নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাগলা ঘোড়া থামাবে কে?
jugantor
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাগলা ঘোড়া থামাবে কে?

  এস এম নাজের হোসাইন  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের এখন আতঙ্কের নাম নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার। বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের ওপর অনেকটাই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ নামে অভিহিত করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যপণ্য স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নানা সংস্থা-দফতর। সবাই দ্রব্যমূল্যের এ পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যত কোনো কাজেই আসছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বাজার বিশ্লেষক সবাই নানা ফর্মুলার কথা বললেও অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের আভাস দিচ্ছে।

তবে যেটাই বলা হোক না কেন, সবকিছুর পেছনে আমাদের নীতি-আদর্শহীন, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারসাজি নিয়ে কেউ তেমন একটা বলতে চান না। তাহলে হয়তো নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে। অথবা ব্যবসায়ীদের প্রভাব এত বেশি যে, তারা এখন সরকারের নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম ও অর্থনীতিবিদের তাদের জালে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দেশের মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন তেল, একবার আলু- এভাবে পর্যায়ক্রমে মানুষের পকেট কাটছে। দেশ রসাতলে যাক, সাধারণ মানুষ নিত্যভোগ্যপণ্য মূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হোক- এদিকে মোটেও তাদের ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই। কারণ ব্যবসায়ীরা এখন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতি, সমাজনীতি, গণমাধ্যম, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও অর্থনীতিবিদদেরও লবিস্ট হিসেবে নিযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, যারা বিভিন্ন মিডিয়াতে টকশো ছাড়াও সভা-সেমিনারে ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংরক্ষণে তৎপর থাকছেন।

গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের বাজার অস্থির ছিল। এ বছরও একই কায়দায় পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখ দিয়ে পানি গড়ায়। পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এবং সাধারণ ক্রেতার চোখে পানি ঝরানোর পর আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হওয়ার পর তারা সবুজ সংকেত দেয়। আর তখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মোতাবেক, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদন হয় ২২-২৪ লাখ টন। বাদবাকি আমদানি করতে হয়। ভারতে গত বছর বন্যার অজুহাতে দেশে পেঁয়াজ সংকটে মানুষ নাকাল হয়েছিল। তখন অনেকের ধারণা ছিল, এ বছর পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর সংকট সৃষ্টির আগেই পেঁয়াজ আমদানি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু এবারও যথারীতি সময়মতো পেঁয়াজ আমদানি হল না। সংকটে সাধারণ ভোক্তা বিপর্যস্ত হল আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেট ভরল।

পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতার পেছনে বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পরিচয়ে পেঁয়াজসহ কিছু ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীর জনগণকে জিম্মি করার বিষয়টিকে দায়ী করছেন অনেকে। দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ, পেপারলেস ব্যবসা হওয়ার কারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। ২০১৯ সালেও এসব ব্যবসায়ী একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তারা একই কায়দায় ক্রেতাদের পকেট কাটছে।

বেশকিছু দিন ধরে অস্থিরতা চলার পর জেলা প্রশাসন পাইকারি বাজারে অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা উল্টো বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে। প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে। অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদরের কারণে তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে।

বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট করে প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরারে চলে যান। আর প্রশাসন বড় বড় ব্যবসায়ীদের চাপে এসব অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কালক্ষেপণ করে থাকে। চোরাচালানি কায়দায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পণ্য বিক্রি, অর্থ লেনদেনের কারণে মানিলন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আর এ কারণে দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসায়ীরা নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজারেরপ্রতি ঝুঁকছে।

নিত্যভোগ্যপণ্য বাজারের সবকিছুই এখন অশান্ত। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। খেটে খাওয়া মানুষের মোটা চাল এখন পঞ্চাশ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ শ্রমিকের জবানিতে কজানা যায়, তার সংসারে তিনবেলায় চার কেজি চাল ও দুই কেজি আটা লাগে। আড়াইশ’ টাকা চলে যায় চাল কেনাতেই। লবণ, তেল, ডাল, পেঁয়াজ কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। মাছ, মাংস আর ডিমের চিন্তা তো করাই যায় না।

এ ছাড়া প্রতিদিন কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এসব কারণে একবেলা কম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এদিকে সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে ৩০ টাকা। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশে আলুর ঘাটতি নেই। হিমাগারে পর্যাপ্ত আলু আছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছেও আলু পর্যাপ্ত মজুদ আছে।

তবে সরকারের যে প্রতিষ্ঠান আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে, সেই কৃষি বিপণণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কোনো তৎপরতা নেই। তারা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেই ক্ষান্ত। সে কারণে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম কার্যকর করা যাচ্ছে না। অনেকের মতে, আলু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের দেখে কৌশল আয়ত্ত করেছে কীভাবে জনগণের পকেট কাটতে হয়। তাই এবার তাদের পালা। সরকারি নির্দেশ পালিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

বলার অপেক্ষো রাখে না, বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন এবং সর্বশেষ আলুর মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কারসাজি করার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করলে ব্যবসায়ীরা পরের দিন ধর্মঘট ডেকে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে জেলা প্রশাসন খাতুনগঞ্জে আর অভিযান পরিচালনা করেনি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এখন তারা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের জীবনযাত্রায় প্রতিকূলতা তৈরি করছে। নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও সেগুলো কোনো কাজে আসছে না।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর বলছে না সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে? রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে যখন সব পক্ষকে খুশি রাখতে হয় তখন জনকল্যাণ হয়ে যায় গৌণ। তাই আমাদের নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, এটি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই বাজার পরিচালিত হবে।

নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি মজার ব্যাপার সবসময় লক্ষ করা যায়। সাংবাদিক যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করে- এ সবজির দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হয়- পাইকারি বাজারে দাম বেশি। কিন্তু একই বাজারে যখন তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে বৈকি!

নিত্যভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ উঠলেই ব্যবসায়ীরা মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বারবার তাৎক্ষণিক দাম বাড়ালেও বিদেশে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেখা যায় না; তখন উল্টো সুর- বেশি দামে কেনা, লোকসান দিয়ে বিক্রি করব নাকি? তাই ভোক্তাকে সুরক্ষা দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চেতা, দূরদর্শী এবং দেশপ্রেমিক; কিন্তু সরকার পরিচালনায় দুর্গার মতো দশ হাত তো তিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন না। তার মন্ত্রিপরিষদ, দলীয় নেতা এবং পরামর্শকরা তাকে সহায়তা দেবেন। কিন্তু তা হচ্ছে বলে তো মনে হয় না। তবে আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী তার গতিশীল নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। করোনার সংকটেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতা সরকারের এসব সাফল্য কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।

অনেকেই নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার পেছনে শক্তিশালী ভোক্তা সংগঠনের তৎপরতাকে দায়ী করছেন। দেশে ভোক্তা অধিকার সংগঠন আছে হাতেগোনা কয়েকটি, যেগুলো আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এর কারণ হল, ব্যবসায়ীরা কখনই চায়নি দেশে ভোক্তাদের সংগঠনগুলো শক্তিশালী হোক। সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। টিসিবি নিজের পায়ে হাঁটতে পারছে না। একইরকমভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলোকে সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা প্রদান করা না হলে তারা কীভাবে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলবে?

নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসন দায়সারা দু-একটি অভিযান পরিচালনা করেই সরকারকে অবহিত করছে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রকৃত অর্থে ধারাবাহিকতাহীন খণ্ডকালীন অভিযান বাজারে কোনো প্রভাব ফেলার পরিবর্তে বাজারকে আরও উসকে দিচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সমন্বিত বাজার তদারকি কার্যক্রম ইত্যাদি চলমান ছিল, যেখানে জেলা-উপজেলা প্রশাসন সফলভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছে।

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকায় সরকারের অনেক উদ্ভাবনী উদ্যোগের সুফল তৃণমূল মানুষ ভোগ করতে পারছে না।

যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে ইতঃপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন ওই খাতের ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও প্রশাসনের লোকজন নিয়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ সভা করে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা, বাজার তদারকি জোরদার করে মজুদদারি ঠেকানো, আমদানিকারকের এজেন্ট পরিচয়ে অবৈধ পেপারলেস ব্যবসা বন্ধ, পেঁয়াজসহ নিত্যভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিকল্প বাজার হিসেবে খাদ্য বিভাগের আওতায় বাজারে ওএমএস চালু, টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ ইত্যাদির মাধ্যমে অস্থিরতা ঠেকানোর নজির থাকলেও ইদানীং ব্যবসায়ীদের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিয়েছে।

ফলে যে যেভাবে পারছে, লুটপাট করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নীরব দর্শক। জনভোগান্তি লাঘবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অবসান ঘটা জরুরি।

এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাগলা ঘোড়া থামাবে কে?

 এস এম নাজের হোসাইন 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের এখন আতঙ্কের নাম নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার। বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের ওপর অনেকটাই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ নামে অভিহিত করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যপণ্য স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নানা সংস্থা-দফতর। সবাই দ্রব্যমূল্যের এ পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যত কোনো কাজেই আসছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বাজার বিশ্লেষক সবাই নানা ফর্মুলার কথা বললেও অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের আভাস দিচ্ছে।

তবে যেটাই বলা হোক না কেন, সবকিছুর পেছনে আমাদের নীতি-আদর্শহীন, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারসাজি নিয়ে কেউ তেমন একটা বলতে চান না। তাহলে হয়তো নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে। অথবা ব্যবসায়ীদের প্রভাব এত বেশি যে, তারা এখন সরকারের নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম ও অর্থনীতিবিদের তাদের জালে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দেশের মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন তেল, একবার আলু- এভাবে পর্যায়ক্রমে মানুষের পকেট কাটছে। দেশ রসাতলে যাক, সাধারণ মানুষ নিত্যভোগ্যপণ্য মূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হোক- এদিকে মোটেও তাদের ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই। কারণ ব্যবসায়ীরা এখন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতি, সমাজনীতি, গণমাধ্যম, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও অর্থনীতিবিদদেরও লবিস্ট হিসেবে নিযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, যারা বিভিন্ন মিডিয়াতে টকশো ছাড়াও সভা-সেমিনারে ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংরক্ষণে তৎপর থাকছেন।

গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের বাজার অস্থির ছিল। এ বছরও একই কায়দায় পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখ দিয়ে পানি গড়ায়। পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া এবং সাধারণ ক্রেতার চোখে পানি ঝরানোর পর আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হওয়ার পর তারা সবুজ সংকেত দেয়। আর তখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মোতাবেক, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদন হয় ২২-২৪ লাখ টন। বাদবাকি আমদানি করতে হয়। ভারতে গত বছর বন্যার অজুহাতে দেশে পেঁয়াজ সংকটে মানুষ নাকাল হয়েছিল। তখন অনেকের ধারণা ছিল, এ বছর পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর সংকট সৃষ্টির আগেই পেঁয়াজ আমদানি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু এবারও যথারীতি সময়মতো পেঁয়াজ আমদানি হল না। সংকটে সাধারণ ভোক্তা বিপর্যস্ত হল আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেট ভরল।

পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতার পেছনে বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পরিচয়ে পেঁয়াজসহ কিছু ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীর জনগণকে জিম্মি করার বিষয়টিকে দায়ী করছেন অনেকে। দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ, পেপারলেস ব্যবসা হওয়ার কারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। ২০১৯ সালেও এসব ব্যবসায়ী একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তারা একই কায়দায় ক্রেতাদের পকেট কাটছে।

বেশকিছু দিন ধরে অস্থিরতা চলার পর জেলা প্রশাসন পাইকারি বাজারে অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা উল্টো বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে। প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে। অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদরের কারণে তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে।

বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট করে প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরারে চলে যান। আর প্রশাসন বড় বড় ব্যবসায়ীদের চাপে এসব অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কালক্ষেপণ করে থাকে। চোরাচালানি কায়দায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পণ্য বিক্রি, অর্থ লেনদেনের কারণে মানিলন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আর এ কারণে দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসায়ীরা নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজারের প্রতি ঝুঁকছে।

নিত্যভোগ্যপণ্য বাজারের সবকিছুই এখন অশান্ত। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। খেটে খাওয়া মানুষের মোটা চাল এখন পঞ্চাশ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ শ্রমিকের জবানিতে কজানা যায়, তার সংসারে তিনবেলায় চার কেজি চাল ও দুই কেজি আটা লাগে। আড়াইশ’ টাকা চলে যায় চাল কেনাতেই। লবণ, তেল, ডাল, পেঁয়াজ কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। মাছ, মাংস আর ডিমের চিন্তা তো করাই যায় না।

এ ছাড়া প্রতিদিন কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এসব কারণে একবেলা কম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এদিকে সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে ৩০ টাকা। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশে আলুর ঘাটতি নেই। হিমাগারে পর্যাপ্ত আলু আছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছেও আলু পর্যাপ্ত মজুদ আছে।

তবে সরকারের যে প্রতিষ্ঠান আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে, সেই কৃষি বিপণণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কোনো তৎপরতা নেই। তারা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেই ক্ষান্ত। সে কারণে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম কার্যকর করা যাচ্ছে না। অনেকের মতে, আলু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের দেখে কৌশল আয়ত্ত করেছে কীভাবে জনগণের পকেট কাটতে হয়। তাই এবার তাদের পালা। সরকারি নির্দেশ পালিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

বলার অপেক্ষো রাখে না, বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন এবং সর্বশেষ আলুর মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কারসাজি করার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করলে ব্যবসায়ীরা পরের দিন ধর্মঘট ডেকে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে জেলা প্রশাসন খাতুনগঞ্জে আর অভিযান পরিচালনা করেনি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এখন তারা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের জীবনযাত্রায় প্রতিকূলতা তৈরি করছে। নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও সেগুলো কোনো কাজে আসছে না।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর বলছে না সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে? রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে যখন সব পক্ষকে খুশি রাখতে হয় তখন জনকল্যাণ হয়ে যায় গৌণ। তাই আমাদের নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, এটি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই বাজার পরিচালিত হবে।

নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি মজার ব্যাপার সবসময় লক্ষ করা যায়। সাংবাদিক যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করে- এ সবজির দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হয়- পাইকারি বাজারে দাম বেশি। কিন্তু একই বাজারে যখন তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে বৈকি!

নিত্যভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ উঠলেই ব্যবসায়ীরা মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বারবার তাৎক্ষণিক দাম বাড়ালেও বিদেশে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেখা যায় না; তখন উল্টো সুর- বেশি দামে কেনা, লোকসান দিয়ে বিক্রি করব নাকি? তাই ভোক্তাকে সুরক্ষা দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চেতা, দূরদর্শী এবং দেশপ্রেমিক; কিন্তু সরকার পরিচালনায় দুর্গার মতো দশ হাত তো তিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন না। তার মন্ত্রিপরিষদ, দলীয় নেতা এবং পরামর্শকরা তাকে সহায়তা দেবেন। কিন্তু তা হচ্ছে বলে তো মনে হয় না। তবে আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী তার গতিশীল নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। করোনার সংকটেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতা সরকারের এসব সাফল্য কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।

অনেকেই নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার পেছনে শক্তিশালী ভোক্তা সংগঠনের তৎপরতাকে দায়ী করছেন। দেশে ভোক্তা অধিকার সংগঠন আছে হাতেগোনা কয়েকটি, যেগুলো আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এর কারণ হল, ব্যবসায়ীরা কখনই চায়নি দেশে ভোক্তাদের সংগঠনগুলো শক্তিশালী হোক। সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। টিসিবি নিজের পায়ে হাঁটতে পারছে না। একইরকমভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলোকে সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা প্রদান করা না হলে তারা কীভাবে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলবে?

নিত্যভোগ্যপণ্যের বাজার এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসন দায়সারা দু-একটি অভিযান পরিচালনা করেই সরকারকে অবহিত করছে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রকৃত অর্থে ধারাবাহিকতাহীন খণ্ডকালীন অভিযান বাজারে কোনো প্রভাব ফেলার পরিবর্তে বাজারকে আরও উসকে দিচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সমন্বিত বাজার তদারকি কার্যক্রম ইত্যাদি চলমান ছিল, যেখানে জেলা-উপজেলা প্রশাসন সফলভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছে।

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকায় সরকারের অনেক উদ্ভাবনী উদ্যোগের সুফল তৃণমূল মানুষ ভোগ করতে পারছে না।

যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে ইতঃপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন ওই খাতের ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও প্রশাসনের লোকজন নিয়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ সভা করে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা, বাজার তদারকি জোরদার করে মজুদদারি ঠেকানো, আমদানিকারকের এজেন্ট পরিচয়ে অবৈধ পেপারলেস ব্যবসা বন্ধ, পেঁয়াজসহ নিত্যভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিকল্প বাজার হিসেবে খাদ্য বিভাগের আওতায় বাজারে ওএমএস চালু, টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ ইত্যাদির মাধ্যমে অস্থিরতা ঠেকানোর নজির থাকলেও ইদানীং ব্যবসায়ীদের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিয়েছে।

ফলে যে যেভাবে পারছে, লুটপাট করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নীরব দর্শক। জনভোগান্তি লাঘবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অবসান ঘটা জরুরি।

এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]