শিক্ষা সংকট মোচনে সহজ সমাধান কাম্য নয়
jugantor
শিক্ষা সংকট মোচনে সহজ সমাধান কাম্য নয়

  এ কে এম শাহনাওয়াজ  

২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো সংকটের মুখে ব্যবস্থা নেয়া যখন অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত লাগসই না হলেও নিতে হয়। যেমন হয়েছিল ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে। তখন স্কুল পর্যায়ে অটো পাস নয়, অটো প্রমোশন দেয়া হয়েছিল। তবে কিছুটা বিলম্বে হলেও এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলো কিন্তু নেয়া হয়। এখন বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে মানবজাতি।

করোনা মহামারীর কারণে একসময় ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে মানুষকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অফিসপাড়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানায় অদেখা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের ভয়ে তালা পড়তে থাকে। বিশ্বময় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও পরে সতর্ক হয়ে যায় বাংলাদেশ সরকার। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষায় থাকার পরামর্শ দিতে থাকে। করোনা মোকাবেলায় সরকার নানা রকম পদক্ষেপ নেয়। তারপরও ‘অবুঝ’ ও ‘বিপ্লবী’ বাঙালিদের একটি বড় অংশকে বেশিদিন ঘরবন্দি রাখা যায়নি।

তবে মহামারী রূপে ভয়ংকরভাবে করোনা বিস্তার লাভ করেনি বাংলাদেশে। সতের কোটি মানুষের দেশে আট মাসে করোনায় সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো মৃত্যুর হিসাবকে মহামারী বলা যায় না। ষোল শতকের মাঝামাঝি বাংলার ভূখণ্ডে প্লেগ মহামারী রূপে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন জনসংখ্যাও কম ছিল। তারপরও শুধু গৌড়েই প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করত, যাদের সবাইকে দাফন করাও সম্ভব হতো না। ভাসিয়ে দেয়া হতো ভাগীরথী নদীতে।

আমাদের দূরদর্শী ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী অনেকের সমালোচনায় কর্ণপাত না করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক মাসের মাথায়ই ধাপে ধাপে পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসকরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা রাখেন। দু’মাসের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই খুলে যেতে থাকে। আশঙ্কাকে অমূলক প্রমাণ করে এসব প্রতিষ্ঠানে করোনার তেমন বিস্তারের কথা শোনা গেল না।

আরও দু-এক মাসের মধ্যে হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই স্বাভাবিক হয়ে আসতে লাগল। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতও খুলে যেতে লাগল। এখন তো সবই প্রায় স্বাভাবিক। স্বাভাবিকতার পরিমাপক হিসেবে বলা যায়, রাজধানী আবার যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা আগের চরিত্রে ফিরে এসেছে। নিরাপত্তার কথা বলে শুধু বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের ও পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে চলছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম।

এমন এক বাস্তবতায় শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তেমনভাবে বিবেচনায় না রেখে কয়েকটি সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে গ্রহণ করল, তাতে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে মনে করি, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাক্রমের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। আমি এ মাটির শিক্ষার কথা বলছি।

যাদের সন্তানরা আমাদের সাধারণ শিক্ষার ছকে পড়ালেখা করছে না বা বিদেশে পড়াশোনা করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এখানে তেমন প্রযোজ্য হবে না। আমরা মানছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি আপৎকালীন ব্যবস্থা নিতে চেয়েছে। সংশ্লিষ্টজন নিশ্চয়ই চেষ্টা করেছেন সবচেয়ে ভালো বিকল্প বের করতে; কিন্তু বলতেই হবে মন্ত্রণালয় ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়ার কথা কম ভেবে নিজেদের নির্ঝঞ্ঝাটে রাখার বিষয়টি ভেবেছে বেশি। অথবা বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করতে চায়নি।

প্রথমেই বিবেচনায় রাখার কথা বিশেষ পরিস্থিতিতে ছয় মাস বা এক বছরের ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে নেয়া যাবে; কিন্তু শিক্ষা শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের ভিত্তির জায়গায় বড় দুর্বলতা তৈরি হবে। এই যে, স্কুল পর্যায়ে অটো পাসে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উঠবে, তাহলে সে সিলেবাসের গ্যাপ পূরণ করবে কীভাবে? নির্দিষ্ট ধারণা থেকে এক এক শ্রেণির সিলেবাস তৈরি হয়। সেই পাঠ শিক্ষক ক্লাসে পড়িয়ে শেষ করেন। এ জ্ঞান নিয়ে শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়। এভাবেই সে আগের ক্লাসের শিক্ষার সঙ্গে সংযোগ ঘটায় নতুন সিলেবাসের।

এখন নিজ ক্লাসের পাঠ সম্পন্ন না করে ওপরের ক্লাসের সিলেবাসের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা সম্ভব হলেও স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে সপ্তাহে অ্যাসাইনমেন্ট লিখে এ ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। এ সত্যটি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, অনলাইন ক্লাস ও টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ভার্চুয়াল ক্লাসে গড়পরতা পঞ্চাশ শতাংশের কম শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। সুতরাং শিক্ষাবর্ষের গতিধারা ঠিক রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ভিত্তিমূল দুর্বল করে দেয়ার ক্ষতি আমাদের দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে।

কী বিবেচনায় এইচএসসির অটো পাসের ছক করা হল তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে আমি এর আগেও জাতীয় দৈনিকে লিখেছি। আমরা ভুলে যাই শিক্ষার বিন্যাসে এইচএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এসএসসি পর্যন্ত স্কুল পাঠের ধারাবাহিকতা থাকে। এইচএসসিতে এসে শিক্ষার্থী সিলেবাস ও বইপত্রে একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করে। আঙ্গিকটি অনেকটা বড়। তাই এসএসসির ফল যদি জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড়ে করা হয় তবে তা অবশ্যই অবৈজ্ঞানিক হবে এবং তা অনেক শিক্ষার্থীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আবার এ ফল নিয়েই শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেবে। অবস্থা দেখে অনেকটা জগাখিচুড়ি দশাই মনে হচ্ছে।

অনেক কলেজ শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, পরীক্ষা হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছিল। বিভিন্ন সময় দেয়া পরামর্শে মনে হয়েছিল সিলেবাস ছোট করে দিয়ে দুই পত্রকে এক পত্র করে এক সপ্তাহে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে কলেজের কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যবহার করা যেত। তবুও মূল্যায়ন ছাড়া এইচএসসির অটো পাস থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব ছিল। বিশেষ করে এখন এদেশের মানুষ যতটা উন্মুক্তভাবে চলাফেরা করছে, অফিস-আদালতে যাচ্ছে, পরিজন নিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন বেড়াচ্ছে, এর চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এরই মধ্যে পত্রিকার রিপোর্টে জানলাম, উপাচার্য মহোদয়দের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এর কর্মপদ্ধতি কী হতে পারে তা নিয়ে শিক্ষকরা ভাবতে শুরু করেছিলেন। এ সময় আবার রিপোর্ট বেরোলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সরাসরি পরীক্ষা নেবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা কেন্দ্র বসাবে। আমরা মনে করি, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে যে পরীক্ষা নেয়া যায়, এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে অটো পাসের চিন্তা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অথচ এরই মধ্যে অতি সম্প্রতি দুটো প্রজ্ঞাপন জারি হল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়। একটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠি। এটি ৫ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সূত্রে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় চিঠিটির পরিসর আরেকটু বড়। এ চিঠিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রচারিত।

বিষয়টি ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২০-এ বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের পাঠানোর জন্য নির্দেশনামা। বিজ্ঞানমেলা এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের জড়ো করার উদ্যোগ তো সরকারি প্রতিষ্ঠানই নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কী জানা হল না। দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম থেমে নেই। তাহলে কেন স্বাস্থ্যবিধি মান্য করিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা ও সিলেবাসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা গেল না? এ পর্যন্ত পত্রপত্রিকার নানা লেখা ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন বিকল্প উপায় উত্থাপনের চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেসব বিবেচনা করার অবকাশ কোথায় বিধায়কদের!

মুশকিল হচ্ছে, এদেশে শিক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনেক সময়ই যথাযোগ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ পান না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তারা। এ প্রসঙ্গে আমার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ১৯৯৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অর্থাৎ এনসিটিবির সঙ্গে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম-সিলেবাস তৈরি এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও শিশুশিক্ষা ও গ্রন্থ প্রণয়নে সামান্য ভূমিকা থাকায় এ মহৎকর্মে আমাকে যুক্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু দিনে দিনে লক্ষ করলাম, লেখক-বিশেষজ্ঞ নির্বাচনেও যোগ্যতার বিচারের চেয়ে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেতে থাকে। এসব বিবেচনায় মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের গ্রন্থ প্রণয়নে এমন দু-একজন প্রতিথযশা অধ্যাপক-গবেষক যুক্ত হলেন, তারা স্কুলপাঠ্য গ্রন্থের জন্য গবেষণা প্রবন্ধের আলোকে মূল্যবান পাণ্ডুলিপি জমা দিতে লাগলেন। প্রভাবের জোরে সেসব বাদ দেয়াও যাবে না।

ফলে আমাদের নানাভাবে ছেঁটে ছেঁটে চলতে হতো। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভাষার সাবলীলতা বজায় রাখা সম্ভব হতো না। এখন যখন পরিচিতজনদের কেউ কেউ বলেন, এখনকার টেক্সট বুক বোর্ডের বইয়ের অনেক ক্ষেত্রে ভাষা এত আড়ষ্ট কেন, তখন উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যাই।

আমি মনে করি, আমাদের শিক্ষা ভাবনার সর্বত্রই হয়তো একই শূন্যতা কাজ করছে। তাই হয়তো পূর্বাপর নানা বিষয় বিবেচনায় না রেখে শিক্ষা সংকট মোচনে সব সরল সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে; যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সরলীকরণের অটো পাস দেখে এখন মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও অটো পাসের বায়না ধরেছে। গ্রেডের চিন্তা করে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন স্লোগানে যাবে না।

গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে অনেক ক্ষেত্রে যার যেখানে থাকার কথা নয়, তারা সেখানে থেকে দাপটের সঙ্গে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এর করুণ পরিণতি ভোগ করছে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

শিক্ষা সংকট মোচনে সহজ সমাধান কাম্য নয়

 এ কে এম শাহনাওয়াজ 
২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো সংকটের মুখে ব্যবস্থা নেয়া যখন অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত লাগসই না হলেও নিতে হয়। যেমন হয়েছিল ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে। তখন স্কুল পর্যায়ে অটো পাস নয়, অটো প্রমোশন দেয়া হয়েছিল। তবে কিছুটা বিলম্বে হলেও এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলো কিন্তু নেয়া হয়। এখন বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে মানবজাতি।

করোনা মহামারীর কারণে একসময় ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে মানুষকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অফিসপাড়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানায় অদেখা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের ভয়ে তালা পড়তে থাকে। বিশ্বময় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও পরে সতর্ক হয়ে যায় বাংলাদেশ সরকার। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষায় থাকার পরামর্শ দিতে থাকে। করোনা মোকাবেলায় সরকার নানা রকম পদক্ষেপ নেয়। তারপরও ‘অবুঝ’ ও ‘বিপ্লবী’ বাঙালিদের একটি বড় অংশকে বেশিদিন ঘরবন্দি রাখা যায়নি।

তবে মহামারী রূপে ভয়ংকরভাবে করোনা বিস্তার লাভ করেনি বাংলাদেশে। সতের কোটি মানুষের দেশে আট মাসে করোনায় সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো মৃত্যুর হিসাবকে মহামারী বলা যায় না। ষোল শতকের মাঝামাঝি বাংলার ভূখণ্ডে প্লেগ মহামারী রূপে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন জনসংখ্যাও কম ছিল। তারপরও শুধু গৌড়েই প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করত, যাদের সবাইকে দাফন করাও সম্ভব হতো না। ভাসিয়ে দেয়া হতো ভাগীরথী নদীতে।

আমাদের দূরদর্শী ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী অনেকের সমালোচনায় কর্ণপাত না করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক মাসের মাথায়ই ধাপে ধাপে পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসকরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা রাখেন। দু’মাসের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই খুলে যেতে থাকে। আশঙ্কাকে অমূলক প্রমাণ করে এসব প্রতিষ্ঠানে করোনার তেমন বিস্তারের কথা শোনা গেল না।

আরও দু-এক মাসের মধ্যে হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই স্বাভাবিক হয়ে আসতে লাগল। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতও খুলে যেতে লাগল। এখন তো সবই প্রায় স্বাভাবিক। স্বাভাবিকতার পরিমাপক হিসেবে বলা যায়, রাজধানী আবার যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা আগের চরিত্রে ফিরে এসেছে। নিরাপত্তার কথা বলে শুধু বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের ও পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে চলছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম।

এমন এক বাস্তবতায় শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তেমনভাবে বিবেচনায় না রেখে কয়েকটি সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে গ্রহণ করল, তাতে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে মনে করি, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাক্রমের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। আমি এ মাটির শিক্ষার কথা বলছি।

যাদের সন্তানরা আমাদের সাধারণ শিক্ষার ছকে পড়ালেখা করছে না বা বিদেশে পড়াশোনা করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এখানে তেমন প্রযোজ্য হবে না। আমরা মানছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি আপৎকালীন ব্যবস্থা নিতে চেয়েছে। সংশ্লিষ্টজন নিশ্চয়ই চেষ্টা করেছেন সবচেয়ে ভালো বিকল্প বের করতে; কিন্তু বলতেই হবে মন্ত্রণালয় ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়ার কথা কম ভেবে নিজেদের নির্ঝঞ্ঝাটে রাখার বিষয়টি ভেবেছে বেশি। অথবা বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করতে চায়নি।

প্রথমেই বিবেচনায় রাখার কথা বিশেষ পরিস্থিতিতে ছয় মাস বা এক বছরের ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে নেয়া যাবে; কিন্তু শিক্ষা শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের ভিত্তির জায়গায় বড় দুর্বলতা তৈরি হবে। এই যে, স্কুল পর্যায়ে অটো পাসে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উঠবে, তাহলে সে সিলেবাসের গ্যাপ পূরণ করবে কীভাবে? নির্দিষ্ট ধারণা থেকে এক এক শ্রেণির সিলেবাস তৈরি হয়। সেই পাঠ শিক্ষক ক্লাসে পড়িয়ে শেষ করেন। এ জ্ঞান নিয়ে শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়। এভাবেই সে আগের ক্লাসের শিক্ষার সঙ্গে সংযোগ ঘটায় নতুন সিলেবাসের।

এখন নিজ ক্লাসের পাঠ সম্পন্ন না করে ওপরের ক্লাসের সিলেবাসের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা সম্ভব হলেও স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে সপ্তাহে অ্যাসাইনমেন্ট লিখে এ ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। এ সত্যটি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, অনলাইন ক্লাস ও টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ভার্চুয়াল ক্লাসে গড়পরতা পঞ্চাশ শতাংশের কম শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। সুতরাং শিক্ষাবর্ষের গতিধারা ঠিক রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ভিত্তিমূল দুর্বল করে দেয়ার ক্ষতি আমাদের দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে।

কী বিবেচনায় এইচএসসির অটো পাসের ছক করা হল তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে আমি এর আগেও জাতীয় দৈনিকে লিখেছি। আমরা ভুলে যাই শিক্ষার বিন্যাসে এইচএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এসএসসি পর্যন্ত স্কুল পাঠের ধারাবাহিকতা থাকে। এইচএসসিতে এসে শিক্ষার্থী সিলেবাস ও বইপত্রে একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করে। আঙ্গিকটি অনেকটা বড়। তাই এসএসসির ফল যদি জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড়ে করা হয় তবে তা অবশ্যই অবৈজ্ঞানিক হবে এবং তা অনেক শিক্ষার্থীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আবার এ ফল নিয়েই শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেবে। অবস্থা দেখে অনেকটা জগাখিচুড়ি দশাই মনে হচ্ছে।

অনেক কলেজ শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, পরীক্ষা হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছিল। বিভিন্ন সময় দেয়া পরামর্শে মনে হয়েছিল সিলেবাস ছোট করে দিয়ে দুই পত্রকে এক পত্র করে এক সপ্তাহে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে কলেজের কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যবহার করা যেত। তবুও মূল্যায়ন ছাড়া এইচএসসির অটো পাস থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব ছিল। বিশেষ করে এখন এদেশের মানুষ যতটা উন্মুক্তভাবে চলাফেরা করছে, অফিস-আদালতে যাচ্ছে, পরিজন নিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন বেড়াচ্ছে, এর চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এরই মধ্যে পত্রিকার রিপোর্টে জানলাম, উপাচার্য মহোদয়দের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এর কর্মপদ্ধতি কী হতে পারে তা নিয়ে শিক্ষকরা ভাবতে শুরু করেছিলেন। এ সময় আবার রিপোর্ট বেরোলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সরাসরি পরীক্ষা নেবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা কেন্দ্র বসাবে। আমরা মনে করি, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে যে পরীক্ষা নেয়া যায়, এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে অটো পাসের চিন্তা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অথচ এরই মধ্যে অতি সম্প্রতি দুটো প্রজ্ঞাপন জারি হল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়। একটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠি। এটি ৫ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সূত্রে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় চিঠিটির পরিসর আরেকটু বড়। এ চিঠিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রচারিত।

বিষয়টি ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২০-এ বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের পাঠানোর জন্য নির্দেশনামা। বিজ্ঞানমেলা এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের জড়ো করার উদ্যোগ তো সরকারি প্রতিষ্ঠানই নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কী জানা হল না। দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম থেমে নেই। তাহলে কেন স্বাস্থ্যবিধি মান্য করিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা ও সিলেবাসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা গেল না? এ পর্যন্ত পত্রপত্রিকার নানা লেখা ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন বিকল্প উপায় উত্থাপনের চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেসব বিবেচনা করার অবকাশ কোথায় বিধায়কদের!

মুশকিল হচ্ছে, এদেশে শিক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনেক সময়ই যথাযোগ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ পান না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তারা। এ প্রসঙ্গে আমার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ১৯৯৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অর্থাৎ এনসিটিবির সঙ্গে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম-সিলেবাস তৈরি এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও শিশুশিক্ষা ও গ্রন্থ প্রণয়নে সামান্য ভূমিকা থাকায় এ মহৎকর্মে আমাকে যুক্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু দিনে দিনে লক্ষ করলাম, লেখক-বিশেষজ্ঞ নির্বাচনেও যোগ্যতার বিচারের চেয়ে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেতে থাকে। এসব বিবেচনায় মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের গ্রন্থ প্রণয়নে এমন দু-একজন প্রতিথযশা অধ্যাপক-গবেষক যুক্ত হলেন, তারা স্কুলপাঠ্য গ্রন্থের জন্য গবেষণা প্রবন্ধের আলোকে মূল্যবান পাণ্ডুলিপি জমা দিতে লাগলেন। প্রভাবের জোরে সেসব বাদ দেয়াও যাবে না।

ফলে আমাদের নানাভাবে ছেঁটে ছেঁটে চলতে হতো। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভাষার সাবলীলতা বজায় রাখা সম্ভব হতো না। এখন যখন পরিচিতজনদের কেউ কেউ বলেন, এখনকার টেক্সট বুক বোর্ডের বইয়ের অনেক ক্ষেত্রে ভাষা এত আড়ষ্ট কেন, তখন উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যাই।

আমি মনে করি, আমাদের শিক্ষা ভাবনার সর্বত্রই হয়তো একই শূন্যতা কাজ করছে। তাই হয়তো পূর্বাপর নানা বিষয় বিবেচনায় না রেখে শিক্ষা সংকট মোচনে সব সরল সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে; যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সরলীকরণের অটো পাস দেখে এখন মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও অটো পাসের বায়না ধরেছে। গ্রেডের চিন্তা করে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন স্লোগানে যাবে না।

গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে অনেক ক্ষেত্রে যার যেখানে থাকার কথা নয়, তারা সেখানে থেকে দাপটের সঙ্গে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এর করুণ পরিণতি ভোগ করছে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]