দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান
jugantor
স্মরণ
দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান

  মাহফুজুর রহমান মিতা  

২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে সাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। রাক্ষুসী মেঘনার করালগ্রাসে ক্রমশ বিলীন হচ্ছে তার আয়তন, হারিয়ে যাচ্ছে উর্বর ভূমি। প্রসবিত সন্তানের কল্যাণে গৌরবময়, ইতিহাস-ঐতিহ্যে অনন্য উপজেলা সন্দ্বীপ। এ দ্বীপে যুগে যুগে জন্মেছে ক্ষণজন্মা মহান মানুষ।

প্রিয় আঁতুড়ঘর সন্দ্বীপ এক কথায় রত্ন প্রসবিনী। তারই এক অনন্য রত্ন দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান। মা বিবি আমেনার কোলজুড়ে ১৯৪৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী হাবিবুর রহমানের একমাত্র পুত্রসন্তান তিনি।

প্রকৃতির ধুলোবালি গায়ে মেখে, সতেজ আলো বায়ু সেবন করে গ্রামবাংলার পোড়ামাটির বুকে মা-বাবার স্নেহ ছায়ায় বেড়ে ওঠেন। প্রাথমিক স্তরে সরকারি বৃত্তি লাভের মধ্য দিয়ে শুরুতেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। দৈন্যদশার সঙ্গে যুদ্ধ করে মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন সমাপনের পর একটি দিনও থেমে থাকেননি। জীবিকার সন্ধানে খুঁজে নেন প্রথম কর্মস্থল বহুজাতিক কোম্পানি জেমস ফিনলে, চট্টগ্রাম। পেশাগত জীবনে অধ্যবসায়, সংযম, পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে নিজেকে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলেন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অসাধারণ দক্ষতা ও যোগ্যতার কল্যাণে পরিচালনা পর্ষদের নজর কাড়েন। খুলে যায় ভাগ্যজট। হাতে আসে শ্রম ও কর্মের স্বীকৃতিপত্র। প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে পদোন্নতি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সফলতার চূড়ায় আরোহণ করতে অবিরাম ছুটে চলেছেন। এক এক করে সাফল্য ও সফলতার চাদরে আবৃত হন মুস্তাফিজুর রহমান।

তকদিরে সোনা মোড়ানো সাফল্য লেখা থাকে না। প্রাণান্তকর চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, কর্মের প্রতি আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, অপরিমেয় ভালোবাসা চিত্তে থাকলে সফলতা পদচুম্বন করে। দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজ ছিলেন কর্মমুখী ও সৃজনশীল। তার সৃষ্টি কৌশল ছিল অনন্য।

১৯৮৩ সাল থেকে দেশের উন্নয়নের চাকা ঘোরাতে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বদ্ধপরিকর। প্রাণান্তকর ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে দেশের শীর্ষস্থানীয় আটটি অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার মধ্যে ব্যাংক, বীমা কো-অপারেটিভ অন্যতম।

দ্বীপবন্ধুর উদারতা ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় শিক্ষিত বেকার যুবক খুঁজে পেত কর্মের ঠিকানা। মুখে হাসি, বুকে বল মুস্তাফিজের আন্তরিকতার ফল। তার বর্ণিল কর্মময় জীবনের সর্বশেষ সংযোজন রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। তার প্রজ্ঞা ও সর্ববিধ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে কোম্পানির আজীবন স্পেশাল ডাইরেক্টর হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়।

মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন একজন নিখাদ নিরেট সংবাদসেবী। তার সম্পাদনায় দৈনিক রূপালীসহ সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক প্রায় ১১টি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। বর্তমান সময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনেক সিনিয়র সাংবাদিক, কর্মকর্তা, টেকনেশিয়ান মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে দৈনিক রূপালীর সৃষ্টি। সংবাদ প্রকাশ ও পরিবেশনায় তিনি ছিলেন অদম্য সাহসী। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ছিলেন দক্ষ, একনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ।

ক্রীড়া, পেশাজীবী সংগঠন, লায়ন্স ক্লাব, সন্দ্বীপ সমিতি, সন্দ্বীপ ইয়াং অ্যাসোসিয়েশনসহ অসংখ্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দান করেন। মাদক ও ধূমপান রোধকল্পে গড়ে তোলেন ‘আমার দেশ’ নামক সংগঠন।

সমগ্র বাংলাদেশে সংগঠনটি বিস্তৃত করেছিলেন। লায়ন মুস্তাফিজুর রহমান সন্দ্বীপের প্রায় বিশ হাজার মানুষের চক্ষু চিকিৎসা করিয়ে অগণিত অন্ধজনের চোখের তারায় আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মানবদরদি, উদার মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বেকার যুবকদের কর্মের ঠিকানা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার ত্রাতা, অনাহারী-অর্ধাহারীর খাবার জোগানদাতা, গরিব-দুঃখী-অসহায় মানুষের আপনজন।

শিক্ষাদীক্ষা, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে অনগ্রসর জনপদ সন্দ্বীপে স্ব-উদ্যোগে নিজ নামে ১১টির অধিক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি স্কুলভবন, ছাত্রাবাস, বিজ্ঞানাগার, শহীদ মিনার, ক্রীড়াঙ্গন গড়ে শিক্ষা খাতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

সন্দ্বীপে আন্তঃযোগাযোগ সড়ক ব্যবস্থা ছিল কাঁচা ও অনুন্নত। সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব করতে ১৯৯১-২০০১ সালের মধ্যে ৫০টির অধিক রাস্তা পাকাকরণ ও উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করেন।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সমগ্র সন্দ্বীপ তছনছ হয়ে যায়। দুর্গত সন্দ্বীপবাসীর পাশে দাঁড়াতে ত্রাণের জাহাজ নিয়ে হাজির হন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান। ঘরবাড়ি, স্বজনহারা সন্দ্বীপবাসীর আর্তনাদে অঝোরে কেঁদেছিলেন প্রিয় নেতা মুস্তাফিজ।

বানের তোড়ে ছিঁড়ে গেছে বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, অসুখ-বিসুখ, শোক-দুঃখে মহামারী রূপ নিয়েছিল প্রিয় সন্দ্বীপ। মুস্তাফিজুর রহমান মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন সন্দ্বীপবাসীর দুঃখ, দৈন্যদশা। সুরক্ষিত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, মার্জিনাল ডাইক, সিআরপি বাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণ ও মেরামত করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মুস্তাফিজুর রহমান কর্মগুণে জীবদ্দশায় শ্রেষ্ঠ ব্যাংকার, বীমাবিদ, সফল সংগঠক, আলোকিত মানুষ হিসেবে অসংখ্য সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।

সাগরবেষ্টিত সন্দ্বীপের উন্নয়নে তার নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা, সর্বোপরি সন্দ্বীপবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বীপের জনগণ তাকে দ্বীপবন্ধু খেতাবে অভিষিক্ত করেছিলেন। এই জনদরদি মানুষটি সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ২০০১ সালের ২০ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। জনতার হৃদয়ে চিরজাগরূক দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান।

মাহফুজুর রহমান মিতা : সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য

স্মরণ

দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান

 মাহফুজুর রহমান মিতা 
২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে সাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। রাক্ষুসী মেঘনার করালগ্রাসে ক্রমশ বিলীন হচ্ছে তার আয়তন, হারিয়ে যাচ্ছে উর্বর ভূমি। প্রসবিত সন্তানের কল্যাণে গৌরবময়, ইতিহাস-ঐতিহ্যে অনন্য উপজেলা সন্দ্বীপ। এ দ্বীপে যুগে যুগে জন্মেছে ক্ষণজন্মা মহান মানুষ।

প্রিয় আঁতুড়ঘর সন্দ্বীপ এক কথায় রত্ন প্রসবিনী। তারই এক অনন্য রত্ন দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান। মা বিবি আমেনার কোলজুড়ে ১৯৪৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী হাবিবুর রহমানের একমাত্র পুত্রসন্তান তিনি।

প্রকৃতির ধুলোবালি গায়ে মেখে, সতেজ আলো বায়ু সেবন করে গ্রামবাংলার পোড়ামাটির বুকে মা-বাবার স্নেহ ছায়ায় বেড়ে ওঠেন। প্রাথমিক স্তরে সরকারি বৃত্তি লাভের মধ্য দিয়ে শুরুতেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। দৈন্যদশার সঙ্গে যুদ্ধ করে মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন সমাপনের পর একটি দিনও থেমে থাকেননি। জীবিকার সন্ধানে খুঁজে নেন প্রথম কর্মস্থল বহুজাতিক কোম্পানি জেমস ফিনলে, চট্টগ্রাম। পেশাগত জীবনে অধ্যবসায়, সংযম, পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে নিজেকে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলেন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অসাধারণ দক্ষতা ও যোগ্যতার কল্যাণে পরিচালনা পর্ষদের নজর কাড়েন। খুলে যায় ভাগ্যজট। হাতে আসে শ্রম ও কর্মের স্বীকৃতিপত্র। প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে পদোন্নতি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সফলতার চূড়ায় আরোহণ করতে অবিরাম ছুটে চলেছেন। এক এক করে সাফল্য ও সফলতার চাদরে আবৃত হন মুস্তাফিজুর রহমান।

তকদিরে সোনা মোড়ানো সাফল্য লেখা থাকে না। প্রাণান্তকর চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, কর্মের প্রতি আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, অপরিমেয় ভালোবাসা চিত্তে থাকলে সফলতা পদচুম্বন করে। দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজ ছিলেন কর্মমুখী ও সৃজনশীল। তার সৃষ্টি কৌশল ছিল অনন্য।

১৯৮৩ সাল থেকে দেশের উন্নয়নের চাকা ঘোরাতে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বদ্ধপরিকর। প্রাণান্তকর ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে দেশের শীর্ষস্থানীয় আটটি অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার মধ্যে ব্যাংক, বীমা কো-অপারেটিভ অন্যতম।

দ্বীপবন্ধুর উদারতা ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় শিক্ষিত বেকার যুবক খুঁজে পেত কর্মের ঠিকানা। মুখে হাসি, বুকে বল মুস্তাফিজের আন্তরিকতার ফল। তার বর্ণিল কর্মময় জীবনের সর্বশেষ সংযোজন রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। তার প্রজ্ঞা ও সর্ববিধ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে কোম্পানির আজীবন স্পেশাল ডাইরেক্টর হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়।

মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন একজন নিখাদ নিরেট সংবাদসেবী। তার সম্পাদনায় দৈনিক রূপালীসহ সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক প্রায় ১১টি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। বর্তমান সময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনেক সিনিয়র সাংবাদিক, কর্মকর্তা, টেকনেশিয়ান মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে দৈনিক রূপালীর সৃষ্টি। সংবাদ প্রকাশ ও পরিবেশনায় তিনি ছিলেন অদম্য সাহসী। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ছিলেন দক্ষ, একনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ।

ক্রীড়া, পেশাজীবী সংগঠন, লায়ন্স ক্লাব, সন্দ্বীপ সমিতি, সন্দ্বীপ ইয়াং অ্যাসোসিয়েশনসহ অসংখ্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দান করেন। মাদক ও ধূমপান রোধকল্পে গড়ে তোলেন ‘আমার দেশ’ নামক সংগঠন।

সমগ্র বাংলাদেশে সংগঠনটি বিস্তৃত করেছিলেন। লায়ন মুস্তাফিজুর রহমান সন্দ্বীপের প্রায় বিশ হাজার মানুষের চক্ষু চিকিৎসা করিয়ে অগণিত অন্ধজনের চোখের তারায় আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মানবদরদি, উদার মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বেকার যুবকদের কর্মের ঠিকানা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার ত্রাতা, অনাহারী-অর্ধাহারীর খাবার জোগানদাতা, গরিব-দুঃখী-অসহায় মানুষের আপনজন।

শিক্ষাদীক্ষা, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে অনগ্রসর জনপদ সন্দ্বীপে স্ব-উদ্যোগে নিজ নামে ১১টির অধিক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি স্কুলভবন, ছাত্রাবাস, বিজ্ঞানাগার, শহীদ মিনার, ক্রীড়াঙ্গন গড়ে শিক্ষা খাতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

সন্দ্বীপে আন্তঃযোগাযোগ সড়ক ব্যবস্থা ছিল কাঁচা ও অনুন্নত। সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব করতে ১৯৯১-২০০১ সালের মধ্যে ৫০টির অধিক রাস্তা পাকাকরণ ও উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করেন।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সমগ্র সন্দ্বীপ তছনছ হয়ে যায়। দুর্গত সন্দ্বীপবাসীর পাশে দাঁড়াতে ত্রাণের জাহাজ নিয়ে হাজির হন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান। ঘরবাড়ি, স্বজনহারা সন্দ্বীপবাসীর আর্তনাদে অঝোরে কেঁদেছিলেন প্রিয় নেতা মুস্তাফিজ।

বানের তোড়ে ছিঁড়ে গেছে বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, অসুখ-বিসুখ, শোক-দুঃখে মহামারী রূপ নিয়েছিল প্রিয় সন্দ্বীপ। মুস্তাফিজুর রহমান মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন সন্দ্বীপবাসীর দুঃখ, দৈন্যদশা। সুরক্ষিত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, মার্জিনাল ডাইক, সিআরপি বাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণ ও মেরামত করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মুস্তাফিজুর রহমান কর্মগুণে জীবদ্দশায় শ্রেষ্ঠ ব্যাংকার, বীমাবিদ, সফল সংগঠক, আলোকিত মানুষ হিসেবে অসংখ্য সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।

সাগরবেষ্টিত সন্দ্বীপের উন্নয়নে তার নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা, সর্বোপরি সন্দ্বীপবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বীপের জনগণ তাকে দ্বীপবন্ধু খেতাবে অভিষিক্ত করেছিলেন। এই জনদরদি মানুষটি সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ২০০১ সালের ২০ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। জনতার হৃদয়ে চিরজাগরূক দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান।

মাহফুজুর রহমান মিতা : সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য