এই ভূতটার সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে দেখা হয়েছিল
jugantor
কিছুমিছু
এই ভূতটার সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে দেখা হয়েছিল

  মোকাম্মেল হোসেন  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোকমানের হাতে বড়সড়ো একটা কাচের বৈয়াম। বৈয়াম দেখে গুটি বেগম উৎফুল্ল হলো। বলল-

: হায় আল্লাহ সোবাহান! এইরকম একটা বৈয়াম যে আমার খুবই প্রয়োজন; এইটা তুমি বুঝতে পারলা কেমন কইরা!

গুটি বেগমের কথা শুনে লোকমান গম্ভীর হয়ে গেল। বিরস মুখে বলল-

: বুঝতে না-পারার কোনো কারণ নাই। তোমার মনের কথা, ভাব-ভালোবাসা, ইশারা-ইঙ্গিত আমি বুঝতে পারব আর আমার গুলা তুমি বুঝবা-এই লক্ষ্যেই তো বিধাতা দুইজনের জোড় বাইন্ধা দিছে।

: আহা রে! এমনভাবে বললা, যেন আমি কোনো কথা ঠোঁটের চিপা থেইকা বাইর করার আগেই তুমি সেইটা বুইঝা বইসা থাক!

গুটি বেগমের কথার জবাব না-দিয়ে রান্নাঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে শোবার ঘরে ঢুকল লোকমান। দরজায় ছিটকানি দিয়ে বৈয়ামে ডানগাল ঠেকিয়ে নিচু গলায় বলল-

: কথা শুনছেন?

বৈয়ামের ভেতর থেকে চিঁ চিঁ সুরে ভেসে এলো-

: কার?

: গুটি বেগমের।

: তোমার বউ?

: হ।

: বউয়ের নাম গুটি বেগম?

: গুটি না, গোলগুটি।

: আমি আমার মানবজীবন প্লাস ভূতজীবনের এই এতটা বয়সে এই ধরনের নাম শুনি নাই।

: কেমনে শুনবেন! এইটা তো প্রচলিত নাম না, আরোপিত নাম। তার প্রকৃত নাম হইল কাজললতা। আমার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে ও পরে অল্প কিছুদিন নামের এ বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকলেও এক পর্যায়ে ‘লতা’ ফুলতে ফুলতে গুটির মতো গোল হইতেছে দেইখা তার নাম রাখলাম গোলগুটি বেগম; সংক্ষেপে গুটি বেগম।

জীবনে কখনো ভূতের হাসি শোনেনি লোকমান। এই প্রথম শুনল। তার মনে হলো, আচমকা কেউ সাইকেলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ফসফস শব্দের সেই হাসি থামার পর শোনা গেল-

: নাম পরিবর্তনের বিষয়টা বউ জানে?

: জানবে না কেন; অবশ্যই জানে।

: রাগ করে না?

: আরে না; বরং উপভোগ করে। সে কী বলে শুনতে চান? সে বলে- আমরা কি ইথিওপিয়ার বাসিন্দা নাকি-চামড়া ফুইট্টা হাড্ডিগুড্ডি বাইর হইয়া থাকবে? আমরা হইলাম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশের নাগরিক। আমাদের শরীর-স্বাস্থ্য দেইখা এই বিষয়টা যদি বোঝা না-যায়, তাইলে দেশের অপমান।

এ সময় দরজায় ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ শোনা গেল। দ্রুত বৈয়ামটা টেবিলের নিচে রেখে দরজা খুলতেই গুটি বেগমের মুখোমুখি হলো লোকমান। বারকয়েক লোকমানের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে গুটি বেগম জিজ্ঞেস করল-

: তুমি দরজা বন্ধ কইরা কী করতেছিলা?

: কিছু না।

: কিছু না; তাইলে দরজা বন্ধ করছ কোন কামে!

: কোনো কাম নাই।

: কাম নাই; তাইলে অকামটা কী?

: কোনো অকামও নাই।

: কাম নাই; অকামও নাই! তাইলে কি শুধু শুধু দরজা বন্ধ কইরা বইসা রইছো?

: হুঁ।

: দেখি তোমার ফোন।

লোকমান সুবোধ বালকের ন্যায় পকেট থেকে ফোন বের করে গুটি বেগমের হাতে দিল। গুটি বেগম ফোনের ‘কললিস্ট’ নিরীক্ষণ-পুনর্নিরীক্ষণ শেষে চোখ দুটো ছোট করে বলল-

: আমি দরজার ওইপাশ থেইকা স্পষ্ট শুনলাম- তুমি পুটুর পুটুর কইরা কারও সঙ্গে কথা কইতেছিলা। ঘটনার ব্যাপারে কোনো সংশয় নাই; অথচ এর কোনো লেংগুর খুঁইজ্যা পাইতেছি না, বিষয়টা বিস্ময়কর। বড়ই আচানক কারবার!

লোকমান কোনো কথা না-বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। গুটি বেগম ফোনটা বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে লোকমানের কানে হাত দিল। মাথাটা একপাশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে লোকমান বলল-

: কী হইল! কান ধরতেছ কেন?

: কানের ছিদ্রের মধ্যে কোনো যন্ত্র ফিট করছ কি না দেখতেছি। পত্রিকায় দেখছি-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পোলাপানরা কানের মধ্যে ডিভাইস ফিট কইরা টুকলিবাজি কইরা থাকে। সেইরকম কোনো ডিভাইসের সাহায্যে তুমিও কারও সঙ্গে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হইছো কি না, জানা দরকার।

গুটি বেগমের কথা শুনে লোকমান স্ফূর্তিমাখা গলায় বলল-

: দ্যাখ, ভালো কইরা দ্যাখ। কানের মধ্যে খৈল ছাড়া আর কোনো বস্তু পাবা না। গ্যারান্টি।

: লোকমানি গ্যারান্টির কোনো প্রয়োজন নাই আমার। তোমার কানের মধ্যে শুধু খৈল আছে; নাকি সেইখানে বুলবুলি বাসা বানাইছে-সেইটার তদন্ত সম্পন্ন করতে যা যা করা দরকার, সবই আমি করব।

হঠাৎ রান্নাঘর থেকে তরকারি পোড়ার গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় গুটি বেগমের তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটল। তরকারি সামলানোর জন্য রান্নাঘর অভিমুখে দৌড় দেওয়ার আগে লোকমানকে সে বৈয়ামসহ তার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেল। গুটি বেগমের নির্দেশ শুনে উতলা হয়ে বৈয়ামে মুখ ঠেকিয়ে লোকমান উচ্চারণ করল-

: এখন করণীয় কী?

: যা ভালো মনে হয় করো।

: আরে মরজ্বালা! আমার বুদ্ধিতে কুলাইলে কি আপনেরে পরামর্শক মানতাম?

: হুম। গুটি বেগমরে কও-বৈয়ামটা তুমি কিনছ জরুরি একটা কাজের জন্য।

: কী কাজ?

: মূত্র সংযোগ।

: মানে কী!

: মানে হইল, তুমি বৈয়ামটা কিনছ মূত্র রাখার জন্য।

: ধুরউ! ফাইজলামির একটা সীমা থাকা উচিত।

: আরে চেত কেন; কথা শোন আগে।

: কী কথা?

: তুমি বলবা-কয়দিন ধইরা তোমার কোমরের দুই পাশে ব্যথা অনুভূত হইতেছিল। বিষয়টা লইয়া ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর তিনি একটা কাচের বৈয়ামে ২৪ ঘণ্টার মূত্র জমা কইরা লইয়া যাইতে বলছে, যাতে পরীক্ষা কইরা নিশ্চিত হওয়া যায়-সমস্যাটা কিডনি সংক্রান্ত কি না।

: সত্য গোপন করব!

: হা! সংসার হইল একটা রঙ্গমঞ্চ আর তুমি হইলা এই রঙ্গমঞ্চের একজন অভিনেতা। মনে রাখবা, তোমার মনের মধ্যে কী সত্য লুকানো আছে, তা দর্শক-শ্রোতার সামনে প্রকাশের প্রয়োজন নাই। তারা শুধু দেখবে তোমার অভিনয়; শুনবে তোমার আওড়ানো সংলাপ।

রান্নাঘর থেকে গুটি বেগমের গলা ফাটানো চিৎকার ভেসে এলো। লোকমান বৈয়ামটা আগের জায়গায় রেখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার ভঙ্গিতে রান্নাঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই গুটি বেগম বলল-

: তোমার হাত খালি কেন; বৈয়াম কই?

: ওই ঘরে।

: বৈয়ামটা আনো।

: বৈয়াম দিয়া তুমি কী করবা?

: শুকনা বরই কিইনা রাখছি এক মাস আগে। সেইগুলা পোকায় খাইতেছে; বৈয়ামের অভাবে আচার দিতে পারতেছি না।

: কিন্তু এই বৈয়াম তো তুমি পাবা না।

: কেন?

: সমস্যা আছে।

: কী সমস্যা?

: ঠ্যাংয়ের ব্যথা লইয়া কী পরিমাণ যন্ত্রণা ভোগ করতেছি, এইটা তোমার অজানা নয়। অসহ্য হইয়া মাঝেমধ্যে তোমারে ঠ্যাং টিইপা দিতেও বলছি। বলি নাই?

: হুঁ।

: আল্লাহ মেহেরবান; অবশেষে এর সমাধান পাওয়া গেছে।

পায়ের বিষ-ব্যথা নিয়ে ভোগান্তির ঘটনা অসত্য নয়; গুটি বেগম তার নীরব সাক্ষী। গলার স্বর নরম করে সে জানতে চাইল-

: কী সমাধান!

: জোঁক চিকিৎসা। আমার এক কলিগ বলেছে, কয়েকটা জোঁক দিয়া শরীরের পচা রক্ত ভোজন করাইতে পারলেই বিষ-বেদনা থেইকা মুক্তি। খালি ঠ্যাং না; পুরা শরীর নির্বিষ, ঝরঝরা।

: কিন্তু তোমার বৈয়াম তো দেখলাম খালি!

: আরে ভরতে কতক্ষণ। ইউটিউব ঘাঁইট্যা এক মঘা কবিরাজের সন্ধান পাইছি-যে বড় একটা পাত্রে জীবন্ত জোঁকের প্রদর্শনীর আয়োজন কইরা ক্যানভাস করে আর ওষুধ বেচে। ওইখানে দেওয়া ফোন নম্বরে তার সঙ্গে যোগাযোগ কইরা ৫টা জোঁকের অর্ডার দিছি। আইজ বিকালে সেই জোঁক ডেলিভারি দেওয়ার কথা।

: ওইগুলা সে কৌটায় ভইরা আনবে না?

: এই ধরনের লোকজনের কোনোকিছুর ঠিক-ঠিকানা আছে রে পাগলা! দেখা গেল, জোঁকগুলো পলিথিনের ঠোঙায় লইয়া হাজির হইছে; তখন? আমি তোমারে কথা দিতেছি: আগামীকাল এইটার চাইতেও সৌন্দর্য, এইটার চাইতেও বড় একটা বৈয়াম তোমার হাতে তুইলা দিব। তুমি শুধু একটা দিনের জন্য ধৈর্য ধর।

পরদিন অফিসফেরত লোকমান গুটি বেগমের হাতে তার কাক্সিক্ষত বৈয়াম তুলে দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তবে তা অধিকক্ষণ স্থায়ী হলো না। হতবিহ্বল ভাব কেটে যেতেই লোকমান গুটি বেগমের কাছে কৈফিয়ত চাইল। গুটি বেগম হেসে বলল-

: আর কইও না! তুমি অফিসে যাওয়ার পর মাছওয়ালার কাছ থেইকা এক কেজি শিং মাছ কিইন্যা কাটতে বসছি-জিয়ল মাছ দেইখা আদানের শখ হইছে-সে একটা মাছ লইয়া পুকুর-পুকুর খেলবে। আমি ভাবলাম, তোমার বৈয়ামটা তো খালিই পইড়া রইছে, পোলাপান মানুষ শখ করছে-আইচ্ছা খেলুক। কেন, কী হইছে! তোমার মঘা কবিরাজ জোঁকের ডেলিভারি দিতে আইছে?

আদানের ভালো নাম আদমান ইবনে লোকমান। সে স্থানীয় একটা স্কুলে যষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আজব ভাইরাস করোনার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আদমানের স্কুল বন্ধ। ঘরবন্দি আদমান এখন চোখের সামনে যা পায়, তাই নিয়ে সময় পার করার চেষ্টা করে। আদমানের ঘরে ঢুকে দীর্ঘশ্বাস গোপন করে লোকমান বলল-

: শখ করার আর বস্তু পাইলা না মিয়া; অবশেষে শিং মাছ! তুমি কি জান, তোমার এই খেলা একজনের জন্য মরণের কারণ হইয়া দেখা দিছে।

: কার?

: একজন অসুস্থ ভূতের। তিনি এই বৈয়ামের মধ্যেই ছিলেন।

: যাও! মিছা কথা।

: বাবা মিথ্যা বলে না। শোন, গতকাল বিল দিতে বিদ্যুৎ অফিসে গেছিলাম। সেইখানে লাইনে দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করতেছি-এ সময় ওড়াউড়ি করতে গিয়া সিলিং ফ্যানের সঙ্গে টক্কর খাইয়া এক ভূত মুরুব্বি আমার ঘাড়ের ওপর পড়লেন। তার অবস্থা দেইখা প্রথমে ভাবলাম, পঙ্গু হাসপাতালে লইয়া যাই; যা করার তারাই করবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হইল-আমার কথা হাসপাতালের কেউ বিশ্বাস করবে না; বরং বিষয়টারে মেন্টাল কেইস হিসাবে ধইরা উলটা আমারেই পাশের মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি কইরা দিবে। তাই ওই পথে না-যাইয়া এই বৈয়ামে ভইরা ওনারে বাসায় আনছি সেবা-শুশ্রূষা কইরা সুস্থ করার জন্য। তোমার এই ঘটনার পর আল্লাহ মাবুদ জানেন-তিনি বাঁইচ্যা আছেন, নাকি মইরা গেছেন!

: সে তো মইরাই ভূত হইছে। নতুন কইরা আর কী মরবে!

লোকমান চমৎকৃত হলো। পুচি বাবা অতি সত্য কথা বলেছে। ভূত মিয়াসাবের মরার কোনো সুযোগ নাই। দ্রুত ঘরের এক কোনায় গিয়ে কান দুটো খাড়া করতেই একসঙ্গে অনেকগুলো ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনতে পেল লোকমান। ঢোক গিলে সে বলল-

: আপনি কী আছেন?

: আছি, আছি। তোমার কাছ থেইকা বিদায় না লইয়া যাই কেমনে!

: ঠিক আছেন তো!

: আর ঠিক-বেঠিক! অল্পের জন্য রক্ষা হইছে। তুমি অফিসে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি, বৈয়াম পানিতে সয়লাব। কোনোমতে নাকটা ভাসাইয়া দম নিতেছিলাম; কিন্তু একটা বজ্জাত শিং মাছ কাঁটা দিয়া গুঁতাইয়া অবস্থা এমন ছেড়াবেড়া করল, শেষে নিরুপায় হইয়া ‘এসওএস’ বার্তা প্রেরণ করলাম। বার্তা পাইয়া কয়েকজন ভূত আইসা সেই আজাব থেইকা আমারে উদ্ধার করছে।

এ সময় পাশ থেকে মিহি স্বরে শোনা গেল-

: জনাব, আমি হইলাম স্বাস্থ্যভূত। আপনে মানুষ হইয়া একজন ভূতের প্রতি যে মহানুভবতা দেখাইছেন, তা অতুলনীয়। এজন্য আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

স্বাস্থ্যভূতের কথা শেষ হতেই বিদ্যুৎভূতের কণ্ঠ শোনা গেল। লোকমানের নাম ধরে সে বলল-

: স্বাস্থ্যভূতের পরিচয় তো পাইলা। এইবার বাকিদের সঙ্গে পরিচয় হও। স্বাস্থ্যভূতের পাশে আছেন শিক্ষাভূত। তার পাশে ভূমিভূত। আর তার পাশেই আছেন দুদকভূত...

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ভূত থাকার কথা শুনে লোকমান আসমান থেকে পড়ল। অবাক হয়ে বলল-

: দুদকেও ভূত আছে!

লোকমানের কথা শুনে সব ভূত একসঙ্গে হেসে উঠল। হাসি থামার পর দুদকভূত বলল-

: জনাব, দেশের কোথায় আমরা নাই-সেইটা বরং জিজ্ঞাসা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেইকা সচিবালয়; প্রাইমারি বিদ্যালয় থেইকা বিশ্ববিদ্যালয়; তহশিল অফিস থেইকা ভূমি মন্ত্রণালয়; পৌরসভা থেইকা সিটি করপোরেশন; সুন্দরবন থেইকা পূর্তভবন; এক কথায় বাংলার জমিন থেইকা বাংলার আসমান; সব জায়গাতেই আমরা আছি।

দুদকভূতের বর্ণনা শুনে লোকমান বলল-

: আরে আল্লাহ! এইটা কি তাইলে একটা ভূতরাজ্য?

আরেক দফা হাসি শোনা গেল। এ সময় স্বাস্থ্যভূত লোকমানের কাছে জানতে চাইল-

: জনাবের বয়স কত হলো?

: গত ২৬ মার্চ ৫০ বছর পূর্ণ হইছে।

এ কথা শোনার পর স্বাস্থ্যভূত বলল-

: আশ্চর্য হইলাম! এইটা যে ভূতরাজ্য-এই সাধারণ বিষয়টা বুঝতে আপনার পঞ্চাশ বছর লাগল!

মোকাম্মেল হোসেন : সহকারী সম্পাদক, যুগান্তর

mokamia@hotmail.com

কিছুমিছু

এই ভূতটার সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে দেখা হয়েছিল

 মোকাম্মেল হোসেন 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোকমানের হাতে বড়সড়ো একটা কাচের বৈয়াম। বৈয়াম দেখে গুটি বেগম উৎফুল্ল হলো। বলল-

: হায় আল্লাহ সোবাহান! এইরকম একটা বৈয়াম যে আমার খুবই প্রয়োজন; এইটা তুমি বুঝতে পারলা কেমন কইরা!

গুটি বেগমের কথা শুনে লোকমান গম্ভীর হয়ে গেল। বিরস মুখে বলল-

: বুঝতে না-পারার কোনো কারণ নাই। তোমার মনের কথা, ভাব-ভালোবাসা, ইশারা-ইঙ্গিত আমি বুঝতে পারব আর আমার গুলা তুমি বুঝবা-এই লক্ষ্যেই তো বিধাতা দুইজনের জোড় বাইন্ধা দিছে।

: আহা রে! এমনভাবে বললা, যেন আমি কোনো কথা ঠোঁটের চিপা থেইকা বাইর করার আগেই তুমি সেইটা বুইঝা বইসা থাক!

গুটি বেগমের কথার জবাব না-দিয়ে রান্নাঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে শোবার ঘরে ঢুকল লোকমান। দরজায় ছিটকানি দিয়ে বৈয়ামে ডানগাল ঠেকিয়ে নিচু গলায় বলল-

: কথা শুনছেন?

বৈয়ামের ভেতর থেকে চিঁ চিঁ সুরে ভেসে এলো-

: কার?

: গুটি বেগমের।

: তোমার বউ?

: হ।

: বউয়ের নাম গুটি বেগম?

: গুটি না, গোলগুটি।

: আমি আমার মানবজীবন প্লাস ভূতজীবনের এই এতটা বয়সে এই ধরনের নাম শুনি নাই।

: কেমনে শুনবেন! এইটা তো প্রচলিত নাম না, আরোপিত নাম। তার প্রকৃত নাম হইল কাজললতা। আমার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে ও পরে অল্প কিছুদিন নামের এ বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকলেও এক পর্যায়ে ‘লতা’ ফুলতে ফুলতে গুটির মতো গোল হইতেছে দেইখা তার নাম রাখলাম গোলগুটি বেগম; সংক্ষেপে গুটি বেগম।

জীবনে কখনো ভূতের হাসি শোনেনি লোকমান। এই প্রথম শুনল। তার মনে হলো, আচমকা কেউ সাইকেলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ফসফস শব্দের সেই হাসি থামার পর শোনা গেল-

: নাম পরিবর্তনের বিষয়টা বউ জানে?

: জানবে না কেন; অবশ্যই জানে।

: রাগ করে না?

: আরে না; বরং উপভোগ করে। সে কী বলে শুনতে চান? সে বলে- আমরা কি ইথিওপিয়ার বাসিন্দা নাকি-চামড়া ফুইট্টা হাড্ডিগুড্ডি বাইর হইয়া থাকবে? আমরা হইলাম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশের নাগরিক। আমাদের শরীর-স্বাস্থ্য দেইখা এই বিষয়টা যদি বোঝা না-যায়, তাইলে দেশের অপমান।

এ সময় দরজায় ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ শোনা গেল। দ্রুত বৈয়ামটা টেবিলের নিচে রেখে দরজা খুলতেই গুটি বেগমের মুখোমুখি হলো লোকমান। বারকয়েক লোকমানের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে গুটি বেগম জিজ্ঞেস করল-

: তুমি দরজা বন্ধ কইরা কী করতেছিলা?

: কিছু না।

: কিছু না; তাইলে দরজা বন্ধ করছ কোন কামে!

: কোনো কাম নাই।

: কাম নাই; তাইলে অকামটা কী?

: কোনো অকামও নাই।

: কাম নাই; অকামও নাই! তাইলে কি শুধু শুধু দরজা বন্ধ কইরা বইসা রইছো?

: হুঁ।

: দেখি তোমার ফোন।

লোকমান সুবোধ বালকের ন্যায় পকেট থেকে ফোন বের করে গুটি বেগমের হাতে দিল। গুটি বেগম ফোনের ‘কললিস্ট’ নিরীক্ষণ-পুনর্নিরীক্ষণ শেষে চোখ দুটো ছোট করে বলল-

: আমি দরজার ওইপাশ থেইকা স্পষ্ট শুনলাম- তুমি পুটুর পুটুর কইরা কারও সঙ্গে কথা কইতেছিলা। ঘটনার ব্যাপারে কোনো সংশয় নাই; অথচ এর কোনো লেংগুর খুঁইজ্যা পাইতেছি না, বিষয়টা বিস্ময়কর। বড়ই আচানক কারবার!

লোকমান কোনো কথা না-বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। গুটি বেগম ফোনটা বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে লোকমানের কানে হাত দিল। মাথাটা একপাশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে লোকমান বলল-

: কী হইল! কান ধরতেছ কেন?

: কানের ছিদ্রের মধ্যে কোনো যন্ত্র ফিট করছ কি না দেখতেছি। পত্রিকায় দেখছি-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পোলাপানরা কানের মধ্যে ডিভাইস ফিট কইরা টুকলিবাজি কইরা থাকে। সেইরকম কোনো ডিভাইসের সাহায্যে তুমিও কারও সঙ্গে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হইছো কি না, জানা দরকার।

গুটি বেগমের কথা শুনে লোকমান স্ফূর্তিমাখা গলায় বলল-

: দ্যাখ, ভালো কইরা দ্যাখ। কানের মধ্যে খৈল ছাড়া আর কোনো বস্তু পাবা না। গ্যারান্টি।

: লোকমানি গ্যারান্টির কোনো প্রয়োজন নাই আমার। তোমার কানের মধ্যে শুধু খৈল আছে; নাকি সেইখানে বুলবুলি বাসা বানাইছে-সেইটার তদন্ত সম্পন্ন করতে যা যা করা দরকার, সবই আমি করব।

হঠাৎ রান্নাঘর থেকে তরকারি পোড়ার গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় গুটি বেগমের তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটল। তরকারি সামলানোর জন্য রান্নাঘর অভিমুখে দৌড় দেওয়ার আগে লোকমানকে সে বৈয়ামসহ তার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেল। গুটি বেগমের নির্দেশ শুনে উতলা হয়ে বৈয়ামে মুখ ঠেকিয়ে লোকমান উচ্চারণ করল-

: এখন করণীয় কী?

: যা ভালো মনে হয় করো।

: আরে মরজ্বালা! আমার বুদ্ধিতে কুলাইলে কি আপনেরে পরামর্শক মানতাম?

: হুম। গুটি বেগমরে কও-বৈয়ামটা তুমি কিনছ জরুরি একটা কাজের জন্য।

: কী কাজ?

: মূত্র সংযোগ।

: মানে কী!

: মানে হইল, তুমি বৈয়ামটা কিনছ মূত্র রাখার জন্য।

: ধুরউ! ফাইজলামির একটা সীমা থাকা উচিত।

: আরে চেত কেন; কথা শোন আগে।

: কী কথা?

: তুমি বলবা-কয়দিন ধইরা তোমার কোমরের দুই পাশে ব্যথা অনুভূত হইতেছিল। বিষয়টা লইয়া ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর তিনি একটা কাচের বৈয়ামে ২৪ ঘণ্টার মূত্র জমা কইরা লইয়া যাইতে বলছে, যাতে পরীক্ষা কইরা নিশ্চিত হওয়া যায়-সমস্যাটা কিডনি সংক্রান্ত কি না।

: সত্য গোপন করব!

: হা! সংসার হইল একটা রঙ্গমঞ্চ আর তুমি হইলা এই রঙ্গমঞ্চের একজন অভিনেতা। মনে রাখবা, তোমার মনের মধ্যে কী সত্য লুকানো আছে, তা দর্শক-শ্রোতার সামনে প্রকাশের প্রয়োজন নাই। তারা শুধু দেখবে তোমার অভিনয়; শুনবে তোমার আওড়ানো সংলাপ।

রান্নাঘর থেকে গুটি বেগমের গলা ফাটানো চিৎকার ভেসে এলো। লোকমান বৈয়ামটা আগের জায়গায় রেখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার ভঙ্গিতে রান্নাঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই গুটি বেগম বলল-

: তোমার হাত খালি কেন; বৈয়াম কই?

: ওই ঘরে।

: বৈয়ামটা আনো।

: বৈয়াম দিয়া তুমি কী করবা?

: শুকনা বরই কিইনা রাখছি এক মাস আগে। সেইগুলা পোকায় খাইতেছে; বৈয়ামের অভাবে আচার দিতে পারতেছি না।

: কিন্তু এই বৈয়াম তো তুমি পাবা না।

: কেন?

: সমস্যা আছে।

: কী সমস্যা?

: ঠ্যাংয়ের ব্যথা লইয়া কী পরিমাণ যন্ত্রণা ভোগ করতেছি, এইটা তোমার অজানা নয়। অসহ্য হইয়া মাঝেমধ্যে তোমারে ঠ্যাং টিইপা দিতেও বলছি। বলি নাই?

: হুঁ।

: আল্লাহ মেহেরবান; অবশেষে এর সমাধান পাওয়া গেছে।

পায়ের বিষ-ব্যথা নিয়ে ভোগান্তির ঘটনা অসত্য নয়; গুটি বেগম তার নীরব সাক্ষী। গলার স্বর নরম করে সে জানতে চাইল-

: কী সমাধান!

: জোঁক চিকিৎসা। আমার এক কলিগ বলেছে, কয়েকটা জোঁক দিয়া শরীরের পচা রক্ত ভোজন করাইতে পারলেই বিষ-বেদনা থেইকা মুক্তি। খালি ঠ্যাং না; পুরা শরীর নির্বিষ, ঝরঝরা।

: কিন্তু তোমার বৈয়াম তো দেখলাম খালি!

: আরে ভরতে কতক্ষণ। ইউটিউব ঘাঁইট্যা এক মঘা কবিরাজের সন্ধান পাইছি-যে বড় একটা পাত্রে জীবন্ত জোঁকের প্রদর্শনীর আয়োজন কইরা ক্যানভাস করে আর ওষুধ বেচে। ওইখানে দেওয়া ফোন নম্বরে তার সঙ্গে যোগাযোগ কইরা ৫টা জোঁকের অর্ডার দিছি। আইজ বিকালে সেই জোঁক ডেলিভারি দেওয়ার কথা।

: ওইগুলা সে কৌটায় ভইরা আনবে না?

: এই ধরনের লোকজনের কোনোকিছুর ঠিক-ঠিকানা আছে রে পাগলা! দেখা গেল, জোঁকগুলো পলিথিনের ঠোঙায় লইয়া হাজির হইছে; তখন? আমি তোমারে কথা দিতেছি: আগামীকাল এইটার চাইতেও সৌন্দর্য, এইটার চাইতেও বড় একটা বৈয়াম তোমার হাতে তুইলা দিব। তুমি শুধু একটা দিনের জন্য ধৈর্য ধর।

পরদিন অফিসফেরত লোকমান গুটি বেগমের হাতে তার কাক্সিক্ষত বৈয়াম তুলে দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তবে তা অধিকক্ষণ স্থায়ী হলো না। হতবিহ্বল ভাব কেটে যেতেই লোকমান গুটি বেগমের কাছে কৈফিয়ত চাইল। গুটি বেগম হেসে বলল-

: আর কইও না! তুমি অফিসে যাওয়ার পর মাছওয়ালার কাছ থেইকা এক কেজি শিং মাছ কিইন্যা কাটতে বসছি-জিয়ল মাছ দেইখা আদানের শখ হইছে-সে একটা মাছ লইয়া পুকুর-পুকুর খেলবে। আমি ভাবলাম, তোমার বৈয়ামটা তো খালিই পইড়া রইছে, পোলাপান মানুষ শখ করছে-আইচ্ছা খেলুক। কেন, কী হইছে! তোমার মঘা কবিরাজ জোঁকের ডেলিভারি দিতে আইছে?

আদানের ভালো নাম আদমান ইবনে লোকমান। সে স্থানীয় একটা স্কুলে যষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আজব ভাইরাস করোনার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আদমানের স্কুল বন্ধ। ঘরবন্দি আদমান এখন চোখের সামনে যা পায়, তাই নিয়ে সময় পার করার চেষ্টা করে। আদমানের ঘরে ঢুকে দীর্ঘশ্বাস গোপন করে লোকমান বলল-

: শখ করার আর বস্তু পাইলা না মিয়া; অবশেষে শিং মাছ! তুমি কি জান, তোমার এই খেলা একজনের জন্য মরণের কারণ হইয়া দেখা দিছে।

: কার?

: একজন অসুস্থ ভূতের। তিনি এই বৈয়ামের মধ্যেই ছিলেন।

: যাও! মিছা কথা।

: বাবা মিথ্যা বলে না। শোন, গতকাল বিল দিতে বিদ্যুৎ অফিসে গেছিলাম। সেইখানে লাইনে দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করতেছি-এ সময় ওড়াউড়ি করতে গিয়া সিলিং ফ্যানের সঙ্গে টক্কর খাইয়া এক ভূত মুরুব্বি আমার ঘাড়ের ওপর পড়লেন। তার অবস্থা দেইখা প্রথমে ভাবলাম, পঙ্গু হাসপাতালে লইয়া যাই; যা করার তারাই করবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হইল-আমার কথা হাসপাতালের কেউ বিশ্বাস করবে না; বরং বিষয়টারে মেন্টাল কেইস হিসাবে ধইরা উলটা আমারেই পাশের মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি কইরা দিবে। তাই ওই পথে না-যাইয়া এই বৈয়ামে ভইরা ওনারে বাসায় আনছি সেবা-শুশ্রূষা কইরা সুস্থ করার জন্য। তোমার এই ঘটনার পর আল্লাহ মাবুদ জানেন-তিনি বাঁইচ্যা আছেন, নাকি মইরা গেছেন!

: সে তো মইরাই ভূত হইছে। নতুন কইরা আর কী মরবে!

লোকমান চমৎকৃত হলো। পুচি বাবা অতি সত্য কথা বলেছে। ভূত মিয়াসাবের মরার কোনো সুযোগ নাই। দ্রুত ঘরের এক কোনায় গিয়ে কান দুটো খাড়া করতেই একসঙ্গে অনেকগুলো ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনতে পেল লোকমান। ঢোক গিলে সে বলল-

: আপনি কী আছেন?

: আছি, আছি। তোমার কাছ থেইকা বিদায় না লইয়া যাই কেমনে!

: ঠিক আছেন তো!

: আর ঠিক-বেঠিক! অল্পের জন্য রক্ষা হইছে। তুমি অফিসে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি, বৈয়াম পানিতে সয়লাব। কোনোমতে নাকটা ভাসাইয়া দম নিতেছিলাম; কিন্তু একটা বজ্জাত শিং মাছ কাঁটা দিয়া গুঁতাইয়া অবস্থা এমন ছেড়াবেড়া করল, শেষে নিরুপায় হইয়া ‘এসওএস’ বার্তা প্রেরণ করলাম। বার্তা পাইয়া কয়েকজন ভূত আইসা সেই আজাব থেইকা আমারে উদ্ধার করছে।

এ সময় পাশ থেকে মিহি স্বরে শোনা গেল-

: জনাব, আমি হইলাম স্বাস্থ্যভূত। আপনে মানুষ হইয়া একজন ভূতের প্রতি যে মহানুভবতা দেখাইছেন, তা অতুলনীয়। এজন্য আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

স্বাস্থ্যভূতের কথা শেষ হতেই বিদ্যুৎভূতের কণ্ঠ শোনা গেল। লোকমানের নাম ধরে সে বলল-

: স্বাস্থ্যভূতের পরিচয় তো পাইলা। এইবার বাকিদের সঙ্গে পরিচয় হও। স্বাস্থ্যভূতের পাশে আছেন শিক্ষাভূত। তার পাশে ভূমিভূত। আর তার পাশেই আছেন দুদকভূত...

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ভূত থাকার কথা শুনে লোকমান আসমান থেকে পড়ল। অবাক হয়ে বলল-

: দুদকেও ভূত আছে!

লোকমানের কথা শুনে সব ভূত একসঙ্গে হেসে উঠল। হাসি থামার পর দুদকভূত বলল-

: জনাব, দেশের কোথায় আমরা নাই-সেইটা বরং জিজ্ঞাসা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেইকা সচিবালয়; প্রাইমারি বিদ্যালয় থেইকা বিশ্ববিদ্যালয়; তহশিল অফিস থেইকা ভূমি মন্ত্রণালয়; পৌরসভা থেইকা সিটি করপোরেশন; সুন্দরবন থেইকা পূর্তভবন; এক কথায় বাংলার জমিন থেইকা বাংলার আসমান; সব জায়গাতেই আমরা আছি।

দুদকভূতের বর্ণনা শুনে লোকমান বলল-

: আরে আল্লাহ! এইটা কি তাইলে একটা ভূতরাজ্য?

আরেক দফা হাসি শোনা গেল। এ সময় স্বাস্থ্যভূত লোকমানের কাছে জানতে চাইল-

: জনাবের বয়স কত হলো?

: গত ২৬ মার্চ ৫০ বছর পূর্ণ হইছে।

এ কথা শোনার পর স্বাস্থ্যভূত বলল-

: আশ্চর্য হইলাম! এইটা যে ভূতরাজ্য-এই সাধারণ বিষয়টা বুঝতে আপনার পঞ্চাশ বছর লাগল!

মোকাম্মেল হোসেন : সহকারী সম্পাদক, যুগান্তর

mokamia@hotmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন