প্রয়োজন সুষ্ঠু কৃষি ব্যবস্থাপনা
jugantor
বিশ্ব খাদ্য দিবস
প্রয়োজন সুষ্ঠু কৃষি ব্যবস্থাপনা

  মো. রেজওয়ানুল ইসলাম মুকুল  

১৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের অন্যসব উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও এখনও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২০ সালে এসেও মানুষকে খাদ্যের পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এ রকম প্রেক্ষাপটেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০।

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জন্ম হলেও প্রতিপাদ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮১ সালে। প্রতি বছর একেক বছরের প্রতিপাদ্যে একেক বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবানোর উদ্দেশ্যে এ প্রতিপাদ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ বছরের খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রো, নারিশ, সাসটেইন, টুগেদার’। টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা, চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তা ও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি একসঙ্গে নজরে আনার ওপর এবার জোর দেয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক আইন প্রণীত হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয় ২০১৫ সালে। এ সংস্থা বেশকিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এখনও নিরাপদ খাদ্য আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। এখনও দেশে প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যে উৎপাদনের সময়ই মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়। আর প্রায় ২৫ শতাংশ খাদ্যে সংরক্ষণ, বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ফরমালিন ও অন্যান্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহৃত হচ্ছে। জৈব কৃষিকে অবহেলা করে রাসায়নিক কৃষির ওপর জোর দেয়ার কারণে খাদ্যে দূষণ বাড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে মাটিদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও খাদ্যদূষণ হচ্ছে। এতে কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে স্বল্পস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে মানুষ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি ও সরাসরি আক্রান্ত হচ্ছে কৃষক নিজেই।

তবে আশার কথা হল- এ উদ্যোগগুলো ছড়িয়ে দিতে এখন শুধু সরকারই নয়, কাজ করছে কিছু বেসরকারি সংগঠনও। কেউ মাঠ পর্যায়ে আবার কেউ ডিজিটাল প্লাটফর্মে চালিয়ে যাচ্ছে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড। এখন মাটি ও মানুষ, কৃষিকথন, কৃষিজিজ্ঞাসা, কৃষিবার্তার মতো কিছু প্লাটফর্ম রয়েছে, যেগুলো থেকে খুব সহজেই কৃষি তথ্য ও কৃষি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ‘কৃষিকথন’ ফেসবুক পেজে প্রতিনিয়ত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তথ্য, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকদের নিয়ে সরকারি নানা উদ্যোগ, কৃষিউদ্ভাবন ও সফলতার গল্পগুলো জানানো হচ্ছে। কৃষিকথনের মতো এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো থেকে নিরাপদ খাদ্য আইনের উদ্দেশ্যগুলো খুব সহজ ভাষায় সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

তবে সবকিছুর পরও সুষ্ঠু কৃষিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য খাদ্যের মূল জোগানদাতা কৃষককে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন বিপণন পর্যায়ে নজরদারি করা। আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যে কৃষকটি কাজ করছেন, তিনি যাতে বালাইনাশকের সঠিক প্রশিক্ষণটি পান, সহজে ও কম খরচে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার করতে পারেন, হতাশ হয়ে যেন কীটনাশকে ঝুঁকে না পড়েন সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আবার বিপণন পর্যায়ে গিয়েও খাদ্যে যাতে ফরমালিনের মতো রাসায়নিক মিশে না যায় তার নজরদারিও দরকার।

এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তায় আরও কিছু চ্যালেঞ্জ হল- ক্রমহ্রাসমান জমি, ক্রমহ্রাসমান কৃষিশ্রমিক ও এর বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলানো ও নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে বর্তমানে সারা বিশ্বেই বায়োটেকনোলজি অনুশীলন করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও এ ধরনের খাদ্যে পুষ্টির গুণাগুণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ ও জ্ঞানসম্পন্ন ভিত্তি স্থাপন করতে হবে।

এদিকে ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তাই ক্রমহ্রাসমান কৃষিশ্রমিকের চাহিদা মেটাতে এখন কৃষির যান্ত্রিকীকরণও জরুরি। সম্প্রতি করোনা মহামারী শুরুর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পুষ্টির জোগান বাড়াতে হবে। তাছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে যে সংকট দেখা দিয়েছে, খাদ্যের অভাব যেন না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই করতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ আরও উৎকর্ষ করতে চাই। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত উন্নত একটা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এগিয়ে যেতে।’ যান্ত্রিকীকরণে দেশের তরুণ ও শিক্ষিতরাও কৃষির দিকে ঝুঁকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষির অবদান ছিল ১৩.৪৪ শতাংশ। এ থেকেই বোঝা যায় কৃষির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। তাই এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনেও কৃষিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এর বাইরে দেশে প্রায় ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে নিরাপদ খাদ্য সংস্থান অসম্ভব নয়।

এখন আমাদের উচিত হবে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার জন্য কৃষিবান্ধব নীতি-সহায়তা দেয়া এবং তার বাস্তবায়ন করা। এ উদ্যোগ কৃষক থেকে ভোক্তা সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব। তাহলেই জাতি হিসেবে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ-সবল হিসেবে বেড়ে উঠব।

করোনা মহামারী আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে, নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো উপায় নেই। তাই মহামারী প্রতিরোধে আমাদের নিরাপদ খাবার লাগবে। সেজন্য সবাইকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। এবার বিশ্ব খাদ্য দিবসে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই হোক আমাদের শপথ।

মো. রেজওয়ানুল ইসলাম মুকুল : সাবেক পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়

বিশ্ব খাদ্য দিবস

প্রয়োজন সুষ্ঠু কৃষি ব্যবস্থাপনা

 মো. রেজওয়ানুল ইসলাম মুকুল 
১৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের অন্যসব উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও এখনও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২০ সালে এসেও মানুষকে খাদ্যের পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এ রকম প্রেক্ষাপটেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০।

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জন্ম হলেও প্রতিপাদ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮১ সালে। প্রতি বছর একেক বছরের প্রতিপাদ্যে একেক বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবানোর উদ্দেশ্যে এ প্রতিপাদ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ বছরের খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রো, নারিশ, সাসটেইন, টুগেদার’। টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা, চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তা ও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি একসঙ্গে নজরে আনার ওপর এবার জোর দেয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক আইন প্রণীত হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয় ২০১৫ সালে। এ সংস্থা বেশকিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এখনও নিরাপদ খাদ্য আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। এখনও দেশে প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যে উৎপাদনের সময়ই মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়। আর প্রায় ২৫ শতাংশ খাদ্যে সংরক্ষণ, বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ফরমালিন ও অন্যান্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহৃত হচ্ছে। জৈব কৃষিকে অবহেলা করে রাসায়নিক কৃষির ওপর জোর দেয়ার কারণে খাদ্যে দূষণ বাড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে মাটিদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও খাদ্যদূষণ হচ্ছে। এতে কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে স্বল্পস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে মানুষ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি ও সরাসরি আক্রান্ত হচ্ছে কৃষক নিজেই।

তবে আশার কথা হল- এ উদ্যোগগুলো ছড়িয়ে দিতে এখন শুধু সরকারই নয়, কাজ করছে কিছু বেসরকারি সংগঠনও। কেউ মাঠ পর্যায়ে আবার কেউ ডিজিটাল প্লাটফর্মে চালিয়ে যাচ্ছে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড। এখন মাটি ও মানুষ, কৃষিকথন, কৃষিজিজ্ঞাসা, কৃষিবার্তার মতো কিছু প্লাটফর্ম রয়েছে, যেগুলো থেকে খুব সহজেই কৃষি তথ্য ও কৃষি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ‘কৃষিকথন’ ফেসবুক পেজে প্রতিনিয়ত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তথ্য, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকদের নিয়ে সরকারি নানা উদ্যোগ, কৃষিউদ্ভাবন ও সফলতার গল্পগুলো জানানো হচ্ছে। কৃষিকথনের মতো এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো থেকে নিরাপদ খাদ্য আইনের উদ্দেশ্যগুলো খুব সহজ ভাষায় সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

তবে সবকিছুর পরও সুষ্ঠু কৃষিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য খাদ্যের মূল জোগানদাতা কৃষককে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন বিপণন পর্যায়ে নজরদারি করা। আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যে কৃষকটি কাজ করছেন, তিনি যাতে বালাইনাশকের সঠিক প্রশিক্ষণটি পান, সহজে ও কম খরচে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার করতে পারেন, হতাশ হয়ে যেন কীটনাশকে ঝুঁকে না পড়েন সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আবার বিপণন পর্যায়ে গিয়েও খাদ্যে যাতে ফরমালিনের মতো রাসায়নিক মিশে না যায় তার নজরদারিও দরকার।

এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তায় আরও কিছু চ্যালেঞ্জ হল- ক্রমহ্রাসমান জমি, ক্রমহ্রাসমান কৃষিশ্রমিক ও এর বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলানো ও নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে বর্তমানে সারা বিশ্বেই বায়োটেকনোলজি অনুশীলন করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও এ ধরনের খাদ্যে পুষ্টির গুণাগুণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ ও জ্ঞানসম্পন্ন ভিত্তি স্থাপন করতে হবে।

এদিকে ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তাই ক্রমহ্রাসমান কৃষিশ্রমিকের চাহিদা মেটাতে এখন কৃষির যান্ত্রিকীকরণও জরুরি। সম্প্রতি করোনা মহামারী শুরুর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পুষ্টির জোগান বাড়াতে হবে। তাছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে যে সংকট দেখা দিয়েছে, খাদ্যের অভাব যেন না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই করতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ আরও উৎকর্ষ করতে চাই। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত উন্নত একটা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এগিয়ে যেতে।’ যান্ত্রিকীকরণে দেশের তরুণ ও শিক্ষিতরাও কৃষির দিকে ঝুঁকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষির অবদান ছিল ১৩.৪৪ শতাংশ। এ থেকেই বোঝা যায় কৃষির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। তাই এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনেও কৃষিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এর বাইরে দেশে প্রায় ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে নিরাপদ খাদ্য সংস্থান অসম্ভব নয়।

এখন আমাদের উচিত হবে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার জন্য কৃষিবান্ধব নীতি-সহায়তা দেয়া এবং তার বাস্তবায়ন করা। এ উদ্যোগ কৃষক থেকে ভোক্তা সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব। তাহলেই জাতি হিসেবে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ-সবল হিসেবে বেড়ে উঠব।

করোনা মহামারী আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে, নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো উপায় নেই। তাই মহামারী প্রতিরোধে আমাদের নিরাপদ খাবার লাগবে। সেজন্য সবাইকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। এবার বিশ্ব খাদ্য দিবসে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই হোক আমাদের শপথ।

মো. রেজওয়ানুল ইসলাম মুকুল : সাবেক পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি মন্ত্রণালয়