‘যুদ্ধে পাঠিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলে মা’

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. আনছার আলী খান

চিরচেনা চত্বর বাংলাদেশ সচিবালয়। কতশত স্মৃতি এ চত্বরকে ঘিরে। দীর্ঘ চাকরিজীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে ইডেন ভবনকেন্দ্রিক বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে।

এই ভবনের সামনের চত্বরে মানুষের জটলা দেখে সামনে এগিয়ে গেলাম। দেখলাম উৎসব-মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মিছিল প্রসঙ্গে কতশত ঘটনা অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নানা দাবি আদায়ে কথায় কথায় মিছিল, মিটিং। সচিবালয় চত্বর ছাড়াও বিভিন্ন ভবনের করিডরে স্লোগানের পর স্লোগান।

আশির দশকের শেষদিকে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হরতাল কর্মসূচিতে সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার কড়াকড়িতে দূর পথের অনেককেই সচিবালয়ে রাত কাটাতে দেখা যেত।

স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতি অফিস সময়ের কিছুটা আগেই মূল ফটকে দাঁড়িয়ে সরকারি কর্মচারীদের অফিসে আসার নিয়মানুবর্তিতা পর্যবেক্ষণ করার কারণেই সচিবালয়ে রাত কাটানোর ঘটনা।

রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে ক্ষমতা দখলের আপসহীন লড়াই দেশবাসী অনেক আগেই প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় দখলের সংগ্রামে বিজয় অর্জিত হলে আন্দোলনের ফসল কীভাবে নিজ ঘরে তোলা সম্ভব হয়, তাও পরীক্ষিত একটি বিষয়।

এ যেন রাজপ্রাসাদ দখল মানেই রাজ্য জয়। দাবি আদায়ের এক মোক্ষম অস্ত্র হরতাল কর্মসূচির যথেচ্ছ প্রয়োগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তো বটেই সব ক্ষেত্রেই এ অস্ত্রটি ইতিমধ্যেই ভোঁতা হয়ে গেছে বলেই মনে হয়।

সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে কর্মসূচির ডাক দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কারা ভোজন বিলাস চালিয়ে যান। নাম-পরিচয়হীন রাস্তার ভবঘুরেকে দিয়ে কারা ককটেল, বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে, রিকশা বা গাড়ি ভাংচুর করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

কোনো কিছুরই যথেচ্ছ প্রয়োগে তার কার্যকারিতা ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। আরেকভাবে বলা যেতে পারে, কোনো কিছুর যথেচ্ছা প্রয়োগে সহ্য করার ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

যেমন সাম্প্রতিককালের আলোচনার বিষয় নিয়েই বলা যেতে পারে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হলেও মশা তো মরে না। কারণ কয়েকটি হতে পারে। অতিরিক্ত ওষুধ ছিটানোর কারণে মশার সহ্য ক্ষমতা বেড়ে গেছে বা অন্য কোনো কারণ।

মশার প্রসঙ্গ যখন সামনে এসে গেল, তখন বলতেই হয় মশা প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় একটি কথা বলে এক প্রকার ফেঁসে গেছেন। তিনি বলেছেন যেসব বাড়ি-ঘরে মশা উৎপাদন করা হয়, সেসব বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

ব্যস, অভিজ্ঞজনরা গেলেন ক্ষেপে। শত চেষ্টা করেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব কিনা সে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের যেমন দায় রয়েছে, তেমনি দায় নগরবাসীরও বটে।

সিটি কর্পোরেশন যেমন মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকাল বেলায় মশার ডিম ও সন্ধ্যা বেলায় উড়ন্ত মশা মারার পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, তেমনি নগরবাসীও নিজ নিজ দখলীয় সীমানায় যাতে মশা উৎপাদন না হয় তার ব্যবস্থা করবেন।

দায়িত্বে অবহেলার জন্য যেমন মেয়রকে অভিযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, একইভাবে মশা উৎপাদনকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠা অবশ্যই এ বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার অন্তরায়। যদিও মশা আজকের বিষয় নয় তবুও রেসিসট্যান্স এর বর্ণনায় প্রাসঙ্গিক বলেই মশা প্রসঙ্গ।

আশির দশকে সচিবালয়ে কর্মচারী সংগঠনগুলো ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী। দাবি আদায়ে সে সংগঠনগুলোর কর্মতৎপরতা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ভাবিয়ে তুলত। পে-স্কেলের দাবিতে মারমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ তো বটেই কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ, অতঃপর গ্রেফতার করার ঘটনা বাংলাদেশ সচিবালয়ের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

যা প্রত্যক্ষ করার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। অধস্তন কর্মচারীর গায়ে হাত তোলার অজুহাত তুলে কোনো এক প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ এবং অনুরূপ আরেক ঘটনায় রাস্তায় সরকার পতনের আন্দোলনকে কীভাবে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছিল, তা কারও স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার কথা নয়। আরও ভুলে যাওয়ার কথা নয় তৎকালীন সময়ে কীভাবে ব্যাংক কর্মচারীদের আন্দোলনকে প্রতিহত করা হয়েছিল।

কীভাবে সচিবালয়ের কর্মচারীদের ভাংচুরের আন্দোলনকে সামাল দেয়া হয়েছিল। তবে সম্ভব হয়নি দীর্ঘদিনের অহেতুক পদোন্নতি বঞ্চিতদের দাবিকে অগ্রাহ্য করা।

সুশৃঙ্খল জোরদার আন্দোলনে দাবি পূরণে বাধ্য কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের ভুল স্বীকারেও বাধ্য হয়। তবে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে অনেক নিরীহকে খেসারত দিতে হয়েছে। এ সংস্কৃতি থেকে প্রশাসন যত তাড়াতাড়ি মুক্ত হতে পারবে ততই মঙ্গল বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন।

এক সময় ছিল যখন কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পক্ষেই একক রোজগারে মাস চালানো অসম্ভব ছিল। সবারই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। স্বামী-স্ত্রী দু’জনের চাকরিজীবীর সংসারে তুলনামূলক স্বস্তি বিরাজ করলেও যেহেতু স্বামী-স্ত্রী একই বাসায় অবস্থান করেন, অতএব বাসা ভাড়া দুজন পাবেন না এটায় ছিল নিয়ম।

একজনের প্রাপ্ত বাসা ভাড়ার টাকায় এক কক্ষের বাসাও যে ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়, তা অনেক পরে কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হওয়ার পর চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কিছুটা কল্যাণ সাধিত হয়। টানাপোড়েনের সংসারে কোনো উৎসবের জন্য বাড়তি খরচ মেটানোর মতো অর্থ কোথায়?

তাই বাঙালি মুসলমানের বছরে দুটি ঈদ উৎসব পালনে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য ন্যূনপক্ষে একটি করে নতুন পোশাক, নতুন জুতা স্যান্ডেল প্রভৃতি কিনতে যে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হতো, তা মেটানো হতো মূল বেতনের অর্ধেক অর্থ অগ্রিম বাবদ উত্তোলনের মাধ্যমে।

দুই ঈদে গৃহীত এ অর্থ অবশিষ্ট মাসগুলোতে কাটা হতো সমান কিস্তির মাধ্যমে। কাজেই পুরো বেতন উত্তোলন কোনো মাসেই সম্ভব হতো না। এরূপ অবস্থায় কর্মচারীদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে পাওয়া যায় দুই ঈদে পাওয়া মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা।

আরও পরে যুক্ত হয় বৈশাখী ভাতা, শিক্ষাভাতাসহ আরও কিছু সুবিধা। সর্বশেষ পে-স্কেলের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা যে পর্যায়ে বর্ধিত করা হয়েছে, তাতে সবাই খুশি হয়েছেন বলেই মনে হয়। কারণ কোনো এক সময় ছিল যখন পে-স্কেল ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্য মূল্য হু হু করে বেড়ে যেত।

শুরু হতো আন্দোলন- ঘোষিত পে-স্কেল মানি না, মানব না’ স্লোগানে কর্মচারী সংগঠনগুলো সচিবালয় গরম করে তুলত। পর্যায়ক্রমে পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাঝামাঝি পর্যায়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতার দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামত।

কর্মচারীদের আন্দোলনের ফসলের বেশিরভাগ অংশ কর্মকর্তাদের পকেটে উঠলেও এসব দাবি নিয়ে তাদের তো মাঠে নামা শোভা পায় না।

তবে কর্মচারীদের আন্দোলনে কোনো কর্মকর্তা বিরোধিতা করেছেন বলেও দেখা যায়নি। বিরোধিতা করবেনই বা কেন? তবে কর্মকর্তারা কোনো সময় মাঠে নামেননি তাও নয়। ১৯৯০-এ স্বৈরাচার পতন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তীকালে জনতার মঞ্চ প্রভৃতি আন্দোলনে সচিবালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থনদানের কথা কে না জানে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দলবাজের যে তকমা, তা মূলত দলবাজি নয়। সুবিধাবাদী চরিত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ অংশগ্রহণ করলেও শতকরা হিসেবে তা কত ভাগ।

পরোক্ষভাবে অধিকাংশ বাঙালি কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক থাকলেও নিশ্চিত জীবনের পরিবর্তে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়ানোর মতো সাহসী মানুষের সংখ্যা কতজন ছিলেন? মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মুখ্য শক্তি। জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করার পর বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র জমা দেয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমান্বয়ে সরকারি প্রশাসনসহ সর্ব ক্ষেত্রেই গৌণ হয়ে পড়লেন।

৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশাসনে অন্তর্ভুক্তির একটি প্রচেষ্টা নেয়া হলেও স্বাধীনতার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সেই ব্যাচটিকে নানা অজুহাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সে ব্যাচে কোনোই যোগ্য কর্মকর্তা ছিলেন না, এটা কোনোভাবেই ধারণা করা সঙ্গত ছিল না।

মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল, প্রশাসনযন্ত্রে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলপ্রীতি নিয়ে। প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো দলের লোক নন। সুবিধামতো যখন যেখানে সুবিধা সে দলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত জীবনলাভের প্রচেষ্টায় সুবিধামতো রঙ বদল ছাড়া কিছু নয়। এখন যেমন এ শ্রেণীর অধিকাংশ বঙ্গবন্ধুর নামে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন।

কিছুদিন আগেও অবস্থা ছিল পুরোটা ভিন্ন। হেফাজতের মতিঝিল অবস্থানের কয়েক ঘণ্টার অভিজ্ঞতা ছাড়াও ইতিহাসের উত্থান-পতনের সাক্ষী হিসেবে অনেকেই আমার অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করবেন।

গত ২২ মার্চ তারিখের অভিজ্ঞতা থেকে লিখতে গিয়ে বেশ কিছু সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়ে গেল। অনেকদিন পরে জরুরি এক কাজে ভর-দুপুরে সচিবালয়ে যেতে হয়েছিল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির বিষয়টি আগে থেকেই জানা থাকলেও না গিয়ে উপায় ছিল না। বেলা ১.৩০টার পর তেমন কাউকেই সিটে পাওয়া গেল না। কারও কারও সঙ্গে দেখা হল নিজ নিজ ভবনের নিচ তলায় জটলার মধ্যে। কারও সঙ্গে দেখা আমার অতি পরিচিত ৭ নম্বর ভবনের নিচে। মিছিল সংগঠিত করা হচ্ছে।

বিভিন্ন মিডিয়ার ক্যামেরা ঝলসে উঠছে। পুরনো কয়েক সহকর্মীর আহ্বানে সাড়া দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আমাকেও ছুঁয়ে গেল। বিহ্বলের মতো দেখলাম মন্ত্রী-সচিবের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছেন হাজারও কর্মকর্তা-কর্মচারী। কোনো দাবির মিছিল সেটি নয়। তা ছিল উৎসব মিছিল। তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভে উল্লসিত বাঙালি জাতি বিজয় উৎসবে মেতেছিল সেদিন। দলছুট আমি সে মিছিলে বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না। গর্বে বুকটি ভরে উঠল আমার। উপভোগ করতে লাগলাম হাজারো মানুষের সে আনন্দ মিছিল। মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল। প্রাপ্তির সে এক অন্য রকম অনুভূতি। মিছিলের পর মিছিল পেরিয়ে সচিবালয় থেকে বেরোতেই কষ্ট। অথচ কোনো এক সময় ভয়ে ভয়ে সচিবালয়ে যেতাম। ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে নানা অজুহাতে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এখনও মনকে পীড়া দেয়। সচিবালয় থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা পেরুতে সময় লাগল ২ ঘণ্টা। তারপরও কষ্ট হয়নি এই ভেবে যে, কলেজের লেখাপড়া ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সফলতা স্বচক্ষে দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

২০৪১ সালের সফলতা দেখার সৌভাগ্য আমার হবে না। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অনেক আগেই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। সে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে স্বর্গীয় মাকে সুখের সে বার্তাটি দিয়ে বলতে পারব, ‘তোমার দু-দুটি সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলে মা!’ তোমার আশা পূর্ণ হয়েছে।

তোমার রক্ত-মাংসে দেশের মাটি উর্বর হয়েছে। সে মাটিতে সোনা ফলছে। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে বলতে শিখেছি- আমরা বীরের জাতি।

মো. আনছার আলী খান : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব

[email protected]