বিজয়ীর বেশে এলেন, বিজয়ী হয়েই স্থিত হলেন
jugantor
বিজয়ীর বেশে এলেন, বিজয়ী হয়েই স্থিত হলেন

  অধ্যাপক ড. এম এ মাননান  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০২১-এর প্রায় মধ্যভাগে বসে যখন এ লেখাটি লিখছি, তখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ২১৫টির বেশি দেশ-অঞ্চল কোভিড-১৯-এর অকল্পনীয় ছোবলে নাস্তানাবুদ। অতিমারির কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় সব দেশেই বিপর্যস্ত, শিক্ষাব্যবস্থা বিধ্বস্ত, যোগাযোগ ব্যবস্থা চলৎশক্তিহীন, ব্যবসা-বাণিজ্য আর শিল্পকারখানা মুখ থুবড়ে পড়ার পথে। বাঘা বাঘা দেশ যেখানে দিশেহারা, সেখানে স্বল্পবিত্তের বাংলাদেশে মানুষজন অনেকটা স্বস্তিতে: কলকারখানা চলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য হোঁচট খেলেও গতি আছে, খাদ্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক আছে, জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, বহু উন্নত দেশও যখন কোভিডের টিকা সংগ্রহ করতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ টিকা আবিষ্কার ও তৈরির প্রথম পর্বেই অগ্রিম চুক্তির মাধ্যমে টিকার ব্যবস্থা করেছে। এসব সম্ভব হয়েছে শুধু একজন মাত্র ব্যক্তির দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে, যাকে এক সময় স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকতে বাধ্য করেছিল অবৈধ সামরিক জান্তা; যার নেতৃত্বে ছিল তারই পিতার হত্যাকারীরা।

তখন সামরিক শাসনের জাঁতাকলে দেশ। সংবিধান স্থগিত, রাজনীতি নিষিদ্ধ, বাকস্বাধীনতা নির্বাসনে, গণতন্ত্র কবরে, অর্থনীতি ভঙ্গুর, দেশজুড়ে ভয়ের সংস্কৃতি আর চারদিকে শ্মশানের আতঙ্ক। একদিকে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ, আরেক দিকে সামরিক জান্তার বহুমাত্রিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আর বাধা। এসবের অচলায়তন ভেঙে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি নির্বাসন থেকে ফিরে এলেন, শক্তহাতে পিতার মতো অকুতোভয়ে হাতে নিলেন পিতার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা, যে দলের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। তিনি আমাদের সবার হৃদয়ের আসনে স্থান করে নেওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমরা বেঁচেছি, বাংলাদেশ বেঁচেছে, শেখ হাসিনা দ্বীপান্তর থেকে ফিরে এসেছিলেন বলে সামরিক স্বৈরাচারকবলিত বাংলাদেশে; যেখানে নিষিদ্ধ ছিল জাতির পিতার নাম মুখে নেওয়া, ক্ষমতাসীন ঘাতকদের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের বিচার চাওয়া, ইনডেমনিটির বিরুদ্ধে কথা বলা, রাজাকার পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ইতিহাস বিকৃতির মহাযজ্ঞ বন্ধ করা নিয়ে কথা বলা।

ফিরে এসেই নামলেন কঠিন জটিল-কুটিল-সংঘাতময় রাজনীতির ময়দানে অনেক অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অলিখিত যুদ্ধে। হাতে তুলে নিলেন আওয়ামী লীগের নৌকার বৈঠা, দিলেন নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, গর্জে উঠলেন রাজপথে জাতির পিতার হত্যার বিচার চেয়ে আর লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিতে নামলেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচারী সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয়ে উঠলেন আপসহীন প্রতিবাদী।

তিনি এলেন আলো হাতে, ধরলেন কান্ডারিহীন আওয়ামী লীগের ঝান্ডা। তিনি এমন প্রতিকূল পরিবেশে হাল ধরলেন, যখন আওয়ামী লীগে নানা রকম মতানৈক্য, মতবিরোধ আর সামরিক জান্তার দলভাঙার কূটকৌশলের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত দলের নেতাকর্মীরা। যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আসেননি; এসেছিলেন গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে, নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হাসিহারা মানুষের মুখে প্রস্ফুটিত শাপলার হাসি ফোটাতে।

দেশের আপামর জনগণ তার জনমুখী নেতৃত্বের কারণে মুগ্ধ হয়ে বারবার বসিয়েছে দেশের নেতৃত্বের আসনে, যিনি মাতৃস্নেহে দেশটাকে বুক আগলে ধরে রেখেছেন, যেন মানুষ ফিরে পেয়েছে এদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তার সেই গৌরবময় ফিরে আসার দিনটিতে বৃষ্টিমুখর উদ্যাপন দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তখন আমি ছিলাম দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজে। তিনি ফিরেছিলেন দিল্লি থেকেই। আমি গেলাম এপ্রিলে আর তিনি ফিরলেন মে মাসে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি ঢাকার রাস্তায় উল্লাসমুখর জনতার কাতারে থাকার এবং রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ শোনার সৌভাগ্য হলেও আমাদের প্রিয় নেত্রীর ফিরে আসার দিনটিতে দিল্লিতে থাকার কারণে তাকে বরণ করার জন্য সমবেত লাখো জনতার মিছিলে না-থাকতে পারার আক্ষেপ আজীবন বয়ে বেড়াব।

১৮ মে দিল্লির দৈনিক পত্রিকাগুলোয় তার নির্বাসিত জীবন থেকে বাংলাদেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে খবর থেকেই জানতে পারলাম, ঝড়-বৃষ্টির সে দিনটি ছিল লাখো মানুষের ঢলের দিন কুর্মিটোলা থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় হর্ষোৎফুল্ল জনতার মিছিল, গগনবিদারী স্লোগান, নেত্রীর কান্নাজড়িত ভাষণ।

তার ফিরে আসার দীর্ঘ ৪০ বছর পর মনে হয়, তিনি যদি জীবনবাজি রেখে ফিরে না-আসতেন, তাহলে বাংলাদেশের কী অবস্থা হতো? নিশ্চয়ই দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের রাহুগ্রাসে পতিত হতো; গণতন্ত্রের পুরোপুরি কবর রচনা হতে বেশি দিন সময় লাগত না, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনোকালেই সম্পন্ন হতো না, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান কল্পনাও করা যেত না; অনির্বাচিত অসাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটত না; সুশাসন প্রতিষ্ঠার ছিটেফোঁটাও আমরা দেখতে পেতাম না; এত কঠিনভাবে জঙ্গিবাদের দমন হতো না, যা হয়েছে বিশ্বের কাছে অনুসরণীয়।

আমরা আরও দেখতে পাই, কীভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সামরিক শাসকদের মসনদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, তখনকার দিশেহারা আওয়ামী লীগের হাল ধরে ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচনে হতবিহ্বল নেতৃত্বহীন দলকে ভূমিধস বিজয় উপহার দিয়েছিলেন, অনেক বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে ২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অতি সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হেফাজতের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র নির্মূল করে দিয়েছেন।

দেশে ফিরে এসে তিনি শুধু আওয়ামী লীগকেই সুসংগঠিত করেননি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একাত্ম সমমনা দলগুলোকে এক পতাকার তলে নিয়ে এসে অনন্য অসাধারণ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, সারা দেশে ঐক্যের প্রতীক হিসাবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। সমগ্র জাতি যখন পতিত হলো অমানিশার অন্ধকারে আর হয়ে গেল কান্ডারিবিহীন, তখনই তিনি দৃঢ়চিত্তে অকুতোভয়ে স্বাধীন বাংলার মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে শুরু করলেন জনগণের ভাত-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি, নির্বাসিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর নিষিদ্ধ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।

সারা দেশে সৃষ্টি করলেন গণজোয়ার সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে, দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে শুরু করলেন তার অনুপম রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। এক মঞ্চে এনে একত্রিত করলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে, আন্দোলনের ধারায় টেনে আনলেন দক্ষিণপন্থিদের, ছিয়াশিতে ভোট ডাকাতি হওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হয়ে বসলেন সংসদের অধিবেশনে, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সংঘটিত মিডিয়া-অভ্যুত্থানের নির্বাচনে গঠিত সংসদ বয়কট না-করে তিনি যুগপৎ শুরু করলেন সংসদের ভেতরে আর বাইরে আন্দোলন, যার ফলে এক জেনারেলের অশুভ ছায়ার উত্তরসূরি আরেক সামরিক সরকারকে সংসদ ভেঙে দিতে হলো মাত্র এক বছরের মাথায়।

সেই দশকের শেষদিকে এসে আবার অনুষ্ঠিত প্রহসনমূলক নির্বাচনে গঠিত সংসদও টিকতে পারেনি জননেত্রী বঙ্গকন্যার তীব্র আন্দোলনের মুখে, যার কারণে গণতান্ত্রিকতার আড়ালে কুচক্রী সামরিক সরকারকে বিদায় নিতে হলো নব্বই-এর শেষ মাসের প্রথম সপ্তাহে। এরপরও জননেত্রীকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি। একানব্বইয়ের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা জোট সরকার আবারও গণতন্ত্রকে পদদলিত করল, জনগণের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করল, কায়েম করল ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার’, স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে দিল রাজাকারদের গাড়িতে, প্রতিষ্ঠা করল দেশজুড়ে নিষ্ঠুরতার রাজনীতি আর হরণ করল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার।

জাতির এমন দুঃসময়ে এগিয়ে এলেন শেখ হাসিনা পিতার মতোই নির্ভীকচিত্তে, অনিশ্চয়তার তিমিরে হারিয়ে যাওয়া দেশকে বাঁচানোর জন্য ডাক দিলেন অসহযোগ আন্দোলনের, যার ফলে গঠিত হলো ‘জনতার মঞ্চ’ আর তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে জাতি ফিরে পেল ভোটের অধিকার। গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক সরকারের দিলেন নতুন অভিধা-ঐকমত্যের সরকার গঠন করে সৃষ্টি করলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের শাসনের পরিবর্তে ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের শাসন’, যা ছিল বাংলাদেশে জাতীয় ঐকমত্যের নতুন ধারণা।

এত গেল রাজনীতিতে তার সুদৃঢ় নেতৃত্বের কথা। চারবারের প্রধানমন্ত্রিত্ব তাকে অহংকারী করেনি; বরং প্রতিটি মেয়াদেই তার শাসনামলে তিনি বহুমাত্রিক দর্শন নিয়ে কাজ করেছেন এবং করছেন দেশের সমৃদ্ধির জন্য, জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য, দেশকে ডিজিটালাইজ করার জন্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এবং সর্বোপরি দেশকে উন্নত দেশের মর্যাদায় আসীন করার জন্য। তার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প কীভাবে দেশকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা দেশবাসী ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে করোনাকালে।

করোনা মহামারিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষা ক্ষেত্রে ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশাল ভূমিকা রাখছে। সত্যিকার অর্থে, উন্নত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই দেশের অর্থনীতিকে এ মহাসংকটে চলমান রেখেছে। শেখ হাসিনা যদি সেদিন ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে দেশে ফিরে না-আসতেন এবং অসীম সাহস আর দৃঢ়চেতা মনোবল নিয়ে নেতৃত্ব না-দিতেন, তাহলে আমরা আজ কী পর্যুদস্ত অবস্থায় পড়তাম, তা অনুমান করতেও গা শিউরে ওঠে। তারই অক্লান্ত চেষ্টায় মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মহামারিতে সারা দেশে সহায়-সম্বলহীনদের পাশে থেকে আশা-ভরসার প্রতীক হিসাবে জনগণের মন জয় করে নিয়েছেন। তাই তো তিনি আজ জননন্দিত যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক, নির্মোহ ব্যক্তিত্বের উদাহরণ।

দেশে ফেরার পর থেকেই বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা নিরন্তর বাংলার বাস্তবতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে, সম্পৃক্ত হয়ে, আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অবস্থা হৃদয়ঙ্গম করে লাজনম্র গৃহবধূ থেকে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক; যেমনটি তার বাবা ‘রাখাল বালক’ থেকে হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু, বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান। পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তিনি এখনো রাতদিন পরিশ্রম করছেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, মহামারির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে দেশের চলমান প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে আগামী বছর পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন আর ঢাকাবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন মেট্রোরেলের কাজ পরীক্ষামূলক চালুসহ প্রায় সমাপ্তির দ্বারে নিয়ে এসেছেন। এ মহান সফল রাষ্ট্রনায়ক আরও বহু বছর বেঁচে থেকে দেশকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এ-ই আমাদের প্রত্যাশা।

অধ্যাপক ড. এম এ মাননান : কলামিস্ট ও সাবেক উপাচার্য, বাউবি

বিজয়ীর বেশে এলেন, বিজয়ী হয়েই স্থিত হলেন

 অধ্যাপক ড. এম এ মাননান 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০২১-এর প্রায় মধ্যভাগে বসে যখন এ লেখাটি লিখছি, তখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ২১৫টির বেশি দেশ-অঞ্চল কোভিড-১৯-এর অকল্পনীয় ছোবলে নাস্তানাবুদ। অতিমারির কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় সব দেশেই বিপর্যস্ত, শিক্ষাব্যবস্থা বিধ্বস্ত, যোগাযোগ ব্যবস্থা চলৎশক্তিহীন, ব্যবসা-বাণিজ্য আর শিল্পকারখানা মুখ থুবড়ে পড়ার পথে। বাঘা বাঘা দেশ যেখানে দিশেহারা, সেখানে স্বল্পবিত্তের বাংলাদেশে মানুষজন অনেকটা স্বস্তিতে: কলকারখানা চলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য হোঁচট খেলেও গতি আছে, খাদ্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক আছে, জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, বহু উন্নত দেশও যখন কোভিডের টিকা সংগ্রহ করতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ টিকা আবিষ্কার ও তৈরির প্রথম পর্বেই অগ্রিম চুক্তির মাধ্যমে টিকার ব্যবস্থা করেছে। এসব সম্ভব হয়েছে শুধু একজন মাত্র ব্যক্তির দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে, যাকে এক সময় স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকতে বাধ্য করেছিল অবৈধ সামরিক জান্তা; যার নেতৃত্বে ছিল তারই পিতার হত্যাকারীরা।

তখন সামরিক শাসনের জাঁতাকলে দেশ। সংবিধান স্থগিত, রাজনীতি নিষিদ্ধ, বাকস্বাধীনতা নির্বাসনে, গণতন্ত্র কবরে, অর্থনীতি ভঙ্গুর, দেশজুড়ে ভয়ের সংস্কৃতি আর চারদিকে শ্মশানের আতঙ্ক। একদিকে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ, আরেক দিকে সামরিক জান্তার বহুমাত্রিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আর বাধা। এসবের অচলায়তন ভেঙে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি নির্বাসন থেকে ফিরে এলেন, শক্তহাতে পিতার মতো অকুতোভয়ে হাতে নিলেন পিতার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা, যে দলের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। তিনি আমাদের সবার হৃদয়ের আসনে স্থান করে নেওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমরা বেঁচেছি, বাংলাদেশ বেঁচেছে, শেখ হাসিনা দ্বীপান্তর থেকে ফিরে এসেছিলেন বলে সামরিক স্বৈরাচারকবলিত বাংলাদেশে; যেখানে নিষিদ্ধ ছিল জাতির পিতার নাম মুখে নেওয়া, ক্ষমতাসীন ঘাতকদের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের বিচার চাওয়া, ইনডেমনিটির বিরুদ্ধে কথা বলা, রাজাকার পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ইতিহাস বিকৃতির মহাযজ্ঞ বন্ধ করা নিয়ে কথা বলা।

ফিরে এসেই নামলেন কঠিন জটিল-কুটিল-সংঘাতময় রাজনীতির ময়দানে অনেক অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অলিখিত যুদ্ধে। হাতে তুলে নিলেন আওয়ামী লীগের নৌকার বৈঠা, দিলেন নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, গর্জে উঠলেন রাজপথে জাতির পিতার হত্যার বিচার চেয়ে আর লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিতে নামলেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচারী সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয়ে উঠলেন আপসহীন প্রতিবাদী।

তিনি এলেন আলো হাতে, ধরলেন কান্ডারিহীন আওয়ামী লীগের ঝান্ডা। তিনি এমন প্রতিকূল পরিবেশে হাল ধরলেন, যখন আওয়ামী লীগে নানা রকম মতানৈক্য, মতবিরোধ আর সামরিক জান্তার দলভাঙার কূটকৌশলের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত দলের নেতাকর্মীরা। যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আসেননি; এসেছিলেন গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে, নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হাসিহারা মানুষের মুখে প্রস্ফুটিত শাপলার হাসি ফোটাতে।

দেশের আপামর জনগণ তার জনমুখী নেতৃত্বের কারণে মুগ্ধ হয়ে বারবার বসিয়েছে দেশের নেতৃত্বের আসনে, যিনি মাতৃস্নেহে দেশটাকে বুক আগলে ধরে রেখেছেন, যেন মানুষ ফিরে পেয়েছে এদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তার সেই গৌরবময় ফিরে আসার দিনটিতে বৃষ্টিমুখর উদ্যাপন দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তখন আমি ছিলাম দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজে। তিনি ফিরেছিলেন দিল্লি থেকেই। আমি গেলাম এপ্রিলে আর তিনি ফিরলেন মে মাসে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি ঢাকার রাস্তায় উল্লাসমুখর জনতার কাতারে থাকার এবং রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ শোনার সৌভাগ্য হলেও আমাদের প্রিয় নেত্রীর ফিরে আসার দিনটিতে দিল্লিতে থাকার কারণে তাকে বরণ করার জন্য সমবেত লাখো জনতার মিছিলে না-থাকতে পারার আক্ষেপ আজীবন বয়ে বেড়াব।

১৮ মে দিল্লির দৈনিক পত্রিকাগুলোয় তার নির্বাসিত জীবন থেকে বাংলাদেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে খবর থেকেই জানতে পারলাম, ঝড়-বৃষ্টির সে দিনটি ছিল লাখো মানুষের ঢলের দিন কুর্মিটোলা থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় হর্ষোৎফুল্ল জনতার মিছিল, গগনবিদারী স্লোগান, নেত্রীর কান্নাজড়িত ভাষণ।

তার ফিরে আসার দীর্ঘ ৪০ বছর পর মনে হয়, তিনি যদি জীবনবাজি রেখে ফিরে না-আসতেন, তাহলে বাংলাদেশের কী অবস্থা হতো? নিশ্চয়ই দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের রাহুগ্রাসে পতিত হতো; গণতন্ত্রের পুরোপুরি কবর রচনা হতে বেশি দিন সময় লাগত না, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনোকালেই সম্পন্ন হতো না, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান কল্পনাও করা যেত না; অনির্বাচিত অসাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটত না; সুশাসন প্রতিষ্ঠার ছিটেফোঁটাও আমরা দেখতে পেতাম না; এত কঠিনভাবে জঙ্গিবাদের দমন হতো না, যা হয়েছে বিশ্বের কাছে অনুসরণীয়।

আমরা আরও দেখতে পাই, কীভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সামরিক শাসকদের মসনদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, তখনকার দিশেহারা আওয়ামী লীগের হাল ধরে ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচনে হতবিহ্বল নেতৃত্বহীন দলকে ভূমিধস বিজয় উপহার দিয়েছিলেন, অনেক বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে ২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অতি সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হেফাজতের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র নির্মূল করে দিয়েছেন।

দেশে ফিরে এসে তিনি শুধু আওয়ামী লীগকেই সুসংগঠিত করেননি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একাত্ম সমমনা দলগুলোকে এক পতাকার তলে নিয়ে এসে অনন্য অসাধারণ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, সারা দেশে ঐক্যের প্রতীক হিসাবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। সমগ্র জাতি যখন পতিত হলো অমানিশার অন্ধকারে আর হয়ে গেল কান্ডারিবিহীন, তখনই তিনি দৃঢ়চিত্তে অকুতোভয়ে স্বাধীন বাংলার মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে শুরু করলেন জনগণের ভাত-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি, নির্বাসিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর নিষিদ্ধ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।

সারা দেশে সৃষ্টি করলেন গণজোয়ার সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে, দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে শুরু করলেন তার অনুপম রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ। এক মঞ্চে এনে একত্রিত করলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে, আন্দোলনের ধারায় টেনে আনলেন দক্ষিণপন্থিদের, ছিয়াশিতে ভোট ডাকাতি হওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হয়ে বসলেন সংসদের অধিবেশনে, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সংঘটিত মিডিয়া-অভ্যুত্থানের নির্বাচনে গঠিত সংসদ বয়কট না-করে তিনি যুগপৎ শুরু করলেন সংসদের ভেতরে আর বাইরে আন্দোলন, যার ফলে এক জেনারেলের অশুভ ছায়ার উত্তরসূরি আরেক সামরিক সরকারকে সংসদ ভেঙে দিতে হলো মাত্র এক বছরের মাথায়।

সেই দশকের শেষদিকে এসে আবার অনুষ্ঠিত প্রহসনমূলক নির্বাচনে গঠিত সংসদও টিকতে পারেনি জননেত্রী বঙ্গকন্যার তীব্র আন্দোলনের মুখে, যার কারণে গণতান্ত্রিকতার আড়ালে কুচক্রী সামরিক সরকারকে বিদায় নিতে হলো নব্বই-এর শেষ মাসের প্রথম সপ্তাহে। এরপরও জননেত্রীকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি। একানব্বইয়ের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা জোট সরকার আবারও গণতন্ত্রকে পদদলিত করল, জনগণের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করল, কায়েম করল ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার’, স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে দিল রাজাকারদের গাড়িতে, প্রতিষ্ঠা করল দেশজুড়ে নিষ্ঠুরতার রাজনীতি আর হরণ করল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার।

জাতির এমন দুঃসময়ে এগিয়ে এলেন শেখ হাসিনা পিতার মতোই নির্ভীকচিত্তে, অনিশ্চয়তার তিমিরে হারিয়ে যাওয়া দেশকে বাঁচানোর জন্য ডাক দিলেন অসহযোগ আন্দোলনের, যার ফলে গঠিত হলো ‘জনতার মঞ্চ’ আর তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে জাতি ফিরে পেল ভোটের অধিকার। গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক সরকারের দিলেন নতুন অভিধা-ঐকমত্যের সরকার গঠন করে সৃষ্টি করলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের শাসনের পরিবর্তে ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের শাসন’, যা ছিল বাংলাদেশে জাতীয় ঐকমত্যের নতুন ধারণা।

এত গেল রাজনীতিতে তার সুদৃঢ় নেতৃত্বের কথা। চারবারের প্রধানমন্ত্রিত্ব তাকে অহংকারী করেনি; বরং প্রতিটি মেয়াদেই তার শাসনামলে তিনি বহুমাত্রিক দর্শন নিয়ে কাজ করেছেন এবং করছেন দেশের সমৃদ্ধির জন্য, জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য, দেশকে ডিজিটালাইজ করার জন্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এবং সর্বোপরি দেশকে উন্নত দেশের মর্যাদায় আসীন করার জন্য। তার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প কীভাবে দেশকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা দেশবাসী ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে করোনাকালে।

করোনা মহামারিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষা ক্ষেত্রে ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশাল ভূমিকা রাখছে। সত্যিকার অর্থে, উন্নত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই দেশের অর্থনীতিকে এ মহাসংকটে চলমান রেখেছে। শেখ হাসিনা যদি সেদিন ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে দেশে ফিরে না-আসতেন এবং অসীম সাহস আর দৃঢ়চেতা মনোবল নিয়ে নেতৃত্ব না-দিতেন, তাহলে আমরা আজ কী পর্যুদস্ত অবস্থায় পড়তাম, তা অনুমান করতেও গা শিউরে ওঠে। তারই অক্লান্ত চেষ্টায় মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মহামারিতে সারা দেশে সহায়-সম্বলহীনদের পাশে থেকে আশা-ভরসার প্রতীক হিসাবে জনগণের মন জয় করে নিয়েছেন। তাই তো তিনি আজ জননন্দিত যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক, নির্মোহ ব্যক্তিত্বের উদাহরণ।

দেশে ফেরার পর থেকেই বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা নিরন্তর বাংলার বাস্তবতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে, সম্পৃক্ত হয়ে, আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অবস্থা হৃদয়ঙ্গম করে লাজনম্র গৃহবধূ থেকে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক; যেমনটি তার বাবা ‘রাখাল বালক’ থেকে হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু, বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান। পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তিনি এখনো রাতদিন পরিশ্রম করছেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, মহামারির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে দেশের চলমান প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে আগামী বছর পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন আর ঢাকাবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন মেট্রোরেলের কাজ পরীক্ষামূলক চালুসহ প্রায় সমাপ্তির দ্বারে নিয়ে এসেছেন। এ মহান সফল রাষ্ট্রনায়ক আরও বহু বছর বেঁচে থেকে দেশকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এ-ই আমাদের প্রত্যাশা।

অধ্যাপক ড. এম এ মাননান : কলামিস্ট ও সাবেক উপাচার্য, বাউবি

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন