯ রোগ।

আমি ঢাকায় মনীষীতুল্য আনিসুজ্জামানের জন্য লন্ডনের এ ব্যবস্থাও দাবি করতাম না, যদি দেখতাম এবং জানতাম ঢাকার মানুষ লকডাউন বা অন্যান্য ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ মেনে চলেছে। ঢাকার রাস্তায় মানুষ আর যানবাহনের ভিড় দেখলে কি মনে হয় এ দেশ ভয়াবহভাবে করোনা আক্রান্ত? রোগের হামলা সামলাতে গোটা চিকিৎসাব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে। করোনার শিকার শুধু সাধারণ মানুষ নন, ডাক্তার-নার্সরাও। এই ডাক্তার এবং নার্সদের আমার অভিবাদন, যারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে এই দানবের হামলা রুখছেন।

ঢাকায় মানুষ যখন রাস্তায় চলাচল করছে, যানবাহন চলছে, দোকানপাট খুলছে, তখন আমাদের সুশীলসমাজ কি পারত না, সরকারের সহযোগিতা নিয়ে আনিসুজ্জামানের শেষ বিদায়, শেষযাত্রা যাতে নির্মম নিঃসঙ্গতায় ভরা না থাকে তার একটু ব্যবস্থা করতে?

হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে না পাঠিয়ে যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য তিনি আজীবন সাধনা করে গেছেন, তার জাতীয় পাদপিঠ বাংলা একাডেমিতে, শহীদ মিনারে বিশেষ ব্যবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার মরদেহ রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা রাখা? তিনি বসন্তরোগের রোগী ছিলেন না, অথবা তার দেহে পচনও ধরেনি। শুধু করোনার অজুহাতে তার এই অচ্ছুতসুলভ শেষযাত্রা আমার মনে খুব বেধেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এমন অসাম্প্রদায়িক, গণতন্ত্রমনা নির্ভীক বুদ্ধিজীবী আমি আর দেখিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তার অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেরই শীর্ষ রাষ্ট্রীয় সম্মান তিনি পেয়েছেন। তিনি ছিলেন ’৭২-এর সংবিধানের বাংলা অনুবাদক। কোনো লোভে অথবা প্রলোভনে এ মানুষটি চরিত্রভ্রষ্ট হননি।

এই চরিত্রহীন দেশে তিনি ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ চরিত্রের আদর্শ প্রতীক। আমার দুঃখ ও ব্যথা এই যে, এই মানুষটিকে শেষযাত্রায় দেশের সব মানুষের ভালোবাসাজড়িত শ্রদ্ধা তাকে জানাতে পারলাম না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা তিনি পেয়েছেন, পাননি দেশের সব মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্পর্শ। পাননি আপনজনের নৈকট্য।

কলেজজীবন থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম- কোথায় আনিসুজ্জামান নেই? তাকে নিয়ে স্মৃতিকথা লিখতে গেলে মহাভারত হবে। আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনার কথাই শুধু আজ লিখব। ১৯৫১ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এসেছিলেন ঢাকায়। কার্জন হলে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। মানপত্রটি লেখার ভার পড়েছিল আমার ওপর। সেই মানপত্রটি ছাপা হয়নি।

আনিসুজ্জামানের হাতের লেখা ছিল আশ্চর্য সুন্দর। তিনি মানপত্রটি কপি করে দিয়েছিলেন। সেটি বাঁধিয়ে নাগরিক সংবর্ধনা সভায় ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁকে দেয়া হয়েছিল।

আনিসুজ্জামানের সঙ্গে আমার কখনও মনান্তর হয়নি। কয়েকবার মতান্তর হয়েছে। তাতে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা নষ্ট হয়নি। একবার তার সঙ্গে আমার মতান্তর হয় বঙ্গবন্ধুকে বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলা নিয়ে। বিবিসি’র এই জরিপের ফল তিনি মানতে রাজি হননি। আমি বিবিসির জরিপের ফল সমর্থন করেছি। দ্বিতীয় বিতর্ক হয়েছে তার আত্মজীবনীতে বলা দুটি বিষয় নিয়ে।

তিনি তার আত্মজীবনীতে ভাষা আন্দোলনে প্রয়াত প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ভূমিকা সম্পর্কে যা লিখেছিলেন, তা সঠিক ছিল না। আমি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর তখনকার লেখা একটি চিঠি ‘প্রথম আলোতে’ প্রকাশ করে সঠিক তথ্যটি লিখেছিলাম। এছাড়া তিনি লিখেছিলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে গুলিবর্ষণের পর তার প্রতিবাদে হাসান হাফিজুর রহমান প্রথম ইশতেহার প্রকাশ করেন। এই তথ্যটিও ছিল ভুল। প্রথম ইশতেহার প্রকাশ করেন আবদুল্লা আলমুতি শরফুদ্দিন।

এই ভুলগুলো আনিসুজ্জামানের ইচ্ছাকৃত ভুল ছিল না। স্বাভাবিক ভুল। এ ধরনের ভুল আমাদের সবারই হয়।

এই মতান্তরের জন্য আমাদের কোনো মনান্তর হয়নি। মতপার্থক্যকে নিয়ে বিবাদ করার মতো মানুষ আনিসুজ্জামান ছিলেন না। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক, উদার, বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ যদি কাউকে বলা যায়, তবে তিনি ড. আনিসুজ্জামান। কয়েক বছর আগে ঢাকায় যখন শেষ দেখা হয় তখনও বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, কেমন আছেন গাফ্ফার? বলেছিলাম ভালো আছি। ভেবেছিলাম আমার চেয়ে বয়সে ছোট, আনিসুজ্জামান আমার চেয়েও বেশি দিন বেঁচে থাকবেন।

সেটা হয়নি। হলেই সম্ভবত বেশি ভালো হতো। অন্তত দেশ ও জাতি বেশি উপকৃত হতো। বন্ধু আনিস, বিদায় বলব না। বলি, অনন্ত শুভেচ্ছা।

লন্ডন, ১৬ মে, শনিবার, ২০২০

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত