এবারের ঈদ যেভাবে তাৎপর্যময় হয়ে উঠতে পারে
jugantor
এবারের ঈদ যেভাবে তাৎপর্যময় হয়ে উঠতে পারে

  ড. আহমেদ সুমন  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি উৎসবপ্রিয়। নিজ সামর্থ্যরে মধ্যে উৎসব করতে বাঙালি কার্পণ্য করে না। উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে কেনাকাটা করায়ও বাঙালি এগিয়ে। লকডাউনের মধ্যে ঈদ সামনে রেখে দোকানপাট, শপিংমল খুলে দেওয়া এবং ক্রেতাদের ভিড়ের দৃশ্যে সেটি প্রতীয়মান। এবং এতে অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতাও লক্ষণীয়। দীর্ঘ সময় ধরে সবকিছু বন্ধ রাখা যায় না।

অনেকদিন ধরে ঘরে থাকার মানসিকতাও সবার মধ্যে নেই। নেই সক্ষমতাও। দেশে অনেক মানুষের ঘরে সাতদিনের খাবার মজুত থাকে না। সুতরাং লকডাউনের মধ্যেও প্রায় সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভারতে কুম্ভমেলার আয়োজনে বিধিনিষেধ আরোপ না করায় সেখানে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত করোনা মহামারিকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। সচেতনতার দিকটি একেবারে উবে গেলে আমাদেরও সে অবস্থা হতে পারে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হলেও জনঘনত্বের দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২৬৫ জন বসবাস করে, যা রাশিয়া থেকে ১৪০ গুণ বেশি।

এ দেশে ব্যস্ত রাস্তায় গায়ের সঙ্গে গা লেগে চলাচল, ঈদযাত্রায় ঠেলাঠেলি আমাদের ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিতে পারে, সে ভাবনা আমাদের নিজেদেরই ভাবতে হবে। এমতাবস্থায় এবার ঈদে আমরা কিছু ভালো কাজ করার মনস্থির করে সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা করতে পারি। সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন পেশাজীবী হিসাবে আমাদের সবারই এই ভালো কাজ করোনাকেন্দ্রিক হতে পারে। করোনায় আর্থিকভাবে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র- সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

যার পক্ষে যেখানে সম্ভব, সেখানে সে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। এ সময় মানুষ মোটের ওপর কথাবার্তাও কম বলছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী মানুষ মোবাইল ফোন ও মোবাইল ড্যাটা ব্যবহার করে কথা বলাসহ শতকরা ২০ ভাগ কথা বলা কমিয়েছে। কম কথা বলা একটি ভালো দিক। এ ধারা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। বেশি কথায় ঝগড়াবিবাদ বাড়ে।

সাধারণ মানুষ বা পেশাজীবী হিসাবে কথা কম বলে ২০ ভাগ সাশ্রয়কৃত অর্থ এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা না করে আমরা সেই অর্থ অর্থকষ্টে থাকা আত্মীয়স্বজনকে দিতে পারি। জাকাতের কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি একসঙ্গে অনেকের মধ্যে বিতরণ না করে মোটাদাগে বেশি পরিমাণে অল্প কয়েকজনকে দিতে পারি। এতে একজনেরও অবস্থা বদলে গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে তা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

করোনা যেহেতু কমিউনিটি ট্রান্সমিট হয়েছে, সেহেতু পারতপক্ষে ছোটাছুটি না করি। কোলাকুলি, করমর্দন একেবারে পরিহার করি। বড় ব্যবসায়ী শ্রেণির ব্যক্তিরা মুনাফার বড় একটা অংশ নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে পারেন। একটা অংশ দিতে পারেন বুভুক্ষু মানুষদের, যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না এবং চাকরি করার সামর্থ্যও নেই।

ভাইরোলজিস্টরা করোনাকালের এ সময়ে ডাবল মাস্ক পরার কথা বলছেন। গত বছরই সরকার ‘মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক’ করে বিধি-বিধান জারি করেছে। লক্ষণীয়, এ জরুরি অনুসরণযোগ্য বিধানটির প্রয়োগিক চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। ডাবল মাস্ক দূরের কথা, সিঙ্গেল মাস্কও অনেকে পরিধান করেন না।

মাস্ক পরিধান না করলে জরিমানা করার ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রশাসনের সব বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। জরিমানার আর্থিক সীমা সীমিত হলেও তা করা জরুরি। ঈদ উপলক্ষ্যে সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির চিন্তাভাবনা করলে তা ভালো কাজ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

করোনাকেন্দ্রিক ভালো কাজে রাজনীতিকরা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রে বসবাসকারী সব মানুষই এক অর্থে রাজনীতির অংশ। এ কথা স্বীকার্য যে, রাজনীতির যে কদর্য রূপ আমাদের কাছে দৃশ্যমান, তা থেকে রাজনীতিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়। আবার এ কথাও সত্য, সমাজের কোনো অংশ থেকেই ভালো মানুষ বা ভালো দিক সম্পূর্ণ উবে যায়নি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন এবারের ঈদে নিু আয়ের বা আয়-উপার্জনের সংগতি নেই এমন ৩৬ লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ কৃষকসহ ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

নিু আয়ের মানুষের পরিবারপ্রতি আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এ বাবদ সরকারের ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাংলাদেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত উৎসাহব্যঞ্জক। বিগত বছরেও আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে দেখেছি। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হবে ক্ষমতাসীন দলের মাঠপর্যায়ের রাজনীতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নাম এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে বাস্তবে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দকৃতদের হাতে পৌঁছায়।

অর্থের সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। গত বছরও এ ধরনের খবরাখবর আমরা গণমাধ্যমে লক্ষ করেছি। জনপ্রতিনিধিরা একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। এবার ঈদে যেসব জনপ্রতিনিধি বরাদ্দকৃত অর্থ অসচ্ছল মানুষদের না দিয়ে নিজের সচ্ছল আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা এ ইচ্ছা পরিত্যাগ করতে পারলে তা ঈদে একটি ভালো কাজ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

আমরা লক্ষ করছি, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ঈদ সম্প্রীতিমূলক হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একযুগেরও বেশি সময় ধরে টানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি অনুরূপভাবে এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিগত দিনে ঈদে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

তবে এর পাশাপাশি ঈদের আগে-পরে রাজপথে একে-অপরকে দেখে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও থাকত। একটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া সাজা পেয়ে এখন অবশ্য প্যারোলে আছেন। তিনি অসুস্থ এবং করোনায় আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে ঈদ শুভেচ্ছা জানালে ঈদে প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি উদার ও ভালো কাজের নিদর্শন প্রকাশ পেতে পারে।

ড. আহমেদ সুমন : লেখক ও গবেষক

asumanarticle@gmail.com

এবারের ঈদ যেভাবে তাৎপর্যময় হয়ে উঠতে পারে

 ড. আহমেদ সুমন 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি উৎসবপ্রিয়। নিজ সামর্থ্যরে মধ্যে উৎসব করতে বাঙালি কার্পণ্য করে না। উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে কেনাকাটা করায়ও বাঙালি এগিয়ে। লকডাউনের মধ্যে ঈদ সামনে রেখে দোকানপাট, শপিংমল খুলে দেওয়া এবং ক্রেতাদের ভিড়ের দৃশ্যে সেটি প্রতীয়মান। এবং এতে অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতাও লক্ষণীয়। দীর্ঘ সময় ধরে সবকিছু বন্ধ রাখা যায় না।

অনেকদিন ধরে ঘরে থাকার মানসিকতাও সবার মধ্যে নেই। নেই সক্ষমতাও। দেশে অনেক মানুষের ঘরে সাতদিনের খাবার মজুত থাকে না। সুতরাং লকডাউনের মধ্যেও প্রায় সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভারতে কুম্ভমেলার আয়োজনে বিধিনিষেধ আরোপ না করায় সেখানে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত করোনা মহামারিকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। সচেতনতার দিকটি একেবারে উবে গেলে আমাদেরও সে অবস্থা হতে পারে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হলেও জনঘনত্বের দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২৬৫ জন বসবাস করে, যা রাশিয়া থেকে ১৪০ গুণ বেশি।

এ দেশে ব্যস্ত রাস্তায় গায়ের সঙ্গে গা লেগে চলাচল, ঈদযাত্রায় ঠেলাঠেলি আমাদের ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিতে পারে, সে ভাবনা আমাদের নিজেদেরই ভাবতে হবে। এমতাবস্থায় এবার ঈদে আমরা কিছু ভালো কাজ করার মনস্থির করে সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা করতে পারি। সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন পেশাজীবী হিসাবে আমাদের সবারই এই ভালো কাজ করোনাকেন্দ্রিক হতে পারে। করোনায় আর্থিকভাবে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র- সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

যার পক্ষে যেখানে সম্ভব, সেখানে সে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। এ সময় মানুষ মোটের ওপর কথাবার্তাও কম বলছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী মানুষ মোবাইল ফোন ও মোবাইল ড্যাটা ব্যবহার করে কথা বলাসহ শতকরা ২০ ভাগ কথা বলা কমিয়েছে। কম কথা বলা একটি ভালো দিক। এ ধারা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। বেশি কথায় ঝগড়াবিবাদ বাড়ে।

সাধারণ মানুষ বা পেশাজীবী হিসাবে কথা কম বলে ২০ ভাগ সাশ্রয়কৃত অর্থ এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা না করে আমরা সেই অর্থ অর্থকষ্টে থাকা আত্মীয়স্বজনকে দিতে পারি। জাকাতের কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি একসঙ্গে অনেকের মধ্যে বিতরণ না করে মোটাদাগে বেশি পরিমাণে অল্প কয়েকজনকে দিতে পারি। এতে একজনেরও অবস্থা বদলে গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে তা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

করোনা যেহেতু কমিউনিটি ট্রান্সমিট হয়েছে, সেহেতু পারতপক্ষে ছোটাছুটি না করি। কোলাকুলি, করমর্দন একেবারে পরিহার করি। বড় ব্যবসায়ী শ্রেণির ব্যক্তিরা মুনাফার বড় একটা অংশ নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে পারেন। একটা অংশ দিতে পারেন বুভুক্ষু মানুষদের, যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না এবং চাকরি করার সামর্থ্যও নেই।

ভাইরোলজিস্টরা করোনাকালের এ সময়ে ডাবল মাস্ক পরার কথা বলছেন। গত বছরই সরকার ‘মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক’ করে বিধি-বিধান জারি করেছে। লক্ষণীয়, এ জরুরি অনুসরণযোগ্য বিধানটির প্রয়োগিক চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। ডাবল মাস্ক দূরের কথা, সিঙ্গেল মাস্কও অনেকে পরিধান করেন না।

মাস্ক পরিধান না করলে জরিমানা করার ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রশাসনের সব বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। জরিমানার আর্থিক সীমা সীমিত হলেও তা করা জরুরি। ঈদ উপলক্ষ্যে সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির চিন্তাভাবনা করলে তা ভালো কাজ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

করোনাকেন্দ্রিক ভালো কাজে রাজনীতিকরা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রে বসবাসকারী সব মানুষই এক অর্থে রাজনীতির অংশ। এ কথা স্বীকার্য যে, রাজনীতির যে কদর্য রূপ আমাদের কাছে দৃশ্যমান, তা থেকে রাজনীতিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়। আবার এ কথাও সত্য, সমাজের কোনো অংশ থেকেই ভালো মানুষ বা ভালো দিক সম্পূর্ণ উবে যায়নি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন এবারের ঈদে নিু আয়ের বা আয়-উপার্জনের সংগতি নেই এমন ৩৬ লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ কৃষকসহ ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

নিু আয়ের মানুষের পরিবারপ্রতি আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এ বাবদ সরকারের ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাংলাদেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত উৎসাহব্যঞ্জক। বিগত বছরেও আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে দেখেছি। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হবে ক্ষমতাসীন দলের মাঠপর্যায়ের রাজনীতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নাম এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে বাস্তবে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দকৃতদের হাতে পৌঁছায়।

অর্থের সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। গত বছরও এ ধরনের খবরাখবর আমরা গণমাধ্যমে লক্ষ করেছি। জনপ্রতিনিধিরা একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। এবার ঈদে যেসব জনপ্রতিনিধি বরাদ্দকৃত অর্থ অসচ্ছল মানুষদের না দিয়ে নিজের সচ্ছল আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা এ ইচ্ছা পরিত্যাগ করতে পারলে তা ঈদে একটি ভালো কাজ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

আমরা লক্ষ করছি, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ঈদ সম্প্রীতিমূলক হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একযুগেরও বেশি সময় ধরে টানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি অনুরূপভাবে এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিগত দিনে ঈদে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

তবে এর পাশাপাশি ঈদের আগে-পরে রাজপথে একে-অপরকে দেখে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও থাকত। একটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া সাজা পেয়ে এখন অবশ্য প্যারোলে আছেন। তিনি অসুস্থ এবং করোনায় আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে ঈদ শুভেচ্ছা জানালে ঈদে প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি উদার ও ভালো কাজের নিদর্শন প্রকাশ পেতে পারে।

ড. আহমেদ সুমন : লেখক ও গবেষক

asumanarticle@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন