করোনা ও সামাজিক সুরক্ষা
jugantor
শতফুল ফুটতে দাও
করোনা ও সামাজিক সুরক্ষা

  ড. মাহবুব উল্লাহ্  

১৭ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার পর সংবাদপত্রে প্রায়ই বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগসহকারে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। স্কুলগুলো বন্ধ। ছেলেমেয়েরা যাতে করোনায় সংক্রমিত না হয়, সেজন্য স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া প্রধানত নারী-শিশুদের ওপরই দেখা যাচ্ছে।

অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের এ হতাশার অভিঘাত মূলত কন্যাসন্তানদের ওপর পড়েছে। শহর এলাকায় তেমনটি না হলেও গ্রামে-গঞ্জে অনেক অভিভাবকই ভাবতে শুরু করেছেন কন্যাসন্তানটিকে ঘরে বসিয়ে রেখে কী হবে, বরং যোগ্য পাত্র পাওয়া গেলে ওকে পাত্রস্থ করাই উত্তম। অসচেতন মা-বাবার এ ধরনের মনোভাবের ফলে অনেক এনজিও এবং সমাজকর্মী বলতে শুরু করেছে, করোনা নিছক একটি মারাত্মক সংক্রমকব্যাধি নয়। এটি আমাদের সামাজিক অগ্রগতির পথেও অন্তরায় হিসাবে কাজ করছে।

বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে যে কোনো সচেতন মানুষই অবহিত। এ কারণে অল্প বয়সে গর্ভধারণ করে অল্পবয়সি মেয়েরা প্রচণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। অনেক সময় মাতৃমৃত্যুর মতো ট্র্যাজিক ঘটনাও ঘটে। এদের সন্তানরাও স্বাস্থ্যগতভাবে দুর্বল হয় এবং সহজেই রোগ-ব্যাধির কবলে পড়ে। যে কারণে জাতি একটি স্বাস্থ্যহীন, বলশক্তিহীন, দুর্বল প্রজন্মের চক্রের মধ্যে পড়ে যায়।

অন্যদিকে বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটায়। ফলে একজন সুশিক্ষিত মায়ের হাতে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগ থেকে তার সন্তান বঞ্চিত হয়। এ বঞ্চনার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। সুশিক্ষিত মায়ের সন্তানরা শিক্ষা ও জ্ঞান-গরিমায় উন্নত হবে এরকম ধারণা করা অলীক কল্পনা নয়। অথচ বাল্যবিবাহ সমাজকে অনগ্রসর ও পশ্চাৎমুখী করে তোলে। করোনা মহামারির অবসান কবে হবে এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এ মহামারির অবসানের পর ব্যাপক গবেষণা হলে দেখা যাবে আমরা অনেক কিছুই হারিয়েছি।

করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধি হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিক দূরত্ব কথাটি খুবই নেতিবাচক হওয়ায় অনেকে এটিকে পরিবর্তন করে বলতে চান, দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হলে সমাজের অস্তিত্ব লোপ পায়।

সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে মানুষ সমাজের কাছ থেকে বহু রকমের কল্যাণধর্মী সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে সক্ষম হয়। এ কারণে সামাজিক সম্পর্ককে আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানীরা, এমনকি অর্থনীতিবিদরা পুঁজি হিসাবে বিবেচনা করেন। এ পুঁজির নাম হলো সামাজিক পুঁজি। যে দেশ বা সমাজ সামাজিক পুঁজিতে সমৃদ্ধ, সে দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা তত বৃদ্ধি পায়।

আমরা একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত দিতে পারি। একটি গ্রামে ঝড়ের ফলে যদি কারোর বাসগৃহ বিধ্বস্ত হয়, তখন দেখা যায়, পাড়া-প্রতিবেশীরা দুর্যোগকবলিত পরিবারটির সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য একটি ছাপরা ঘর নির্মাণে শ্রম এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাহায্য করে। কেউ কেউ নিজের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে এনে ঘরের খুঁটি বা বর্গার জন্য সহায়তা করে।

এ সহায়তার জন্য বিনিময়ে কেউ কোনো অর্থ প্রত্যাশা করে না। এটাই হলো সামাজিক পুঁজি। সামাজিক পুঁজি বিভিন্নরূপে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনকে মসৃণ করে। দেখা গেছে, যেসব দেশে ক্লাব, সামাজিক সংঘ, প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকে এবং সামাজিক নেটওয়ার্ক কাজ করে, সেসব দেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

সমাজবিজ্ঞানী পুটনাম ইতালির সমাজ পরিবীক্ষণ করে এই সত্যে উপনীত হয়েছেন। সামাজিক পুঁজি শুধু বস্তুগত অবদানই রাখে না, এটি সমাজে শৃঙ্খলা, সুনীতি ও সহমর্মিতা তৈরি করে সমাজকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলে। করোনা মহামারি যখন এদেশে দেখা দেয়, তখন কেউই করোনা রোগীকে দেখতে যেত না।

এমনকি করোনা রোগী মারা গেলে তার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করত না। সবাই ধারণা করত এবং বিশেষজ্ঞরাও মতামত দিয়েছিল, করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকেও করোনা সংক্রমণ হয়। এ ভয়ে বলতে গেলে প্রায় সবাই করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নিত না, এমনকি তার পুত্র-সন্তানরাও। প্রফেসর আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর লক্ষ করা গেছে, তার শত শত বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী কেউই তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেননি। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক! কেবল আল মারকাযুল করোনায় মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

এ সংস্থার কর্মীরা করোনায় মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে সব রকমের কর্মসম্পাদন করতে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। এ কারণে আল-মারকাযুল ঢাকার মানুষের কাছে প্রশংসাযোগ্য হয়ে উঠেছে। অনেকে এ সংস্থাটিকে একটি জাতীয় পুরস্কার প্রদানেরও দাবি করেছেন। আল-মারকাযুল সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য সামাজিক পুঁজির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সুতরাং সামাজিক দূরত্ব সব ক্ষেত্রে মানতে গেলে মহাসমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে সংক্রমণ রোধের জন্য দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে।

আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা হলো শিশুশ্রম। পরিসংখ্যানের দিক থেকে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অঞ্চলভেদে বিভিন্ন রকম। আমরা জানি, বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম জেলায় গরিব মানুষের শতকরা হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ জেলার প্রতি ১০০ জনে ৭২ জনই গরিব। সম্প্রতি বিবিএস একটি জরিপ সমাপ্ত করেছে।

এ থেকে জানা যায়, গরিব মানুষের পাশাপাশি বেশি শিশু শ্রমিকও এ জেলায়। কুড়িগ্রামের শিশুদের মধ্যে ১৯ শতাংশই কোনো না কোনো শ্রমে জড়িত। কুড়িগ্রামের পর শিশু শ্রমিক বেশি বরগুনা ও দিনাজপুরে। দুই জেলায় এ হার যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ শতাংশ। বিবিএস ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে’তে এসব তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুনে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৬৪ হাজার ৪০০ খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। ১০ জুন বিবিএস এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। জরিপে শিশুর বয়স ধরা হয়েছে ৫-১৭ বছর (প্রথম আলো, ১৫ জুন ২০২১)।

পৃথিবীর যেসব দেশে জন্মহার বেশি এবং যেসব দেশে জন্মহার কম, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একজন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী এর জন্য তিনটি কারকের কথা বলেছেন। এগুলো হলো যথাক্রমে Consumption effect, Production effect এবং Security effect. অর্থ দাঁড়ায়- পরিবারে যখন একটি নতুন সন্তান আসে, সে পরিবারের ভোগ-ব্যয়ের ওপর ভাগ বসায়।

ফলে পরিবারের ভোগের মান অবনত হয়। ব্যাপারটি ধনী-গরিব সব ধরনের দেশের জন্যই সত্য। এ কারণে নতুন সন্তানের চাহিদার ওপর ঋণাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হয়। অনুন্নত, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান দেশে মা-বাবারা সন্তান একটু বড় হলে তাকে নানা ধরনের উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত করে। ছোট পুত্রশিশুরা মাঠে কর্মরত বাবার জন্য খাবার বয়ে নিয়ে যায়। আরেকটু বড় হলে তারা গবাদি পশু লালন-পালনের কাজে নিয়োজিত হয়।

কন্যাশিশুরা তাদের মাকে সংসারের নানা কাজে সহায়তা করে। এই বিবেচনায় গরিব দেশের শিশুরা Production effect সৃষ্টি করে। এটা পরিবারের কাছে ইতিবাচক অবদান হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ধনী দেশে শিশুদের Production effect শূন্য। বার্ধক্যে গরিব দেশগুলোয় মা-বাবার জন্য সন্তানরা Security effect সৃষ্টি করে। তারা মা-বাবার যত্নাত্তি করে। ধনী দেশে এর কোনো বালাই নেই। বয়োবৃদ্ধরা রাষ্ট্রীয় কল্যাণ কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। এ বিশ্লেষণ থেকে বুঝতে কষ্ট হয় না কেন গরিব দেশে জন্মহার বেশি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি।

এখন দেখা যাক, কুড়িগ্রামের মতো অত্যন্ত গরিব এলাকায় শিশুশ্রমের হার কেন এত বেশি। সেখানকার দরিদ্র মা-বাবারা বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। এরা হলো সেই ডুবন্ত মানুষ, যারা কোনোরকমে পানির ওপর নাকটি ভাসিয়ে রাখে। এদের জন্য সন্তানের লেখাপড়ায় অর্থব্যয় করা বিলাসিতার শামিল। এর চাইতে সন্তানকে কোনো কাজে লাগিয়ে কিছু রোজগার করতে পারলে ভোগব্যয় সংকুলান করা কিছুটা হলেও সহজ হয়।

এ কারণেই কুড়িগ্রামের মতো দরিদ্র এলাকায় শিশুশ্রমের হার বেশি দেখতে পাওয়া যায়। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেছেন, এ জেলায় দারিদ্র্যের হার বেশি। তাছাড়া শিক্ষা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাও কম। শিক্ষা যে একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, তা এখানকার মানুষ বুঝতে চান না। সচেতনতা ও সঠিক শিক্ষার অভাবই এখানকার শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম কমানো সম্ভব, যদি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সাধারণ মানুষ শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি চরিত্র সম্পর্কে কীভাবে বুঝবেন? তারা তো শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নন। তাদের কাছে এ মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাই আসল ব্যাপার। ভবিষ্যতে কী হবে না হবে তা তারা ভাবতেও পারে না। তাদের জন্য আজকের দিনটিতে বেঁচে থাকাই মূল বিবেচ্য বিষয়।

অর্থনীতির ভাষায় বলা যায়, তাদের কাছে ভবিষ্যৎ অপরিসীম হারে অবহারকৃত বা Discounted হয়। অর্থাৎ ভবিষ্যতের মূল্য দাঁড়ায়, ‘শূন্য’। তবে একথা সত্য, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হলে শিশুশ্রমের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং গরিব মানুষ বাড়তি কিছু রোজগার করতে পারবে। এ বাড়তি রোজগারই সন্তানের মা-বাবাকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে সক্ষম করে তুলবে।

আমার শেষ প্রশ্ন হলো, সরকার সামাজিক সুরক্ষা জাল খাতে (social safety net) অনেক অর্থব্যয় করছে বলে দাবি করে। এমনকি এ কর্মসূচির কিছু কিছু খাতে ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাহলে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও দিনাজপুরের মতো জেলায় শিশুশ্রমের পরিমাণ এত বেশি কেন? কুড়িগ্রামের মতো দরিদ্র জেলার জন্য কি বেশি বরাদ্দ দেওয়া যায় না?

তবে কেউ কেউ হয়তো বলবেন, সরকার সুরক্ষার জন্য অর্থদান করে বলেই কুড়িগ্রামে শিশুশ্রম ১৯ শতাংশ, নচেৎ এ হার আরও অনেক বেশি হতো। আমাদের সামাজিক সুরক্ষা খাতের অনেক সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে বরাদ্দকৃত অর্থ যদি আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো এবং দুর্নীতিমুক্ত করা যেত, তাহলে একই পরিমাণ অর্থে আরও বেশি সুফল পাওয়া যেত।

দেশের সব জেলায়ই সরকারের খাদ্য সহায়তা, নগদ সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। স্কুলেও উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন রকমের সহায়তা দেওয়া হয়। বিবিএসের জরিপ থেকে জানা গেছে, সরকারের স্কুলসংশ্লিষ্ট যেসব সহায়তা রয়েছে, তা সবচেয়ে কম পায় চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা।

এ জেলার মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছে, তারা সরকারের কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছে। এর মানে বাকি ৬৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রী কোনো সহায়তা পায় না। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জের ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছে। এভাবে দেখলে আরও অনেক অসামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাবে।

মুন্সীগঞ্জ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলা। এই জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার অনেক ধরনের অর্থনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। ফলে এখানে অসচ্ছলতার হারও কম। পরিষ্কারভবে দেখা যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে অনেক সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও মুন্সীগঞ্জে সরকারের সহায়তা বেশি যাচ্ছে। বিবিএসের এই জরিপ সরকারের সুরক্ষা কর্মসূচিতে জরুরি সংস্কার আনার জন্য সহায়ক হবে। জরিপটির নমুনার আকার বেশ বড়। সুতরাং এর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কম সন্দেহই থাকে।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

শতফুল ফুটতে দাও

করোনা ও সামাজিক সুরক্ষা

 ড. মাহবুব উল্লাহ্ 
১৭ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার পর সংবাদপত্রে প্রায়ই বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগসহকারে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। স্কুলগুলো বন্ধ। ছেলেমেয়েরা যাতে করোনায় সংক্রমিত না হয়, সেজন্য স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া প্রধানত নারী-শিশুদের ওপরই দেখা যাচ্ছে।

অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের এ হতাশার অভিঘাত মূলত কন্যাসন্তানদের ওপর পড়েছে। শহর এলাকায় তেমনটি না হলেও গ্রামে-গঞ্জে অনেক অভিভাবকই ভাবতে শুরু করেছেন কন্যাসন্তানটিকে ঘরে বসিয়ে রেখে কী হবে, বরং যোগ্য পাত্র পাওয়া গেলে ওকে পাত্রস্থ করাই উত্তম। অসচেতন মা-বাবার এ ধরনের মনোভাবের ফলে অনেক এনজিও এবং সমাজকর্মী বলতে শুরু করেছে, করোনা নিছক একটি মারাত্মক সংক্রমকব্যাধি নয়। এটি আমাদের সামাজিক অগ্রগতির পথেও অন্তরায় হিসাবে কাজ করছে।

বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে যে কোনো সচেতন মানুষই অবহিত। এ কারণে অল্প বয়সে গর্ভধারণ করে অল্পবয়সি মেয়েরা প্রচণ্ড স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। অনেক সময় মাতৃমৃত্যুর মতো ট্র্যাজিক ঘটনাও ঘটে। এদের সন্তানরাও স্বাস্থ্যগতভাবে দুর্বল হয় এবং সহজেই রোগ-ব্যাধির কবলে পড়ে। যে কারণে জাতি একটি স্বাস্থ্যহীন, বলশক্তিহীন, দুর্বল প্রজন্মের চক্রের মধ্যে পড়ে যায়।

অন্যদিকে বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটায়। ফলে একজন সুশিক্ষিত মায়ের হাতে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগ থেকে তার সন্তান বঞ্চিত হয়। এ বঞ্চনার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। সুশিক্ষিত মায়ের সন্তানরা শিক্ষা ও জ্ঞান-গরিমায় উন্নত হবে এরকম ধারণা করা অলীক কল্পনা নয়। অথচ বাল্যবিবাহ সমাজকে অনগ্রসর ও পশ্চাৎমুখী করে তোলে। করোনা মহামারির অবসান কবে হবে এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এ মহামারির অবসানের পর ব্যাপক গবেষণা হলে দেখা যাবে আমরা অনেক কিছুই হারিয়েছি।

করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধি হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিক দূরত্ব কথাটি খুবই নেতিবাচক হওয়ায় অনেকে এটিকে পরিবর্তন করে বলতে চান, দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হলে সমাজের অস্তিত্ব লোপ পায়।

সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে মানুষ সমাজের কাছ থেকে বহু রকমের কল্যাণধর্মী সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে সক্ষম হয়। এ কারণে সামাজিক সম্পর্ককে আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানীরা, এমনকি অর্থনীতিবিদরা পুঁজি হিসাবে বিবেচনা করেন। এ পুঁজির নাম হলো সামাজিক পুঁজি। যে দেশ বা সমাজ সামাজিক পুঁজিতে সমৃদ্ধ, সে দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা তত বৃদ্ধি পায়।

আমরা একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত দিতে পারি। একটি গ্রামে ঝড়ের ফলে যদি কারোর বাসগৃহ বিধ্বস্ত হয়, তখন দেখা যায়, পাড়া-প্রতিবেশীরা দুর্যোগকবলিত পরিবারটির সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য একটি ছাপরা ঘর নির্মাণে শ্রম এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাহায্য করে। কেউ কেউ নিজের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে এনে ঘরের খুঁটি বা বর্গার জন্য সহায়তা করে।

এ সহায়তার জন্য বিনিময়ে কেউ কোনো অর্থ প্রত্যাশা করে না। এটাই হলো সামাজিক পুঁজি। সামাজিক পুঁজি বিভিন্নরূপে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনকে মসৃণ করে। দেখা গেছে, যেসব দেশে ক্লাব, সামাজিক সংঘ, প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকে এবং সামাজিক নেটওয়ার্ক কাজ করে, সেসব দেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

সমাজবিজ্ঞানী পুটনাম ইতালির সমাজ পরিবীক্ষণ করে এই সত্যে উপনীত হয়েছেন। সামাজিক পুঁজি শুধু বস্তুগত অবদানই রাখে না, এটি সমাজে শৃঙ্খলা, সুনীতি ও সহমর্মিতা তৈরি করে সমাজকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলে। করোনা মহামারি যখন এদেশে দেখা দেয়, তখন কেউই করোনা রোগীকে দেখতে যেত না।

এমনকি করোনা রোগী মারা গেলে তার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করত না। সবাই ধারণা করত এবং বিশেষজ্ঞরাও মতামত দিয়েছিল, করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকেও করোনা সংক্রমণ হয়। এ ভয়ে বলতে গেলে প্রায় সবাই করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নিত না, এমনকি তার পুত্র-সন্তানরাও। প্রফেসর আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর লক্ষ করা গেছে, তার শত শত বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী কেউই তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেননি। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক! কেবল আল মারকাযুল করোনায় মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

এ সংস্থার কর্মীরা করোনায় মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়া থেকে শুরু করে সব রকমের কর্মসম্পাদন করতে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। এ কারণে আল-মারকাযুল ঢাকার মানুষের কাছে প্রশংসাযোগ্য হয়ে উঠেছে। অনেকে এ সংস্থাটিকে একটি জাতীয় পুরস্কার প্রদানেরও দাবি করেছেন। আল-মারকাযুল সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য সামাজিক পুঁজির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সুতরাং সামাজিক দূরত্ব সব ক্ষেত্রে মানতে গেলে মহাসমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে সংক্রমণ রোধের জন্য দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে।

আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা হলো শিশুশ্রম। পরিসংখ্যানের দিক থেকে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অঞ্চলভেদে বিভিন্ন রকম। আমরা জানি, বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম জেলায় গরিব মানুষের শতকরা হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ জেলার প্রতি ১০০ জনে ৭২ জনই গরিব। সম্প্রতি বিবিএস একটি জরিপ সমাপ্ত করেছে।

এ থেকে জানা যায়, গরিব মানুষের পাশাপাশি বেশি শিশু শ্রমিকও এ জেলায়। কুড়িগ্রামের শিশুদের মধ্যে ১৯ শতাংশই কোনো না কোনো শ্রমে জড়িত। কুড়িগ্রামের পর শিশু শ্রমিক বেশি বরগুনা ও দিনাজপুরে। দুই জেলায় এ হার যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ শতাংশ। বিবিএস ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে’তে এসব তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুনে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৬৪ হাজার ৪০০ খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। ১০ জুন বিবিএস এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। জরিপে শিশুর বয়স ধরা হয়েছে ৫-১৭ বছর (প্রথম আলো, ১৫ জুন ২০২১)।

পৃথিবীর যেসব দেশে জন্মহার বেশি এবং যেসব দেশে জন্মহার কম, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একজন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী এর জন্য তিনটি কারকের কথা বলেছেন। এগুলো হলো যথাক্রমে Consumption effect, Production effect এবং Security effect. অর্থ দাঁড়ায়- পরিবারে যখন একটি নতুন সন্তান আসে, সে পরিবারের ভোগ-ব্যয়ের ওপর ভাগ বসায়।

ফলে পরিবারের ভোগের মান অবনত হয়। ব্যাপারটি ধনী-গরিব সব ধরনের দেশের জন্যই সত্য। এ কারণে নতুন সন্তানের চাহিদার ওপর ঋণাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হয়। অনুন্নত, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান দেশে মা-বাবারা সন্তান একটু বড় হলে তাকে নানা ধরনের উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত করে। ছোট পুত্রশিশুরা মাঠে কর্মরত বাবার জন্য খাবার বয়ে নিয়ে যায়। আরেকটু বড় হলে তারা গবাদি পশু লালন-পালনের কাজে নিয়োজিত হয়।

কন্যাশিশুরা তাদের মাকে সংসারের নানা কাজে সহায়তা করে। এই বিবেচনায় গরিব দেশের শিশুরা Production effect সৃষ্টি করে। এটা পরিবারের কাছে ইতিবাচক অবদান হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ধনী দেশে শিশুদের Production effect শূন্য। বার্ধক্যে গরিব দেশগুলোয় মা-বাবার জন্য সন্তানরা Security effect সৃষ্টি করে। তারা মা-বাবার যত্নাত্তি করে। ধনী দেশে এর কোনো বালাই নেই। বয়োবৃদ্ধরা রাষ্ট্রীয় কল্যাণ কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। এ বিশ্লেষণ থেকে বুঝতে কষ্ট হয় না কেন গরিব দেশে জন্মহার বেশি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি।

এখন দেখা যাক, কুড়িগ্রামের মতো অত্যন্ত গরিব এলাকায় শিশুশ্রমের হার কেন এত বেশি। সেখানকার দরিদ্র মা-বাবারা বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। এরা হলো সেই ডুবন্ত মানুষ, যারা কোনোরকমে পানির ওপর নাকটি ভাসিয়ে রাখে। এদের জন্য সন্তানের লেখাপড়ায় অর্থব্যয় করা বিলাসিতার শামিল। এর চাইতে সন্তানকে কোনো কাজে লাগিয়ে কিছু রোজগার করতে পারলে ভোগব্যয় সংকুলান করা কিছুটা হলেও সহজ হয়।

এ কারণেই কুড়িগ্রামের মতো দরিদ্র এলাকায় শিশুশ্রমের হার বেশি দেখতে পাওয়া যায়। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেছেন, এ জেলায় দারিদ্র্যের হার বেশি। তাছাড়া শিক্ষা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাও কম। শিক্ষা যে একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, তা এখানকার মানুষ বুঝতে চান না। সচেতনতা ও সঠিক শিক্ষার অভাবই এখানকার শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম কমানো সম্ভব, যদি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সাধারণ মানুষ শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি চরিত্র সম্পর্কে কীভাবে বুঝবেন? তারা তো শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নন। তাদের কাছে এ মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাই আসল ব্যাপার। ভবিষ্যতে কী হবে না হবে তা তারা ভাবতেও পারে না। তাদের জন্য আজকের দিনটিতে বেঁচে থাকাই মূল বিবেচ্য বিষয়।

অর্থনীতির ভাষায় বলা যায়, তাদের কাছে ভবিষ্যৎ অপরিসীম হারে অবহারকৃত বা Discounted হয়। অর্থাৎ ভবিষ্যতের মূল্য দাঁড়ায়, ‘শূন্য’। তবে একথা সত্য, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হলে শিশুশ্রমের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং গরিব মানুষ বাড়তি কিছু রোজগার করতে পারবে। এ বাড়তি রোজগারই সন্তানের মা-বাবাকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে সক্ষম করে তুলবে।

আমার শেষ প্রশ্ন হলো, সরকার সামাজিক সুরক্ষা জাল খাতে (social safety net) অনেক অর্থব্যয় করছে বলে দাবি করে। এমনকি এ কর্মসূচির কিছু কিছু খাতে ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাহলে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও দিনাজপুরের মতো জেলায় শিশুশ্রমের পরিমাণ এত বেশি কেন? কুড়িগ্রামের মতো দরিদ্র জেলার জন্য কি বেশি বরাদ্দ দেওয়া যায় না?

তবে কেউ কেউ হয়তো বলবেন, সরকার সুরক্ষার জন্য অর্থদান করে বলেই কুড়িগ্রামে শিশুশ্রম ১৯ শতাংশ, নচেৎ এ হার আরও অনেক বেশি হতো। আমাদের সামাজিক সুরক্ষা খাতের অনেক সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে বরাদ্দকৃত অর্থ যদি আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো এবং দুর্নীতিমুক্ত করা যেত, তাহলে একই পরিমাণ অর্থে আরও বেশি সুফল পাওয়া যেত।

দেশের সব জেলায়ই সরকারের খাদ্য সহায়তা, নগদ সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। স্কুলেও উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন রকমের সহায়তা দেওয়া হয়। বিবিএসের জরিপ থেকে জানা গেছে, সরকারের স্কুলসংশ্লিষ্ট যেসব সহায়তা রয়েছে, তা সবচেয়ে কম পায় চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা।

এ জেলার মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছে, তারা সরকারের কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছে। এর মানে বাকি ৬৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রী কোনো সহায়তা পায় না। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জের ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছে। এভাবে দেখলে আরও অনেক অসামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাবে।

মুন্সীগঞ্জ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলা। এই জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার অনেক ধরনের অর্থনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। ফলে এখানে অসচ্ছলতার হারও কম। পরিষ্কারভবে দেখা যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে অনেক সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও মুন্সীগঞ্জে সরকারের সহায়তা বেশি যাচ্ছে। বিবিএসের এই জরিপ সরকারের সুরক্ষা কর্মসূচিতে জরুরি সংস্কার আনার জন্য সহায়ক হবে। জরিপটির নমুনার আকার বেশ বড়। সুতরাং এর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কম সন্দেহই থাকে।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস