বিভেদ নয়, ঐক্য চাই
jugantor
বিভেদ নয়, ঐক্য চাই

  বিমল সরকার  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারের দুর্গাপূজায় ধর্মের অবমাননা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অবাঞ্ছিত ও দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এ উন্মত্ততায় সবার ধৈর্য ধরা এবং আরও সজাগ থাকাই কাম্য। ইংরেজ ঔপনিবেশিক, এমনকি পাকিস্তান আমলেও আর্থিকভাবে আমাদের দেশটি ছিল অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যক্লিষ্ট জনপদ। তা সত্ত্বেও সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ, লালন ও অনুসরণ করে আমরা হিন্দু-মুসলমান প্রধান দুটি সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে এসেছি।

এরই মাঝে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির জঙ্গিরূপ কখনো কখনো আমাদের কতগুলো অনালোচিত খোলা প্রশ্নের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমরা কতগুলো আবেগকে সম্বল করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে আসছি, তা কতটা আবেগসর্বস্ব, আর কতটাই বা যুক্তিপূর্ণ?

মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে লিখেছিলেন, ‘আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম,’ সে কি কেবল কথার কথা অথবা কবির আবেগমথিত স্বপ্ন? ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন, কাণ্ডারি! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’-এ আর্ত জিজ্ঞাসার পরও একেকটি সময় আমরা ওই সংকীর্ণ ভেদবুদ্ধি সৃষ্ট নানা অনভিপ্রেত উন্মত্ততার শিকার হয়েছি।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে আশতিয়াপাড়া গ্রাম। এ আশতিয়াপাড়া গ্রামেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। গ্রামে হিন্দু বসতি খুবই কম, হাতেগোনা কয়েকটি ঘর। উত্তরদিকে গেলে প্রথমেই পড়বে আমাদের বাড়িটি, পরে আর মাত্র কয়েকটি; তবে বেশ ছাড়া ছাড়া। আমাদের বাড়ি থেকে দক্ষিণে থানা (পুলিশ স্টেশন) পর্যন্ত এবং পশ্চিম ও পূর্ব দিকে আর কোনো হিন্দু বাড়ি নেই, আগেও ছিল না এবং তা আমার শৈশব থেকে দেখা।

ক’বছর আগে করিমগঞ্জ পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ায় আশতিয়াপাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত হয়, যার বর্তমান লোকসংখ্যা আনুমানিক ৯ হাজার (এক নম্বর ওয়ার্ডই সবচেয়ে বেশি জনঅধ্যুষিত)। মোট এই ৯ হাজার অধিবাসীর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা আনুমানিক ৪শ। আমাদের বাড়ির পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণে আর কোনো হিন্দু বসতি নেই; উত্তরদিকে অনেকটাই ফাঁকা জমি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের চরম দুঃসহ দিনগুলোতে যে বিষয়টি কখনো আমার মনে আসেনি, ৫০ বছর পর পরিণত বয়সে তা-ই আজ মনের মাঝে বারবার জেগে উঠছে।

জাতির ক্রান্তিকালে দু-একটি বিচ্ছিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা সংঘটিত হয়নি তা নয়, তবে তা খুবই বিচ্ছিন্ন। তা না হলে আমরা কষ্ট সহ্য করে আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে হলেও বাড়িঘর বা পার্শ্ববর্তী পুরোপরি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে দীর্ঘ নয় মাস অবস্থান করতে পারতাম না। অল্প ক’টি পরিবার ভারতে চলে যায়।

১৯৭১ সাল। আমাদের বাড়ি লাগোয়া বিডি মেম্বার আবদুর রউফ এবং গ্রামের বেশ সম্পন্ন গৃহস্থ দুই সহোদর খোদা নেওয়াজ ও নবী নেওয়াজদের বাড়ি। পশ্চিমে বেশ দূরে বিলের পাড়ে আলীমুদ্দিন মুন্সি ও আবদুল আলী মুন্সি এমন চার সহোদরের বাড়ি। মনে পড়ে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত দু-চার দফা কতিপয় রাজাকারের কোপানলে পড়লেও যে করেই হোক আমরা সবাই যার যার বাড়িঘরেই ছিলাম। এমনকি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে নিয়মিত প্রতিদিন রাতে বিনয় সরকারের বাড়িতে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার খবর শুনেছি।

পরপর দু’দফা মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের মধ্যে গোলাগুলি হলে আমরা আশতিয়াপাড়া ও পার্শ্ববর্তী রামনগর গ্রামের নারী ও শিশুসহ হিন্দু পরিবারগুলো আরও এক-দেড় কিলোমিটার উত্তরে নামাপাড়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে অবশ্য অধিকতর নিরাপত্তার আশায় মুসলমানদেরই পরামর্শ আর সহযোগিতায় অনেকে অন্যত্র চলে যায়। আশ্রিত সবার প্রতি মুসলমান গ্রামবাসীর সে কী সহৃদয়তা, মনোযোগ ও সুদৃষ্টি ছিল! নামাপাড়া গ্রামের সোলায়মান মাস্টার (সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য ড. মিজানুল হকের পিতা), নূরুল হুদা মাস্টার, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, আবদুর রউফ ডাক্তার, আবদুল আজিদ, ওয়াহেদ বক্স, কাউছার বাপ-এরকম ক’জনের নাম বলব (তাদের কেউ-ই আজ বেঁচে নেই)।

সেসব দিনের কথা মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে আমার ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত মদিনায় মুসলমানদের হিজরতের কথা মনে পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসারী উদ্বাস্তু মক্কার মুসলমানদের আশ্রয়, অর্থ, শক্তি ও সাহস দিয়ে সাহায্য করেছিলেন মদিনার হৃদয়বান জনসাধারণ। ১৯৭১ সালে নাজিম মাস্টার তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের ঘর খালি করে আমাদের থাকতে দিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ও স্মৃতি কি ভোলা যায়!

একেকটি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে’-এমন বক্তৃতা দশকের পর দশক ধরে শুনতে শুনতে মানুষের কান ঝালাপালা। সময় পরিক্রমায় শিশু কিশোর হয়, কিশোর যুবক আর যুবক হয় বৃদ্ধ। বুড়ো হয়ে অনেকের নিজের দাঁতই পড়ে গেল। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত আজও আর উপড়ানো হলো না।

লেখাটির শুরুতেই বলেছি জাতীয়ভাবে আমাদের আর্থিক অভাব-অনটনের কথা। স্বাধীনতা লাভ করেছি ৫০ বছর আগে। দেশ অর্থনীতিসহ বলতে গেলে সবদিক থেকে অনেক দূর এগিয়েছে, এগিয়ে চলেছে। তা সত্ত্বেও কোথায় যেন আমাদের গলদ রয়েই গেছে। দীর্ঘদিন হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি বসবাস করেও যখন পারস্পরিক সংশয়-সন্দেহ আর অবিশ্বাস এবং হিংসা-বিদ্বেষের প্রশ্নটি সামনে আসে, তখন সচেতন ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যে কারও মনই বিদীর্ণ হয়ে পড়ে। প্রশ্ন দেখা দেয়-এ কোন সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ আমরা? আজ প্রার্থনা আমাদের একটাই- হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই; বিভেদ নয়, ঐক্য চাই।

বিধাতা সবাইকে সুমতি দিন।

বিমল সরকার : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

বিভেদ নয়, ঐক্য চাই

 বিমল সরকার 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারের দুর্গাপূজায় ধর্মের অবমাননা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অবাঞ্ছিত ও দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এ উন্মত্ততায় সবার ধৈর্য ধরা এবং আরও সজাগ থাকাই কাম্য। ইংরেজ ঔপনিবেশিক, এমনকি পাকিস্তান আমলেও আর্থিকভাবে আমাদের দেশটি ছিল অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যক্লিষ্ট জনপদ। তা সত্ত্বেও সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ, লালন ও অনুসরণ করে আমরা হিন্দু-মুসলমান প্রধান দুটি সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে এসেছি।

এরই মাঝে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির জঙ্গিরূপ কখনো কখনো আমাদের কতগুলো অনালোচিত খোলা প্রশ্নের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমরা কতগুলো আবেগকে সম্বল করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে আসছি, তা কতটা আবেগসর্বস্ব, আর কতটাই বা যুক্তিপূর্ণ?

মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে লিখেছিলেন, ‘আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম,’ সে কি কেবল কথার কথা অথবা কবির আবেগমথিত স্বপ্ন? ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন, কাণ্ডারি! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’-এ আর্ত জিজ্ঞাসার পরও একেকটি সময় আমরা ওই সংকীর্ণ ভেদবুদ্ধি সৃষ্ট নানা অনভিপ্রেত উন্মত্ততার শিকার হয়েছি।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে আশতিয়াপাড়া গ্রাম। এ আশতিয়াপাড়া গ্রামেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। গ্রামে হিন্দু বসতি খুবই কম, হাতেগোনা কয়েকটি ঘর। উত্তরদিকে গেলে প্রথমেই পড়বে আমাদের বাড়িটি, পরে আর মাত্র কয়েকটি; তবে বেশ ছাড়া ছাড়া। আমাদের বাড়ি থেকে দক্ষিণে থানা (পুলিশ স্টেশন) পর্যন্ত এবং পশ্চিম ও পূর্ব দিকে আর কোনো হিন্দু বাড়ি নেই, আগেও ছিল না এবং তা আমার শৈশব থেকে দেখা।

ক’বছর আগে করিমগঞ্জ পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ায় আশতিয়াপাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত হয়, যার বর্তমান লোকসংখ্যা আনুমানিক ৯ হাজার (এক নম্বর ওয়ার্ডই সবচেয়ে বেশি জনঅধ্যুষিত)। মোট এই ৯ হাজার অধিবাসীর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা আনুমানিক ৪শ। আমাদের বাড়ির পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণে আর কোনো হিন্দু বসতি নেই; উত্তরদিকে অনেকটাই ফাঁকা জমি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের চরম দুঃসহ দিনগুলোতে যে বিষয়টি কখনো আমার মনে আসেনি, ৫০ বছর পর পরিণত বয়সে তা-ই আজ মনের মাঝে বারবার জেগে উঠছে।

জাতির ক্রান্তিকালে দু-একটি বিচ্ছিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা সংঘটিত হয়নি তা নয়, তবে তা খুবই বিচ্ছিন্ন। তা না হলে আমরা কষ্ট সহ্য করে আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে হলেও বাড়িঘর বা পার্শ্ববর্তী পুরোপরি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে দীর্ঘ নয় মাস অবস্থান করতে পারতাম না। অল্প ক’টি পরিবার ভারতে চলে যায়।

১৯৭১ সাল। আমাদের বাড়ি লাগোয়া বিডি মেম্বার আবদুর রউফ এবং গ্রামের বেশ সম্পন্ন গৃহস্থ দুই সহোদর খোদা নেওয়াজ ও নবী নেওয়াজদের বাড়ি। পশ্চিমে বেশ দূরে বিলের পাড়ে আলীমুদ্দিন মুন্সি ও আবদুল আলী মুন্সি এমন চার সহোদরের বাড়ি। মনে পড়ে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত দু-চার দফা কতিপয় রাজাকারের কোপানলে পড়লেও যে করেই হোক আমরা সবাই যার যার বাড়িঘরেই ছিলাম। এমনকি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে নিয়মিত প্রতিদিন রাতে বিনয় সরকারের বাড়িতে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার খবর শুনেছি।

পরপর দু’দফা মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের মধ্যে গোলাগুলি হলে আমরা আশতিয়াপাড়া ও পার্শ্ববর্তী রামনগর গ্রামের নারী ও শিশুসহ হিন্দু পরিবারগুলো আরও এক-দেড় কিলোমিটার উত্তরে নামাপাড়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে অবশ্য অধিকতর নিরাপত্তার আশায় মুসলমানদেরই পরামর্শ আর সহযোগিতায় অনেকে অন্যত্র চলে যায়। আশ্রিত সবার প্রতি মুসলমান গ্রামবাসীর সে কী সহৃদয়তা, মনোযোগ ও সুদৃষ্টি ছিল! নামাপাড়া গ্রামের সোলায়মান মাস্টার (সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য ড. মিজানুল হকের পিতা), নূরুল হুদা মাস্টার, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, আবদুর রউফ ডাক্তার, আবদুল আজিদ, ওয়াহেদ বক্স, কাউছার বাপ-এরকম ক’জনের নাম বলব (তাদের কেউ-ই আজ বেঁচে নেই)।

সেসব দিনের কথা মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে আমার ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত মদিনায় মুসলমানদের হিজরতের কথা মনে পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসারী উদ্বাস্তু মক্কার মুসলমানদের আশ্রয়, অর্থ, শক্তি ও সাহস দিয়ে সাহায্য করেছিলেন মদিনার হৃদয়বান জনসাধারণ। ১৯৭১ সালে নাজিম মাস্টার তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের ঘর খালি করে আমাদের থাকতে দিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ও স্মৃতি কি ভোলা যায়!

একেকটি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে’-এমন বক্তৃতা দশকের পর দশক ধরে শুনতে শুনতে মানুষের কান ঝালাপালা। সময় পরিক্রমায় শিশু কিশোর হয়, কিশোর যুবক আর যুবক হয় বৃদ্ধ। বুড়ো হয়ে অনেকের নিজের দাঁতই পড়ে গেল। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত আজও আর উপড়ানো হলো না।

লেখাটির শুরুতেই বলেছি জাতীয়ভাবে আমাদের আর্থিক অভাব-অনটনের কথা। স্বাধীনতা লাভ করেছি ৫০ বছর আগে। দেশ অর্থনীতিসহ বলতে গেলে সবদিক থেকে অনেক দূর এগিয়েছে, এগিয়ে চলেছে। তা সত্ত্বেও কোথায় যেন আমাদের গলদ রয়েই গেছে। দীর্ঘদিন হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি বসবাস করেও যখন পারস্পরিক সংশয়-সন্দেহ আর অবিশ্বাস এবং হিংসা-বিদ্বেষের প্রশ্নটি সামনে আসে, তখন সচেতন ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যে কারও মনই বিদীর্ণ হয়ে পড়ে। প্রশ্ন দেখা দেয়-এ কোন সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ আমরা? আজ প্রার্থনা আমাদের একটাই- হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই; বিভেদ নয়, ঐক্য চাই।

বিধাতা সবাইকে সুমতি দিন।

 

বিমল সরকার : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন