মজুরের বাঁচামরা

  আনু মুহাম্মদ ০১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

সংখ্যার বিপুল গরিষ্ঠতা বিবেচনা করলে অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশও শ্রমিক বা মজুরের দেশ। শ্রমিক বলতে প্রথমে শিল্পশ্রমিকের ধারণা মাথায় এলেও শ্রমজীবী মানুষের বিস্মৃতি আরও অনেক বেশি।

শ্রমিক বা মজুর বলতে সেই মানুষকেই বোঝায় যিনি তার শারীরিক মেহনত বা শ্রমশক্তি বিক্রি করে জীবনধারণ করেন। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তো বটেই, বিশ্বের সব অঞ্চলেই পুঁজির ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার কাছে শ্রমশক্তি বিক্রির মানুষ অর্থাৎ মজুরেরও বিস্তার ঘটে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বহুদূর।

সে জন্য শুধু শিল্প খাতের মধ্যেই শ্রমিক পরিচয় সীমাবদ্ধ রাখলে পুঁজির আধিপত্য ও ক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। প্রযুক্তি বিকাশের মধ্য দিয়ে শ্রমশক্তি বিক্রেতাদের মধ্যে বহু ধরন তৈরি হয়েছে। এই বিবেচনায় শ্রমশক্তি ও মেধাশক্তি পুঁজির কাছে বিক্রি করে উদ্বৃত্ত মূল্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন এরকম নারী-পুরুষের সংখ্যাই সমাজে ৯৯ ভাগ। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’ স্লোগান দিয়ে বিশ্বজুড়ে এ পরিচয়ই নতুনভাবে নির্মিত হচ্ছে।

মজুরি শ্রমিকের জন্ম ও বিকাশের সঙ্গে পুঁজিবাদের জন্ম ও বিকাশের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। মজুরি শ্রমিকের সংখ্যাবৃদ্ধি ছাড়া পুঁজিবাদের অস্তিত্ব ও বিস্তার সম্ভব হয় না। সে জন্য ইউরোপে শিল্প বিপ্লবকালে একদিকে যেমন পুঁজিপতি একটি শ্রেণী হিসেবে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হয়েছে শ্রমিক শ্রেণী।

একই সময় যুক্তরাষ্ট্রেও প্রায় একই চিত্র ছিল। কাজের সময় কিংবা মজুরির তখন ঠিক ছিল না। ক্রমেই নারী, শিশুসহ শ্রমিকদের অবর্ণনীয় জীবন পরিবর্তনের জন্য অসংখ্য প্রতিবাদ বিক্ষোভ তৈরি হয়। সংগঠন গড়ে ওঠে। এসব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই ১৮৮৬ সালের মে মাসের ১ তারিখে তিন লক্ষাধিক শ্রমিকের ধর্মঘটের মধ্যে শিকাগো শহরের বড় সমাবেশে হামলা হয়।

গুলিতে মৃত্যু হয়, পরে সংগঠকদের ফাঁসিও দেয়া হয়। তবে এই জীবনদান বৃথা যায়নি। সারা বিশ্ব তাদের দাবি গ্রহণ করেছে। বিশ্বের কয়েকটি বাদে প্রায় সব দেশে এ দিবস এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জন্ম থেকেই এ দিবস পালন করছে। অবশ্য যে দেশে ‘মে দিবসের’ জন্ম সেই যুক্তরাষ্ট্রে এ দিবস ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টায় মে দিবস পালিত হয় না, সেখানে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় শ্রম দিবস।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনও কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জাতীয় আয়ে কৃষির অনুপাত অনেক কমে এলেও ২ কোটিরও বেশি নারী-পুরুষ কৃষির সঙ্গেই যুক্ত। গার্মেন্টসহ ছোট-বড় সব কারখানার হিসাব ধরলে শিল্পশ্রমিকদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ লাখ।

অর্থনীতির গতির ধরনের কারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সম্প্রসারণ বাড়ছে আর বাড়ছে তাতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা এখন প্রায় ৮৫ লাখ। রিকশা-ভ্যানসহ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক।

নির্মাণশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। নতুন প্রযুক্তির খাত যেমন মোবাইল, আইটিসহ বাণিজ্যিক শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন স্তরের মজুরের সংখ্যা বেশি, তবে তাদের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকা দেয়া। প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুঁজির বিপরীতে মানুষ অসংগঠিত, অস্থায়ী অস্বচ্ছ কর্ম শর্তে নিয়োজিত।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের ছোট-বড় কারখানায় যত শ্রমিক নিয়োজিত তার চেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি এখন শ্রমিক হিসেবে বিদেশে কর্মরত আছেন। তাদের কাজের ক্ষেত্রও অনিশ্চিত- নির্যাতন, প্রতারণায় ভরা। বাংলাদেশে বেশ বড় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তৈরি হয়েছে এখন। এর পেছনে মূল অবদান যে গার্মেন্ট শ্রমিক ও বিদেশে কর্মরত সোয়া কোটি শ্রমিক নারী-পুরুষের, তাদের জীবনই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। রানা প্লাজা থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী শ্রমিকের লাশের সারি, আর অসংখ্য পরিবারের আহাজারি এ সত্যটিই স্পষ্ট করে।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের শিল্প খাতে অনেকরকম পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ধারাবাহিকতা যেমন আছে তেমনি গুণগত কিছু পরিবর্তনও দেখা যায়। যেসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে আছে : ১. বাঁচার মতো মজুরির তুলনায় প্রকৃত মজুরি অনেক কম; ২. ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারবিহীন সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক, ৫ ভাগের কম; ৩. মোট উৎপাদন মূল্যে অনুপাত অনেক কম হলেও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকের অবস্থান; ৪. তালিকাবিহীন বহুসংখ্যক কারখানায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিকের অবস্থান।

পাশাপাশি শিল্পশ্রমিকদের মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন দেখা যায় সেগুলো হল : ১. শিল্পশ্রমিকদের লিঙ্গীয় গঠনে পরিবর্তন। আশির দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত শ্রমিকদের মধ্যে নারী-পুরুষ শ্রমিকের অনুপাত ছিল অনুল্লেখ্য। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প ছাড়া নারী শ্রমিকদের দেখা যেত না। কিন্তু এখন মোট শিল্পশ্রমিকের প্রায় ৫০ ভাগ নারী। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ছাড়াও গার্মেন্টসহ রফতানিমুখী কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ৮০ ভাগ।

২. শ্রমিকদের প্রধান ক্ষেত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় স্থানান্তরিত হয়েছে।

৩. আগে শিল্প খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য থাকার কারণে শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল এসব প্রতিষ্ঠান। আদমজী পাটকলসহ সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা ব্যক্তিমালিকানাধীনে হস্তান্তরিত হওয়ার পর শ্রমিক সংগঠন ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বড় রকমের ছেদ পড়েছে।

৪. ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় স্থায়ী কাজের সুযোগের হার খুব কম। বহু প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে কোনো নিয়োগই দেয়া হয় না। বহু প্রতিষ্ঠানেই নিয়োগ দেয়া হয় চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিকভিত্তিক। জাতীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি নির্দিষ্ট না থাকায় এসব কারখানায় মজুরি স্তর অনেক নিচে, স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ার ফলে মজুরি নিয়ে দরকষাকষি বা আইনি লড়াইয়ের সুযোগ নেই।

৫. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন প্রধানত সরকার ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই ব্যবহার করেছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ অধিকার আরও সংকুচিত হয়েছে।

পুরনো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের আন্দোলন সংগঠনের দেশব্যাপী ব্যাপক শক্তি সমাবেশের সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৮৪ সালের মে মাসে। এরপর শ্রমিক আন্দোলন মালিক শ্রেণীর রাজনীতির অধীনস্থ হয়ে যাওয়ায় আন্দোলন, সংগঠন ও যৌথ মঞ্চ সবই ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীর অনেক বড় কারখানা এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের আন্দোলনের পুরনো কেন্দ্রগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এসব কারণে পরবর্তী সময়ে পুরনো সংগঠন ও শিল্পশ্রমিকদের নিয়ে বড় কোনো আন্দোলন দেখা যায়নি। শ্রমিক আন্দোলনের দৃষ্টিগ্রাহ্য বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় এর প্রায় ২০ বছর পর, সম্পূর্ণ নতুন এক ক্ষেত্রে, গার্মেন্ট শ্রমিকদের মধ্যে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে আশির দশক পর্যন্ত পরিচালিত শ্রমিক আন্দোলন সংগঠনের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পশ্রমিকদের মধ্যে বর্তমানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র এই গার্মেন্ট। গত দশ বছরে শিল্পশ্রমিক আন্দোলনের প্রধান বা প্রায় একমাত্র তৎপরতা এই খাতেই দেখা যায়। এ আন্দোলন বেশিরভাগ সময় কোনো নির্দিষ্ট কারখানা বা অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হলেও ২০০৬ ও ২০১০ সালে ঢাকা মহানগরীসহ কয়েকটি অঞ্চল অচল করে ফেলার মাত্রায় উঠেছিল। এখনও বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে প্রায়ই শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ অবস্থান দেখা যায়। দাবিগুলো অবশ্য এখনও খুবই প্রাথমিক পর্যায়ের, যার মধ্যে আছে নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক ছুটি, নিয়মিত মজুরি ও বকেয়া পরিশোধ, অতিরিক্ত সময়ের মজুরি প্রদান, কাজের নিশ্চয়তা ইত্যাদি। গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকাংশ নারী হওয়ার কারণে যৌন নিপীড়নসহ নারী সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও ক্রমেই সামনে আসছে।

এ শ্রমিকরা সাংগঠনিকভাবে খুবই দুর্বল হলেও মজুরিসহ বঞ্চনা ও নিপীড়নের মাত্রার কারণে ক্ষোভ-প্রতিবাদেও প্রায়ই ফেটে পড়ে। সে জন্য গত এক দশকে শ্রমিক আন্দোলনের একটি নতুন চেহারা আমরা দেখতে পেয়েছি। এ আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বিস্তৃত। তবে সাংগঠনিক শক্তি ও যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যুদস্ত। অর্থনীতির গতিমুখের কারণে বর্তমানে সব খাতের শ্রমিকদের মধ্যে অস্থায়ী, দিনভিত্তিক, খণ্ডকালীন, ইনফর্মাল অনুপাতই এখন বেশি। সুতরাং তাদের আন্দোলনে সংগঠনের ধারণাও নতুনভাবে বিন্যস্ত করার তাগিদ প্রবল।

আন্দোলনের কারণেই গার্মেন্ট খাতে ন্যূনতম মজুরি এখন ৫৩০০ টাকা। অথচ দারিদ্র্যসীমার আয় যথাযথভাবে হিসাব করলে দাঁড়ায় পরিবারপ্রতি মাসিক ১৮ হাজার টাকা। তার মানে একজন তো নয়ই, দু’জন কাজ করলেও মজুরি দারিদ্র্যসীমা পৌঁছতে পারে না। বহু কারখানায় এ মজুরিও দেয়া হয় না। শুধু মজুরি বঞ্চনা বা নিপীড়নের প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতা দিয়েই শ্রমিকের জীবন শেষ নয়। স্পেকট্রাম, তাজরীন, স্মার্ট, রানা প্লাজা বা সর্বশেষ টাম্পাকোর মতো মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকারও তাদের হতে হয়।

হাওরে ভেসে, জমি দখল আর অধিগ্রহণে, বন আর নদী বিনাশে যারা সর্বস্বান্ত হয়, তারা ভিড় জমায় শহরে, কাজের খোঁজে। মজুরির বিনিময়ে কাজের সন্ধানের চেষ্টা সফল হয় কমজনেরই। যারা সফল হয় তাদেরও জীবন অনিশ্চিত যাত্রা থেকে মুক্তি পায় না। তাজরীন, রানা বা টাম্পাকোর মতো একেকটি ঘটনা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের স্বরূপ, ক্ষমতার সম্পর্ক, পুঁজির পুঞ্জীভবনের নির্মম প্রক্রিয়া।

মালিকদের সংগঠন আছে, সেখানে তৈরি হয়েছে দলনির্বিশেষে শক্তিশালী শ্রেণী ঐক্য। বিজিএমইএ ভবনটিই তাদের সম্মিলিত অনিয়ম, ক্ষমতা ও দুর্নীতির দিকে বারবার আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মালিকদের আছে সংগঠন, সরকার, থানা-পুলিশ-র‌্যাব।

পাশাপাশি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ কোনো সাংগঠনিক শক্তি নেই, রাজনৈতিক দিশা অস্পষ্ট। মাঝেমধ্যে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ কেবল শ্রমিক শ্রেণীর অন্তর্নিহিত শক্তির জানান দেয়। তা হয়তো সন্ত্রস্ত করে ‘ভদ্রলোক’দের; কিন্তু সাহস জোগায় পাবলিক বা সর্বজনকে।

আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : মে দিবস ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter