করোনার দ্বিতীয় থাবা মোকাবেলায় আমরা কতটা প্রস্তুত?
jugantor
করোনার দ্বিতীয় থাবা মোকাবেলায় আমরা কতটা প্রস্তুত?

  একেএম শামসুদ্দিন  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী অক্টোবরের শেষে ও নভেম্বরে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরু হতে পারে। তিনি বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরের প্রথমেই শীত শুরু হয়। শীত সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রীর এ আশঙ্কা। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও মনে করছেন, ঠাণ্ডায় করোনার মতো ভাইরাস শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শীত মৌসুমে সাধারণত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসে। তখন হয়তো বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও করোনার দ্বিতীয়বারের মতো হানা দিতে পারে।

বর্তমানে কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হলেও তখন পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই পরিস্থিতিতে সবারই স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তারা বলেন, দুজন ব্যক্তির মধ্যে উভয়েই যদি মাস্ক পরা থাকেন, তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ নিরাপদ থাকা যায়। একজন পরা থাকলে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ নিরাপদ। কাজেই মাস্ক পরা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের প্রথম পর্যায়েই রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এ সংক্রমণ কখন শেষ হবে তা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এখনও অনুমান করতে পারছেন না। তবে করোনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর যে মনোভাব তৈরি হয়েছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

মানুষের মধ্যে যে ঢিলেঢালা ভাব চলছে, তা আগামী দিনের জন্য অশনিসংকেত বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলছেন, আমাদের দেশে শীত মৌসুমে যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ বেশি দেখা দেয়, তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখালে পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

শীতে অ্যাজমা-নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তরা গরমকালের তুলনায় বেশি জটিলতায় ভোগে। এবারের শীতে করোনাভাইরাস সেসব ব্যক্তির জন্য যে বাড়তি ঝুঁকি হয়ে আসবে তাতে সন্দেহ নেই। ফলে করোনার দ্বিতীয় থাবায় পরিস্থিতি গত জুন-জুলাইয়ের চেয়েও খারাপ হতে পারে। এরূপ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি মাস্ক পরা যে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়বে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের’ পরিচালক ড. রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, ‘ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি কার্যকর ফেস মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ রয়েছে। ফেস মাস্কই করোনাভাইরাস থেকে আমাদের সুরক্ষা দেবে বেশি।’ বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভ্যাকসিন বাজারে এলেও মাস্ক পরতে হবে নিয়ম করেই।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত না করা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি থেকেই যাবে। অপরদিকে দেশে যদি করোনা ভ্যাকসিন আসেও তাহলেও সবার জন্য এর প্রাপ্তি সহজ হবে না। অতএব মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা অবশ্য করণীয় হয়ে পড়বে। বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরে না।

এ পরিস্থিতিতে আসন্ন শীতে করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কাই বেশি। অনেক দেশেই দ্বিতীয় দফা করোনা হানা দিয়েছে। দেখা গেছে, সেসব দেশে প্রথম দফায় করোনার প্রভাব কমে যাওয়ার পর অসতর্ক চলাফেরা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

চারদিকে চোখ রাখলে যে দৃশ্য দেখা যায় তাতে বাংলাদেশ যে একটি ভয়াবহ মহামারীর কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে তা বোঝার উপায় নেই। জীবন-জীবিকার জন্য মানুষ স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে আপস করে যেভাবে চলাফেরা করছে তাতে করোনার ভয় মানুষকে তেমন কাবু করতে পারেনি। তবে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মানুষ করোনার ভয়কে জয় করলেও এর ভয়াবহতা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি। কারণ দেশে করোনার সংক্রমণ থামছে না।

সম্প্রতি টেস্টের গতি কমে যাওয়ায় শনাক্তের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। করোনায় মৃত্যুর হার কিন্তু বলে দেয় করোনা এখনও দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছে। অতএব করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টানা তিন সপ্তাহ করোনা টেস্টের মোট সংখ্যার তুলনায় শনাক্তের হার যদি ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে ধরে নেয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করাতে হবে। সরকারি হিসাবে করোনা শনাক্ত কম হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু কমেনি। আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী একটানা তিন সপ্তাহ মৃত্যুর সংখ্যা না কমতে থাকলে করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যাবে না। অর্থাৎ শনাক্ত ও মৃত্যুর বর্তমান ধারা অনুসারে করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই এটা স্পষ্ট।

ইদানীং হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা কমলেও দেশজুড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমেনি। এ মাসের গোড়া থেকেই করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এসব হাসপাতালের সাধারণ শয্যার প্রায় ৭০ শতাংশ এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর ৪৪ শতাংশ খালি হয়ে গেছে। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা রোগীদের ৯৬ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে বসে।

বাকি ৪ শতাংশ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। বাড়িতে থাকা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়নের তথ্যমতে, এযাবৎ আনুমানিক তিন লাখ করোনা রোগী এ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। টেলিমেডিসিনের কথা মনে হতেই বর্তমানে আমাদের অনেকের মুখচেনা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডা. মাসুদুল হাসানের কথা মনে পড়ে গেল। করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রারম্ভিক লগ্ন থেকে সেই সুদূর প্রবাসে বসে দেশের প্রায় প্রতিটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অন্যান্য চিকিৎসকের পাশাপাশি ডা. মাসুদ নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে গেছেন।

তিনিই প্রথম আমাদের দেশে আইভারমেকটিন ও ডক্সিক্লোরিনের সমন্বয়ে করোনা চিকিৎসার কথা বলেছেন। তার পরামর্শেই ডা. তারেক আলম প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইভারমেকটিন ট্যাবলেট ও ডক্সিক্লোরিন ক্যাপসুল সেবন করানোর মাধ্যমে ৬০ জন করোনা রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন। অতঃপর পুলিশ হাসপাতাল, সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সাধারণ মানুষের উপকার যা হয়েছে তা হল, করোনা শনাক্তের শুরুতেই উল্লিখিত ওষুধ সেবনে অনেকেই করোনামুক্ত হয়েছেন।

যদিও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবু অনুমান করতে সমস্যা হয় না, করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ ঘরে বসেই আইভারমেকটিন সেবনের এ চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করে রোগমুক্ত হয়েছেন। আমি যে আবাসিক এলাকায় বসবাস করি সে এলাকা, আমার বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতজনের অনেকেই তাদের এলাকায় এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেক রোগী শতভাগ উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আমি লক্ষ করেছি, ডা. মাসুদুল হাসান তার প্রতিটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানেই নিয়মিতভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইভারমেকটিন সেবনের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তার এ পরামর্শ গ্রহণ করে মানুষ যে উপকার পেয়েছে সেজন্য তিনি সাধুবাদ পেতেই পারেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আইভারমেকটিন সেবনের বিভিন্ন ট্রায়ালের কথা শোনা যায়।

এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্য অনেক দেশে শতভাগ সুফল পাওয়ার খবর আমরা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শতভাগ ফল পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তাছাড়া ব্রাজিল, পেরু, ইতালি, সৌদি আরব, ইরাক, থাইল্যান্ড ও ডমিনিকান রিপাবলিকের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রভূত উপকার পেয়েছে বলে জানা গেছে।

আমাদের দেশে করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত যে অর্জন, তার জন্য যদি কৃতিত্ব দিতে হয় তাহলে আমাদের ফ্রন্টলাইনের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য সদস্যদের দিতে হবে। কারণ এসব চিকিৎসক, পরিসেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ নিরন্তর প্রচেষ্টার কোনো তুলনা হয় না।

সরকারের ফলপ্রসূ কিছু উদ্যোগও এসব অর্জনে বিশেষ অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বশেষ বক্তব্যে করোনার দ্বিতীয় ধাপের যে কথা বলেছেন, দেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অভিজ্ঞতা বলে, প্রথম দফায় করোনা ঠেকাতে মানুষ যেখানে লকডাউন মানেনি, সেখানে দ্বিতীয় দফা মোকাবেলায়ও যে মানবে না, তা বলাই বাহুল্য।

সুতরাং দ্বিতীয় দফায় সে পথে না হেঁটে কী করণীয় তা এখনই ঠিক করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিশ্চয়ই তাদের কর্মপদ্ধতি ঠিক করে নেবে। আশা করি, এবার শুধু নির্দেশ দিয়ে বসে না থেকে তারা মাঠপর্যায়ে সে নির্দেশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের ওপর জোর দিতে হবে। জনসমাগমের এলাকা অর্থাৎ শপিংমল, হাটবাজার, যানবাহন, অফিস-আদালতে মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। নির্দেশ অমান্যের জন্য অর্থদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

লোক দেখানো উদ্যোগ না নিয়ে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রেষণামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। চলমান সংক্রমণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে এযাবৎ যেসব ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে সেসব পূরণ করতে হবে।

বর্তমানে যেসব দেশে করোনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেছে সেসব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বাধ্যতামূলক আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি অবশ্য ইতোমধ্যে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির আগেকার এমন অনেক পরামর্শের মতো এ পরামর্শগুলোও যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হারিয়ে না যায়, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থাদি নতুন কিছু নয়। এসব বিষয়ে সবাই অবগত। কিন্তু দেখা গেছে, তারপরও মানুষ বেশ উদাসীন। করোনায় আক্রান্ত যেসব পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তারাই কেবল ভুলের মাশুল গোনে এবং তাদেরই স্বাস্থ্যবিধি না মানার খেসারত দিতে হয়। এসব নির্দেশ মান্য করে সাধারণ মানুষেরও উচিত হবে সরকারের সব প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা করা।

কারণ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। জীবিকার তাগাদা থাকবেই। সেজন্য চেষ্টাও করে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যিনি জীবিকা অর্জনে সক্ষম, তিনিই হলেন আজকের দিনের প্রকৃত বিজয়ী জীবনযোদ্ধা।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

করোনার দ্বিতীয় থাবা মোকাবেলায় আমরা কতটা প্রস্তুত?

 একেএম শামসুদ্দিন 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী অক্টোবরের শেষে ও নভেম্বরে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরু হতে পারে। তিনি বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরের প্রথমেই শীত শুরু হয়। শীত সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রীর এ আশঙ্কা। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও মনে করছেন, ঠাণ্ডায় করোনার মতো ভাইরাস শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শীত মৌসুমে সাধারণত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসে। তখন হয়তো বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও করোনার দ্বিতীয়বারের মতো হানা দিতে পারে।

বর্তমানে কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হলেও তখন পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই পরিস্থিতিতে সবারই স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তারা বলেন, দুজন ব্যক্তির মধ্যে উভয়েই যদি মাস্ক পরা থাকেন, তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ নিরাপদ থাকা যায়। একজন পরা থাকলে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ নিরাপদ। কাজেই মাস্ক পরা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের প্রথম পর্যায়েই রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এ সংক্রমণ কখন শেষ হবে তা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এখনও অনুমান করতে পারছেন না। তবে করোনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর যে মনোভাব তৈরি হয়েছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

মানুষের মধ্যে যে ঢিলেঢালা ভাব চলছে, তা আগামী দিনের জন্য অশনিসংকেত বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলছেন, আমাদের দেশে শীত মৌসুমে যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ বেশি দেখা দেয়, তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখালে পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

শীতে অ্যাজমা-নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তরা গরমকালের তুলনায় বেশি জটিলতায় ভোগে। এবারের শীতে করোনাভাইরাস সেসব ব্যক্তির জন্য যে বাড়তি ঝুঁকি হয়ে আসবে তাতে সন্দেহ নেই। ফলে করোনার দ্বিতীয় থাবায় পরিস্থিতি গত জুন-জুলাইয়ের চেয়েও খারাপ হতে পারে। এরূপ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি মাস্ক পরা যে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়বে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের’ পরিচালক ড. রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, ‘ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি কার্যকর ফেস মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ রয়েছে। ফেস মাস্কই করোনাভাইরাস থেকে আমাদের সুরক্ষা দেবে বেশি।’ বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভ্যাকসিন বাজারে এলেও মাস্ক পরতে হবে নিয়ম করেই।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত না করা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি থেকেই যাবে। অপরদিকে দেশে যদি করোনা ভ্যাকসিন আসেও তাহলেও সবার জন্য এর প্রাপ্তি সহজ হবে না। অতএব মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা অবশ্য করণীয় হয়ে পড়বে। বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরে না।

এ পরিস্থিতিতে আসন্ন শীতে করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কাই বেশি। অনেক দেশেই দ্বিতীয় দফা করোনা হানা দিয়েছে। দেখা গেছে, সেসব দেশে প্রথম দফায় করোনার প্রভাব কমে যাওয়ার পর অসতর্ক চলাফেরা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

চারদিকে চোখ রাখলে যে দৃশ্য দেখা যায় তাতে বাংলাদেশ যে একটি ভয়াবহ মহামারীর কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে তা বোঝার উপায় নেই। জীবন-জীবিকার জন্য মানুষ স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে আপস করে যেভাবে চলাফেরা করছে তাতে করোনার ভয় মানুষকে তেমন কাবু করতে পারেনি। তবে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মানুষ করোনার ভয়কে জয় করলেও এর ভয়াবহতা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি। কারণ দেশে করোনার সংক্রমণ থামছে না।

সম্প্রতি টেস্টের গতি কমে যাওয়ায় শনাক্তের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। করোনায় মৃত্যুর হার কিন্তু বলে দেয় করোনা এখনও দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছে। অতএব করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টানা তিন সপ্তাহ করোনা টেস্টের মোট সংখ্যার তুলনায় শনাক্তের হার যদি ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে ধরে নেয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করাতে হবে। সরকারি হিসাবে করোনা শনাক্ত কম হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু কমেনি। আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী একটানা তিন সপ্তাহ মৃত্যুর সংখ্যা না কমতে থাকলে করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যাবে না। অর্থাৎ শনাক্ত ও মৃত্যুর বর্তমান ধারা অনুসারে করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই এটা স্পষ্ট।

ইদানীং হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা কমলেও দেশজুড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমেনি। এ মাসের গোড়া থেকেই করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এসব হাসপাতালের সাধারণ শয্যার প্রায় ৭০ শতাংশ এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর ৪৪ শতাংশ খালি হয়ে গেছে। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা রোগীদের ৯৬ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে বসে।

বাকি ৪ শতাংশ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। বাড়িতে থাকা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়নের তথ্যমতে, এযাবৎ আনুমানিক তিন লাখ করোনা রোগী এ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। টেলিমেডিসিনের কথা মনে হতেই বর্তমানে আমাদের অনেকের মুখচেনা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডা. মাসুদুল হাসানের কথা মনে পড়ে গেল। করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রারম্ভিক লগ্ন থেকে সেই সুদূর প্রবাসে বসে দেশের প্রায় প্রতিটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অন্যান্য চিকিৎসকের পাশাপাশি ডা. মাসুদ নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে গেছেন।

তিনিই প্রথম আমাদের দেশে আইভারমেকটিন ও ডক্সিক্লোরিনের সমন্বয়ে করোনা চিকিৎসার কথা বলেছেন। তার পরামর্শেই ডা. তারেক আলম প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইভারমেকটিন ট্যাবলেট ও ডক্সিক্লোরিন ক্যাপসুল সেবন করানোর মাধ্যমে ৬০ জন করোনা রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন। অতঃপর পুলিশ হাসপাতাল, সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সাধারণ মানুষের উপকার যা হয়েছে তা হল, করোনা শনাক্তের শুরুতেই উল্লিখিত ওষুধ সেবনে অনেকেই করোনামুক্ত হয়েছেন।

যদিও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবু অনুমান করতে সমস্যা হয় না, করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ ঘরে বসেই আইভারমেকটিন সেবনের এ চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করে রোগমুক্ত হয়েছেন। আমি যে আবাসিক এলাকায় বসবাস করি সে এলাকা, আমার বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতজনের অনেকেই তাদের এলাকায় এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেক রোগী শতভাগ উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আমি লক্ষ করেছি, ডা. মাসুদুল হাসান তার প্রতিটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানেই নিয়মিতভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইভারমেকটিন সেবনের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তার এ পরামর্শ গ্রহণ করে মানুষ যে উপকার পেয়েছে সেজন্য তিনি সাধুবাদ পেতেই পারেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আইভারমেকটিন সেবনের বিভিন্ন ট্রায়ালের কথা শোনা যায়।

এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্য অনেক দেশে শতভাগ সুফল পাওয়ার খবর আমরা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শতভাগ ফল পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তাছাড়া ব্রাজিল, পেরু, ইতালি, সৌদি আরব, ইরাক, থাইল্যান্ড ও ডমিনিকান রিপাবলিকের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রভূত উপকার পেয়েছে বলে জানা গেছে।

আমাদের দেশে করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত যে অর্জন, তার জন্য যদি কৃতিত্ব দিতে হয় তাহলে আমাদের ফ্রন্টলাইনের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য সদস্যদের দিতে হবে। কারণ এসব চিকিৎসক, পরিসেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ নিরন্তর প্রচেষ্টার কোনো তুলনা হয় না।

সরকারের ফলপ্রসূ কিছু উদ্যোগও এসব অর্জনে বিশেষ অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বশেষ বক্তব্যে করোনার দ্বিতীয় ধাপের যে কথা বলেছেন, দেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অভিজ্ঞতা বলে, প্রথম দফায় করোনা ঠেকাতে মানুষ যেখানে লকডাউন মানেনি, সেখানে দ্বিতীয় দফা মোকাবেলায়ও যে মানবে না, তা বলাই বাহুল্য।

সুতরাং দ্বিতীয় দফায় সে পথে না হেঁটে কী করণীয় তা এখনই ঠিক করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিশ্চয়ই তাদের কর্মপদ্ধতি ঠিক করে নেবে। আশা করি, এবার শুধু নির্দেশ দিয়ে বসে না থেকে তারা মাঠপর্যায়ে সে নির্দেশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের ওপর জোর দিতে হবে। জনসমাগমের এলাকা অর্থাৎ শপিংমল, হাটবাজার, যানবাহন, অফিস-আদালতে মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। নির্দেশ অমান্যের জন্য অর্থদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

লোক দেখানো উদ্যোগ না নিয়ে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রেষণামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। চলমান সংক্রমণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে এযাবৎ যেসব ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে সেসব পূরণ করতে হবে।

বর্তমানে যেসব দেশে করোনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেছে সেসব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বাধ্যতামূলক আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি অবশ্য ইতোমধ্যে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির আগেকার এমন অনেক পরামর্শের মতো এ পরামর্শগুলোও যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হারিয়ে না যায়, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থাদি নতুন কিছু নয়। এসব বিষয়ে সবাই অবগত। কিন্তু দেখা গেছে, তারপরও মানুষ বেশ উদাসীন। করোনায় আক্রান্ত যেসব পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তারাই কেবল ভুলের মাশুল গোনে এবং তাদেরই স্বাস্থ্যবিধি না মানার খেসারত দিতে হয়। এসব নির্দেশ মান্য করে সাধারণ মানুষেরও উচিত হবে সরকারের সব প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা করা।

কারণ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। জীবিকার তাগাদা থাকবেই। সেজন্য চেষ্টাও করে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যিনি জীবিকা অর্জনে সক্ষম, তিনিই হলেন আজকের দিনের প্রকৃত বিজয়ী জীবনযোদ্ধা।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা