বাইডেনের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক
jugantor
বাইডেনের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক

  জোসেফ স্টিগলিটজ  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র ক’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মদদে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেল, তাতে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদকাল কতটা সুন্দরভাবে কাটবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। অবশ্য আমি মনে করি, কিছু বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। হঠাৎ করে সহিংস বা ইন্ধনদাতায় পরিণত হননি ট্রাম্প।

গত চার বছর ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যেভাবে তিনি আক্রমণ করেছেন এবং তাতে রিপাবলিকান পার্টির একশ্রেণির সদস্য যেভাবে সহায়তা জুগিয়েছেন, তাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ট্রাম্প কোনো কাণ্ড ঘটাবেন না, সেটাই বরং ছিল অপ্রত্যাশিত। হ্যাঁ, অভিযোগ জানাতে পারেন, ট্রাম্প যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না, সে বিষয়ে একটা পূর্ব সতর্কতামূলক বার্তা জারি করা যেত!

ট্রাম্প কিছু ধনীর জন্য কর কর্তন করেছেন, পরিবেশ নীতিকে উল্টো পথে ঘুরিয়েছেন, এমনকি সর্বোচ্চ আদালতে নিয়োগ দিয়েছেন ব্যবসাবান্ধব বিচারপতি। ট্রাম্পের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত, ট্রাম্পের কাছে মদদপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিরা কি জানতেন না, কার কাছে নিজ আত্মাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা?

এতদসত্ত্বেও ট্রাম্পের কাছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রত্যাশা করেছিলেন যারা, আমি বলব, হয় তারা ভেবেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে নয়তো তারা ঘটনাটিকে মোটেও পাত্তা দেননি।

যা হোক, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে যেখানে রেখে যাচ্ছেন, সেখান থেকে জো বাইডেনের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা কেমন হবে? এক্ষেত্রে আমি মনে করি, প্রাথমিক বিচার্যের বিষয় আছে কয়েকটা। এক. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প যে পথে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে দিলেন, সেখান থেকে উত্তরণের উপায় কী?

দুই. ট্রাম্প কি শুধু একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে থাকবেন, নাকি ট্রাম্প নামটিই এক গভীরতর জাতীয় সংকটের প্রতীক হয়ে থাকবে? অর্থাৎ ট্রাম্প কি নিছক একটা টিউমার ছিলেন, নাকি ক্যানসার হওয়ার পর সৃষ্ট টিউমার? তিন. গত চার বছরে যেসব শক্তি ও পক্ষ ট্রাম্পের উত্থান ও টিকে থাকার পেছনের নায়ক, তারা কি সক্রিয় থাকবেন, নাকি প্রশমিত হবেন?

সবচেয়ে বড় কথা, সব আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলে সেক্ষেত্রে সমাধানের উপায় কী হবে? আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর এ প্রশ্নগুলোই মুখ্য হয়ে উঠবে।

স্মরণ রাখা দরকার, ট্রাম্প কোনো একটা একক শক্তি বা পক্ষের প্রতিভূ নন। বরং ট্রাম্পের উত্থানের পেছনে বেশকিছু শক্তি ও পক্ষ যুক্ত। যেমন, গত দুই যুগ ধরে রিপাবলিকান পার্টি বিশ্বাস করে আসছে যে, তারা যে অভিজাত ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের স্বার্থ হাসিলের একমাত্র উপায় অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন।

মৌলবাদী, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী, জাতীয়তা এবং জনবাদী ধারার পরিপুষ্টি সাধনও ট্রাম্পের উত্থানের সহায়ক শক্তি। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হল, সাধারণত জাতীয়তা ও জনবাদী নীতিগুলো মোটা দাগে জনগণের পক্ষে যায় এবং সেগুলো ব্যবসায়ী অভিজাতদের বিরুদ্ধে ক্রিয়া করে।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা দেখেছি একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক দশকের পর দশকের অভিজ্ঞতায় এমন প্রতারণামূলক রাজনৈতিক দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা জনগণের ওপর সহজে প্রয়োগযোগ্য এবং কার্যকর।

ট্রাম্প ঘরানার কিছু রাজনীতিক নিজেদের লাভবান করতে ক্রমাগতভাবে এমন সব নীতির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন, যেগুলো মৌলিকভাবে জনবিরুদ্ধ অথচ তাদের সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ওই নীতিগুলো তাদের টিকে থাকার সহায়ক। ওই শ্রেণির ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো অভূতপূর্ব ও অনুকরণীয় নেতা, এ কথা মাথায় রাখতে হবে বাইডেনকে।

দ্বিতীয় বিষয়, প্রযুক্তি পরিচালিত মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় টনকে টন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিদিন প্রায় আলোর গতিতে বিস্তার লাভ করছে, অথচ এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা প্রায় শূন্য।

এদিকে মুখে যতই বলি, মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান হচ্ছে অর্থ; কিন্তু এখানে নব্য উদারবাদের নামে এমন নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যা কেবল সমাজের সুনির্দিষ্ট শ্রেণিকে অঢেল অর্থ ও সম্পদ উপার্জনের সুযোগ দেয়; কিন্তু অন্যান্য শ্রেণির উপার্জনকে ঠেলে দেয় বদ্ধ অবস্থার মধ্যে।

আমার সাম্প্রতিক বই ‘দ্য প্রাইস অফ ইনইকুয়ালিটি’তে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখিয়ে বলেছি, যে সমাজের উপার্জন ও সুযোগে অসাম্য ও বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে বৃহৎ পরিসরে বিরাজ করে, সে সমাজে ট্রাম্পের মতো বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিরা ক্ষমতা দখল না করে পারে না এবং যে সমাজে সুযোগ ও উপার্জনে ওই ধরনের অনায্য বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে, সেখানে অমার্জিত, শোষণপ্রবণ, পরধনলোভী, হায়েনা চরিত্রের বুলিসর্বস্ব ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়বেই, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ পরিবেশকে ব্যাহত না করে পারে না। এটাও জো বাইডেনের জন্য চ্যালেঞ্জ বটে।

তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগতভাবে যে ধরনের নেতিবাচক মূল্যবোধ সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলার পাশাপাশি (সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন আবার গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেজন্য আমি মনে করি, মার্কিন রাজনীতিতে অর্থের প্রাধান্য হ্রাস পাওয়া জরুরি।

এক্ষেত্রে জো বাইডেনের সামনে যেসব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করা হয়তো অসম্ভব নয়, তবে তাকে মাথায় রাখতে হবে, কোভিড-১৯ মহামারি কাক্সিক্ষত সমাধানকে অনেকটাই জটিল করে তুলবে, বিশেষত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। আমি এও বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সামনে দণ্ডায়মান দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো কেবল একজন ব্যক্তির পক্ষে বা শুধু এক মেয়াদে মেটানো সম্ভব নয়।

প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর : জায়েদ ইবনে আবুল ফজল

জোসেফ স্টিগলিটজ : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ

বাইডেনের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক

 জোসেফ স্টিগলিটজ 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র ক’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মদদে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেল, তাতে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদকাল কতটা সুন্দরভাবে কাটবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। অবশ্য আমি মনে করি, কিছু বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। হঠাৎ করে সহিংস বা ইন্ধনদাতায় পরিণত হননি ট্রাম্প।

গত চার বছর ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যেভাবে তিনি আক্রমণ করেছেন এবং তাতে রিপাবলিকান পার্টির একশ্রেণির সদস্য যেভাবে সহায়তা জুগিয়েছেন, তাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ট্রাম্প কোনো কাণ্ড ঘটাবেন না, সেটাই বরং ছিল অপ্রত্যাশিত। হ্যাঁ, অভিযোগ জানাতে পারেন, ট্রাম্প যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না, সে বিষয়ে একটা পূর্ব সতর্কতামূলক বার্তা জারি করা যেত!

ট্রাম্প কিছু ধনীর জন্য কর কর্তন করেছেন, পরিবেশ নীতিকে উল্টো পথে ঘুরিয়েছেন, এমনকি সর্বোচ্চ আদালতে নিয়োগ দিয়েছেন ব্যবসাবান্ধব বিচারপতি। ট্রাম্পের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত, ট্রাম্পের কাছে মদদপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিরা কি জানতেন না, কার কাছে নিজ আত্মাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা?

এতদসত্ত্বেও ট্রাম্পের কাছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রত্যাশা করেছিলেন যারা, আমি বলব, হয় তারা ভেবেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে নয়তো তারা ঘটনাটিকে মোটেও পাত্তা দেননি।

যা হোক, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে যেখানে রেখে যাচ্ছেন, সেখান থেকে জো বাইডেনের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা কেমন হবে? এক্ষেত্রে আমি মনে করি, প্রাথমিক বিচার্যের বিষয় আছে কয়েকটা। এক. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প যে পথে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে দিলেন, সেখান থেকে উত্তরণের উপায় কী?

দুই. ট্রাম্প কি শুধু একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে থাকবেন, নাকি ট্রাম্প নামটিই এক গভীরতর জাতীয় সংকটের প্রতীক হয়ে থাকবে? অর্থাৎ ট্রাম্প কি নিছক একটা টিউমার ছিলেন, নাকি ক্যানসার হওয়ার পর সৃষ্ট টিউমার? তিন. গত চার বছরে যেসব শক্তি ও পক্ষ ট্রাম্পের উত্থান ও টিকে থাকার পেছনের নায়ক, তারা কি সক্রিয় থাকবেন, নাকি প্রশমিত হবেন?

সবচেয়ে বড় কথা, সব আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলে সেক্ষেত্রে সমাধানের উপায় কী হবে? আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর এ প্রশ্নগুলোই মুখ্য হয়ে উঠবে।

স্মরণ রাখা দরকার, ট্রাম্প কোনো একটা একক শক্তি বা পক্ষের প্রতিভূ নন। বরং ট্রাম্পের উত্থানের পেছনে বেশকিছু শক্তি ও পক্ষ যুক্ত। যেমন, গত দুই যুগ ধরে রিপাবলিকান পার্টি বিশ্বাস করে আসছে যে, তারা যে অভিজাত ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের স্বার্থ হাসিলের একমাত্র উপায় অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন।

মৌলবাদী, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী, জাতীয়তা এবং জনবাদী ধারার পরিপুষ্টি সাধনও ট্রাম্পের উত্থানের সহায়ক শক্তি। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হল, সাধারণত জাতীয়তা ও জনবাদী নীতিগুলো মোটা দাগে জনগণের পক্ষে যায় এবং সেগুলো ব্যবসায়ী অভিজাতদের বিরুদ্ধে ক্রিয়া করে।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা দেখেছি একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক দশকের পর দশকের অভিজ্ঞতায় এমন প্রতারণামূলক রাজনৈতিক দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা জনগণের ওপর সহজে প্রয়োগযোগ্য এবং কার্যকর।

ট্রাম্প ঘরানার কিছু রাজনীতিক নিজেদের লাভবান করতে ক্রমাগতভাবে এমন সব নীতির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন, যেগুলো মৌলিকভাবে জনবিরুদ্ধ অথচ তাদের সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ওই নীতিগুলো তাদের টিকে থাকার সহায়ক। ওই শ্রেণির ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো অভূতপূর্ব ও অনুকরণীয় নেতা, এ কথা মাথায় রাখতে হবে বাইডেনকে।

দ্বিতীয় বিষয়, প্রযুক্তি পরিচালিত মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় টনকে টন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিদিন প্রায় আলোর গতিতে বিস্তার লাভ করছে, অথচ এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা প্রায় শূন্য।

এদিকে মুখে যতই বলি, মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান হচ্ছে অর্থ; কিন্তু এখানে নব্য উদারবাদের নামে এমন নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যা কেবল সমাজের সুনির্দিষ্ট শ্রেণিকে অঢেল অর্থ ও সম্পদ উপার্জনের সুযোগ দেয়; কিন্তু অন্যান্য শ্রেণির উপার্জনকে ঠেলে দেয় বদ্ধ অবস্থার মধ্যে।

আমার সাম্প্রতিক বই ‘দ্য প্রাইস অফ ইনইকুয়ালিটি’তে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখিয়ে বলেছি, যে সমাজের উপার্জন ও সুযোগে অসাম্য ও বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে বৃহৎ পরিসরে বিরাজ করে, সে সমাজে ট্রাম্পের মতো বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিরা ক্ষমতা দখল না করে পারে না এবং যে সমাজে সুযোগ ও উপার্জনে ওই ধরনের অনায্য বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে, সেখানে অমার্জিত, শোষণপ্রবণ, পরধনলোভী, হায়েনা চরিত্রের বুলিসর্বস্ব ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়বেই, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ পরিবেশকে ব্যাহত না করে পারে না। এটাও জো বাইডেনের জন্য চ্যালেঞ্জ বটে।

তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগতভাবে যে ধরনের নেতিবাচক মূল্যবোধ সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলার পাশাপাশি (সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন আবার গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেজন্য আমি মনে করি, মার্কিন রাজনীতিতে অর্থের প্রাধান্য হ্রাস পাওয়া জরুরি।

এক্ষেত্রে জো বাইডেনের সামনে যেসব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করা হয়তো অসম্ভব নয়, তবে তাকে মাথায় রাখতে হবে, কোভিড-১৯ মহামারি কাক্সিক্ষত সমাধানকে অনেকটাই জটিল করে তুলবে, বিশেষত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। আমি এও বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সামনে দণ্ডায়মান দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো কেবল একজন ব্যক্তির পক্ষে বা শুধু এক মেয়াদে মেটানো সম্ভব নয়।

প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর : জায়েদ ইবনে আবুল ফজল

জোসেফ স্টিগলিটজ : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০