বিপর্যয় রুখতে হবে
jugantor
বিপর্যয় রুখতে হবে

  আলম শাইন  

২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে অতিদ্রুত। অবিরত হিমালয় ও এন্টার্টিকার বরফের চাঁই গলে নিম্ন এলাকাগুলো ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে; সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ বন্যাও। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে ওজোনস্তর পাতলা হয়ে পৃথিবীকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে প্রবল বেগে ঢুকে পড়ছে সূর্যের অতিবেগুনি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।

এতে বছরান্তেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সঙ্গে নতুন রোগব্যাধিরও আবির্ভাব ঘটছে পৃথিবীতে। আবার নতুন পরিবেশে টিকে থাকার মতো ভাইরাস কিংবা কীট-পতঙ্গও জন্ম নিচ্ছে। অপরদিকে ওই পরিবেশে বা ওই তাপমাত্রায় টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাওয়া প্রাণিকুলকে বিদায় নিতে হচ্ছে পৃথিবী থেকে, যাকে বলা হয় বিবর্তন বা প্রকৃতির ধারাবাহিক পরিবর্তন। এ জন্য অনেকেই প্রকৃতির ওপর দোষারোপও করে যাচ্ছেন।

আসলে কিন্তু বিষয়টি তা নয়। এর জন্য মোটেও দায়ী নয় প্রকৃতি। দায়ী হচ্ছে মানবকুল দ্বারা অতিমাত্রার কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করা। বিশেষ করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দেয়ার নেপথ্যে আছে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলো। বড় বড় শিল্পকারখানা, পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ, নির্বিচারে বন উজাড়, নদী শাসন ইত্যাদির ফলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সমগ্র বিশ্বে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর খামখেয়ালিপনার কারণে সিএফসি গ্যাস, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের নির্গমন বেড়ে গেছে। যে গ্যাস নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর ফিল্টার নামে খ্যাত ওজোনস্তর পাতলা হয়ে ভূপৃষ্ঠ তপ্ত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। অর্থাৎ সূর্যের প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ছেঁকে বিশুদ্ধ করে পৃথিবীর উপযোগী তাপমাত্রা ঘটিয়ে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্রমেই।

তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। গত বছর ৮ জুন কুয়েতের তাপমাত্রা বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। ওই তাপে গাড়ির চাকার টায়ারও গলে গেছে। এমনকি ছায়াযুক্ত স্থানেও ছিল ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যে পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে ওজোনস্তর। উল্লেখ্য, পৃথিবীর জন্য সুষম তাপমাত্রা হচ্ছে ১০-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কম-বেশি হতে পারে)।

এ সুষম তাপমাত্রা এখন আর বিরাজ করছে না, বরং উল্টোটি ঘটছে। ধীরে ধীরে বরফ যুগের সমাপ্তি তাপমাত্রায় একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন। উল্লেখ্য, তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গেলেই ডিম সিদ্ধ হতে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৬৩-৭০ ডিগ্রি পার্থক্য খুব বেশি নয়। কাজেই আমরা বলতে পারি, এটি বিশ্বের জন্য একটি অশনিসংকেত। উন্নত দেশে এ তাপমাত্রায় মানিয়ে নেয়ার সুব্যবস্থা থাকলেও দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার আল-আজিজিয়ায় ৫৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও শৈত্যপ্রবাহের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই কোনো-না-কোনো ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। সেটি হতে পারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা, সাইক্লোন, টর্নেডো, ভূমিকম্প ও নদীভাঙনসহ নানা দুর্যোগ। এর মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে পৃথিবীকে। যদিও প্রকৃতির প্রতিটি দুর্যোগই ভয়াবহ, তথাপি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অন্যসব দুর্যোগ কিংবা নতুন কীটপতঙ্গ অথবা ভাইরাস উৎপত্তির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনাভাইরাসের জন্মবৃত্তান্ত ঘেঁটে দেখলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া যাবে। ভাইরাসের বাহক বন্যপ্রাণী অথবা অন্যকিছু; কিন্তু বিবর্তনটা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই ঘটেছে বলে দাবি করছেন তারা। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববাসীর সামনে আরও মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে। এখানে আরেকটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে, শত বা হাজার বছর আগে বিশ্বে মহামারীতে লক্ষ-কোটি প্রাণের বিনাশ ঘটেছে শুধু অতিক্ষুদ্র জীবাণু বা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের প্রার্দুভাবে।

সেসব ভাইরাসের মধ্যে কিছু ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও অজ্ঞাতনামা অনেক ভাইরাস রহস্যাবৃত হয়ে আছে আজও। এসবের ভ্যাকসিন তো দূরের কথা, নামকরণও হয়নি এখনও। প্রাচীন যুগের মানুষের কাছে সেসব মহামারী সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত গজব হিসেবে পরিচিত ছিল। যুগের পরিক্রমায় ওইসব ভাইরাস বরফাবৃত মৃত পশু কিংবা মৃত মানবদেহে আজও বিদ্যমান। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে বা বরাফাবৃত পর্বতশ্রেণির মাঝে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করেছে। বরফ গলার ফলে হাজার বছরের মৃতদেহ উঁকি দিচ্ছে। যেসব মৃতদেহ মহামারী আক্রান্ত ছিল, সেসব দেহ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। যে ভাইরাসের নাম মানুষের জানা নেই, নেই প্রতিরোধের ভ্যাকসিনও। উল্লেখ্য, কিছু কিছু ভাইরাস শত শত বছরেও বিনষ্ট হয় না, বেঁচে থাকতে সক্ষম বরফ আচ্ছাদৃত মৃতদেহের মাঝে।

সুযোগ পেয়ে সেসব ভাইরাস এখন নতুন করে হানা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ, হাজার বছর আগের মহামারীর ভাইরাসগুলো দীর্ঘদিন পৃথিবীতে অবস্থান করে ভ্যাকসিন ছাড়াই নিজ থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে; যা এখন আবার নতুন করে উপযোগী পরিবেশ পেয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এর পরিণাম বিশ্ববাসীর জন্য করোনা, ইবোলা, বার্ড ফ্লু, ফিলোভাইরাস, রেবিস, এইচআইভি, স্প্যানিশ ফ্লু’র চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

অপরদিকে মানুষ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। ফলে মানবকুলের পক্ষে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়বে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। এমনও হতে পারে করোনা নাশের আগেই ওই ভাইরাস আমাদের আক্রান্ত করে ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় লাসা ভাইরাস ও হান্তা ভাইরাসের কথা। এ দুটি ভাইরাস করোনার চেয়েও ভয়ংকর, যা দূর থেকেও সংক্রমণের সক্ষমতা রাখে।

তাই বলব, এখনও সময় আছে নিজদের শোধরানোর। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে প্রচেষ্টা চালাতে হবে আমাদের। নচেৎ পরিণাম কী হতে পারে তা অনুমেয়!

আলম শাইন : লেখক ও বন্যপ্রাণী বিশারদ

 

বিপর্যয় রুখতে হবে

 আলম শাইন 
২৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে অতিদ্রুত। অবিরত হিমালয় ও এন্টার্টিকার বরফের চাঁই গলে নিম্ন এলাকাগুলো ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে; সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ বন্যাও। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে ওজোনস্তর পাতলা হয়ে পৃথিবীকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে প্রবল বেগে ঢুকে পড়ছে সূর্যের অতিবেগুনি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।

এতে বছরান্তেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সঙ্গে নতুন রোগব্যাধিরও আবির্ভাব ঘটছে পৃথিবীতে। আবার নতুন পরিবেশে টিকে থাকার মতো ভাইরাস কিংবা কীট-পতঙ্গও জন্ম নিচ্ছে। অপরদিকে ওই পরিবেশে বা ওই তাপমাত্রায় টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাওয়া প্রাণিকুলকে বিদায় নিতে হচ্ছে পৃথিবী থেকে, যাকে বলা হয় বিবর্তন বা প্রকৃতির ধারাবাহিক পরিবর্তন। এ জন্য অনেকেই প্রকৃতির ওপর দোষারোপও করে যাচ্ছেন।

আসলে কিন্তু বিষয়টি তা নয়। এর জন্য মোটেও দায়ী নয় প্রকৃতি। দায়ী হচ্ছে মানবকুল দ্বারা অতিমাত্রার কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করা। বিশেষ করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দেয়ার নেপথ্যে আছে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলো। বড় বড় শিল্পকারখানা, পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ, নির্বিচারে বন উজাড়, নদী শাসন ইত্যাদির ফলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সমগ্র বিশ্বে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর খামখেয়ালিপনার কারণে সিএফসি গ্যাস, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের নির্গমন বেড়ে গেছে। যে গ্যাস নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর ফিল্টার নামে খ্যাত ওজোনস্তর পাতলা হয়ে ভূপৃষ্ঠ তপ্ত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। অর্থাৎ সূর্যের প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ছেঁকে বিশুদ্ধ করে পৃথিবীর উপযোগী তাপমাত্রা ঘটিয়ে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্রমেই।

তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। গত বছর ৮ জুন কুয়েতের তাপমাত্রা বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। ওই তাপে গাড়ির চাকার টায়ারও গলে গেছে। এমনকি ছায়াযুক্ত স্থানেও ছিল ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যে পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে ওজোনস্তর। উল্লেখ্য, পৃথিবীর জন্য সুষম তাপমাত্রা হচ্ছে ১০-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কম-বেশি হতে পারে)।

এ সুষম তাপমাত্রা এখন আর বিরাজ করছে না, বরং উল্টোটি ঘটছে। ধীরে ধীরে বরফ যুগের সমাপ্তি তাপমাত্রায় একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন। উল্লেখ্য, তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গেলেই ডিম সিদ্ধ হতে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৬৩-৭০ ডিগ্রি পার্থক্য খুব বেশি নয়। কাজেই আমরা বলতে পারি, এটি বিশ্বের জন্য একটি অশনিসংকেত। উন্নত দেশে এ তাপমাত্রায় মানিয়ে নেয়ার সুব্যবস্থা থাকলেও দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার আল-আজিজিয়ায় ৫৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও শৈত্যপ্রবাহের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই কোনো-না-কোনো ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। সেটি হতে পারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা, সাইক্লোন, টর্নেডো, ভূমিকম্প ও নদীভাঙনসহ নানা দুর্যোগ। এর মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে পৃথিবীকে। যদিও প্রকৃতির প্রতিটি দুর্যোগই ভয়াবহ, তথাপি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অন্যসব দুর্যোগ কিংবা নতুন কীটপতঙ্গ অথবা ভাইরাস উৎপত্তির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনাভাইরাসের জন্মবৃত্তান্ত ঘেঁটে দেখলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া যাবে। ভাইরাসের বাহক বন্যপ্রাণী অথবা অন্যকিছু; কিন্তু বিবর্তনটা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই ঘটেছে বলে দাবি করছেন তারা। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববাসীর সামনে আরও মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে। এখানে আরেকটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে, শত বা হাজার বছর আগে বিশ্বে মহামারীতে লক্ষ-কোটি প্রাণের বিনাশ ঘটেছে শুধু অতিক্ষুদ্র জীবাণু বা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের প্রার্দুভাবে।

সেসব ভাইরাসের মধ্যে কিছু ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও অজ্ঞাতনামা অনেক ভাইরাস রহস্যাবৃত হয়ে আছে আজও। এসবের ভ্যাকসিন তো দূরের কথা, নামকরণও হয়নি এখনও। প্রাচীন যুগের মানুষের কাছে সেসব মহামারী সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত গজব হিসেবে পরিচিত ছিল। যুগের পরিক্রমায় ওইসব ভাইরাস বরফাবৃত মৃত পশু কিংবা মৃত মানবদেহে আজও বিদ্যমান। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে বা বরাফাবৃত পর্বতশ্রেণির মাঝে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করেছে। বরফ গলার ফলে হাজার বছরের মৃতদেহ উঁকি দিচ্ছে। যেসব মৃতদেহ মহামারী আক্রান্ত ছিল, সেসব দেহ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। যে ভাইরাসের নাম মানুষের জানা নেই, নেই প্রতিরোধের ভ্যাকসিনও। উল্লেখ্য, কিছু কিছু ভাইরাস শত শত বছরেও বিনষ্ট হয় না, বেঁচে থাকতে সক্ষম বরফ আচ্ছাদৃত মৃতদেহের মাঝে।

সুযোগ পেয়ে সেসব ভাইরাস এখন নতুন করে হানা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ, হাজার বছর আগের মহামারীর ভাইরাসগুলো দীর্ঘদিন পৃথিবীতে অবস্থান করে ভ্যাকসিন ছাড়াই নিজ থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে; যা এখন আবার নতুন করে উপযোগী পরিবেশ পেয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এর পরিণাম বিশ্ববাসীর জন্য করোনা, ইবোলা, বার্ড ফ্লু, ফিলোভাইরাস, রেবিস, এইচআইভি, স্প্যানিশ ফ্লু’র চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

অপরদিকে মানুষ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। ফলে মানবকুলের পক্ষে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়বে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। এমনও হতে পারে করোনা নাশের আগেই ওই ভাইরাস আমাদের আক্রান্ত করে ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় লাসা ভাইরাস ও হান্তা ভাইরাসের কথা। এ দুটি ভাইরাস করোনার চেয়েও ভয়ংকর, যা দূর থেকেও সংক্রমণের সক্ষমতা রাখে।

তাই বলব, এখনও সময় আছে নিজদের শোধরানোর। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে প্রচেষ্টা চালাতে হবে আমাদের। নচেৎ পরিণাম কী হতে পারে তা অনুমেয়!

আলম শাইন : লেখক ও বন্যপ্রাণী বিশারদ