একজন আলোকিত মানুষ
jugantor
স্মরণ
একজন আলোকিত মানুষ

  রওশন আরা ফিরোজ  

১৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল ১৪ অক্টোবর ছিল দিল মনোয়ারা মনুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। জীবনের পথপরিক্রমার আমার এই ঘনিষ্ঠ সহযাত্রীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। ওর হঠাৎ চলে যাওয়াটা এখনও যেন মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারছি না।

মনুর সঙ্গে পরিচয় সেই আশির দশকের প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার অঙ্গনে। প্রাণবন্ত এক টগবগে তরুণী। মেলার প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি। দাদাভাইয়ের স্নেহভাজন কর্মী। আমি ছিলাম উপদেষ্টা সদস্য, মনু তরুণ সাথীবোন।

প্রিয়ভাষিণী মনুর সঙ্গে মেলার শিশু-কিশোর-তরুণদের ঘনিষ্ঠ সখ্য ছিল। মেলার যে কোনো অনুষ্ঠানে বিতর্ক, আবৃত্তি, বক্তৃতা, গল্প বলা প্রতিযোগিতার বিচারকের ব্যবস্থা মনু অল্প সময়ের মধ্যে করে ফেলত। কারণ কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু গুণিজনের সঙ্গে ওর সুসম্পর্ক ছিল।

একজন দক্ষ শিশু সংগঠক হিসেবে কচিকাঁচার মেলায় মনুর অবদান অনস্বীকার্য। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মনু ছিল কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার সহসভাপতি। তার মৃত্যুতে মেলার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

দিল মনোয়ারা মনুর লেখার হাত ছিল খুবই ভালো। সমাজের নিভৃতে প্রচারবিমুখ, গুণী-মেধাবী, সমাজ সচেতন দক্ষ নারীদের জীবনগাথা মনুর কলমের স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠত। অবহেলিত, বৈষম্যের শিকার কোনো নারী অথবা মেধাবী-গুণী আলোকিত সমাজকর্মী, কবি, লেখক নারী মারা গেলে পরদিনই তাদের নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় দিল মনোয়ারা মনুর লেখা প্রকাশ হতো।

মানুষকে সম্মান জানানোর মতো উদারতাসহ একটা বড় মাপের হৃদয়ের অধিকারী ছিল দিল মনোয়ারা মনু। অন্যদের নিয়ে লেখার ব্যাপারে কোনো আলস্য ওর ছিল না। বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী ছিল মনু। প্রাঞ্জল প্রকাশ ভঙ্গিমা ও চিন্তাচেতনায় স্বচ্ছতার অধিকারী ছিল মনু।

আমি প্রায়ই ওকে বলতাম, সবার সম্পর্কে লিখছ খুবই ভালো কথা, নিজের কিছু মৌলিক রচনা লিখো; বলত, ‘ভাবছি শুরু করব’। তা আর হল না। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনু হঠাৎ ওপারে চলে গেল। বয়সে ছোট হলেও আমার সঙ্গে ওর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

ঠাট্টা করে বলতাম, আমি মারা গেলে মনু হয়তো কিছু লিখবে আমার সম্পর্কে। ও জোর প্রতিবাদ করত, আপনি কেন আগে মরবেন? আমিও তো আপনার আগে মরতে পারি? ... ঠিক আছে আগেই আপনার সম্পর্কে লিখে রাখব। মনুর কথাই ঠিক হল। বয়সে ছোট হয়েও আমার আগেই চিরবিদায় নিল, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ভাগ্য যে আমি লিখছি ওর সম্পর্কে।

দিল মনোয়ারা মনু একজন দক্ষ ও সংবেদনশীল সাংবাদিক ছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর সে ‘অনন্যা’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। অনন্যা পত্রিকায় দেশে-বিদেশের বহু সংগ্রামী নারীর ভাষ্যকার হিসেবে মনু অবদান রেখেছে। আমি যখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছি, মনু অনন্যা পত্রিকায় আমার মতো একজন সাধারণ নারীর সংগ্রামও তুলে ধরেছে।

অনেক নারীকে দিল মনোয়ারা মনু লেখার প্রেরণা জুগিয়েছে। সাহিত্য প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও নিজের লেখায় মনোনিবেশ না করে অপরকে লেখনী ধরাতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজকের যুগে পরার্থপরতার এরকম দৃষ্টান্ত বিরল। অনন্যার পক্ষ থেকে দিল মনোয়ারা মনুকে ‘আজীবন সম্মাননা’ দেয়া হয়েছে তার সুষ্ঠু কর্মদক্ষতা ও অবদানের জন্য।

বিনয়ী ও অজাতশত্রু মনুর কারও প্রতি কোনো হিংসাবিদ্বেষ ছিল না। কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে শান্ত স্বরে প্রকাশ করত। কোনো রকমের ঔদ্ধত্য ছিল না ওর চরিত্রে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া নির্যাতিত অবহেলিত নারীদের প্রতি মনুর সহমর্মিতা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে নারী কৃষকদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতিদানের বিষয়টি বিভিন্ন সেমিনার/ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সর্বসমক্ষে তুলে ধরার জন্য অদম্য চেষ্টা করেছিল।

নারী কৃষকদের সমবায়ভিত্তিক যৌথ চাষাবাদে সম্পৃক্তকরণের বিষয়টিতেও ‘ভূমিবার্তা’ পত্রিকায় দিল মনুয়ারা মনু জোরালো বক্তব্য রেখেছিল। শ্রমজীবী নারী, সহিংসতার শিকার নারী, ভূমিহীন নারী ছিল তার সাংবাদিকতার উপজীব্য। সমাজে সংঘটিত নারীর প্রতি সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ বা অন্যায়-অবিচার মনুকে ভীষণভাবে বিচলিত করত।

কিন্তু সেজন্য মঞ্চে বা মিছিলে ধাক্কাধাক্কি করে সামনে বসার কোনো আগ্রহ ছিল না তার। নেপথ্যে ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করে ফেলত বা আলোচায় অংশ নিত কোনো ‘বাহবা’ পাওয়ার জন্য নয়, বিবেকের তাড়নায় একজন সমাজ সংবেদনশীল আলোকিত মানুষ হিসেবে।

২০১৫-১৮ সময়ে দিল মনোয়ারা মনু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। পুনর্মিলনীতে প্রকাশিত ‘আনন্দধারা’ স্মরণিকায় লেখা সংগ্রহের ব্যাপারে মনু প্রচুর পরিশ্রম করেছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত সাবেক ছাত্রীদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তার ওপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

দিল মনোয়ারা মনু একাধারে লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক ছাড়াও বহু সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নিজেরা করি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহসভাপতি ছিল।

প্রতিটি সংগঠনে মনু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করত। ওর পায়ে ব্যথা ছিল বলে হাঁটতে কষ্ট হতো, তবুও কষ্ট করে সব সভায় যোগদান করত। মনুর মনের শক্তি দেহের শক্তিকে অতিক্রম করেছিল।

দিল মনোয়ারা মনুর প্রয়াণে সংগঠন ও সমাজের ক্ষতি অপূরণীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে হারিয়েছি একজন স্বচ্ছ ও মুক্তচিন্তার অধিকারী স্নেহ-মমতায় ভরা সৃজনশীল আলোকিত একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে। দিল মনোয়ারা মনু তার নির্দিষ্ট জীবনসীমায় গৌরবময় কর্ম দিয়ে নিজের জীবনকেও মহিমান্বিত করেছে। আমাদের হৃদয়েও স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছে।

রওশন আরা ফিরোজ : সাবেক অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সহসভাপতি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা

স্মরণ

একজন আলোকিত মানুষ

 রওশন আরা ফিরোজ 
১৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল ১৪ অক্টোবর ছিল দিল মনোয়ারা মনুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। জীবনের পথপরিক্রমার আমার এই ঘনিষ্ঠ সহযাত্রীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। ওর হঠাৎ চলে যাওয়াটা এখনও যেন মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারছি না।

মনুর সঙ্গে পরিচয় সেই আশির দশকের প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার অঙ্গনে। প্রাণবন্ত এক টগবগে তরুণী। মেলার প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি। দাদাভাইয়ের স্নেহভাজন কর্মী। আমি ছিলাম উপদেষ্টা সদস্য, মনু তরুণ সাথীবোন।

প্রিয়ভাষিণী মনুর সঙ্গে মেলার শিশু-কিশোর-তরুণদের ঘনিষ্ঠ সখ্য ছিল। মেলার যে কোনো অনুষ্ঠানে বিতর্ক, আবৃত্তি, বক্তৃতা, গল্প বলা প্রতিযোগিতার বিচারকের ব্যবস্থা মনু অল্প সময়ের মধ্যে করে ফেলত। কারণ কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু গুণিজনের সঙ্গে ওর সুসম্পর্ক ছিল।

একজন দক্ষ শিশু সংগঠক হিসেবে কচিকাঁচার মেলায় মনুর অবদান অনস্বীকার্য। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মনু ছিল কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার সহসভাপতি। তার মৃত্যুতে মেলার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

দিল মনোয়ারা মনুর লেখার হাত ছিল খুবই ভালো। সমাজের নিভৃতে প্রচারবিমুখ, গুণী-মেধাবী, সমাজ সচেতন দক্ষ নারীদের জীবনগাথা মনুর কলমের স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠত। অবহেলিত, বৈষম্যের শিকার কোনো নারী অথবা মেধাবী-গুণী আলোকিত সমাজকর্মী, কবি, লেখক নারী মারা গেলে পরদিনই তাদের নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় দিল মনোয়ারা মনুর লেখা প্রকাশ হতো।

মানুষকে সম্মান জানানোর মতো উদারতাসহ একটা বড় মাপের হৃদয়ের অধিকারী ছিল দিল মনোয়ারা মনু। অন্যদের নিয়ে লেখার ব্যাপারে কোনো আলস্য ওর ছিল না। বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী ছিল মনু। প্রাঞ্জল প্রকাশ ভঙ্গিমা ও চিন্তাচেতনায় স্বচ্ছতার অধিকারী ছিল মনু।

আমি প্রায়ই ওকে বলতাম, সবার সম্পর্কে লিখছ খুবই ভালো কথা, নিজের কিছু মৌলিক রচনা লিখো; বলত, ‘ভাবছি শুরু করব’। তা আর হল না। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনু হঠাৎ ওপারে চলে গেল। বয়সে ছোট হলেও আমার সঙ্গে ওর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

ঠাট্টা করে বলতাম, আমি মারা গেলে মনু হয়তো কিছু লিখবে আমার সম্পর্কে। ও জোর প্রতিবাদ করত, আপনি কেন আগে মরবেন? আমিও তো আপনার আগে মরতে পারি? ... ঠিক আছে আগেই আপনার সম্পর্কে লিখে রাখব। মনুর কথাই ঠিক হল। বয়সে ছোট হয়েও আমার আগেই চিরবিদায় নিল, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ভাগ্য যে আমি লিখছি ওর সম্পর্কে।

দিল মনোয়ারা মনু একজন দক্ষ ও সংবেদনশীল সাংবাদিক ছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর সে ‘অনন্যা’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। অনন্যা পত্রিকায় দেশে-বিদেশের বহু সংগ্রামী নারীর ভাষ্যকার হিসেবে মনু অবদান রেখেছে। আমি যখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছি, মনু অনন্যা পত্রিকায় আমার মতো একজন সাধারণ নারীর সংগ্রামও তুলে ধরেছে।

অনেক নারীকে দিল মনোয়ারা মনু লেখার প্রেরণা জুগিয়েছে। সাহিত্য প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও নিজের লেখায় মনোনিবেশ না করে অপরকে লেখনী ধরাতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজকের যুগে পরার্থপরতার এরকম দৃষ্টান্ত বিরল। অনন্যার পক্ষ থেকে দিল মনোয়ারা মনুকে ‘আজীবন সম্মাননা’ দেয়া হয়েছে তার সুষ্ঠু কর্মদক্ষতা ও অবদানের জন্য।

বিনয়ী ও অজাতশত্রু মনুর কারও প্রতি কোনো হিংসাবিদ্বেষ ছিল না। কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে শান্ত স্বরে প্রকাশ করত। কোনো রকমের ঔদ্ধত্য ছিল না ওর চরিত্রে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া নির্যাতিত অবহেলিত নারীদের প্রতি মনুর সহমর্মিতা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে নারী কৃষকদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতিদানের বিষয়টি বিভিন্ন সেমিনার/ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সর্বসমক্ষে তুলে ধরার জন্য অদম্য চেষ্টা করেছিল।

নারী কৃষকদের সমবায়ভিত্তিক যৌথ চাষাবাদে সম্পৃক্তকরণের বিষয়টিতেও ‘ভূমিবার্তা’ পত্রিকায় দিল মনুয়ারা মনু জোরালো বক্তব্য রেখেছিল। শ্রমজীবী নারী, সহিংসতার শিকার নারী, ভূমিহীন নারী ছিল তার সাংবাদিকতার উপজীব্য। সমাজে সংঘটিত নারীর প্রতি সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ বা অন্যায়-অবিচার মনুকে ভীষণভাবে বিচলিত করত।

কিন্তু সেজন্য মঞ্চে বা মিছিলে ধাক্কাধাক্কি করে সামনে বসার কোনো আগ্রহ ছিল না তার। নেপথ্যে ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করে ফেলত বা আলোচায় অংশ নিত কোনো ‘বাহবা’ পাওয়ার জন্য নয়, বিবেকের তাড়নায় একজন সমাজ সংবেদনশীল আলোকিত মানুষ হিসেবে।

২০১৫-১৮ সময়ে দিল মনোয়ারা মনু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। পুনর্মিলনীতে প্রকাশিত ‘আনন্দধারা’ স্মরণিকায় লেখা সংগ্রহের ব্যাপারে মনু প্রচুর পরিশ্রম করেছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত সাবেক ছাত্রীদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তার ওপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

দিল মনোয়ারা মনু একাধারে লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক ছাড়াও বহু সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নিজেরা করি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহসভাপতি ছিল।

প্রতিটি সংগঠনে মনু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করত। ওর পায়ে ব্যথা ছিল বলে হাঁটতে কষ্ট হতো, তবুও কষ্ট করে সব সভায় যোগদান করত। মনুর মনের শক্তি দেহের শক্তিকে অতিক্রম করেছিল।

দিল মনোয়ারা মনুর প্রয়াণে সংগঠন ও সমাজের ক্ষতি অপূরণীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে হারিয়েছি একজন স্বচ্ছ ও মুক্তচিন্তার অধিকারী স্নেহ-মমতায় ভরা সৃজনশীল আলোকিত একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে। দিল মনোয়ারা মনু তার নির্দিষ্ট জীবনসীমায় গৌরবময় কর্ম দিয়ে নিজের জীবনকেও মহিমান্বিত করেছে। আমাদের হৃদয়েও স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছে।

রওশন আরা ফিরোজ : সাবেক অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সহসভাপতি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা