জম্মু ও কাশ্মীর : উন্নয়নের এক বছর
jugantor
জম্মু ও কাশ্মীর : উন্নয়নের এক বছর

  অজিত কুমার রায়  

০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন অনুভব করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার আদিম উপত্যকায় অবস্থিত একটি পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার মাস্ক তৈরি হচ্ছে।

জহুর আহমদ নামে এক যুবক এ কারখানাটির মালিক। জহুর আহমদ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্পের (পিএমইজিপি) সুবিধাভোগী।

পিএমইজিপি হল এক বছর আগে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার পরে জম্মু ও কাশ্মীরে চালু করা অন্যতম প্রধান কর্মসূচি, যার আওতায় জহুর আহমদের মতো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন করে নিজের ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হওয়ার এক বছরে এটি স্পষ্ট যে, এই অর্থনৈতিক গতি, গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর গভীরতরকরণ এবং উন্নয়নই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

যুবসমাজের সম্ভাবনার ব্যবহার : জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ জনগোষ্ঠী বিগত বছরে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি নতুনভাবে মনোযোগ দেয়ার সুবিধাভোগী হয়েছে। গত এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

নতুন ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাতটি নতুন মেডিকেল কলেজ, পাঁচটি নতুন নার্সিং কলেজ এবং একটি সরকারি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষা খাতকে নতুনভাবে সংস্কার করেছে। নতুন দুটি অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও চিকিৎসা শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের ২১-এ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ‘শিক্ষার অধিকার’-এর আওতায় জম্মু ও কাশ্মীরে শিক্ষা খাতে নবায়নযোগ্য এ শক্তিটি প্রবাহিত হয়েছে। সংবিধানের ২১-এ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার একটি স্বাভাবিক পরিণতি। আজ জম্মু ও কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশু ভারতের অন্যান্য রাজ্যের শিশুদের মতো সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত শিক্ষার মৌলিক এ অধিকারটি পাবে।

যুবকদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি নতুন আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া স্টার্ট-আপ নীতিমালার অধীনে গবেষণা, উন্নয়ন এবং বিপণনের জন্য ১২টি সম্ভাবনাময় স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে ১ দশমিক ২ কোটি রুপি বরাদ্দ হয়েছে, যা তাদের উদ্ভাবনে সহায়তা করছে। এগুলোসহ দুটি আবিষ্কার, উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিআইআইআইটি) স্টার্ট-আপ এবং আইটি বিভাগে তরুণদের অমিত সম্ভাবনাকে সফল করার জন্য কাজ করছে। ভারতে ইতোমধ্যে স্টার্ট-আপস, ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট এবং অ্যাঞ্জেল ফান্ডগুলোর একটি বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের নেতৃত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোর তালিকায় শ্রীনগর যুক্ত হতে খুব বেশি দেরি হয়তো নেই।

জবাবদিহিসহ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা : যে ভারতীয় সংবিধান বহু বছর ধরে সব ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং সুরক্ষা প্রদান করে আসছে, তা নারী, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ করে এমন অনেক আইন প্রণয়ন করেছে।

তবে ৩৭০ অনুচ্ছেদ দ্বারা তৈরি হওয়া ব্যতিক্রমের কারণে জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকরা এ অধিকারগুলো ভোগ করতে পারেনি। তবে অনুচ্ছেদটি বাতিল করে কিশোর ন্যায়বিচার (শিশুদের যত্ন এবং সুরক্ষা) আইন-২০১৫; বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন-২০০৯; পারিবারিক সহিংসতা থেকে মহিলাদের সুরক্ষা আইন-২০০৫; তথ্য অধিকার আইন-২০০৫ ইত্যাদির মতো ইতিবাচক আইনগুলো জম্মু ও কাশ্মীরেও প্রযোজ্য হয়েছে। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের বিশেষত মহিলা, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নিয়ে এসেছে।

অধিকার প্রয়োগকারী এ আইনগুলোর সম্প্রসারণের তাৎক্ষণিক ফল হল- গণতন্ত্রের অনুশীলনে জনগণের উৎসাহী অংশগ্রহণ। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্লক উন্নয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯৮ শতাংশ ভোটার তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে ভোট প্রদান করেন। একই নির্বাচনে মহিলাদের সংরক্ষিত আসনের কারণে অনেক নারী প্রার্থীদেরও নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেখা যায়।

এ নির্বাচনের পর সরকার ‘গ্রামে ফিরে চল’ কর্মসূচি চালু করে। তৃণমূলের সমস্যাগুলো বোঝার জন্য সরকারি কর্মকর্তারা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিটি পঞ্চায়েতে পৌঁছে গ্রামের উন্নয়ন প্রয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ প্রকল্পের সাফল্য দৃশ্যমান কারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক সংস্থা একসঙ্গে ইতোমধ্যে সাত হাজারেরও বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে।

অর্থনৈতিক পটপরিবর্তন : রোডশো এবং বিনিয়োগ প্রচার ইভেন্টের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার বেসরকারি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য বিদ্যমান সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এক বছরে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপি মূল্যের ১৬৮টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জম্মু ও শ্রীনগরের শহরগুলো আধুনিক, টেকসই স্মার্ট শহরে রূপান্তরিত হতে চলেছে। একটি রেল ট্রানজিট সিস্টেম, আবাসন এবং জনপদ নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে এ শহরগুলোর বিকাশের জন্য। শহরের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামগুলোতেও ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।

৭০ বছরে প্রথমবারের মতো জম্মু ও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তিন লাখেরও বেশি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ই-ন্যাশনাল এগ্রিকালচার মার্কেটের (ই-এনএএম) মাধ্যমে জাতীয় বাজারে সংযুক্ত হয়ে কৃষকরা তাদের আপেল এবং জাফরানকে সারা দেশে পৌঁছে দিচ্ছে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম প্রতিক্রিয়া : কোভিড-১৯ আসার আগেই জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের স্বাস্থ্য কভারেজ সরবরাহের জন্য অভিযান চালিয়েছিল। তাতে আয়ুষ্মান ভারত (ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য কভারেজ স্কিম) চালুর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে, ১০ লাখ স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাস্থ্য অবকাঠামোও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। প্রতি মিলিয়নে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৪৪টি পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় পারফরমারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৭টি কোভিড হাসপাতাল, ২০ হাজার আইসিইউ এবং ৬০ হাজারেরও বেশি নতুন শয্যা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সক্ষমভাবে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা : অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হওয়ার এক বছর পরই জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এটি তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং এখানকার উৎপাদন ও শিল্প সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগ এনেছে।

উন্নততর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো যুবসমাজকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সমৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক হতে সহায়তা করছে। ইতিবাচক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের এ কাক্সিক্ষত গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নতি বয়ে আনছে। শত্রুদের দ্বারা সন্ত্রাসবাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসাত্মক সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার দিনগুলো গত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং এর জনগণ আজ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে।

অজিত কুমার রায় : বিশ্লেষক, নয়াদিল্লি

জম্মু ও কাশ্মীর : উন্নয়নের এক বছর

 অজিত কুমার রায় 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন অনুভব করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার আদিম উপত্যকায় অবস্থিত একটি পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার মাস্ক তৈরি হচ্ছে।

জহুর আহমদ নামে এক যুবক এ কারখানাটির মালিক। জহুর আহমদ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্পের (পিএমইজিপি) সুবিধাভোগী।

পিএমইজিপি হল এক বছর আগে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার পরে জম্মু ও কাশ্মীরে চালু করা অন্যতম প্রধান কর্মসূচি, যার আওতায় জহুর আহমদের মতো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন করে নিজের ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হওয়ার এক বছরে এটি স্পষ্ট যে, এই অর্থনৈতিক গতি, গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর গভীরতরকরণ এবং উন্নয়নই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

যুবসমাজের সম্ভাবনার ব্যবহার : জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ জনগোষ্ঠী বিগত বছরে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি নতুনভাবে মনোযোগ দেয়ার সুবিধাভোগী হয়েছে। গত এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

নতুন ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাতটি নতুন মেডিকেল কলেজ, পাঁচটি নতুন নার্সিং কলেজ এবং একটি সরকারি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষা খাতকে নতুনভাবে সংস্কার করেছে। নতুন দুটি অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও চিকিৎসা শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের ২১-এ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ‘শিক্ষার অধিকার’-এর আওতায় জম্মু ও কাশ্মীরে শিক্ষা খাতে নবায়নযোগ্য এ শক্তিটি প্রবাহিত হয়েছে। সংবিধানের ২১-এ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার একটি স্বাভাবিক পরিণতি। আজ জম্মু ও কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশু ভারতের অন্যান্য রাজ্যের শিশুদের মতো সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত শিক্ষার মৌলিক এ অধিকারটি পাবে।

যুবকদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি নতুন আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া স্টার্ট-আপ নীতিমালার অধীনে গবেষণা, উন্নয়ন এবং বিপণনের জন্য ১২টি সম্ভাবনাময় স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে ১ দশমিক ২ কোটি রুপি বরাদ্দ হয়েছে, যা তাদের উদ্ভাবনে সহায়তা করছে। এগুলোসহ দুটি আবিষ্কার, উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিআইআইআইটি) স্টার্ট-আপ এবং আইটি বিভাগে তরুণদের অমিত সম্ভাবনাকে সফল করার জন্য কাজ করছে। ভারতে ইতোমধ্যে স্টার্ট-আপস, ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট এবং অ্যাঞ্জেল ফান্ডগুলোর একটি বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের নেতৃত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোর তালিকায় শ্রীনগর যুক্ত হতে খুব বেশি দেরি হয়তো নেই।

জবাবদিহিসহ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা : যে ভারতীয় সংবিধান বহু বছর ধরে সব ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং সুরক্ষা প্রদান করে আসছে, তা নারী, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ করে এমন অনেক আইন প্রণয়ন করেছে।

তবে ৩৭০ অনুচ্ছেদ দ্বারা তৈরি হওয়া ব্যতিক্রমের কারণে জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকরা এ অধিকারগুলো ভোগ করতে পারেনি। তবে অনুচ্ছেদটি বাতিল করে কিশোর ন্যায়বিচার (শিশুদের যত্ন এবং সুরক্ষা) আইন-২০১৫; বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন-২০০৯; পারিবারিক সহিংসতা থেকে মহিলাদের সুরক্ষা আইন-২০০৫; তথ্য অধিকার আইন-২০০৫ ইত্যাদির মতো ইতিবাচক আইনগুলো জম্মু ও কাশ্মীরেও প্রযোজ্য হয়েছে। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের বিশেষত মহিলা, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নিয়ে এসেছে।

অধিকার প্রয়োগকারী এ আইনগুলোর সম্প্রসারণের তাৎক্ষণিক ফল হল- গণতন্ত্রের অনুশীলনে জনগণের উৎসাহী অংশগ্রহণ। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্লক উন্নয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯৮ শতাংশ ভোটার তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে ভোট প্রদান করেন। একই নির্বাচনে মহিলাদের সংরক্ষিত আসনের কারণে অনেক নারী প্রার্থীদেরও নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেখা যায়।

এ নির্বাচনের পর সরকার ‘গ্রামে ফিরে চল’ কর্মসূচি চালু করে। তৃণমূলের সমস্যাগুলো বোঝার জন্য সরকারি কর্মকর্তারা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিটি পঞ্চায়েতে পৌঁছে গ্রামের উন্নয়ন প্রয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ প্রকল্পের সাফল্য দৃশ্যমান কারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক সংস্থা একসঙ্গে ইতোমধ্যে সাত হাজারেরও বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে।

অর্থনৈতিক পটপরিবর্তন : রোডশো এবং বিনিয়োগ প্রচার ইভেন্টের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার বেসরকারি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য বিদ্যমান সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এক বছরে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপি মূল্যের ১৬৮টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জম্মু ও শ্রীনগরের শহরগুলো আধুনিক, টেকসই স্মার্ট শহরে রূপান্তরিত হতে চলেছে। একটি রেল ট্রানজিট সিস্টেম, আবাসন এবং জনপদ নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে এ শহরগুলোর বিকাশের জন্য। শহরের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামগুলোতেও ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।

৭০ বছরে প্রথমবারের মতো জম্মু ও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তিন লাখেরও বেশি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ই-ন্যাশনাল এগ্রিকালচার মার্কেটের (ই-এনএএম) মাধ্যমে জাতীয় বাজারে সংযুক্ত হয়ে কৃষকরা তাদের আপেল এবং জাফরানকে সারা দেশে পৌঁছে দিচ্ছে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম প্রতিক্রিয়া : কোভিড-১৯ আসার আগেই জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের স্বাস্থ্য কভারেজ সরবরাহের জন্য অভিযান চালিয়েছিল। তাতে আয়ুষ্মান ভারত (ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য কভারেজ স্কিম) চালুর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে, ১০ লাখ স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাস্থ্য অবকাঠামোও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। প্রতি মিলিয়নে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৪৪টি পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় পারফরমারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৭টি কোভিড হাসপাতাল, ২০ হাজার আইসিইউ এবং ৬০ হাজারেরও বেশি নতুন শয্যা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সক্ষমভাবে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা : অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হওয়ার এক বছর পরই জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এটি তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং এখানকার উৎপাদন ও শিল্প সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগ এনেছে।

উন্নততর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো যুবসমাজকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সমৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক হতে সহায়তা করছে। ইতিবাচক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের এ কাক্সিক্ষত গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নতি বয়ে আনছে। শত্রুদের দ্বারা সন্ত্রাসবাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসাত্মক সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার দিনগুলো গত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং এর জনগণ আজ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে।

অজিত কুমার রায় : বিশ্লেষক, নয়াদিল্লি