বাজেটের আকারের চেয়ে গুণগত মান বাড়ানো বেশি জরুরি
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
বাজেটের আকারের চেয়ে গুণগত মান বাড়ানো বেশি জরুরি

  ড. আর এম দেবনাথ  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। কতগুলো টাকা, ভাবা যায়! কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ীর এ টাকা থাকলে তাকে বাঙালি ‘ট্রিলনিয়ার’ বলা হতো। না, আমি ব্যক্তির কথা বলছি না। বলছি সরকারের কথা। সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা খরচ করবে। বাজেটে এ টাকা কোথায় কোথায় খরচ করা হবে তার হিসাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়-বিভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বেতন-ভাতায় কত, সুদ খরচে কত, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কত, উন্নয়ন কর্মসূচিতে কত- এভাবেও হিসাব দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার এসব হিসাব দেখলে মাথা ঘুরে যায়।

কয় টাকা দিয়ে আমাদের ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাজেট শুরু, আর আজ কত? মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা ছিল। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের বাজেট। সেই বাজেটের পরিমাণ, বাৎসরিক খরচের পরিমাণ ২০২১-২২ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা! কতগুণ বেশি, পাঠক তা হিসাব করে দেখতে পারেন। যদি ততগুণে মানুষের উপকার হতো, দেশের উন্নয়ন হতো, কর্মসংস্থান হতো, মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হতো, সংস্কারমুক্ত হতো- তাহলে বাংলাদেশ আজকে যে জায়গায় আছে, তার থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থান করত।

সত্যি তাই। সমস্যা হচ্ছে বরাদ্দ, টাকার হিসাবে বরাদ্দ সব ঠিক আছে। কিন্তু বরাদ্দ দিয়ে কী হবে? বরাদ্দের টাকা ঠিকমতো খরচ হয় না। অপচয়, অদক্ষতা, চুরি-চামারি-দুর্নীতির কারণে বরাদ্দের বিরাট অংশ বিফলে যায়। আবার অনেক সময় বরাদ্দে লুকোচুরি করা হয়। যেখানে যা থাকার কথা নয়, সেই খাতে অন্য খাতের টাকা ঢুকিয়ে বরাদ্দের পরিমাণকে স্ফীত দেখানো হয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

ধরা যাক ‘সামাজিক নিরাপত্তা বা সুরক্ষা’ খাতের কথা। খাতটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের বরাদ্দ গরিব, অতিগরিব, বেকার, অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি অসহায় মানুষকে বাঁচানোর জন্য। বাজার অর্থনীতির জাঁতাকলে যারা নিচে পড়ে যায়, যারা উঠে দাঁড়ানোর শক্তি হারায়, তাদের বাঁচিয়ে সমাজে প্রতিবাদ কমানোর উদেশ্যে এটি করা হয় বলে অনেকের ধারণা। সে যাই হোক, এটি এখন একটি প্রশংসিত সরকারি কাজ বলে পরিগণিত হয়েছে।

এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ, তার খরচের অবস্থা কী? ২০২১-২২ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৭ হজার ৬১৪ কোটি টাকা। বিশাল পরিমাণ টাকা মোট খরচের তুলনায়। দাবি করা হয়েছে, এতে কয়েক কোটি লোক উপকৃত হবে এবং এখনই হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু খরচের ভেতরের হিসাবে গেলে হোঁচট খেতে হয়।

একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দের ভেতর ঢুকে বসে আছে ‘পেনশনের টাকা’। এটা কাঠামোগত প্রশ্ন। পেনশনের টাকা সামাজিক সুরক্ষার ভেতরে কীভাবে ঢোকে? তাও এক-দুই টাকা নয়, ৩০ হাজার কোটি টাকা! পেনশন পায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরগ্রহণের পর। তারা সারা জীবন চাকরির পর এ পেনশন পায়। তারা মারা গেলে তাদের স্ত্রী-সন্তানরা পায়। এটা আজকের কথা নয়, বহুদিন ধরেই চলে আসছে। তখন ‘সামাজিক সুরক্ষা’ বলে কোনো শব্দের কথা শুনিনি।

ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পেত। এমন একটা খরচ, পেনশন বাবদ খরচ সামাজিক সুরক্ষায় ঢোকে কোন যুক্তিতে, তা একটু পরিষ্কার করা দরকার। আমার বিচারে এটা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রীতিমতো ‘দাবি ও পাওনার’ টাকা। পেনশনের টাকা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা সাহায্যের টাকা নয়। বিধবাদের সরকার ভাতা দিতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন সরকারকে ধার করে হলেও দিতে হবে, যতদিন না এ প্রথা তুলে দেওয়া হয়।

এমতাবস্থায় প্রশ্ন, অযথা কেন পেনশনের টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষায়’ ঢুকিয়ে এর বাজেটকে স্ফীত দেখানো? এর কোনো প্রয়োজনও নেই। আর আমি বুঝি না, যারা বাজেটের হিসাবপত্র করেন তারা তো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তারা কি মনে করেন পেনশনের টাকা সরকারের ইচ্ছামাফিক প্রদত্ত দয়া-দাক্ষিণ্যের টাকা? হিসাবের স্বচ্ছতার কারণে এ টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে দেখানো ঠিক নয় বলে আমি মনে করি। আমার ভুল হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবে আশা করি।

অবকাঠামোগত প্রশ্ন বাদে যে প্রশ্নটি আছে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক আছে, ধরে নিলাম পেনশনের টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে ঢুকতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যাই হোক, পেনশনের টাকা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই বললেই চলে। কিন্তু পেনশনের ৩০ হাজার কোটি টাকা বাদে বাকি যে টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে থাকে তার খরচের অবস্থা কী? পেনশনের ৩০ হাজার কোটি টাকা বাদ দিলে এ খাতে থাকে ৭৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

ওই বিপুল পরিমাণ টাকা কি যারা এ টাকা পাওয়ার যোগ্য তারা পাচ্ছে, না এমন লোকও পাচ্ছে, যে আদৌ সরকারি কোনো ভাতা-সাহায্য পাওয়ার যোগ্য নয়? এ প্রশ্নটি সব সময় আমার মনে হতো। কারণ আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে। বছর কয়েক আগে গ্রামে গিয়েছিলাম প্রচণ্ড শীতে কিছু কম্বল বিতরণের জন্য। এক বন্ধুকে বলি গরিবদের একটা তালিকা করতে। সে ১০০ কম্বল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ২৫০ কম্বলের হিসাব দেয়। এর কারণ জিজ্ঞেস করি। ওর যা জবাব তা থেকে গ্রাম কীভাবে চলে তার একটা পরিচয় পাওয়া যায়।

ওর কথা হলো, গরিবকে সব দিয়ে পারা যাবে না। তুমি বদনামি হয়ে যাবে। একে দিলে ওকে দিতে হবে। আমি শেষ পর্যন্ত গরিব গ্রামবাসীসহ ৫০০ জনকে কম্বল দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসি। সবার কম্বল দরকার। যার দুই ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে, তারও সাহায্যের কম্বল দরকার! এ এক বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা। গ্রামের সব মানুষ শুধু চায়- সাহায্যের কোনো কিছু হলে তা তাদের পেতেই হবে। এই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা।

এ পরিস্থিতিতে যারা ভোটের রাজনীতি করে তারা ‘পলিট্রিশিয়ান’ না হয়ে পারে না। আমার মনে হয়, আমাদের ‘সামাজিক সুরক্ষা’ বাজেটও এর শিকার। কাগজে যে রিপোর্টটি দেখেছি তাতে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে তার ওপর আমাদের পরিকল্পনা কমিশন একটা মাঠ জরিপ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, মোট ১৩৪টি উপখাতে এ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে বিধবা ইত্যাদি ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসৃজন, শিক্ষার্থী বৃত্তি, নগদ ও খাদ্য সহায়তা, ঋণ সহায়তা, বিশেষ সম্প্রদায়, উন্নয়ন কর্মসূচি ইত্যাদি ইত্যাদি।

পরিকল্পনা কমিশনের মাঠ জরিপের ফলাফলে যা বলা হয়েছে, তা রীতিমতো চমকপ্রদ। জরিপে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাত থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যে ৪৬ শতাংশই সরকারি কোনো সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত নয়। এরপরও তারা সাহায্য নিচ্ছে। ৪৬ শতাংশ মানে মোটামুটি অর্ধেকই ধরে নেওয়া যায়। তাহলে ‘অপাত্রে’ দানের পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

যদি তা না হতো, যদি প্রকৃত প্রাপকদের সাহায্য করা যেত, তাহলে কত বেশি মানুষ উপকৃত হতো তা বোঝা যায়। এই একটি উদাহরণ থেকে বোঝা যায় ‘অপাত্রে’ দানের ফলে বাজেটের আকার কীভাবে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ কাজের কাজ হচ্ছে কম। গ্রামে তৈরি হচ্ছে সরকারি টাকায় কালো একটা অর্থনীতি। অবশ্য অন্যভাবে দেখলে বলা যায়, গ্রামে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি করছে।

রাজস্ব বাজেটের আরও অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি আছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবার খোলাবাজারে বিক্রি হয়, সরকারি ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি হয়। জেলখানার কয়েদিদের খাবার কয়েদিরা পায় না। এসব খবর দু’দিন পরপরই খবরের কাগজে ছাপা হয়। স্কুল নেই, মাদ্রাসা নেই, অথচ সরকারি টাকা সেখানে যায়- এ ব্যাপারে একবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিদ্যুতের বাল্ব, আসবাবপত্র, জানালার পর্দা ক্রয়ে কী কেলেঙ্কারি হয়েছিল উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে, সে কথা সবারই মনে আছে। মুশকিল হচ্ছে সবচেয়ে বড় ক্রয় বাজেটের টাকা খরচে, উন্নয়ন বাজেটের টাকা খরচে।

অতীতে অনেক অর্থমন্ত্রী খোলামেলাভাবে উন্নয়ন বাজেটের নয়ছয় নিয়ে কথা বলেছেন। এটা এখন মোটামুটিভাবে জানা যে, উন্নয়ন বাজেটের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ চুরি হয়ে যায়। যুগান্তরেই কয়েকদিন পরপর খবর ছাপা হয় উন্নয়ন বাজেটের টাকা কীভাবে অপচয় হয় সে সম্পর্কে। রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজ নির্মাণ, বড় বড় সেতু নির্মাণ, রেল নির্মাণ, বিমানবন্দর নির্মাণ, বড় বড় মেরামত কাজ, স্কুল-কলেজ বিল্ডিং নির্মাণ ও মেরামতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বোঝা যায় আমরা এক টাকার কাজ দুই টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন টাকায় করছি। এসব কোনো গোপন তথ্য/খবর নয়। প্রতিদিনের আলোচনার বিষয়। এর স্বীকৃতি মন্ত্রী-মিনিস্টারদের কথাতেও পাওয়া যায়।

আবার এ কারণে সরকারের নীতিও দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’। কিছুদিন আগে, মনে হয় এ বছরের জানুয়ারিতে, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মানতেই হবে দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্র্নীতির একটা জোয়ার উঠেছে। তিনি বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিচারের কথা বলেছিলেন। তিনি দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এত টাকা কখনো দেখেননি। বলা বাহুল্য, এসব তার জীবনের অভিজ্ঞতা। তিনি অভিজ্ঞ আমলা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের খুবই বড় পদে চাকরি করেছেন।

এখন পরিকল্পনা কমিশনের মন্ত্রী হিসাবে উন্নয়ন প্রকল্পের খরচাদি দেখেন। প্রকল্প ‘পাশ-ফেইল’ দেখেন। তার উক্তি থেকেই বোঝা যায় খরচের বাহুল্যের দিক। এসব খরচের সঙ্গে যুক্ত থেকে, ঠিকাদারি করে, প্রকল্প প্রণয়ন করে, প্রকল্প পাশ করে কীভাবে একশ্রেণির লোক বিপুল সম্পত্তির মালিক হচ্ছে, তার খবর চারদিকে। এ সবের কারণে সংসদে বলা হচ্ছে কানাডা ও মালয়েশিয়ায় ‘দুদক’ অফিস করার জন্য। কারণ এসব স্থানে নাকি হাজার হাজার বাংলাদেশি আস্তানা গাড়ছে অবৈধভাবে।

এসব বলার ও লেখার উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য, বাজেটের গুণগত মান সম্পর্কে বলা। বাজেটের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারলে, চুরি-চামারি-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে, অপচয় বন্ধ করতে পারলে খরচের বাজেট অনেক অনেক কমানো যায়। এতে কার লাভ, কার ক্ষতি? লাভ দেশবাসীর। কীভাবে?

এ কথা জানা যে, সরকার খরচের বোঝা বহন করতে পারে না। তাই সরকার জনগণের ওপর ট্যাক্স বাড়ায়, ভ্যাট বাড়ায়, আয়কর বাড়ায়, আমদানি শুল্ক বাড়ায়। এতে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। প্রতিবছর করের বোঝা বাড়তে বাড়তে মধ্যবিত্ত গরিব হয়, গরিব আরও গরিব হয়। আবার খরচের বোঝা বহন করার জন্য সরকার সমানে ধার করতে থাকে। ব্যাংক থেকে ধার করলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ পায় না। আবার সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তারা বঞ্চিত হয় আয়ে। কারণ সরকার সুদ কম দেয়। অধিকন্তু ঋণের ওপর সুদ বাড়ে প্রতিবছর। মোট রাজস্ব ব্যয়ের প্রায় ১৯ শতাংশই হচ্ছে সুদব্যয়। অতএব, কলেবর বৃদ্ধি নয়, বাজেটের ব্যয়ের গুণগত মান বৃদ্ধি করা দরকার।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

বাজেটের আকারের চেয়ে গুণগত মান বাড়ানো বেশি জরুরি

 ড. আর এম দেবনাথ 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। কতগুলো টাকা, ভাবা যায়! কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ীর এ টাকা থাকলে তাকে বাঙালি ‘ট্রিলনিয়ার’ বলা হতো। না, আমি ব্যক্তির কথা বলছি না। বলছি সরকারের কথা। সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা খরচ করবে। বাজেটে এ টাকা কোথায় কোথায় খরচ করা হবে তার হিসাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়-বিভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বেতন-ভাতায় কত, সুদ খরচে কত, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কত, উন্নয়ন কর্মসূচিতে কত- এভাবেও হিসাব দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার এসব হিসাব দেখলে মাথা ঘুরে যায়।

কয় টাকা দিয়ে আমাদের ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাজেট শুরু, আর আজ কত? মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা ছিল। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের বাজেট। সেই বাজেটের পরিমাণ, বাৎসরিক খরচের পরিমাণ ২০২১-২২ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা! কতগুণ বেশি, পাঠক তা হিসাব করে দেখতে পারেন। যদি ততগুণে মানুষের উপকার হতো, দেশের উন্নয়ন হতো, কর্মসংস্থান হতো, মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হতো, সংস্কারমুক্ত হতো- তাহলে বাংলাদেশ আজকে যে জায়গায় আছে, তার থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থান করত।

সত্যি তাই। সমস্যা হচ্ছে বরাদ্দ, টাকার হিসাবে বরাদ্দ সব ঠিক আছে। কিন্তু বরাদ্দ দিয়ে কী হবে? বরাদ্দের টাকা ঠিকমতো খরচ হয় না। অপচয়, অদক্ষতা, চুরি-চামারি-দুর্নীতির কারণে বরাদ্দের বিরাট অংশ বিফলে যায়। আবার অনেক সময় বরাদ্দে লুকোচুরি করা হয়। যেখানে যা থাকার কথা নয়, সেই খাতে অন্য খাতের টাকা ঢুকিয়ে বরাদ্দের পরিমাণকে স্ফীত দেখানো হয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

ধরা যাক ‘সামাজিক নিরাপত্তা বা সুরক্ষা’ খাতের কথা। খাতটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের বরাদ্দ গরিব, অতিগরিব, বেকার, অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি অসহায় মানুষকে বাঁচানোর জন্য। বাজার অর্থনীতির জাঁতাকলে যারা নিচে পড়ে যায়, যারা উঠে দাঁড়ানোর শক্তি হারায়, তাদের বাঁচিয়ে সমাজে প্রতিবাদ কমানোর উদেশ্যে এটি করা হয় বলে অনেকের ধারণা। সে যাই হোক, এটি এখন একটি প্রশংসিত সরকারি কাজ বলে পরিগণিত হয়েছে।

এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ, তার খরচের অবস্থা কী? ২০২১-২২ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৭ হজার ৬১৪ কোটি টাকা। বিশাল পরিমাণ টাকা মোট খরচের তুলনায়। দাবি করা হয়েছে, এতে কয়েক কোটি লোক উপকৃত হবে এবং এখনই হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু খরচের ভেতরের হিসাবে গেলে হোঁচট খেতে হয়।

একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দের ভেতর ঢুকে বসে আছে ‘পেনশনের টাকা’। এটা কাঠামোগত প্রশ্ন। পেনশনের টাকা সামাজিক সুরক্ষার ভেতরে কীভাবে ঢোকে? তাও এক-দুই টাকা নয়, ৩০ হাজার কোটি টাকা! পেনশন পায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরগ্রহণের পর। তারা সারা জীবন চাকরির পর এ পেনশন পায়। তারা মারা গেলে তাদের স্ত্রী-সন্তানরা পায়। এটা আজকের কথা নয়, বহুদিন ধরেই চলে আসছে। তখন ‘সামাজিক সুরক্ষা’ বলে কোনো শব্দের কথা শুনিনি।

ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পেত। এমন একটা খরচ, পেনশন বাবদ খরচ সামাজিক সুরক্ষায় ঢোকে কোন যুক্তিতে, তা একটু পরিষ্কার করা দরকার। আমার বিচারে এটা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রীতিমতো ‘দাবি ও পাওনার’ টাকা। পেনশনের টাকা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা সাহায্যের টাকা নয়। বিধবাদের সরকার ভাতা দিতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন সরকারকে ধার করে হলেও দিতে হবে, যতদিন না এ প্রথা তুলে দেওয়া হয়।

এমতাবস্থায় প্রশ্ন, অযথা কেন পেনশনের টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষায়’ ঢুকিয়ে এর বাজেটকে স্ফীত দেখানো? এর কোনো প্রয়োজনও নেই। আর আমি বুঝি না, যারা বাজেটের হিসাবপত্র করেন তারা তো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তারা কি মনে করেন পেনশনের টাকা সরকারের ইচ্ছামাফিক প্রদত্ত দয়া-দাক্ষিণ্যের টাকা? হিসাবের স্বচ্ছতার কারণে এ টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে দেখানো ঠিক নয় বলে আমি মনে করি। আমার ভুল হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবে আশা করি।

অবকাঠামোগত প্রশ্ন বাদে যে প্রশ্নটি আছে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক আছে, ধরে নিলাম পেনশনের টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে ঢুকতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যাই হোক, পেনশনের টাকা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই বললেই চলে। কিন্তু পেনশনের ৩০ হাজার কোটি টাকা বাদে বাকি যে টাকা ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতে থাকে তার খরচের অবস্থা কী? পেনশনের ৩০ হাজার কোটি টাকা বাদ দিলে এ খাতে থাকে ৭৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

ওই বিপুল পরিমাণ টাকা কি যারা এ টাকা পাওয়ার যোগ্য তারা পাচ্ছে, না এমন লোকও পাচ্ছে, যে আদৌ সরকারি কোনো ভাতা-সাহায্য পাওয়ার যোগ্য নয়? এ প্রশ্নটি সব সময় আমার মনে হতো। কারণ আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে। বছর কয়েক আগে গ্রামে গিয়েছিলাম প্রচণ্ড শীতে কিছু কম্বল বিতরণের জন্য। এক বন্ধুকে বলি গরিবদের একটা তালিকা করতে। সে ১০০ কম্বল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ২৫০ কম্বলের হিসাব দেয়। এর কারণ জিজ্ঞেস করি। ওর যা জবাব তা থেকে গ্রাম কীভাবে চলে তার একটা পরিচয় পাওয়া যায়।

ওর কথা হলো, গরিবকে সব দিয়ে পারা যাবে না। তুমি বদনামি হয়ে যাবে। একে দিলে ওকে দিতে হবে। আমি শেষ পর্যন্ত গরিব গ্রামবাসীসহ ৫০০ জনকে কম্বল দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসি। সবার কম্বল দরকার। যার দুই ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে, তারও সাহায্যের কম্বল দরকার! এ এক বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা। গ্রামের সব মানুষ শুধু চায়- সাহায্যের কোনো কিছু হলে তা তাদের পেতেই হবে। এই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা।

এ পরিস্থিতিতে যারা ভোটের রাজনীতি করে তারা ‘পলিট্রিশিয়ান’ না হয়ে পারে না। আমার মনে হয়, আমাদের ‘সামাজিক সুরক্ষা’ বাজেটও এর শিকার। কাগজে যে রিপোর্টটি দেখেছি তাতে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাতের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে তার ওপর আমাদের পরিকল্পনা কমিশন একটা মাঠ জরিপ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, মোট ১৩৪টি উপখাতে এ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে বিধবা ইত্যাদি ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসৃজন, শিক্ষার্থী বৃত্তি, নগদ ও খাদ্য সহায়তা, ঋণ সহায়তা, বিশেষ সম্প্রদায়, উন্নয়ন কর্মসূচি ইত্যাদি ইত্যাদি।

পরিকল্পনা কমিশনের মাঠ জরিপের ফলাফলে যা বলা হয়েছে, তা রীতিমতো চমকপ্রদ। জরিপে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক সুরক্ষা’ খাত থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যে ৪৬ শতাংশই সরকারি কোনো সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত নয়। এরপরও তারা সাহায্য নিচ্ছে। ৪৬ শতাংশ মানে মোটামুটি অর্ধেকই ধরে নেওয়া যায়। তাহলে ‘অপাত্রে’ দানের পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

যদি তা না হতো, যদি প্রকৃত প্রাপকদের সাহায্য করা যেত, তাহলে কত বেশি মানুষ উপকৃত হতো তা বোঝা যায়। এই একটি উদাহরণ থেকে বোঝা যায় ‘অপাত্রে’ দানের ফলে বাজেটের আকার কীভাবে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ কাজের কাজ হচ্ছে কম। গ্রামে তৈরি হচ্ছে সরকারি টাকায় কালো একটা অর্থনীতি। অবশ্য অন্যভাবে দেখলে বলা যায়, গ্রামে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি করছে।

রাজস্ব বাজেটের আরও অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি আছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবার খোলাবাজারে বিক্রি হয়, সরকারি ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি হয়। জেলখানার কয়েদিদের খাবার কয়েদিরা পায় না। এসব খবর দু’দিন পরপরই খবরের কাগজে ছাপা হয়। স্কুল নেই, মাদ্রাসা নেই, অথচ সরকারি টাকা সেখানে যায়- এ ব্যাপারে একবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিদ্যুতের বাল্ব, আসবাবপত্র, জানালার পর্দা ক্রয়ে কী কেলেঙ্কারি হয়েছিল উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে, সে কথা সবারই মনে আছে। মুশকিল হচ্ছে সবচেয়ে বড় ক্রয় বাজেটের টাকা খরচে, উন্নয়ন বাজেটের টাকা খরচে।

অতীতে অনেক অর্থমন্ত্রী খোলামেলাভাবে উন্নয়ন বাজেটের নয়ছয় নিয়ে কথা বলেছেন। এটা এখন মোটামুটিভাবে জানা যে, উন্নয়ন বাজেটের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ চুরি হয়ে যায়। যুগান্তরেই কয়েকদিন পরপর খবর ছাপা হয় উন্নয়ন বাজেটের টাকা কীভাবে অপচয় হয় সে সম্পর্কে। রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজ নির্মাণ, বড় বড় সেতু নির্মাণ, রেল নির্মাণ, বিমানবন্দর নির্মাণ, বড় বড় মেরামত কাজ, স্কুল-কলেজ বিল্ডিং নির্মাণ ও মেরামতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বোঝা যায় আমরা এক টাকার কাজ দুই টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন টাকায় করছি। এসব কোনো গোপন তথ্য/খবর নয়। প্রতিদিনের আলোচনার বিষয়। এর স্বীকৃতি মন্ত্রী-মিনিস্টারদের কথাতেও পাওয়া যায়।

আবার এ কারণে সরকারের নীতিও দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’। কিছুদিন আগে, মনে হয় এ বছরের জানুয়ারিতে, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মানতেই হবে দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্র্নীতির একটা জোয়ার উঠেছে। তিনি বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিচারের কথা বলেছিলেন। তিনি দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এত টাকা কখনো দেখেননি। বলা বাহুল্য, এসব তার জীবনের অভিজ্ঞতা। তিনি অভিজ্ঞ আমলা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের খুবই বড় পদে চাকরি করেছেন।

এখন পরিকল্পনা কমিশনের মন্ত্রী হিসাবে উন্নয়ন প্রকল্পের খরচাদি দেখেন। প্রকল্প ‘পাশ-ফেইল’ দেখেন। তার উক্তি থেকেই বোঝা যায় খরচের বাহুল্যের দিক। এসব খরচের সঙ্গে যুক্ত থেকে, ঠিকাদারি করে, প্রকল্প প্রণয়ন করে, প্রকল্প পাশ করে কীভাবে একশ্রেণির লোক বিপুল সম্পত্তির মালিক হচ্ছে, তার খবর চারদিকে। এ সবের কারণে সংসদে বলা হচ্ছে কানাডা ও মালয়েশিয়ায় ‘দুদক’ অফিস করার জন্য। কারণ এসব স্থানে নাকি হাজার হাজার বাংলাদেশি আস্তানা গাড়ছে অবৈধভাবে।

এসব বলার ও লেখার উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য, বাজেটের গুণগত মান সম্পর্কে বলা। বাজেটের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারলে, চুরি-চামারি-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে, অপচয় বন্ধ করতে পারলে খরচের বাজেট অনেক অনেক কমানো যায়। এতে কার লাভ, কার ক্ষতি? লাভ দেশবাসীর। কীভাবে?

এ কথা জানা যে, সরকার খরচের বোঝা বহন করতে পারে না। তাই সরকার জনগণের ওপর ট্যাক্স বাড়ায়, ভ্যাট বাড়ায়, আয়কর বাড়ায়, আমদানি শুল্ক বাড়ায়। এতে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। প্রতিবছর করের বোঝা বাড়তে বাড়তে মধ্যবিত্ত গরিব হয়, গরিব আরও গরিব হয়। আবার খরচের বোঝা বহন করার জন্য সরকার সমানে ধার করতে থাকে। ব্যাংক থেকে ধার করলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ পায় না। আবার সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তারা বঞ্চিত হয় আয়ে। কারণ সরকার সুদ কম দেয়। অধিকন্তু ঋণের ওপর সুদ বাড়ে প্রতিবছর। মোট রাজস্ব ব্যয়ের প্রায় ১৯ শতাংশই হচ্ছে সুদব্যয়। অতএব, কলেবর বৃদ্ধি নয়, বাজেটের ব্যয়ের গুণগত মান বৃদ্ধি করা দরকার।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন