বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক
jugantor
জো বাইডেনের অভিষেক
বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক

  ড. দেলোয়ার হোসেন  

২০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি নজিরবিহীন ও পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে জো বাইডেন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসাবে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি অবশ্যই সবার কাছে গুরুত্ব পাবে। বাইডেন প্রশাসন প্রথম দিনেই দুটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করবেন।

এর একটি হচ্ছে কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি বাতিল করা এবং অপরটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার প্যারিস ক্লাইমেট ডিলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এ দুটো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন একটি নতুন বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছেন।

এ প্রেক্ষাপটে আমরা যদি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে চাই, তাহলে প্রথমেই আমরা লক্ষ করব, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট হবে এবং সেটির গুরুত্ব আরও বাড়বে।

এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভারত নির্ভরশীলতা হয়তো থাকবে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিও হয়তো আমরা আরও বেশি মাত্রায় লক্ষ করব।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা পেতে পারে। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুর পেছনে রয়েছে মিয়ানমারের গণহত্যা এবং জাতিগত নিধনের মতো অপরাধ। আমরা জানি, জাতিগত নিধন ও গণহত্যা, এমনকি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মতো বিষয়গুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটরা বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সুতরাং বাইডেন প্রশাসন এ বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেবেন।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হেরিস ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন নারী হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া ও মিয়ানমারের অবস্থা সম্পর্কে তার একটি বিশেষ ধারণা আছে। ফলে এদিক থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে সে সুবিধাটি বাংলাদেশ পেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিউটি ফ্রি কোটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা আবার চালু করার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। কিন্তু গত চার বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করার সুযোগ হয়নি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের এসব বিষয়ে আরও বেশি খোলামেলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা সফল হবে সেটি সময় বলে দেবে।

তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সে পরিবেশটা বাইডেন প্রশাসনের নতুন পররাষ্ট্রনীতি, নতুনভাবে বিশ্বে আরও বেশি যুক্ত হওয়া, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফিরে আসার কারণেই সম্ভব হবে।

বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু একটি বড় সমস্যা। জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দৃষ্টিভঙ্গি, যেটি বারাক ওবামা প্যারিস ক্লাইমেট ডিল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে একটি নতুন ধারা উপস্থাপন করেছিলেন, দুঃজনকভাবে ট্রাম্প প্রশাসন সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে।

এখন সেই চুক্তিতে ফিরে আসা মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আরও বেশি সক্রিয় হওয়া। জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন রিসোর্সের অন্তর্ভুক্তি প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশ এগুলোর ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার এবং দেশের কূটনীতিতেও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব জলবায়ু তহবিল এবং জলবায়ু সংক্রান্ত সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবিদার। কারণ ১৭ কোটি মানুষের জলবায়ুর ঝুঁকি বাংলাদেশ মোকাবিলা করে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব-এর সবকিছুই বাইডেন প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে, যার ফলে দুদেশের সম্পর্কের ব্যাপকতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা লক্ষ করছি, বাংলাদেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। বিভিন্ন দেশে তাদের যে বিনিয়োগ, সেটি তাদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একটি পরিবর্তন আসবে।

সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবে। ফলে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের এ বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।

নিরাপত্তার যে বিষয়টি যেমন- ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির কারণে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগুলোর একটি বড় ক্ষেত্র হচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ইন্দো-প্যাসিফিক কিংবা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসন আরও তৎপর হবে।

সেদিক থেকে আমি মনে করি, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সম্ভাবনার দিকে এগোবে। তবে অবশ্যই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের নাক গলানো, যেটি তারা অনেক দেশেই করে থাকে, সেই প্রবণতাটি হয়তো থাকবে; তবে আগের মতো জোরালো থাকবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশেই যে ধরনের গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্যে পড়েছে তাতে এ বিষয়টিকে তারা পররাষ্ট্রনীতির দরকষাকষির জায়গা থেকে অনেকটাই দূরে রাখার চেষ্টা করবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জো বাইডেনের অভিষেক

বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক

 ড. দেলোয়ার হোসেন 
২০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি নজিরবিহীন ও পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে জো বাইডেন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসাবে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি অবশ্যই সবার কাছে গুরুত্ব পাবে। বাইডেন প্রশাসন প্রথম দিনেই দুটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করবেন।

এর একটি হচ্ছে কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি বাতিল করা এবং অপরটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার প্যারিস ক্লাইমেট ডিলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এ দুটো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন একটি নতুন বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছেন।

এ প্রেক্ষাপটে আমরা যদি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে চাই, তাহলে প্রথমেই আমরা লক্ষ করব, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট হবে এবং সেটির গুরুত্ব আরও বাড়বে।

এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভারত নির্ভরশীলতা হয়তো থাকবে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিও হয়তো আমরা আরও বেশি মাত্রায় লক্ষ করব।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা পেতে পারে। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুর পেছনে রয়েছে মিয়ানমারের গণহত্যা এবং জাতিগত নিধনের মতো অপরাধ। আমরা জানি, জাতিগত নিধন ও গণহত্যা, এমনকি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মতো বিষয়গুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটরা বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সুতরাং বাইডেন প্রশাসন এ বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেবেন।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হেরিস ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন নারী হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া ও মিয়ানমারের অবস্থা সম্পর্কে তার একটি বিশেষ ধারণা আছে। ফলে এদিক থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে সে সুবিধাটি বাংলাদেশ পেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিউটি ফ্রি কোটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা আবার চালু করার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। কিন্তু গত চার বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করার সুযোগ হয়নি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের এসব বিষয়ে আরও বেশি খোলামেলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা সফল হবে সেটি সময় বলে দেবে।

তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সে পরিবেশটা বাইডেন প্রশাসনের নতুন পররাষ্ট্রনীতি, নতুনভাবে বিশ্বে আরও বেশি যুক্ত হওয়া, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফিরে আসার কারণেই সম্ভব হবে।

বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু একটি বড় সমস্যা। জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দৃষ্টিভঙ্গি, যেটি বারাক ওবামা প্যারিস ক্লাইমেট ডিল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে একটি নতুন ধারা উপস্থাপন করেছিলেন, দুঃজনকভাবে ট্রাম্প প্রশাসন সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে।

এখন সেই চুক্তিতে ফিরে আসা মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আরও বেশি সক্রিয় হওয়া। জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন রিসোর্সের অন্তর্ভুক্তি প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশ এগুলোর ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার এবং দেশের কূটনীতিতেও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব জলবায়ু তহবিল এবং জলবায়ু সংক্রান্ত সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবিদার। কারণ ১৭ কোটি মানুষের জলবায়ুর ঝুঁকি বাংলাদেশ মোকাবিলা করে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব-এর সবকিছুই বাইডেন প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে, যার ফলে দুদেশের সম্পর্কের ব্যাপকতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা লক্ষ করছি, বাংলাদেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। বিভিন্ন দেশে তাদের যে বিনিয়োগ, সেটি তাদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একটি পরিবর্তন আসবে।

সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবে। ফলে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের এ বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।

নিরাপত্তার যে বিষয়টি যেমন- ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির কারণে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগুলোর একটি বড় ক্ষেত্র হচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ইন্দো-প্যাসিফিক কিংবা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসন আরও তৎপর হবে।

সেদিক থেকে আমি মনে করি, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সম্ভাবনার দিকে এগোবে। তবে অবশ্যই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের নাক গলানো, যেটি তারা অনেক দেশেই করে থাকে, সেই প্রবণতাটি হয়তো থাকবে; তবে আগের মতো জোরালো থাকবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশেই যে ধরনের গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্যে পড়েছে তাতে এ বিষয়টিকে তারা পররাষ্ট্রনীতির দরকষাকষির জায়গা থেকে অনেকটাই দূরে রাখার চেষ্টা করবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়