কেমন কাটল করোনাকালের ঈদ
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
কেমন কাটল করোনাকালের ঈদ

  ড. আর এম দেবনাথ  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র হজ পালিত হয়েছে গত সোমবার। খবরের কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনা নিয়ে প্রায় ৬০ হাজার নারী-পুরুষ সোমবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন।’ খবরে দেখা যাচ্ছে, গত বছর করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে থাকা মাত্র ১০ হাজার মুসল্লি হজে অংশ নিতে পেরেছিলেন।

এ বছর সেখানে থাকা ১৫০ দেশের ৬০ হাজার মানুষ হজ করার অনুমতি পেয়েছেন। অথচ করোনা মহামারি শুরুর আগের বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজে অংশ নিয়েছেন। এদিকে দেশে গত বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। চারদিকে ছিল বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব, মেঘলা আকাশ। বেশ অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল সদা তৎপর, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উৎসব উদযাপিত হয়।

ঈদ উদযাপনে সরকারি নানা বিধিমালা ও নিষেধাজ্ঞা ছিল ‘করোনাভাইরাস’ নামের অদৃশ্য ভয়ংকর এক শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য। এ মহামারির কারণে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়ায় এবার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহেও কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচবার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রায় সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হলেও দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে তা হতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কয়েকটা জেলা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর ইত্যাদি অঞ্চলে মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে তারা নির্বিঘেœ ঈদ উদযাপন করতে পারেনি।

শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে ঈদ উৎসব পালিত হলেও মানুষের মনে সেই আনন্দ ছিল না। নিরানন্দ পরিবেশে পালিত হয়েছে ঈদুল আজহা। একটা আতঙ্ক, ভয়, অনিশ্চয়তা, অভাব-অনটন মানুষের মনকে নিরানন্দ করে রাখে। গ্রামাঞ্চলে করোনায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, শত শত রোগী আসছে ঢাকার হাসপাতালে, লাশ যাচ্ছে গ্রামে-এ ভয়াবহ অবস্থায় মানুষ ছিল অসহায়, বিমর্ষ। এ অবস্থার মধ্যেই এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে।

ঈদের আগে বরাবরের মতো এবারও ঢাকাসহ বড় বড় শহর ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ শিকড়ের সন্ধানে ‘দেশের বাড়িতে’ গেছে। এক্ষেত্রে বাধা ছিল। ১৪ জুলাই পর্যন্ত ছিল টানা দুই সপ্তাহের ‘লকডাউন’। অফিস-আদালত ও গণপরিবহণ ছিল বন্ধ। ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৬ দিন সময়। এর মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ ছুটে গেছে দেশের বাড়িতে। কত লোক গেছে তার কি কোনো নিখুঁত হিসাব আছে?

নির্ভরযোগ্য সরকারি বা বেসরকারি কোনো পরিসংখ্যান এ ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এর মধ্যেই একটি দৈনিকে দেখলাম, এই ৬ দিনে অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছে গ্রামের উদ্দেশে। অন্য বড় শহরের হিসাব যোগ করলে সংখ্যাটি কত হবে, তা শুধুই অনুমানের বিষয়। তবে এখানে বিশেষভাবে বিবেচ্য বিষয় একটি-কী করে লাখ লাখ মানুষ মাত্র ৬ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেল বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ পালন করবে বলে। এটি নিশ্চিতভাবে ভেবে দেখার বিষয়।

রাস্তায় যানজট ছিল, ঝুট-ঝামেলা ছিল, বিলম্ব হয়েছে, খরচা লেগেছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঈদ অনুষ্ঠানের আগেই সবাই যার যার বাড়িতে পৌঁছে গেছে। এটি আমাদের পরিবহণ ব্যবস্থার এক ধরনের দক্ষতাই বটে। অন্য কোনো দেশে এমনটি ঘটে কিনা আমার জানা নেই। তবে এটি আমাদের জানা যে, ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষের শিকড় গ্রামে। তারা ‘গ্রামছাড়া’ ছিন্নমূল নয়। তারা বৃহত্তর পরিবারের সদস্য।

পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক গ্রাম ও শহরকে বেঁধে রেখেছে। সে জন্যই হয়তো ঢাকা আভিধানিক অর্থে ‘না শহর’, ‘না গ্রাম’। এটাই আমার মনে হয় ঢাকা শহরের অন্যতম বেশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই দুই ঈদে ঢাকা শহর খালি হয়ে যায় এবং তা মাত্র ২-৪ দিনের জন্য। ঢাকার বাতাস এখন নির্মল, প্রাণভরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যায়। আরেক আশ্চর্য ঘটনা ঘটবে, যখন সব মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করবে।

গতকাল সকাল থেকে যেহেতু কঠোর ‘লকডাউন’ চলছে, তাই এবার ঢাকায় ফেরা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গ্রামাঞ্চলের সংক্রমণ তারা ঢাকায় নিয়ে আসবে। এ কারণে ঢাকায় করোনা সংক্রমণ অসম্ভব হারে বেড়ে যেতে পারে। আনন্দের পর এ দুশ্চিন্তা এখন সবার মধ্যে। সরকারও সতর্ক। তাই ২৩ তারিখ থেকে ১৪ দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউনে’র বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

২০২১ সালের ঈদুল আজহা নিয়ে এ পর্যন্ত চার চারটা পবিত্র ঈদ উদযাপিত হলো করোনা মহামারির মধ্যে। সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক অবস্থা। এর মধ্যেই এবার ঈদুল আজহার প্রধান বাজার ‘পশুর হাট’ কেমন জমেছিল-এ সম্পর্কেও সরকারি-বেসরকারি নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তবে দৃশ্যত এবার ঢাকার বাজারে পশুর আমদানি কম হয়নি। তবে পশু আমদানিতে পাইকার, খামারি ও কৃষকরা সময় পেয়েছেন খুবই কম।

‘লকডাউন’ শিথিল করাতেই তারা কিছুটা সময় পেয়েছেন। তবে পশুর বাজার ছিল গেল বছরের মতোই মন্দা। আমদানি বেশি, ক্রেতা কম। ছোট ও মাঝারি পশুর বাজার ভালোই ছিল। প্রথমদিকে বাজার ভালো ছিল না। ঈদের আগের দিন বাজার কিছুটা জমে ওঠে। এতে বেচাকেনা হয় প্রচুর। অনলাইনে পশুর বাজার খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। তবে যাই হোক, এ বাজারের টাকা শেষ অবধি গেছে গ্রামাঞ্চলের, মফস্বলের পাইকার, খামারি ও কৃষকদের কাছে। কত টাকা? অনুমান করা কঠিন।

তবে বলা যায়, পশুর বাজারের আকার সারা দেশের জন্য লক্ষাধিক কোটি টাকার বাজার। এখানে রেমিট্যান্স, বেতন-ভাতা ও বোনাসের টাকা আসে। বরাবরের মতো এবারও পোশাক শিল্পের ১০-২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা-বোনাস দেয়নি। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী হাউজ বোনাস দেয়নি। এসব কারণে পশুর বাজার যতটুকু জমতে পারত, ততটুকু জমেনি। কিছু খামারি ও কৃষক এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশানুরূপ দাম তারা পায়নি।

মুশকিল হচ্ছে, পশু বিক্রি না করে দেশে সেগুলো ফেরত নেওয়া এক লোকসানি কারবার। কারণ পশুর খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দৈনিক খরচ অনেক। ওই খরচ করে পশু পোষা এক লোকসানি কারবার। এ কারণে অনেক খামারি, পাইকার ও কৃষক কম দামে পশু বিক্রি করেও বাড়ি ফেরত গেছেন।

পশুর বাজারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত চামড়ার বাজার। প্রতি বছরের মতো এবারও সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাম নির্ধারণে বড় বড় ব্যবসায়ীর স্বার্থই দেখা হয়েছে। খামারিদের স্বার্থ, সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ী, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি। এবারও বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লবণের সমস্যা অনেক জায়গায় হয়েছে।

চামড়া বিক্রেতাদের অনেকেই গেল বছরের টাকাই পাননি চামড়াশিল্পের মালিকদের কাছ থেকে। এদিকে শিল্পের মালিকদের অভিযোগ ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংক চামড়ার বিপরীতে ঋণ দিতে চায় না। গেল বছরও ব্যাংক চাহিদামতো ঋণ দেয়নি। ব্যাংকের অভিযোগ, চামড়া খাতের ঋণের টাকা ফেরত আসে না। একটি খবরে দেখলাম সীমান্ত অঞ্চলের চামড়ার ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়া চোরাচালান হতে পারে। কারণ সীমান্তের ওপারে চামড়ার দাম আমাদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমপক্ষে দেড়গুণ।

কুরবানির ঈদে জামা-কাপড়, শাড়ি ব্লাউজ, জুতা-মোজা ইত্যাদির বাজার জমে না। কিন্তু তবু ইদানীংকালে এসবের বাজারেও বেচাকেনা হতো। খবরে দেখা যাচ্ছে, এবার তা হয়নি। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো নতুন তেমন কোনো পোশাক আনেনি বাজারে। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর তাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। মহামারির অর্থনীতি ও উৎসবের সময় কাছাকাছি হওয়ায় তারা বাজার ধরতে পারছেন না। আবার তাদের প্রস্তুতিও নেই। গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। ‘লকডাউন’ শিথিলের পর সময় মাত্র ৫-৬ দিন। এ কয়দিনের মধ্যে মালামাল সংগ্রহ, দোকানে তোলার কাজ ব্যবসায়ীরা করতে পারেননি। তারা সেভাবে উদ্যোগও নেননি, কারণ ঈদের পরই আবার কড়া লকডাউন। এতে স্টকে টাকা আটকা পড়তে পারে।

এদিকে খবরে দেখা যাচ্ছে, শপিংমলে বিক্রেতারা অলস সময় কাটিয়েছেন। ভিড় কম, বেচাকেনা কম। তবু যেটুকু বেচাকেনা হবে তা দিয়ে কর্মচারীদের কিছু বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। শুধু শপিংমল নয়, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কম ছিল বলে জানা গেছে। অনেক ব্যবসায়ী রোজার ঈদে যে পণ্য দোকানে তুলেছিলেন, তা এখনো বিক্রি করতে পারেননি। ফলে ‘মহাজনের’ টাকা আটকা পড়েছে। আবার মুশকিল হচ্ছে ব্যাংক ঋণ নিয়ে। যাদের ব্যাংক ঋণ আছে, তাদের ওপর টাকা পরিশোধের তাগিদ আছে।

জামা-কাপড়, শাড়ি-ব্লাউজের বাজারে মন্দা দেখা গেলেও মসলার বাজারে তা ছিল না। দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দোকানিরা পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা মরিচ, জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ, চিনি সেমাই ইত্যাদির দাম হাঁকিয়েছেন অতিমাত্রায়। ঈদ উপলক্ষ্যে এসব পণ্যের আমদানি বাড়ে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা এসব বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা সত্ত্বেও, সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও দোকানিরা সাধারণ ক্রেতাদের এতটুকু স্বস্তি দেয়নি।

যথারীতি মাছ-মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কুরবানির পর ঘরে ঘরে মাংস থাকে। তারপরও বাজারে মাংসের দাম চড়া কেন-এর কোনো উত্তর নেই। উত্তর নেই কেন মাছের দাম বেড়েছে ঈদ উপলক্ষ্যে। খবরে দেখলাম, ঈদ উপলক্ষ্যে বগুড়া, জয়পুরহাটের কামার পল্লিতে দা-ছুরির কাজে ব্যস্তবতা বেড়েছিল। সেখানে ভিড় বেড়েছিল ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও দা-র দোকানে। ভালো খবর একটা। আগে চীনের ধারালো ছুরি বেশি বিক্রি হতো। এবার দেশীয় ছুরি বিক্রি হয়েছে বেশি।

এবার দুশ্চিন্তার বিষয় একটি। গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ বেশি। ঈদের আগে যে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে গেছেন, তারা অচিরেই ফিরবেন। এতে ঢাকা শহরে সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাসে-লঞ্চে, পশুর হাটে, শপিংমলে কোথাও সরকার নির্ধারিত ‘সেফটি’ পদক্ষেপ পালিত হতে দেখা যায়নি। অবাধে মানুষে মানুষে মেলামেশা হয়েছে। এর ফল কী দাঁড়াবে তা আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে।

এ আশঙ্কার কথা বাদ দিলে বলা যায়, কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে খুব সাময়িক হলেও একটা বড় ঢেউ লেগেছিল। প্রচুর রেমিট্যান্সও এসেছে। লাখ লাখ মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গ্রামে খরচ করেছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে, ঈদের আগে শেয়ারবাজার আবার উজ্জীবিত হয়েছে। একটি কাগজের খবরের শিরোনাম : ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ডিএসইএক্স।’ ১৮ জুলাই ‘ডিএসইএক্সে’র সূচক ছিল ৬ হাজার ৩৬৫। এর আগে এ সূচকটি চালু হওয়ার পর ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল। এটি ভালো খবর।

এখানে মুশকিল হচ্ছে, পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা, শেয়ারবাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও দেড় বছরের করোনা আক্রান্ত দেশে অতি দরিদ্রদের অবস্থা খুবই কাহিল। অতি দরিদ্রদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত খাদ্য কিনতে পারছে না। এতে দরিদ্র নারী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, নগদ টাকা সরবরাহ করছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এ সরবরাহ অতি সামান্য। এ অবস্থায় আমরা করোনা সৃষ্ট এক তীব্র সংকটের মুখোমুখি।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

কেমন কাটল করোনাকালের ঈদ

 ড. আর এম দেবনাথ 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র হজ পালিত হয়েছে গত সোমবার। খবরের কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনা নিয়ে প্রায় ৬০ হাজার নারী-পুরুষ সোমবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন।’ খবরে দেখা যাচ্ছে, গত বছর করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে থাকা মাত্র ১০ হাজার মুসল্লি হজে অংশ নিতে পেরেছিলেন।

এ বছর সেখানে থাকা ১৫০ দেশের ৬০ হাজার মানুষ হজ করার অনুমতি পেয়েছেন। অথচ করোনা মহামারি শুরুর আগের বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজে অংশ নিয়েছেন। এদিকে দেশে গত বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। চারদিকে ছিল বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব, মেঘলা আকাশ। বেশ অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল সদা তৎপর, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উৎসব উদযাপিত হয়।

ঈদ উদযাপনে সরকারি নানা বিধিমালা ও নিষেধাজ্ঞা ছিল ‘করোনাভাইরাস’ নামের অদৃশ্য ভয়ংকর এক শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য। এ মহামারির কারণে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়ায় এবার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহেও কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচবার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রায় সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হলেও দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে তা হতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কয়েকটা জেলা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর ইত্যাদি অঞ্চলে মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে তারা নির্বিঘেœ ঈদ উদযাপন করতে পারেনি।

শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে ঈদ উৎসব পালিত হলেও মানুষের মনে সেই আনন্দ ছিল না। নিরানন্দ পরিবেশে পালিত হয়েছে ঈদুল আজহা। একটা আতঙ্ক, ভয়, অনিশ্চয়তা, অভাব-অনটন মানুষের মনকে নিরানন্দ করে রাখে। গ্রামাঞ্চলে করোনায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, শত শত রোগী আসছে ঢাকার হাসপাতালে, লাশ যাচ্ছে গ্রামে-এ ভয়াবহ অবস্থায় মানুষ ছিল অসহায়, বিমর্ষ। এ অবস্থার মধ্যেই এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে।

ঈদের আগে বরাবরের মতো এবারও ঢাকাসহ বড় বড় শহর ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ শিকড়ের সন্ধানে ‘দেশের বাড়িতে’ গেছে। এক্ষেত্রে বাধা ছিল। ১৪ জুলাই পর্যন্ত ছিল টানা দুই সপ্তাহের ‘লকডাউন’। অফিস-আদালত ও গণপরিবহণ ছিল বন্ধ। ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৬ দিন সময়। এর মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ ছুটে গেছে দেশের বাড়িতে। কত লোক গেছে তার কি কোনো নিখুঁত হিসাব আছে?

নির্ভরযোগ্য সরকারি বা বেসরকারি কোনো পরিসংখ্যান এ ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এর মধ্যেই একটি দৈনিকে দেখলাম, এই ৬ দিনে অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছে গ্রামের উদ্দেশে। অন্য বড় শহরের হিসাব যোগ করলে সংখ্যাটি কত হবে, তা শুধুই অনুমানের বিষয়। তবে এখানে বিশেষভাবে বিবেচ্য বিষয় একটি-কী করে লাখ লাখ মানুষ মাত্র ৬ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেল বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ পালন করবে বলে। এটি নিশ্চিতভাবে ভেবে দেখার বিষয়।

রাস্তায় যানজট ছিল, ঝুট-ঝামেলা ছিল, বিলম্ব হয়েছে, খরচা লেগেছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঈদ অনুষ্ঠানের আগেই সবাই যার যার বাড়িতে পৌঁছে গেছে। এটি আমাদের পরিবহণ ব্যবস্থার এক ধরনের দক্ষতাই বটে। অন্য কোনো দেশে এমনটি ঘটে কিনা আমার জানা নেই। তবে এটি আমাদের জানা যে, ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষের শিকড় গ্রামে। তারা ‘গ্রামছাড়া’ ছিন্নমূল নয়। তারা বৃহত্তর পরিবারের সদস্য।

পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক গ্রাম ও শহরকে বেঁধে রেখেছে। সে জন্যই হয়তো ঢাকা আভিধানিক অর্থে ‘না শহর’, ‘না গ্রাম’। এটাই আমার মনে হয় ঢাকা শহরের অন্যতম বেশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই দুই ঈদে ঢাকা শহর খালি হয়ে যায় এবং তা মাত্র ২-৪ দিনের জন্য। ঢাকার বাতাস এখন নির্মল, প্রাণভরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যায়। আরেক আশ্চর্য ঘটনা ঘটবে, যখন সব মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করবে।

গতকাল সকাল থেকে যেহেতু কঠোর ‘লকডাউন’ চলছে, তাই এবার ঢাকায় ফেরা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গ্রামাঞ্চলের সংক্রমণ তারা ঢাকায় নিয়ে আসবে। এ কারণে ঢাকায় করোনা সংক্রমণ অসম্ভব হারে বেড়ে যেতে পারে। আনন্দের পর এ দুশ্চিন্তা এখন সবার মধ্যে। সরকারও সতর্ক। তাই ২৩ তারিখ থেকে ১৪ দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউনে’র বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

২০২১ সালের ঈদুল আজহা নিয়ে এ পর্যন্ত চার চারটা পবিত্র ঈদ উদযাপিত হলো করোনা মহামারির মধ্যে। সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক অবস্থা। এর মধ্যেই এবার ঈদুল আজহার প্রধান বাজার ‘পশুর হাট’ কেমন জমেছিল-এ সম্পর্কেও সরকারি-বেসরকারি নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তবে দৃশ্যত এবার ঢাকার বাজারে পশুর আমদানি কম হয়নি। তবে পশু আমদানিতে পাইকার, খামারি ও কৃষকরা সময় পেয়েছেন খুবই কম।

‘লকডাউন’ শিথিল করাতেই তারা কিছুটা সময় পেয়েছেন। তবে পশুর বাজার ছিল গেল বছরের মতোই মন্দা। আমদানি বেশি, ক্রেতা কম। ছোট ও মাঝারি পশুর বাজার ভালোই ছিল। প্রথমদিকে বাজার ভালো ছিল না। ঈদের আগের দিন বাজার কিছুটা জমে ওঠে। এতে বেচাকেনা হয় প্রচুর। অনলাইনে পশুর বাজার খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। তবে যাই হোক, এ বাজারের টাকা শেষ অবধি গেছে গ্রামাঞ্চলের, মফস্বলের পাইকার, খামারি ও কৃষকদের কাছে। কত টাকা? অনুমান করা কঠিন।

তবে বলা যায়, পশুর বাজারের আকার সারা দেশের জন্য লক্ষাধিক কোটি টাকার বাজার। এখানে রেমিট্যান্স, বেতন-ভাতা ও বোনাসের টাকা আসে। বরাবরের মতো এবারও পোশাক শিল্পের ১০-২০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা-বোনাস দেয়নি। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী হাউজ বোনাস দেয়নি। এসব কারণে পশুর বাজার যতটুকু জমতে পারত, ততটুকু জমেনি। কিছু খামারি ও কৃষক এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশানুরূপ দাম তারা পায়নি।

মুশকিল হচ্ছে, পশু বিক্রি না করে দেশে সেগুলো ফেরত নেওয়া এক লোকসানি কারবার। কারণ পশুর খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দৈনিক খরচ অনেক। ওই খরচ করে পশু পোষা এক লোকসানি কারবার। এ কারণে অনেক খামারি, পাইকার ও কৃষক কম দামে পশু বিক্রি করেও বাড়ি ফেরত গেছেন।

পশুর বাজারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত চামড়ার বাজার। প্রতি বছরের মতো এবারও সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাম নির্ধারণে বড় বড় ব্যবসায়ীর স্বার্থই দেখা হয়েছে। খামারিদের স্বার্থ, সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ী, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি। এবারও বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লবণের সমস্যা অনেক জায়গায় হয়েছে।

চামড়া বিক্রেতাদের অনেকেই গেল বছরের টাকাই পাননি চামড়াশিল্পের মালিকদের কাছ থেকে। এদিকে শিল্পের মালিকদের অভিযোগ ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংক চামড়ার বিপরীতে ঋণ দিতে চায় না। গেল বছরও ব্যাংক চাহিদামতো ঋণ দেয়নি। ব্যাংকের অভিযোগ, চামড়া খাতের ঋণের টাকা ফেরত আসে না। একটি খবরে দেখলাম সীমান্ত অঞ্চলের চামড়ার ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়া চোরাচালান হতে পারে। কারণ সীমান্তের ওপারে চামড়ার দাম আমাদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমপক্ষে দেড়গুণ।

কুরবানির ঈদে জামা-কাপড়, শাড়ি ব্লাউজ, জুতা-মোজা ইত্যাদির বাজার জমে না। কিন্তু তবু ইদানীংকালে এসবের বাজারেও বেচাকেনা হতো। খবরে দেখা যাচ্ছে, এবার তা হয়নি। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো নতুন তেমন কোনো পোশাক আনেনি বাজারে। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর তাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। মহামারির অর্থনীতি ও উৎসবের সময় কাছাকাছি হওয়ায় তারা বাজার ধরতে পারছেন না। আবার তাদের প্রস্তুতিও নেই। গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। ‘লকডাউন’ শিথিলের পর সময় মাত্র ৫-৬ দিন। এ কয়দিনের মধ্যে মালামাল সংগ্রহ, দোকানে তোলার কাজ ব্যবসায়ীরা করতে পারেননি। তারা সেভাবে উদ্যোগও নেননি, কারণ ঈদের পরই আবার কড়া লকডাউন। এতে স্টকে টাকা আটকা পড়তে পারে।

এদিকে খবরে দেখা যাচ্ছে, শপিংমলে বিক্রেতারা অলস সময় কাটিয়েছেন। ভিড় কম, বেচাকেনা কম। তবু যেটুকু বেচাকেনা হবে তা দিয়ে কর্মচারীদের কিছু বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। শুধু শপিংমল নয়, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কম ছিল বলে জানা গেছে। অনেক ব্যবসায়ী রোজার ঈদে যে পণ্য দোকানে তুলেছিলেন, তা এখনো বিক্রি করতে পারেননি। ফলে ‘মহাজনের’ টাকা আটকা পড়েছে। আবার মুশকিল হচ্ছে ব্যাংক ঋণ নিয়ে। যাদের ব্যাংক ঋণ আছে, তাদের ওপর টাকা পরিশোধের তাগিদ আছে।

জামা-কাপড়, শাড়ি-ব্লাউজের বাজারে মন্দা দেখা গেলেও মসলার বাজারে তা ছিল না। দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দোকানিরা পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা মরিচ, জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ, চিনি সেমাই ইত্যাদির দাম হাঁকিয়েছেন অতিমাত্রায়। ঈদ উপলক্ষ্যে এসব পণ্যের আমদানি বাড়ে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা এসব বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা সত্ত্বেও, সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও দোকানিরা সাধারণ ক্রেতাদের এতটুকু স্বস্তি দেয়নি।

যথারীতি মাছ-মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কুরবানির পর ঘরে ঘরে মাংস থাকে। তারপরও বাজারে মাংসের দাম চড়া কেন-এর কোনো উত্তর নেই। উত্তর নেই কেন মাছের দাম বেড়েছে ঈদ উপলক্ষ্যে। খবরে দেখলাম, ঈদ উপলক্ষ্যে বগুড়া, জয়পুরহাটের কামার পল্লিতে দা-ছুরির কাজে ব্যস্তবতা বেড়েছিল। সেখানে ভিড় বেড়েছিল ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও দা-র দোকানে। ভালো খবর একটা। আগে চীনের ধারালো ছুরি বেশি বিক্রি হতো। এবার দেশীয় ছুরি বিক্রি হয়েছে বেশি।

এবার দুশ্চিন্তার বিষয় একটি। গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ বেশি। ঈদের আগে যে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে গেছেন, তারা অচিরেই ফিরবেন। এতে ঢাকা শহরে সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাসে-লঞ্চে, পশুর হাটে, শপিংমলে কোথাও সরকার নির্ধারিত ‘সেফটি’ পদক্ষেপ পালিত হতে দেখা যায়নি। অবাধে মানুষে মানুষে মেলামেশা হয়েছে। এর ফল কী দাঁড়াবে তা আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে।

এ আশঙ্কার কথা বাদ দিলে বলা যায়, কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে খুব সাময়িক হলেও একটা বড় ঢেউ লেগেছিল। প্রচুর রেমিট্যান্সও এসেছে। লাখ লাখ মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গ্রামে খরচ করেছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে, ঈদের আগে শেয়ারবাজার আবার উজ্জীবিত হয়েছে। একটি কাগজের খবরের শিরোনাম : ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ডিএসইএক্স।’ ১৮ জুলাই ‘ডিএসইএক্সে’র সূচক ছিল ৬ হাজার ৩৬৫। এর আগে এ সূচকটি চালু হওয়ার পর ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল। এটি ভালো খবর।

এখানে মুশকিল হচ্ছে, পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা, শেয়ারবাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও দেড় বছরের করোনা আক্রান্ত দেশে অতি দরিদ্রদের অবস্থা খুবই কাহিল। অতি দরিদ্রদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত খাদ্য কিনতে পারছে না। এতে দরিদ্র নারী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, নগদ টাকা সরবরাহ করছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এ সরবরাহ অতি সামান্য। এ অবস্থায় আমরা করোনা সৃষ্ট এক তীব্র সংকটের মুখোমুখি।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন