খাতগুলো বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
খাতগুলো বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে

  ড. আর এম দেবনাথ  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। ছোটবেলায় গুরুজনদের মুখে এ কথা বহুবার শুনেছি। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের উপদেশও তাই। ব্যক্তিগত জীবনেও আমরা অনেকেই এ উপদেশ মেনে চলি। কোনো সিদ্ধান্তের ফলাফল খারাপ হলেই আমরা এ কথা স্মরণ করি। আজ এ নিবন্ধ লেখার সময়েও এ উপদেশের কথা মনে হচ্ছে। কেন? কারণ দুটি সংবাদ। একটি সংবাদ যুগান্তরের, আরেকটি প্রকাশিত হয়েছে অন্য পত্রিকায়।

যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনাম : ‘ক্ষুদ্র ঋণের প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ, ব্যর্থ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তিরস্কার’। খবরের ভেতরে আছে- ‘ভবিষ্যতে তিরস্কারের পরিবর্তে দেওয়া হবে শাস্তি।’ কে বলেছে এ কথা? বলেছে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যারা শাস্তি ও পুরস্কার দুটিই দিতে পারে।

এ খবরটির শিরোনামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরেকটি খবরের শিরোনাম : ‘উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ প্রদানের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন’। ঢাকা চেম্বার ও এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে একটি মতবিনিময় সভা করেছে সম্প্রতি। ওই সভায় বলা হয়- ‘দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের বিকাশে অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিতকরণে ঋণ প্রদানের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

এ খাতের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক স্থাপন, এসএমই ডাটাবেজ প্রণয়ন, সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা দরকার। খবর দুটির সারমর্ম হচ্ছে, ক্ষুদ্রঋণের জন্য আলাদা ব্যাংক দরকার। কারণ চিরাচরিত বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়ে এ কাজটি হচ্ছে না। হচ্ছে না যে, তার প্রমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের শাসানি বা হুঁশিয়ারি।

বলাই বাহুল্য, দেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক নেই। ক্ষুদ্রঋণ কেন, বড় শিল্প ঋণ, ছোট ছোট শিল্প ঋণ, মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে নেই। সিএমএসএমই অর্থাৎ দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের মধ্যে শিল্প যেমন পড়ে, তেমনি পড়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ী-উদ্যোগ। বলাই উচিত, এসব ঋণের চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। শিল্প ঋণের জন্যও নেই কোনো আলাদা প্রতিষ্ঠান। অথচ ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা ও শিল্প মালিকরা ‘এসএমই’ ঋণের জন্য আলাদা ব্যাংক চান। তারা বড় ঋণের জন্যও চান।

বলা দরকার, এ অবস্থা আমাদের দেশে সব সময় ছিল না। এখানে ছিল ব্যাংক অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কমার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (বেসিক ব্যাংক), যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ৩২ বছর আগে। এর কাজই ছিল ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ দেওয়া। ব্যাংকটি আছে কিন্তু এর চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তারা এখন বাণিজ্যিক ব্যাংক। এদিকে শিল্প ঋণ দেওয়ার জন্য ছিল দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস)। স্বাধীনতার পরপরই এ দুটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আজ এ দুটি প্রতিষ্ঠান নেই।

এ দুটি ব্যাংককে একত্রিত করে গঠিত হয়েছে বিডিবিএল বা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। এটি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। আজ থেকে ১২ বছর আগে এর প্রতিষ্ঠা হয়। এদিকে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। এর আসল কাজ ছিল কৃষি ও কৃষি সম্পর্কিত ছোট ছোট শিল্প ও উদ্যোগে ঋণ দেওয়া। না, তারা আজ সেই কাজই শুধু করেনি, তারা এখন নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যাংক।

এত বড় বর্ণনা দিলাম এটি বোঝানোর জন্য যে, দেশে ছোট-বড় শিল্প ঋণ, ছোট-বড় উদ্যোগে ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল। আমরা বিদেশিদের কুমন্ত্রণায় এ ব্যাংকগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করেছি, যাদের কাজ শিল্প ঋণ দেওয়া নয়। তাদের কাজ বাণিজ্যে, ব্যবসায়, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ঋণ দেওয়া।

এখন দেখা যাচ্ছে, আবার দাবি উঠেছে ছোট ছোট ঋণ, সিএমএসএমই খাতে ঋণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকের। এর জন্যই নিবন্ধের শুরুতে বলেছি, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। প্রতিষ্ঠান ছিল, সেগুলো না ভেবেচিন্তে ভেঙে দিলাম, অন্য খাতে প্রবাহিত করলাম, অথচ এসবের ভীষণ দরকার। মাঝখানে সময় চলে গেল অনেক। এর দায়িত্ব কে নেবে? দেখা যাচ্ছে, না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আছে, কিন্তু এর ফলাফলের দায়িত্ব নেওয়ার কোনো লোক নেই।

‘গ্রামীণ ব্যাংক’ সম্পর্কে কিছু বলা যাক। এটি সংসদের আইনে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংক। এর নিয়ন্ত্রণও সরকারের হাতে। এটি কেন করা হয়? ১৯৮৩ সালে এ ব্যাংকটি ভূমিহীন ও গরিবদের ঋণ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ঋণ হচ্ছে জামানতহীন। কেন এ ধরনের ব্যাংক? কারণ প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ দিতে, গ্রামে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। বস্তুত তারা ছোট ছোট গরিব ঋণগ্রহীতাকে ছোট ছোট ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা।

স্বাধীনতার পর ব্যাংকগুলো জাতীয়করণ করা হয় এবং গ্রামে গ্রামে এদের শাখা খোলা হয়। উদ্দেশ্য কৃষি ঋণ, গ্রামীণ ঋণ, ছোট ছোট উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়া। এটা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো করতে উৎসাহী হয়নি। নানা অজুহাতে তারা এ ধরনের ঋণ থেকে প্রায় বিরত থাকে। ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ব্যয়বহুল কাজ, এসবের মনিটরিং কঠিন, ব্যাংক কর্মীদের এ ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব- এসব কারণ দেখিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা, নির্বাহীরা গ্রামীণ ঋণে উৎসাহী হয়নি। সরকার বাধ্য হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ভূমিহীন ও গরিবদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার জন্য। পরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পল্লী কর্মসহায়ক ফান্ড’ (পিকেএসএফ)। উদ্দেশ্য, পল্লিতে ছোট ছোট উদ্যোগে ঋণ দেওয়া। এসব থেকে প্রমাণিত হয় বাণিজ্যিক ব্যাংক সব ধরনের ঋণের জন্য প্রস্তুত নয়। তারা বস্তুত বড়দের সেবায় নিয়োজিত।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে বড়দের সেবায় নিয়োজিত এ কথা আগেই প্রমাণিত। এবার করোনার মধ্যে তা আরও ভালো করে প্রমাণিত। সরকার প্রণোদনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, খাতওয়ারি বরাদ্দ দিয়েছে। ‘ফান্ডের’ ব্যবস্থা করেছে। ব্যাংকগুলো যাতে এসব প্রণোদনার টাকা বিতরণ করে তার জন্য তাদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিস্তারিত কর্মসূচি, নিয়ম-কানুন তৈরি করে দিয়েছে। নিয়মিত তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই নড়েচড়ে বসছে না। বসছে না এমন একটা অস্বাভাবিক সময়ে- করোনা মহামারিতে যখন অর্থনীতি তাদের সেবা কামনা করে। দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো বড় বড় ঋণ ঠিকই দিচ্ছে, বড় বড় শিল্পে ঠিকই ঋণ দিচ্ছে। দিচ্ছে প্রভাবশালীদের ঋণ। কিন্তু অবহেলিত রয়েছে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, শিল্প ও ব্যবসা। এর সর্বশেষ প্রমাণ যুগান্তরের প্রতিবেদন। প্রশ্ন, তাহলে করণীয় কী?

এ করণীয় ক্ষেত্রেই এখন সুপারিশ আসছে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের/ব্যাংকের। আমার মতে, সুপারিশটি বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। কেন? কারণ বিশেষায়িত শিল্প ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করার প্রধান যুক্তি ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংক তার ‘ফান্ড’ নিজে জোগাড় করে নেবে। এরা সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। নিজের ফান্ডে শিল্প ঋণ দেবে। সরকার বোঝামুক্ত হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শিল্প ঋণ দিতে গিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন লেজে-গোবরে। বড় শিল্পে ঋণ প্রদান, এলসি খোলা, নন-ফান্ডেড লোনকে ফান্ডেড ঋণে রূপান্তর করতে গিয়ে এখন তারা সংকটে নিপতিত। তাদের শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আনাদায়ী ঋণ বাড়ছে। সরকারকে বাজেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে পুঁজি হিসাবে। তার মানে সরকারের বোঝা কমেনি, বরং বেড়েছে। অধিকন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের শিল্প ঋণ দেওয়ার মতো দক্ষতাসম্পন্ন অফিসার-কর্মীর বড় অভাব। আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মালিকদের সেবা, বড় গ্রাহকদের সেবাতেই ব্যস্ত। প্রকৃত উদ্যোক্তা, শিল্প মালিক ঋণ পান না। এ অবস্থায় শিল্প ঋণের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকাই ভালো। এর দরকার আরও বেশি, যখন সরকারের নীতি হচ্ছে ‘ব্যাংক ফিন্যান্স ড্রিভেন গ্রোথ’।

বোঝাই যাচ্ছে, শিল্পের পুঁজি শেয়ারবাজার থেকে আসবে না। অনেকদিন ধরে বিভিন্ন সরকার চেষ্টা করেছে পুঁজিবাজারকে উজ্জীবিত করতে, যাতে এর থেকে শিল্প ঋণের টাকা আসে। আমাদের শিল্পের মালিকরা এতে উৎসাহী নন। তারা লাভ ভাগাভাগি করতে উৎসাহী নন। আবার তারা নিয়ম-কানুনের অধীনেও আসতে চান না। সে জন্যই লাভজনক অনেক প্রাইভেট কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হচ্ছে না। সরকারও বুঝতে পেরেছে যে-চীন, ভারত ইত্যাদি দেশের মতো শিল্পায়নের জন্য ব্যাংকনির্ভরই হতে হবে।

যদি তাই হয়, তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের চিরায়ত কাজেই থাকতে দেওয়া উচিত। তারা তাদের মতো কাজ করুক। আর শিল্প ঋণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এর পেছনে সমর্থন থাকবে সরকারের। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান/ব্যাংক কিছু তহবিল সংগ্রহ নিজেরা আগের মতো করতে পারবে। বাকিটা সরকারকে জোগাতে হবে। সরকার ‘অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের কিছু কাজ করছে। আমার মনে হয়, বড় শিল্পের সঙ্গে ছোট-মাঝারি ঋণকে মেশানো ঠিক হবে না। বেসিক ব্যাংককে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককেও নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ থেকে রেহাই দেওয়া যেতে পারে, যাতে ‘বিকেবি’ গ্রামীণ-কৃষি সংশ্লিষ্ট শিল্পে ঋণ প্রদানে মনোনিবেশ করতে পারে।

ছোট ছোট ঋণের জন্য বিশেষ প্রতিষ্ঠান দরকার। দেশে ৭০-৮০ লাখ ছোট ছোট উদ্যোক্তার শিল্প-ব্যবসা আছে। এগুলোর ঋণের প্রয়োজন বিশাল। এ খাতের সম্ভাবনা প্রচুর। জিডিপিতে এর অবদান, কর্মসংস্থানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসএমইর কোনো তুলনা হয় না। এসব বিবেচনা করে বিশেষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। বিশেষ বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক গড়ে তোলার বিষয়টি সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দেশে সেনাবাহিনীর জন্য ব্যাংক আছে। পুলিশ, বিজিবির জন্য ব্যাংক আছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আছে।

বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাংক- এ ধারণাটা ভবিষ্যতে ভালো ফল দেবে বলে আমার ধারণা। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক আছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আছে। সবাই যার যার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। সবারই অবদান দৃশ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প, কুটিরশিল্প, অতিক্ষুদ্র শিল্প, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের অভিজ্ঞতা এ কাজে সহায়তা করবে। ‘ব্যাংক লেড গ্রোথ’ যখন আমাদের নীতি, তখন দুকদম এগোতে বাধা কোথায়? আমাদের ‘ভাবিয়া কাজ করিতে হইবে’- তাই নয় কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

খাতগুলো বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে

 ড. আর এম দেবনাথ 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। ছোটবেলায় গুরুজনদের মুখে এ কথা বহুবার শুনেছি। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের উপদেশও তাই। ব্যক্তিগত জীবনেও আমরা অনেকেই এ উপদেশ মেনে চলি। কোনো সিদ্ধান্তের ফলাফল খারাপ হলেই আমরা এ কথা স্মরণ করি। আজ এ নিবন্ধ লেখার সময়েও এ উপদেশের কথা মনে হচ্ছে। কেন? কারণ দুটি সংবাদ। একটি সংবাদ যুগান্তরের, আরেকটি প্রকাশিত হয়েছে অন্য পত্রিকায়।

যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনাম : ‘ক্ষুদ্র ঋণের প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ, ব্যর্থ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তিরস্কার’। খবরের ভেতরে আছে- ‘ভবিষ্যতে তিরস্কারের পরিবর্তে দেওয়া হবে শাস্তি।’ কে বলেছে এ কথা? বলেছে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যারা শাস্তি ও পুরস্কার দুটিই দিতে পারে।

এ খবরটির শিরোনামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরেকটি খবরের শিরোনাম : ‘উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ প্রদানের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন’। ঢাকা চেম্বার ও এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে একটি মতবিনিময় সভা করেছে সম্প্রতি। ওই সভায় বলা হয়- ‘দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের বিকাশে অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিতকরণে ঋণ প্রদানের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

এ খাতের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক স্থাপন, এসএমই ডাটাবেজ প্রণয়ন, সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা দরকার। খবর দুটির সারমর্ম হচ্ছে, ক্ষুদ্রঋণের জন্য আলাদা ব্যাংক দরকার। কারণ চিরাচরিত বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়ে এ কাজটি হচ্ছে না। হচ্ছে না যে, তার প্রমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের শাসানি বা হুঁশিয়ারি।

বলাই বাহুল্য, দেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক নেই। ক্ষুদ্রঋণ কেন, বড় শিল্প ঋণ, ছোট ছোট শিল্প ঋণ, মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে নেই। সিএমএসএমই অর্থাৎ দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের মধ্যে শিল্প যেমন পড়ে, তেমনি পড়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ী-উদ্যোগ। বলাই উচিত, এসব ঋণের চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। শিল্প ঋণের জন্যও নেই কোনো আলাদা প্রতিষ্ঠান। অথচ ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা ও শিল্প মালিকরা ‘এসএমই’ ঋণের জন্য আলাদা ব্যাংক চান। তারা বড় ঋণের জন্যও চান।

বলা দরকার, এ অবস্থা আমাদের দেশে সব সময় ছিল না। এখানে ছিল ব্যাংক অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কমার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (বেসিক ব্যাংক), যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ৩২ বছর আগে। এর কাজই ছিল ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ দেওয়া। ব্যাংকটি আছে কিন্তু এর চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তারা এখন বাণিজ্যিক ব্যাংক। এদিকে শিল্প ঋণ দেওয়ার জন্য ছিল দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস)। স্বাধীনতার পরপরই এ দুটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আজ এ দুটি প্রতিষ্ঠান নেই।

এ দুটি ব্যাংককে একত্রিত করে গঠিত হয়েছে বিডিবিএল বা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। এটি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। আজ থেকে ১২ বছর আগে এর প্রতিষ্ঠা হয়। এদিকে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। এর আসল কাজ ছিল কৃষি ও কৃষি সম্পর্কিত ছোট ছোট শিল্প ও উদ্যোগে ঋণ দেওয়া। না, তারা আজ সেই কাজই শুধু করেনি, তারা এখন নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যাংক।

এত বড় বর্ণনা দিলাম এটি বোঝানোর জন্য যে, দেশে ছোট-বড় শিল্প ঋণ, ছোট-বড় উদ্যোগে ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল। আমরা বিদেশিদের কুমন্ত্রণায় এ ব্যাংকগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করেছি, যাদের কাজ শিল্প ঋণ দেওয়া নয়। তাদের কাজ বাণিজ্যে, ব্যবসায়, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ঋণ দেওয়া।

এখন দেখা যাচ্ছে, আবার দাবি উঠেছে ছোট ছোট ঋণ, সিএমএসএমই খাতে ঋণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকের। এর জন্যই নিবন্ধের শুরুতে বলেছি, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। প্রতিষ্ঠান ছিল, সেগুলো না ভেবেচিন্তে ভেঙে দিলাম, অন্য খাতে প্রবাহিত করলাম, অথচ এসবের ভীষণ দরকার। মাঝখানে সময় চলে গেল অনেক। এর দায়িত্ব কে নেবে? দেখা যাচ্ছে, না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আছে, কিন্তু এর ফলাফলের দায়িত্ব নেওয়ার কোনো লোক নেই।

‘গ্রামীণ ব্যাংক’ সম্পর্কে কিছু বলা যাক। এটি সংসদের আইনে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংক। এর নিয়ন্ত্রণও সরকারের হাতে। এটি কেন করা হয়? ১৯৮৩ সালে এ ব্যাংকটি ভূমিহীন ও গরিবদের ঋণ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ঋণ হচ্ছে জামানতহীন। কেন এ ধরনের ব্যাংক? কারণ প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ দিতে, গ্রামে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। বস্তুত তারা ছোট ছোট গরিব ঋণগ্রহীতাকে ছোট ছোট ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা।

স্বাধীনতার পর ব্যাংকগুলো জাতীয়করণ করা হয় এবং গ্রামে গ্রামে এদের শাখা খোলা হয়। উদ্দেশ্য কৃষি ঋণ, গ্রামীণ ঋণ, ছোট ছোট উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়া। এটা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো করতে উৎসাহী হয়নি। নানা অজুহাতে তারা এ ধরনের ঋণ থেকে প্রায় বিরত থাকে। ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ব্যয়বহুল কাজ, এসবের মনিটরিং কঠিন, ব্যাংক কর্মীদের এ ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব- এসব কারণ দেখিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা, নির্বাহীরা গ্রামীণ ঋণে উৎসাহী হয়নি। সরকার বাধ্য হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ভূমিহীন ও গরিবদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার জন্য। পরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পল্লী কর্মসহায়ক ফান্ড’ (পিকেএসএফ)। উদ্দেশ্য, পল্লিতে ছোট ছোট উদ্যোগে ঋণ দেওয়া। এসব থেকে প্রমাণিত হয় বাণিজ্যিক ব্যাংক সব ধরনের ঋণের জন্য প্রস্তুত নয়। তারা বস্তুত বড়দের সেবায় নিয়োজিত।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে বড়দের সেবায় নিয়োজিত এ কথা আগেই প্রমাণিত। এবার করোনার মধ্যে তা আরও ভালো করে প্রমাণিত। সরকার প্রণোদনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, খাতওয়ারি বরাদ্দ দিয়েছে। ‘ফান্ডের’ ব্যবস্থা করেছে। ব্যাংকগুলো যাতে এসব প্রণোদনার টাকা বিতরণ করে তার জন্য তাদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিস্তারিত কর্মসূচি, নিয়ম-কানুন তৈরি করে দিয়েছে। নিয়মিত তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই নড়েচড়ে বসছে না। বসছে না এমন একটা অস্বাভাবিক সময়ে- করোনা মহামারিতে যখন অর্থনীতি তাদের সেবা কামনা করে। দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো বড় বড় ঋণ ঠিকই দিচ্ছে, বড় বড় শিল্পে ঠিকই ঋণ দিচ্ছে। দিচ্ছে প্রভাবশালীদের ঋণ। কিন্তু অবহেলিত রয়েছে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, শিল্প ও ব্যবসা। এর সর্বশেষ প্রমাণ যুগান্তরের প্রতিবেদন। প্রশ্ন, তাহলে করণীয় কী?

এ করণীয় ক্ষেত্রেই এখন সুপারিশ আসছে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের/ব্যাংকের। আমার মতে, সুপারিশটি বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। কেন? কারণ বিশেষায়িত শিল্প ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করার প্রধান যুক্তি ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংক তার ‘ফান্ড’ নিজে জোগাড় করে নেবে। এরা সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। নিজের ফান্ডে শিল্প ঋণ দেবে। সরকার বোঝামুক্ত হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শিল্প ঋণ দিতে গিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন লেজে-গোবরে। বড় শিল্পে ঋণ প্রদান, এলসি খোলা, নন-ফান্ডেড লোনকে ফান্ডেড ঋণে রূপান্তর করতে গিয়ে এখন তারা সংকটে নিপতিত। তাদের শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আনাদায়ী ঋণ বাড়ছে। সরকারকে বাজেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে পুঁজি হিসাবে। তার মানে সরকারের বোঝা কমেনি, বরং বেড়েছে। অধিকন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের শিল্প ঋণ দেওয়ার মতো দক্ষতাসম্পন্ন অফিসার-কর্মীর বড় অভাব। আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মালিকদের সেবা, বড় গ্রাহকদের সেবাতেই ব্যস্ত। প্রকৃত উদ্যোক্তা, শিল্প মালিক ঋণ পান না। এ অবস্থায় শিল্প ঋণের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকাই ভালো। এর দরকার আরও বেশি, যখন সরকারের নীতি হচ্ছে ‘ব্যাংক ফিন্যান্স ড্রিভেন গ্রোথ’।

বোঝাই যাচ্ছে, শিল্পের পুঁজি শেয়ারবাজার থেকে আসবে না। অনেকদিন ধরে বিভিন্ন সরকার চেষ্টা করেছে পুঁজিবাজারকে উজ্জীবিত করতে, যাতে এর থেকে শিল্প ঋণের টাকা আসে। আমাদের শিল্পের মালিকরা এতে উৎসাহী নন। তারা লাভ ভাগাভাগি করতে উৎসাহী নন। আবার তারা নিয়ম-কানুনের অধীনেও আসতে চান না। সে জন্যই লাভজনক অনেক প্রাইভেট কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হচ্ছে না। সরকারও বুঝতে পেরেছে যে-চীন, ভারত ইত্যাদি দেশের মতো শিল্পায়নের জন্য ব্যাংকনির্ভরই হতে হবে।

যদি তাই হয়, তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের চিরায়ত কাজেই থাকতে দেওয়া উচিত। তারা তাদের মতো কাজ করুক। আর শিল্প ঋণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এর পেছনে সমর্থন থাকবে সরকারের। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান/ব্যাংক কিছু তহবিল সংগ্রহ নিজেরা আগের মতো করতে পারবে। বাকিটা সরকারকে জোগাতে হবে। সরকার ‘অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের কিছু কাজ করছে। আমার মনে হয়, বড় শিল্পের সঙ্গে ছোট-মাঝারি ঋণকে মেশানো ঠিক হবে না। বেসিক ব্যাংককে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককেও নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ থেকে রেহাই দেওয়া যেতে পারে, যাতে ‘বিকেবি’ গ্রামীণ-কৃষি সংশ্লিষ্ট শিল্পে ঋণ প্রদানে মনোনিবেশ করতে পারে।

ছোট ছোট ঋণের জন্য বিশেষ প্রতিষ্ঠান দরকার। দেশে ৭০-৮০ লাখ ছোট ছোট উদ্যোক্তার শিল্প-ব্যবসা আছে। এগুলোর ঋণের প্রয়োজন বিশাল। এ খাতের সম্ভাবনা প্রচুর। জিডিপিতে এর অবদান, কর্মসংস্থানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসএমইর কোনো তুলনা হয় না। এসব বিবেচনা করে বিশেষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। বিশেষ বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক গড়ে তোলার বিষয়টি সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দেশে সেনাবাহিনীর জন্য ব্যাংক আছে। পুলিশ, বিজিবির জন্য ব্যাংক আছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আছে।

বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাংক- এ ধারণাটা ভবিষ্যতে ভালো ফল দেবে বলে আমার ধারণা। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক আছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আছে। সবাই যার যার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। সবারই অবদান দৃশ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প, কুটিরশিল্প, অতিক্ষুদ্র শিল্প, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের অভিজ্ঞতা এ কাজে সহায়তা করবে। ‘ব্যাংক লেড গ্রোথ’ যখন আমাদের নীতি, তখন দুকদম এগোতে বাধা কোথায়? আমাদের ‘ভাবিয়া কাজ করিতে হইবে’- তাই নয় কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন