শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন
jugantor
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন

  সুসেন কুমার বড়ুয়া  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা শুধু সনদের জন্য হবে না, হবে জীবনমুখী। শিক্ষা হবে আনন্দের। থাকবে না পরীক্ষাভীতি। তবেই তৈরি হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ।

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে এ শিক্ষাক্রমে।

এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বদলে যাবে বই ও শিক্ষা পদ্ধতি। এসএসসির আগ পর্যন্ত থাকবে না কোনো পাবলিক পরীক্ষা।

এছাড়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল মিলে হবে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল। শ্রেণি কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে সবচেয়ে বেশি।

ফলে এটি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো-শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমান অংশগ্রহণ।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬০ শতাংশ নম্বরের শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন এবং ৪০ শতাংশ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে।

এটি সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অনুপাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক থাকতে হবে। এজন্য শিক্ষকের সংখ্যা বাড়াতে হবে অর্থাৎ প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানের লেখাপড়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষার ফল জেনে অভিভাবকরা সন্তানের পড়ালেখার মান নির্ধারণ করেন, তখন সেটি থাকবে না।

ফলে সন্তানের অবস্থা জানতে শিক্ষকদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখতে হবে অভিভাবকদের। অন্যথায় কারিকুলামের উদ্দেশ্য সফল হবে না।

নতুন শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে উপযোগী করে তুলতে হবে।

শিক্ষকের মর্যাদা, অধিকার, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য নিশ্চিত করতে স্তর নির্বিশেষে সব শিক্ষকের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করাও জরুরি।

এতে করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি নতুন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের জীবনাচরণই বদলে যাবে।

অধ্যাপক সুসেন কুমার বড়ুয়া : অধ্যক্ষ, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন

 সুসেন কুমার বড়ুয়া 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা শুধু সনদের জন্য হবে না, হবে জীবনমুখী। শিক্ষা হবে আনন্দের। থাকবে না পরীক্ষাভীতি। তবেই তৈরি হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ।

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে এ শিক্ষাক্রমে।

এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বদলে যাবে বই ও শিক্ষা পদ্ধতি। এসএসসির আগ পর্যন্ত থাকবে না কোনো পাবলিক পরীক্ষা।

এছাড়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল মিলে হবে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল। শ্রেণি কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে সবচেয়ে বেশি।

ফলে এটি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো-শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমান অংশগ্রহণ।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬০ শতাংশ নম্বরের শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন এবং ৪০ শতাংশ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে।

এটি সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অনুপাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক থাকতে হবে। এজন্য শিক্ষকের সংখ্যা বাড়াতে হবে অর্থাৎ প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানের লেখাপড়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষার ফল জেনে অভিভাবকরা সন্তানের পড়ালেখার মান নির্ধারণ করেন, তখন সেটি থাকবে না।

ফলে সন্তানের অবস্থা জানতে শিক্ষকদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখতে হবে অভিভাবকদের। অন্যথায় কারিকুলামের উদ্দেশ্য সফল হবে না।

নতুন শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে উপযোগী করে তুলতে হবে।

শিক্ষকের মর্যাদা, অধিকার, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য নিশ্চিত করতে স্তর নির্বিশেষে সব শিক্ষকের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করাও জরুরি।

এতে করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি নতুন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের জীবনাচরণই বদলে যাবে।

অধ্যাপক সুসেন কুমার বড়ুয়া : অধ্যক্ষ, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন