স্মরণ: নেই সেই সাংবাদিক
jugantor
স্মরণ: নেই সেই সাংবাদিক

  শওকত মাহমুদ  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আতাউস সামাদ

সাংবাদিক-লেখক মাত্রই আদি সাম্যবাদী সমাজের লোক। সৃষ্টিলগ্নে এবং আমৃত্যু সব মানুষ সমঅধিকারের- এ বিশ্বাসে তারা ঋজু। যতটুকু করা যায় ততটুকু করার তাগিদ নিয়ে সব ক্ষয় ও অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সংকল্পে প্রচ্ছন্ন বা দৃশ্যমান থাকার সাধনায় সম্মুখবর্তী কারা? বাংলাদেশে বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার পঠন-পাঠনে অগ্রণী আতাউস সামাদ তাদেরই একজন। আজ তার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। তাকে নিয়ে বসতে গেলে ইতিহাসের ওই অতীতটুকু সামনে রাখা জরুরি।

উপমহাদেশে সাংবাদিকতার সূচনা দেশমুক্তির লক্ষ্যে, অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে, দ্রোহের অভিনিবেশে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মনোযোগে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তিরিশ থেকে আশির দশক পর্যন্ত আমাদের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে শব্দের অক্ষরে সৃষ্টিশীলতার বুননে দ্রোহ ও মূল্যবোধ ধরার যে আকুতি আমরা লক্ষ করি, আতাউস সামাদ বোধকরি তার শেষ অধ্যায়ের একজন নায়ক। দৃঢ় আদর্শবাদের সঙ্গে ক্ষুদ্র স্বার্থপর বাস্তবতার রূঢ় সংঘাতের জন্য আত্মনিপীড়নমূলক বহু আপস মাঝেমধ্যে মেনে নিতে হয় বলে অমন মানুষ কিছুটা খ্যাপাটে হয়ে থাকেন। তার ‘একালের বয়ান’ গ্রন্থের ১৫ পৃষ্ঠায় লেখা মন্তব্যটুকু আমাদের সবার উপলব্ধি- ‘অতীত ভোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুষ্কর্মের বন্যায়। অতীতের কালিমার মধ্যে থেকে যাচ্ছি আমরা। আলো আর আসে না। সূর্যের জন্য এত পথ হাঁটলাম, আমার জীবনেই তো বত্রিশটি বছর, তবু আলোর মুখ দেখলাম না। কেন যে এমন হল, গোপনে মাথা কুটেও তার উত্তর পাই না। বাইরে সাহসী ভাব দেখাই। কারণ গোটা জাতি এতদিন সংগ্রাম করেও তার ফসল ঘরে তুলতে পারেনি- একথা বলতেও তো লজ্জা লাগে।’

১৯৬১ সালে আজাদ পত্রিকার রিপোর্টিংয়ে সাংবাদিকতার শুরুতে আইয়ুবশাহী আর মৃত্যুকালেও কর্তৃত্ববাদের ধারালো খড়গ দেখে গেলেন। তিনি সাংবাদিকতার যে ধারাটিকে বহমান রেখেছিলেন সেই পরম্পরা দিয়ে কেউ আমরা যথেষ্ট দায়িত্বশীল অধ্যয়ন-বিশ্লেষণে যাইনি।

একটি সৎ, পরিচ্ছন্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আতাউস সামাদ সু ও স্বশিক্ষিত হয়েছেন। কাজ করেছেন আজাদ, সান, পাকিস্তান অবজার্ভার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ টাইমস, বিবিসি, দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, সাপ্তাহিক এখন ইত্যাদি গণমাধ্যমে। দাপটের রিপোর্টারি জীবনে আগরতলা মামলা, বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের সঙ্গে দিল্লি থেকে প্লেনে দেশে ফেরা, গণতন্ত্রের আন্দোলনে কারাবাস সত্ত্বেও নির্ভীক চিত্তে দেশ কাঁপানো সাংবাদিকতা করা, শীর্ষ কাগজগুলোতে মূল্যবান রাজনৈতিক কলাম স্মরণের অতীত হওয়ার নয়।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি ও তার পরিবার সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। শহীদ লে. আশফাকুস সামাদ ও ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের মতো বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধারা তার পরিবারের।

সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতা, ভিন্নমত পোষণ ও প্রকাশের নির্বিঘ্ন অধিকারের পক্ষে তাবৎ আন্দোলনেই অংশ নিয়েছেন। আবার গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনের সময় দুই নেত্রীর সঙ্গে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের কমিটির একজন ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে মিছিল করেছেন। নিপীড়নমূলক মামলা ও রাজনীতিকদের কটুকাটব্য সয়েছেন; কিন্তু পাত্তাই দেননি। অন্যদিকে সাংবাদিকতার অসংখ্য ছাত্র রয়েছে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আমাদের রিপোর্টিং পড়াতেন। তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবের চমৎকার অন্বয় ঘটাতেন, যদিও তখন সাংবাদিকতার ছাত্রদের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকরা এক রকমের অনীহার চোখেই দেখতেন। ওই শিক্ষকতার জীবনে ছেদ ঘটানোয় তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বহু সাংবাদিক তার দীক্ষা নিয়েছিলেন। অনেক রিপোর্টার প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর তটস্থ থাকতেন- এই বুঝি আতাউস সামাদের প্রেরণামূলক, শিক্ষামূলক বা ভর্ৎসনামূলক ফোন এলো! বিবিসি রেডিওতে সাদামাটা বা কাঠ কাঠ রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু বিশ্লেষণীয় বক্তব্য বা রচনায় তার জুড়ি মেলা ভার। প্রতিবেদন বা রচনার শরীরে চুমকি বসানোর ঘোরতর বিরোধী। সাধারণ মানুষ তার মন-মগজে সর্বক্ষণ। রিপোর্টারদের ফোন করে ধানের দর, কৃষকের লাভালাভ, শ্রমিকের জীবনযাপন সবই খোঁজ রাখতেন। ধার্মিক ছিলেন, নামাজি ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। পয়লা বৈশাখ নিয়ে ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করতেন। তার ওস্তাদ ছিলেন আরেক পথিকৃৎ সাংবাদিক মরহুম এবিএম মূসা। মূসা ভাই তার শিষ্যের নামে একটি চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ভাবা যায়!

মৃত্যুকালে সামাদ স্যার অচেতন ছিলেন। রিপোর্টিংয়ে তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রচণ্ড সচেতন ব্যক্তিটির মরে যাওয়ার আগে কোনো কোনো চ্যানেলে মৃত্যুর খবর প্রচার ছিল দুঃখজনক। তার পরলোকগমনের মাসখানেক পরই রেনু ভাবির মৃত্যু আমাদের জন্য ছিল আরও বড় আঘাত। ভাই আতিকুস সামাদ, ছেলে সন্তু, দুই মেয়ে স্বাতী ও শান্তা এখন প্রবাসে।

কিংবদন্তির সাংবাদিক আলোর প্রত্যাশী আতাউস সামাদের আত্মা শান্তি পাক- এটাই পরম প্রার্থনা। এখন তার স্মরণে আমার মনে পড়ে বাংলা ভাষার বিখ্যাত কবি, প্রচ্ছদশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার পরোপকারী এ রকমই আরেক চরিত্র পূর্ণেন্দু পত্রীর মৃত্যুশয্যায় লেখা একটা কবিতা। ১৯৯৭-এর ১৬ মার্চ মৃত্যুর প্রাক্কালে লিখেছিলেন-

‘জানালাটা খুলে দাও, আলোরা বসুক বিছানায়

আলোরা শুনিয়ে যাক ভুলে যাওয়া আরব্য রজনী।

কত কী যে ভুলে গেছি, ভুলে গেছি এবাদুর গীতি

ও নীল ভোরের আলো, আজ একটু আজান শোনাও।’

শওকত মাহমুদ : সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের

সাবেক সভাপতি

স্মরণ: নেই সেই সাংবাদিক

 শওকত মাহমুদ 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আতাউস সামাদ
আতাউস সামাদ। ফাইল ছবি

সাংবাদিক-লেখক মাত্রই আদি সাম্যবাদী সমাজের লোক। সৃষ্টিলগ্নে এবং আমৃত্যু সব মানুষ সমঅধিকারের- এ বিশ্বাসে তারা ঋজু। যতটুকু করা যায় ততটুকু করার তাগিদ নিয়ে সব ক্ষয় ও অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সংকল্পে প্রচ্ছন্ন বা দৃশ্যমান থাকার সাধনায় সম্মুখবর্তী কারা? বাংলাদেশে বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার পঠন-পাঠনে অগ্রণী আতাউস সামাদ তাদেরই একজন। আজ তার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। তাকে নিয়ে বসতে গেলে ইতিহাসের ওই অতীতটুকু সামনে রাখা জরুরি।

উপমহাদেশে সাংবাদিকতার সূচনা দেশমুক্তির লক্ষ্যে, অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে, দ্রোহের অভিনিবেশে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মনোযোগে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তিরিশ থেকে আশির দশক পর্যন্ত আমাদের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে শব্দের অক্ষরে সৃষ্টিশীলতার বুননে দ্রোহ ও মূল্যবোধ ধরার যে আকুতি আমরা লক্ষ করি, আতাউস সামাদ বোধকরি তার শেষ অধ্যায়ের একজন নায়ক। দৃঢ় আদর্শবাদের সঙ্গে ক্ষুদ্র স্বার্থপর বাস্তবতার রূঢ় সংঘাতের জন্য আত্মনিপীড়নমূলক বহু আপস মাঝেমধ্যে মেনে নিতে হয় বলে অমন মানুষ কিছুটা খ্যাপাটে হয়ে থাকেন। তার ‘একালের বয়ান’ গ্রন্থের ১৫ পৃষ্ঠায় লেখা মন্তব্যটুকু আমাদের সবার উপলব্ধি- ‘অতীত ভোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুষ্কর্মের বন্যায়। অতীতের কালিমার মধ্যে থেকে যাচ্ছি আমরা। আলো আর আসে না। সূর্যের জন্য এত পথ হাঁটলাম, আমার জীবনেই তো বত্রিশটি বছর, তবু আলোর মুখ দেখলাম না। কেন যে এমন হল, গোপনে মাথা কুটেও তার উত্তর পাই না। বাইরে সাহসী ভাব দেখাই। কারণ গোটা জাতি এতদিন সংগ্রাম করেও তার ফসল ঘরে তুলতে পারেনি- একথা বলতেও তো লজ্জা লাগে।’

১৯৬১ সালে আজাদ পত্রিকার রিপোর্টিংয়ে সাংবাদিকতার শুরুতে আইয়ুবশাহী আর মৃত্যুকালেও কর্তৃত্ববাদের ধারালো খড়গ দেখে গেলেন। তিনি সাংবাদিকতার যে ধারাটিকে বহমান রেখেছিলেন সেই পরম্পরা দিয়ে কেউ আমরা যথেষ্ট দায়িত্বশীল অধ্যয়ন-বিশ্লেষণে যাইনি।

একটি সৎ, পরিচ্ছন্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আতাউস সামাদ সু ও স্বশিক্ষিত হয়েছেন। কাজ করেছেন আজাদ, সান, পাকিস্তান অবজার্ভার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ টাইমস, বিবিসি, দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, সাপ্তাহিক এখন ইত্যাদি গণমাধ্যমে। দাপটের রিপোর্টারি জীবনে আগরতলা মামলা, বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের সঙ্গে দিল্লি থেকে প্লেনে দেশে ফেরা, গণতন্ত্রের আন্দোলনে কারাবাস সত্ত্বেও নির্ভীক চিত্তে দেশ কাঁপানো সাংবাদিকতা করা, শীর্ষ কাগজগুলোতে মূল্যবান রাজনৈতিক কলাম স্মরণের অতীত হওয়ার নয়।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি ও তার পরিবার সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। শহীদ লে. আশফাকুস সামাদ ও ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের মতো বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধারা তার পরিবারের।

সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতা, ভিন্নমত পোষণ ও প্রকাশের নির্বিঘ্ন অধিকারের পক্ষে তাবৎ আন্দোলনেই অংশ নিয়েছেন। আবার গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনের সময় দুই নেত্রীর সঙ্গে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের কমিটির একজন ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে মিছিল করেছেন। নিপীড়নমূলক মামলা ও রাজনীতিকদের কটুকাটব্য সয়েছেন; কিন্তু পাত্তাই দেননি। অন্যদিকে সাংবাদিকতার অসংখ্য ছাত্র রয়েছে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আমাদের রিপোর্টিং পড়াতেন। তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবের চমৎকার অন্বয় ঘটাতেন, যদিও তখন সাংবাদিকতার ছাত্রদের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকরা এক রকমের অনীহার চোখেই দেখতেন। ওই শিক্ষকতার জীবনে ছেদ ঘটানোয় তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বহু সাংবাদিক তার দীক্ষা নিয়েছিলেন। অনেক রিপোর্টার প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর তটস্থ থাকতেন- এই বুঝি আতাউস সামাদের প্রেরণামূলক, শিক্ষামূলক বা ভর্ৎসনামূলক ফোন এলো! বিবিসি রেডিওতে সাদামাটা বা কাঠ কাঠ রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু বিশ্লেষণীয় বক্তব্য বা রচনায় তার জুড়ি মেলা ভার। প্রতিবেদন বা রচনার শরীরে চুমকি বসানোর ঘোরতর বিরোধী। সাধারণ মানুষ তার মন-মগজে সর্বক্ষণ। রিপোর্টারদের ফোন করে ধানের দর, কৃষকের লাভালাভ, শ্রমিকের জীবনযাপন সবই খোঁজ রাখতেন। ধার্মিক ছিলেন, নামাজি ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। পয়লা বৈশাখ নিয়ে ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করতেন। তার ওস্তাদ ছিলেন আরেক পথিকৃৎ সাংবাদিক মরহুম এবিএম মূসা। মূসা ভাই তার শিষ্যের নামে একটি চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ভাবা যায়!

মৃত্যুকালে সামাদ স্যার অচেতন ছিলেন। রিপোর্টিংয়ে তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রচণ্ড সচেতন ব্যক্তিটির মরে যাওয়ার আগে কোনো কোনো চ্যানেলে মৃত্যুর খবর প্রচার ছিল দুঃখজনক। তার পরলোকগমনের মাসখানেক পরই রেনু ভাবির মৃত্যু আমাদের জন্য ছিল আরও বড় আঘাত। ভাই আতিকুস সামাদ, ছেলে সন্তু, দুই মেয়ে স্বাতী ও শান্তা এখন প্রবাসে।

কিংবদন্তির সাংবাদিক আলোর প্রত্যাশী আতাউস সামাদের আত্মা শান্তি পাক- এটাই পরম প্রার্থনা। এখন তার স্মরণে আমার মনে পড়ে বাংলা ভাষার বিখ্যাত কবি, প্রচ্ছদশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার পরোপকারী এ রকমই আরেক চরিত্র পূর্ণেন্দু পত্রীর মৃত্যুশয্যায় লেখা একটা কবিতা। ১৯৯৭-এর ১৬ মার্চ মৃত্যুর প্রাক্কালে লিখেছিলেন-

‘জানালাটা খুলে দাও, আলোরা বসুক বিছানায়

আলোরা শুনিয়ে যাক ভুলে যাওয়া আরব্য রজনী।

কত কী যে ভুলে গেছি, ভুলে গেছি এবাদুর গীতি

ও নীল ভোরের আলো, আজ একটু আজান শোনাও।’

শওকত মাহমুদ : সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের

সাবেক সভাপতি