কল্পনায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

  ড. এম এ মাননান ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

মহান দার্শনিক কনফুসিয়াস বলেছিলেন, যে ব্যক্তি পাহাড়কে সরিয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখে তার শুরুটা হওয়া উচিত ছোট ছোট নুড়ি বহনের মধ্য দিয়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৬ বছর আগে পাকিস্তানের কারাগারের অন্ধকারে মৃত্যুর মুখোমুখি নয় মাস অবস্থানের পর দেশে ফিরে ছোট ছোট নুড়ি বহনের মধ্য দিয়ে শুরু করেন দেশ গড়ার কাজ। আমাদের রাজনীতির কবি স্বপ্নের নৌকার পাল তুলেছিলেন, তিনি সময় পাননি নৌকা তীরে ভেড়ানোর; কিন্তু তার যোগ্য কন্যা শত বাধার পাহাড় ডিঙ্গানোর দায়িত্বটি অসীম সাহসিকতায় নিজ স্কন্ধে তুলে নিয়ে নৌকাকে নিয়ে এসেছেন তীরের কাছাকাছি। ২০১৮-এর প্রারম্ভে কোথায় দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ? পশ্চিমা নেতাদের দাম্ভিকতাপূর্ণ ‘বটমলেস বাস্কেট’ আজ ’বাস্কেট অব রিচেস্’। চার দশকের অর্জনকে পুঁজি করে আরও চার দশকের কাছাকাছি সময়ে হীরক জয়ন্তীর প্রাক্কালে কেমন হবে বাংলাদেশ? আসলে আমরা বাংলাদেশিরা অনেক স্বপ্ন দেখছি। সব স্বপ্নের বাস্তবায়ন হোক ক্রমান্বয়ে। রূপকল্প অনুযায়ী বাংলাদেশ যখন উন্নত দেশের মর্যাদা পাবে তখন কেমন বাংলাদেশ পাব, তার স্বপ্নও আমরা দেখতে শুরু করেছি।

আমরা স্বপ্নে এমন এক বাংলাদেশকে দেখছি, যেখানে দুর্নীতি শূন্যের স্তরে নেমে যাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস গুটিয়ে চলে গেছে। ‘আসুন, সবাই দুর্নীতিকে না বলি’- এমন স্লোগান নিয়ে কেউ রাস্তায় নেমে আসছে না। অফিস-আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসিমুখে সেবা দেয়ার জন্য উতলা হয়ে আছে। হাস্যোজ্জ্বল জনগণ সেবাদানকারীদের বেহেশতের সুন্দরতম স্থানে অধিষ্ঠিত করার জন্য স্রষ্টার প্রতি প্রার্থনা করছে।

স্বপ্ন থেমে থাকে না। আমরা আরও দেখছি, বাংলাদেশ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে একজনও হতদরিদ্র নেই। অর্থনীতিবিদরা দারিদ্র্যসীমার নিচে কতজন লোক আছে তার হিসাব করতে গিয়ে হতবাক হয়ে দেখছেন, তাদের ক্যালকুলেটরে যে সংখ্যা আসছে তা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। তারা আরও চমকে যাচ্ছেন যখন দেখছেন, সম্পদের এমন সুষম বণ্টন হয়েছে যার ফলে শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ২২ কিংবা ২২০০০ পরিবারের মধ্যে কোনো সম্পদই কেন্দ্রীভূত হতে পারেনি; গ্রাম আর শহরের জনগণের মধ্যে জীবনযাত্রার মানে কোনো পার্থক্য নেই। গ্রাম ছেড়ে আর মানুষ শহরমুখী হচ্ছে না।

স্বপ্নের পাখিরা ডানা মেলে উড়ছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সফলতার ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যা যা করা দরকার, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত ৯২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জোগান দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে। অর্থায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ বটে, কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে সরকার সে চ্যালেঞ্জের পাহাড় অতিক্রম করেছে। যেমনটি করেছে পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের হুংকারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে।

শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিশ্বে অনুকরণীয় মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ভর্তি নিয়ে বাণিজ্যিক তেলেস্মাতি ডুবন্ত সূর্যের সঙ্গী হয়ে পশ্চিমের লালদিগন্তে হারিয়ে গেছে। জেলায় জেলায় আর উপজেলায় এত বেশি উন্নতমানের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে যে, গ্রামের শিক্ষার্থীদের আর শহরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অমানবিক পরিশ্রম ও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে না। অভিভাবকদেরও নো চিন্তা, শুধু নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই। প্রথম শ্রেণীর পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার চিন্তা করাকেও মানুষ সগিরা গুনাহ মনে করে। বরং অনেকে জোরেশোরে দাবি করছে, প্রশ্ন ফাঁস শব্দটি যেন বাংলা অভিধান থেকে মুছে ফেলা হয়। দেশে যেহেতু ‘প্রশ্ন ফাঁস’ বিষয়টা কেউ জানেই না, এটি কেন অভিধানে থাকবে? এ দেশে প্রশ্ন ফাঁস? নৈব নৈব চ।

কোনো শত্রুও বলতে পারবে না, শিক্ষাব্যবস্থায় গিনিপিগ্ গিনিপিগ্ খেলা চলছে। বছর বছর এক্সপেরিমেন্ট কবেই শেষ! নকলের কথা শুনলেই ছাত্রদের গা ঘিন্ ঘিন্ করে। কোচিংও এখন জাদুঘরে। শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড ঘৃণা আর অভিভাবকদের নেউলের মতো রাগ দেখে কোচিংবাজ শিক্ষকরা শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্যবসার রাজত্বে। কর্তাব্যক্তিরা শুধু যোগ্যতার ভিত্তিতেই সর্বস্তরে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো গোপন লেনদেন অথবা আত্মীয়করণ? এরূপ চিন্তা করাও মহাপাপ। নোটবই বাজার থেকে কবেই উধাও। মূল বই পড়ে শিক্ষার্থীদের মনে কী অসীম প্রশান্তি! প্রাইমারি পাস করা শিক্ষার্থীরা যেভাবে অনর্গল শুদ্ধ করে বিশুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজি পড়তে-লিখতে পারে, তা দেখে বিশিষ্টজনরা এ অভাবনীয় বিষয়টি গিনেস্ বুকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। অর্ধেকের বেশি মাধ্যমিক পাস শিক্ষার্থী টেকনিক্যাল শিক্ষা নিয়ে বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দক্ষ কর্মী হয়ে উঠেছে। উচ্চশিক্ষায়ও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম কর্মমুখী, বাস্তবমুখী। বিশ্বমানের শিক্ষাদান আর গবেষণার কারণে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে ১০০-এর মধ্যে। কয়েকটি রিসার্চ ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা চীনের মতো নিজেদের প্রয়োজনের নিরিখে নিজেরাই গবেষণা করছি, নিজস্ব পেটেন্ট করে নিচ্ছি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হোম-গ্রোন টেকনোলজি ব্যবহার করে আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চীনের মতো দেশগুলোকে প্রতিযোগিতায় টেক্কা দিচ্ছে। বাংলাদেশকে এমনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে যে, জগৎবাসী বাংলাদেশি পণ্য ক্রয় করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছে না। ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজের অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা। রিসার্চ ইউনিভার্সিটিগুলো আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণালব্ধ টেকনোলজি সাপ্লাই দিচ্ছে আর প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি প্রযুক্তি পরিত্যাগ করে বিনা দ্বিধায় নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তরতর করে উন্নতির শিখরে আরোহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস-ইনকিউবেটর থেকে উদ্ভাবনী প্রতিভাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম উদ্যোক্তা হয়ে বেরিয়ে আসছে। যুব সম্প্রদায় সঠিক শিক্ষা পেয়ে দক্ষ হয়ে ওঠায় সবারই কর্মসংস্থান হচ্ছে। ঘরে ঘরে এখন আর ‘মাস্টার ডিগ্রিধারী’ খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার এমন পলিসি আর পরিকল্পনা করেছে যে, শুধু উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সক্ষম মেধাবীরাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। ফলে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের শূন্যহার দেখে আমেরিকানরাও তাজ্জব বনে গেছে।

সন্ত্রাসবাদ আর জঙ্গিপনার হয়েছে পুরোপুরি সলিল সমাধি। কোনো বোমা সাপ্লায়ারকে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হলি আর্টিজানের মতো নির্মম ঘটনা কল্পনার বাইরে। সিসি ক্যামেরার বাজারে ধস নেমেছে। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বের সব দেশ বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে শুধু বেছেই নেয়নি, আমাদের কৌশল কাজে লাগিয়ে সেখানে সন্ত্রাসীদের হৃদয়ে ভয়ঙ্কর ভীতির স্র্রোত তৈরি করে দিচ্ছে। আমাদের পুলিশ-র‌্যাব-গোয়েন্দারা কীভাবে এত দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করেছে, তা পুরোপুরি হৃদয়ঙ্গম করার জন্য বিদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শত কোটি ডলার খরচ করে নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

কার্তিকের মঙ্গা নেই। আকাল নেই। আর্সেনিক নেই। কুষ্ঠ নেই। ম্যালেরিয়া, কলেরা, আদুরি-বাদুরি-যক্ষ্মার মহামারী নেই। চিকুনগুনিয়া চিরতরে নির্মূল হওয়ায় কোনো মেয়রকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার দরকার হচ্ছে না। বাংলাদেশের সব শহরের ড্রেনে-নালা-নর্দমায় রুই-কাতলা ছেড়ে দিয়ে মশার লার্ভা নির্মূল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দেশে কেউ অন্ধকারে বাস করছে না। ফলে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে মৃদু আলোতে কারও চোখ ঝলসানোরও উপক্রম হচ্ছে না। সারা দেশে কেবল আলো আর আলো। শুধু বিদ্যুতের খাম্বা বানিয়ে জনগণকে হকচকিয়ে দেয়ার কোনো ব্যাপার নেই, দাঁড়ানো খাম্বায় চলমান বিদ্যুতের রিনিঝিনি। সৌর বিদ্যুৎ গ্রামে গ্রামে। বায়োগ্যাস সবখানে।

বন্যা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মানুষ ভুলেই গেছে। প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের কারণে নদীগুলোর কূল ভাঙার কোনো আশঙ্কা নেই। হাওর-বাঁওড়ের লোকজন মহাখুশি। তাদের এলাকায় এখন আর পাউবো’র দুষ্টু ইঁদুররা হাওরের দুর্বল বাঁধে ‘গর্ত’ করে বর্ষায় ফসলের ক্ষেতে বন্যার নাচন দেখায় না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চিরস্থায়ী চুক্তির মাধ্যমে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা করায় কোনো দেশ আর ভুলেও ভরা বর্ষায় তাদের অঞ্চলের নদীর স্লুইস গেট খুলে বাংলাদেশকে ভাসিয়ে দেবে না।

রাস্তায় যানজট? অসম্ভব। এ সম্পর্কে কিছু জানতে হলে জাদুঘরে যেতে হবে। রাজধানীর ফুটপাতে জনজট আছে বটে, কিন্তু যানজট কিংবা জলজট কল্পনাই করা যায় না। আর নগরায়নের বিষয়টা? কুয়ালালামপুর, দুবাই বা সাংহাই ঢাকার ধারেকাছেই আসতে পারবে না। দেশের রাস্তাগুলো? আহা কী সুন্দর! সব ছয় লেন। ঝক্ঝকে তক্তকে। রেললাইন আর রেলের বগির দিকে তাকালে হৃদয়টা জুড়িয়ে যায়। গতির কথা আর কী বলব! মহাশত্রুরাও সমালোচনা করতে পারবে না। বিরোধী দলগুলোর মুখ একেবারেই বন্ধ। রাস্তায় সামান্যতম ভাঙা না থাকায়, নদীপথে লঞ্চডুবি না হওয়ায়, রেলে সিডিউল বিপর্যয় না ঘটায় তারা সরকারকে তুলোধুনা করার কোনো মওকাই পাচ্ছে না।

সামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদির সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে। সমাজ অনেক বদলেছে। কুসংস্কার এখন বাঙালিকে ছুঁতেই পারে না। সরকারি উদ্যোগে গ্রামেগঞ্জে এমনতরো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচারণা চালানো হয়েছে যে, সবাই বুঝে ফেলেছে ভূত-প্রেত টাইপের মানবীয় আচরণ আসলে সিজোফ্রেনিয়া রোগের লক্ষণ। মস্তিষ্কের কোষে কিছু বৈকল্য ঘটার কারণে মানুষ অস্বাভাবিক আচরণ করে, যাকে ভূত-প্রেতের প্রভাব বলে প্রচার করা হয়। ধন্য আধুনিক মনের নেতৃবৃন্দ, যারা হাজার বছর ধরে চেপে বসা কুসংস্কার ঘোচানোর উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছেন এবং বাংলার লাখো নারীর জীবন বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছেন।

বিশ্ববাসী বিস্মিত নয়নে দেখছে, বাংলাদেশে এখন সরকার বদল হলে নতুন সরকার বিগত সরকারের মুণ্ডুপাত করে না, তাদের অসমাপ্ত কাজগুলোকে অবহেলায় দূরে ঠেলে দেয় না, পরিকল্পনাগুলোকে অসার ঘোষণা করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয় না কিংবা কোনো দক্ষ কর্মকর্তাকে দলীয় বিবেচনায় বছরের পর বছর ওএসডি করে ফেলে রেখে মানবসম্পদের অপচয় করে না। সরকারি কর্মকর্তারা ভুলেও নিজেদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে একাকার করে আমলাতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, সংবিধানের অসম্মান করে না। সংসদ অধিবেশনে কেউ অশোভন ভাষা ব্যবহার করে না। কেউ ধর্মের ধূয়া তুলে হাজার বছরের লালিত বাঙালি ঐতিহ্যকে মুছে ফেলতে চায় না।

স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তির সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অনেক আগেই স্বপ্নের আকাশে সুপ্ত থাকা প্রত্যাশার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। শিশুরা ছাড়া অন্য সবাই মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। লেখাপড়ায় চলছে দেদার প্রযুক্তির ব্যবহার। আটষট্টি হাজার গ্রামের মানুষ ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করছে। ই-কমার্স অজপাড়াগাঁয়েও বিপুল জনপ্রিয়। গ্রামের মানুষ নিশ্চিন্তে অনলাইনে কেনাকাটা করছে। এখন তথ্যপ্রযুক্তিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অন্তত ত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার কাক্সিক্ষত অর্জন নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়ে আশ্চর্যরকম সফল হয়েছে। হীরক জয়ন্তীর প্রাক্কালে চলছে ‘ডিজিটাল প্লাস’ চিন্তাভাবনা। বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনকে পাগলামি বলে উপহাসকারীরা আজ হীরক জয়ন্তীতে হতবাক হয়ে দেখছে, সেই উপহাস বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে এসেছে।

দেখা যাচ্ছে, সবই পাল্টে গেছে। ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ভেজাল দেয়াকে গুরুতর পাপ হিসেবে দেখছে। ঘুষখোররা এখন সন্তানের কাছে প্রশ্ন শুনতে চায় না- ‘বাবা, তুমি কি ঘুষ খাও? মাকে এত দামি দামি গয়না কিনে দিয়েছ, কোথা থেকে তুমি টাকা পাও?’ ঘুষখোররা বদলে গিয়ে সুফি হয়ে গেছে। বিক্রেতারা মাছ আর ফলে ফরমালিন/কার্বাইড দেয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেছে। যৌতুক, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, পুরুষ নির্যাতন, ইভটিজিং, গৃহকর্মী নির্যাতন, বখাটেপনা, লাম্পট্য, মাতলামি, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি, লুটপাট, রংবাজি, মাস্তানি, শ্লীলতাহানি, পরনিন্দা, দলনিন্দা, ঠগবাজি, পরশ্রীকাতরতা, চোগলখুরি, হিপোক্র্যাসি, মিথ্যাচার, ভণ্ডামি ইত্যাদি কী জিনিস তা বাংলার মানুষের জানা নেই। স্বাধীনতার হীরক জয়ন্তীতে আমরা সবাই রাজা, সবাই প্রজা। ধন্য বাংলাদেশ, ধন্য নতুন বাংলাদেশের রূপকারগণ।

অধ্যাপক ড. এম এ মাননান : ব্যবস্থাপনাবিদ ও গবেষক; উপাচার্য, বাংলাদেশ উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter