কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত চক্রান্ত
jugantor
কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত চক্রান্ত

  রানা দাশগুপ্ত  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন; যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। এখনো সংখ্যালঘুরা এদেশে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে, যার উদাহরণ ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লা, কিন্তু কেন?

এদেশে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীরা এখনো সক্রিয়। কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত চক্রান্ত। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী, তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা রোধ করা না গেলে শুধু সংখ্যালঘুদেরই ক্ষতি হবে না, সংখ্যাগুরুরাও ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এ ধরনের বাংলাদেশ দেখার জন্য আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করিনি।

কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। যে সময়ে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে ওই সময়ে মণ্ডপে না ছিল পুলিশ পাহারা, না ছিল পূজার্থী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য কুচক্রী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করি। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভেবে দেখতে হবে কুমিল্লার ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছি কিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন করবে। এখনো তা করা হয়নি। প্রত্যেক দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। আমরা চাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহাবস্থান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যারা হামলা করেছিল, তাদের বিচার এখনো হয়নি। চার্জশিটে যাদের নাম ছিল, এমন অনেক ব্যক্তি এখন ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছে। এটা দুঃখজনক।

বিদ্যমান আইন দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা যাবে না। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় নারী ও শিশুদের মতো বিশেষ আইন করতে হবে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার দিয়েছিল, তাতে সংখ্যালঘুদের রক্ষায় একাধিক অঙ্গীকার করেছিল। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখন সারা দেশে গণস্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসে লক্ষাধিক গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পেশ করব। এর পরও সরকারপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ যদি না হয়, তাহলে আগামী বছর যে কোনো দিন ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ এ স্লোগানে রোডমার্চ করা হবে।

বিগত বছর করোনা মহামারির কারণে শারদীয় দুর্গোৎসব করা যায়নি। এ বছর দুর্গোৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও মহাঅষ্টমীর দিনে কুমিল্লার ঘটনায় তা ম্লান হয়ে গেছে। সারা দেশে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অথচ এমন উৎসবের সময়ে অস্থিরতা ও অরাজকতা কাম্য ছিল না।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত : সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত চক্রান্ত

 রানা দাশগুপ্ত 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন; যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। এখনো সংখ্যালঘুরা এদেশে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে, যার উদাহরণ ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লা, কিন্তু কেন?

এদেশে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীরা এখনো সক্রিয়। কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত চক্রান্ত। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী, তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা রোধ করা না গেলে শুধু সংখ্যালঘুদেরই ক্ষতি হবে না, সংখ্যাগুরুরাও ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এ ধরনের বাংলাদেশ দেখার জন্য আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করিনি।

কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। যে সময়ে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে ওই সময়ে মণ্ডপে না ছিল পুলিশ পাহারা, না ছিল পূজার্থী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য কুচক্রী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করি। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভেবে দেখতে হবে কুমিল্লার ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছি কিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন করবে। এখনো তা করা হয়নি। প্রত্যেক দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। আমরা চাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহাবস্থান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যারা হামলা করেছিল, তাদের বিচার এখনো হয়নি। চার্জশিটে যাদের নাম ছিল, এমন অনেক ব্যক্তি এখন ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছে। এটা দুঃখজনক।

বিদ্যমান আইন দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা যাবে না। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় নারী ও শিশুদের মতো বিশেষ আইন করতে হবে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার দিয়েছিল, তাতে সংখ্যালঘুদের রক্ষায় একাধিক অঙ্গীকার করেছিল। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখন সারা দেশে গণস্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসে লক্ষাধিক গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পেশ করব। এর পরও সরকারপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ যদি না হয়, তাহলে আগামী বছর যে কোনো দিন ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ এ স্লোগানে রোডমার্চ করা হবে।

বিগত বছর করোনা মহামারির কারণে শারদীয় দুর্গোৎসব করা যায়নি। এ বছর দুর্গোৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও মহাঅষ্টমীর দিনে কুমিল্লার ঘটনায় তা ম্লান হয়ে গেছে। সারা দেশে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অথচ এমন উৎসবের সময়ে অস্থিরতা ও অরাজকতা কাম্য ছিল না।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত : সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন