চাই কূটনৈতিক সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক উদ্যোগ
jugantor
জো বাইডেনের অভিষেক
চাই কূটনৈতিক সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক উদ্যোগ

  এম হুমায়ুন কবির  

২০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা যখন কথা বলছি, তখন হয়তো বাইডেন প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তনটা একটা জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।

আমি নিজে ২০০৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। সে এক বিশাল ব্যাপার। লাখ লাখ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। যাই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে জো বাইডেন ও তার নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের এই শুভলগ্নে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আমরা তাদের শুভেচ্ছা জানাই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাচর্চা নিয়ে কিছু বলার আগে প্রথমে দেশটির বর্তমান প্রেক্ষিত অনুধাবন করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের ১ নম্বর শক্তি। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ও প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রসরমান।

সবকিছুতেই তারা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিকভাবে তারা বড় একটা বিপদ বা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ এবং বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এরকম একটা প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশকে তারা কী চোখে দেখছে এবং সেখানে আমাদের অবস্থান কোথায়, এটা বোঝা দরকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতোমধ্যে বাইডেন প্রশাসন এশিয়াকে যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তা কিছুটা পরিস্ফুট হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। যেমন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে; এ নিয়োগের মধ্য দিয়েই বোঝা যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন এশিয়াকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষ করে চীন এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর। এক্ষেত্রে ভারতও তালিকার মধ্যে আছে; বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলের শক্তি হিসেবে ভারতকে তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাইডেন প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে চীন সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। মিত্ররা থাকবে দ্বিতীয় সারিতে। এর পরের সারিতে থাকব আমরা। গত প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশ ও মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা মোটামুটি একটা কাঠামোগত জায়গার মধ্যে এসেছে।

২০১২ সালে পার্টনারশিপ ডায়ালগ, এরপর সিকিউরিটি ডায়ালগ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতার বিষয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সে জায়গাগুলোতে আমার ধারণা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কাঠামোগত সম্পর্কটা জোরদার হয়েছে। গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রের চারংগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত ছিল। এখন বাইডেন প্রশাসনের আমলে এগুলোকে সামনে রেখে কীভাবে আমরা আরও সামনে যেতে পারি, এ ব্যাপারে আমাদের চিন্তা ও কাজ করতে হবে।

আমি মনে করি, তিনটা জায়গাতে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রথম হচ্ছে নিরাপত্তাবিষয়ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশক্তি হিসাবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং নিরাপত্তার আঙ্গিক থেকেই তারা অন্যান্য বিষয় সাজানোর চেষ্টা করে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগটা আগে থেকেই ছিল। এখন সেটা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনার থাকবে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাইডেনের শাসনামলেও অটুট থাকবে বলে মনে করি। আমাদের রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের একক বৃহৎ বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে- বাইডেন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রণোদনা দেবে। আমাদের বাণিজ্য সম্পসারণের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।

এখন নতুন কংগ্রেসে যারা এসেছে, তারা জিএসপি আইনটা নতুন করে তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য নতুন একটা সুযোগ আসবে। এক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ-সুবিধা যাতে বাড়ে এ জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার একটা সুযোগ আছে।

প্রশাসনও আমাদের খানিকটা সহযোগিতা করতে পারে। এর পাশাপাশি আমরা যদি অভ্যন্তরীণভাবে কিছু সংস্কার করতে পারি, তাহলে আগামীতে যে জিএসপি কাঠামো তৈরি হবে; সেখানে আমাদের বক্তব্য আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

২০১৩ সালে যখন জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়, তখন আমাদের যেসব পণ্য তৈরির সক্ষমতা ছিল, গত সাত-আট বছরে এ সক্ষমতা অনেকগুণ বেড়েছে। আমাদের পণ্যও অনেক বেড়েছে। আমাদের সেসব পণ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠাতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তবে জিএসপি নিয়ে আমরা এখনো যথেষ্ট মনোযোগী নই। এ ব্যাপারে আরেকটু বেশি মনোযোগী হলে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই আমাদের সহযোগিতা করছে। মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি মিয়ানমারের যেসব সামরিক কর্মকর্তা রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সম্পৃক্ত, তাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় এসব অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। তবে একই সঙ্গে বাইডেনের সময় মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির একটা সম্ভাবনাও রয়েছে। এর দুটি কারণ- বাইডেন যখন ওবামা সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খানিকটা উষ্ণ ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার সফরও করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের সেই আগের সম্পর্কটা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে পারে মিয়ানমার।

অন্যদিকে মিয়ানমারের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে সচেষ্ট হতে পারে; চীনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর যে চাপ আছে, সেই চাপটা কমানোর জন্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের নজর দিতে হবে।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে যে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেই তা বোঝা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিতকরণ করা হবে। এর মধ্যে বেশকিছু বাংলাদেশিও রয়েছেন। তারা এবং তাদের আত্নীয়-স্বজনরা এর ফলে উপকৃত হবেন। অভিবাসনের সঙ্গে রেমিট্যান্সের বিষয়টি জড়িত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তিন নম্বর রেমিট্যান্স সোর্স। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা যদি নিয়মিত অবস্থায় যেতে পারে, তাদের আয়-রোজগার যদি ভালো হয়, তাহলে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়বে। তবে এই যে এত কথা আমরা বললাম, এর সুফল ঘরে তুলতে হলে সবার আগে দুটি জিনিস প্রয়োজন। একটি হলো, কূটনৈতিক সৃজনশীলতা। অপরটি হচ্ছে, রাজনৈতিক উদ্যোগ।

এম হুমায়ুন কবির : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের

সাবেক রাষ্ট্রদূত

জো বাইডেনের অভিষেক

চাই কূটনৈতিক সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক উদ্যোগ

 এম হুমায়ুন কবির 
২০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা যখন কথা বলছি, তখন হয়তো বাইডেন প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তনটা একটা জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।

আমি নিজে ২০০৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। সে এক বিশাল ব্যাপার। লাখ লাখ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। যাই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে জো বাইডেন ও তার নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের এই শুভলগ্নে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আমরা তাদের শুভেচ্ছা জানাই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাচর্চা নিয়ে কিছু বলার আগে প্রথমে দেশটির বর্তমান প্রেক্ষিত অনুধাবন করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের ১ নম্বর শক্তি। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ও প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রসরমান।

সবকিছুতেই তারা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিকভাবে তারা বড় একটা বিপদ বা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ এবং বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এরকম একটা প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশকে তারা কী চোখে দেখছে এবং সেখানে আমাদের অবস্থান কোথায়, এটা বোঝা দরকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতোমধ্যে বাইডেন প্রশাসন এশিয়াকে যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তা কিছুটা পরিস্ফুট হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। যেমন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে; এ নিয়োগের মধ্য দিয়েই বোঝা যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন এশিয়াকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষ করে চীন এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর। এক্ষেত্রে ভারতও তালিকার মধ্যে আছে; বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলের শক্তি হিসেবে ভারতকে তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাইডেন প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে চীন সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। মিত্ররা থাকবে দ্বিতীয় সারিতে। এর পরের সারিতে থাকব আমরা। গত প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশ ও মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা মোটামুটি একটা কাঠামোগত জায়গার মধ্যে এসেছে।

২০১২ সালে পার্টনারশিপ ডায়ালগ, এরপর সিকিউরিটি ডায়ালগ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতার বিষয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সে জায়গাগুলোতে আমার ধারণা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কাঠামোগত সম্পর্কটা জোরদার হয়েছে। গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রের চারংগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত ছিল। এখন বাইডেন প্রশাসনের আমলে এগুলোকে সামনে রেখে কীভাবে আমরা আরও সামনে যেতে পারি, এ ব্যাপারে আমাদের চিন্তা ও কাজ করতে হবে।

আমি মনে করি, তিনটা জায়গাতে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রথম হচ্ছে নিরাপত্তাবিষয়ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশক্তি হিসাবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং নিরাপত্তার আঙ্গিক থেকেই তারা অন্যান্য বিষয় সাজানোর চেষ্টা করে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগটা আগে থেকেই ছিল। এখন সেটা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনার থাকবে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাইডেনের শাসনামলেও অটুট থাকবে বলে মনে করি। আমাদের রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের একক বৃহৎ বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে- বাইডেন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রণোদনা দেবে। আমাদের বাণিজ্য সম্পসারণের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।

এখন নতুন কংগ্রেসে যারা এসেছে, তারা জিএসপি আইনটা নতুন করে তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য নতুন একটা সুযোগ আসবে। এক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ-সুবিধা যাতে বাড়ে এ জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার একটা সুযোগ আছে।

প্রশাসনও আমাদের খানিকটা সহযোগিতা করতে পারে। এর পাশাপাশি আমরা যদি অভ্যন্তরীণভাবে কিছু সংস্কার করতে পারি, তাহলে আগামীতে যে জিএসপি কাঠামো তৈরি হবে; সেখানে আমাদের বক্তব্য আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

২০১৩ সালে যখন জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়, তখন আমাদের যেসব পণ্য তৈরির সক্ষমতা ছিল, গত সাত-আট বছরে এ সক্ষমতা অনেকগুণ বেড়েছে। আমাদের পণ্যও অনেক বেড়েছে। আমাদের সেসব পণ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠাতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তবে জিএসপি নিয়ে আমরা এখনো যথেষ্ট মনোযোগী নই। এ ব্যাপারে আরেকটু বেশি মনোযোগী হলে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই আমাদের সহযোগিতা করছে। মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি মিয়ানমারের যেসব সামরিক কর্মকর্তা রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সম্পৃক্ত, তাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় এসব অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। তবে একই সঙ্গে বাইডেনের সময় মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির একটা সম্ভাবনাও রয়েছে। এর দুটি কারণ- বাইডেন যখন ওবামা সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খানিকটা উষ্ণ ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার সফরও করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের সেই আগের সম্পর্কটা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে পারে মিয়ানমার।

অন্যদিকে মিয়ানমারের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে সচেষ্ট হতে পারে; চীনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর যে চাপ আছে, সেই চাপটা কমানোর জন্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের নজর দিতে হবে।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে যে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেই তা বোঝা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিতকরণ করা হবে। এর মধ্যে বেশকিছু বাংলাদেশিও রয়েছেন। তারা এবং তাদের আত্নীয়-স্বজনরা এর ফলে উপকৃত হবেন। অভিবাসনের সঙ্গে রেমিট্যান্সের বিষয়টি জড়িত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তিন নম্বর রেমিট্যান্স সোর্স। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা যদি নিয়মিত অবস্থায় যেতে পারে, তাদের আয়-রোজগার যদি ভালো হয়, তাহলে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়বে। তবে এই যে এত কথা আমরা বললাম, এর সুফল ঘরে তুলতে হলে সবার আগে দুটি জিনিস প্রয়োজন। একটি হলো, কূটনৈতিক সৃজনশীলতা। অপরটি হচ্ছে, রাজনৈতিক উদ্যোগ।

এম হুমায়ুন কবির : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের

সাবেক রাষ্ট্রদূত

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন