এরশাদের পরামর্শই পরিত্রাণের পথ

  সুনীল শুভ রায় ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

২ জানুয়ারি ২০১৮ যুগান্তরে প্রকাশিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্য- ‘জাতীয় পার্টির সহযোগিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। বিনিময়ে আমরা কিছুই পাইনি। কেউ আমাদের সঙ্গে সুবিচার করেনি’- এ মন্তব্যে আঁতে ঘা লেগেছে সাংবাদিক সোহরাব হাসানের। দু’দিন পর তিনি ‘এরশাদের সুবিচার-অবিচার’ শিরোনামে তার কালের পুরাণে লিখেছেন- ‘নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে পতিত স্বৈরাচারী শাসক ও জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপিকে আবারও একহাত নিয়েছেন।’ এ লেখককে বলি- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলতে আপনাদের তো এখন লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনের নামে স্বৈরাচারী রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে- বিশ্বরেকর্ডে নথিভুক্ত করার আর কোনো জায়গা আছে বলে মনে হয় না। এখন আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কোন বিশেষণ দিয়ে সম্বোধন করে তা একটু কান পেতে শুনুন। আর যে নব্বইয়ের দুই পক্ষের হয়ে কথা বলছেন, তাদের এরশাদ সাহেব আর একহাত দেখাবেন কী- সাধারণ মানুষই তো এখন কথায় কথায় হাত দেখাচ্ছেন। যা হোক, ওই কালের পুরাণে যা লেখা হয়েছে তার প্রতিটি ছত্র ধরে ধরে এখানে কিছু জবাব দিচ্ছি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ যে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করে তিনবার ক্ষমতায় আনার কথা বলেছেন, তা কি মিথ্যা? আওয়ামী লীগ কি এ কথার কোনো প্রতিবাদ করে? এতে সোহরাব হাসানদের লাগছে কেন? আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসাটা ভালো লাগেনি- তাই? আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির মধ্যে নীতি ও আদর্শিক নৈকট্য না থাকলেও দূরত্ব সবখানে নেই। কারণ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একটি দেশপ্রেমিক দল। তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারে। জাতীয় পার্টিও মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক এবং উন্নয়ন ধারার একটি পার্টি। সুতরাং এ নৈকট্যের কারণে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করতেই পারে। কিন্তু বিএনপিকে নয়। কারণ তাদের সখ্য ও ঐক্য স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে। তারা উন্নয়নবিমুখ।

এখন আসা যাক- পাওয়া না পাওয়া এবং সুবিচারের কথায়। সোহরাব হাসানের ভাষায় ‘এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হয়েছেন। তার স্ত্রী রওশন এরশাদ ২০১৪ সালের নির্বাচনের সুবাদে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। আবার বিরোধী দলে থেকেও জাতীয় পার্টির তিন নেতা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরশাদ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হয়েছেন। এরপরও যদি বলেন তিনি কিছু পাননি, সেটি ডাহা মিথ্যা কথা।’ এ বক্তব্যের মধ্যে ডাহা মিথ্যা কথা হল, ‘এরশাদ সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হয়েছেন।’ আর প্রধানমন্ত্রীর দূত হওয়া কি বড় কোনো পাওয়া হয়ে গেল? কথা তো ছিল রাষ্ট্রপতি করার। তিনজন মন্ত্রী পাওয়াও কোনো পাওয়া নয়- বরং দলের জন্য ক্ষতি। একটি নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়ে প্রধান বিরোধী দলের নেতা হওয়া সরকারি দলের অনুগ্রহের দান হয় নাকি? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কয়েকবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। খালেদা জিয়াও দু’বার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। এরশাদ সাহেবের ব্যাংক-বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন ১৮টি ব্যাংক-বীমা বেসরকারি খাতে দিয়েছেন। তিনি বা তার কোনো লোক এসব ব্যাংক-বীমার মালিক হতে যাননি। এখন একটি ব্যাংকের সামান্য শেয়ার নিয়েছেন- এটাই তার পাওয়া হয়ে গেল? এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থেকে খুলনা-সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন। বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন। তিনি নিজে কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হয়েছেন? সোহরাব হাসান কোথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর পেলেন, তা অনুগ্রহ করে জানাবেন। এরশাদ সাহেব দিতে জানেন, নিতে জানেন না। পাঠককে বিভ্রান্ত করবেন না।

কালের এ পুরাণে লেখা হয়েছে- ‘পৃথিবীর আর কোনো দেশে পতিত স্বৈরাচারী শাসকের রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়ার দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এরশাদ সাহেব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক শাসকরাই সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’ পৃথিবীর কোনো স্বৈরাচারী শাসক রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি- পারবেনও না। রাষ্ট্রনায়ক এরশাদ রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কারণ তিনি স্বৈরশাসক ছিলেন না। যদি তা থাকতেন, তাহলে পারতেন না। নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক শাসকরা যে তাকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দিয়েছেন বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গণতান্ত্রিক শাসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন রাষ্ট্রনায়ক এরশাদ যাতে রাজনীতিতে আসতে না পারেন। তার জন্য তাকে অন্যায়ভাবে জেলে রাখা হয়েছে। তাকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে এ দেশের জনগণ। তিনি জেলে থেকে দু’বার ৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বিশ্বের ইতিহাসে কি এর কোনো দ্বিতীয় নজির আছে?

কথায় কথায় নব্বইয়ের গণআন্দোলনের কথা বলা হয়। ওই আন্দোলনের ফসলটা কী? ফসল হচ্ছে রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া। ফসল হচ্ছে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে দিয়ে রাজাকারকে স্যালুট দিতে বাধ্য করা। কারণ জামায়াতকে যে দুটি মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছিল, সেই শিল্প ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কি মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা ছিলেন না? তারা কি তাদের মন্ত্রীদের সালাম না জানিয়ে পেরেছেন? এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে তার চেয়ে শতগুণ তীব্র আন্দোলন হয়েছে ’৯৫-’৯৬ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে। সেই আন্দোলনে রাজকর্মচারীরা পর্যন্ত রাজপথে নেমে এসেছেন। সে আন্দোলনের শিরোনাম কী হবে?

আলোচিত লেখায় বলা হয়েছে- ‘বিস্ময়কর যে সেনাসমর্থিত দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়াসহ অনেক নেতা জেল খাটলেও এরশাদ ছিলেন বহাল তবিয়তে।’ এখন প্রশ্ন হল, এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনেছেন কারা- আর বানিয়েছেন কারা? এরশাদ সাহেব তো বরাবরই এ তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে ছিলেন। বিষবৃক্ষ যারা সৃষ্টি করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন, তারাই তার ফল ভোগ করেছেন। জানেনই তো গিলোটিন যিনি বানিয়েছিলেন তাকেই প্রথম সেই গিলোটিনে প্রাণ দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে জনগণের সমর্থন নিয়ে- এটি সত্য। কিন্তু তারা গাছের কতটুকু উঠতে পেরেছিলেন? মনে রাখা দরকার, গন্তব্যে পৌঁছার আরও কিছুটা বাকি ছিল। গন্তব্যে পৌঁছাতে আওয়ামী লীগকে সহায়তা করেছে জাতীয় পার্টি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ফলটা মনে করুন। সেবার আওয়ামী লীগ আসন পেল ১৪৪। বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩৪, জামায়াত ৩। এখন যোগ-বিয়োগ করে দেখুন ফলাফল কী হয়।

ওই লেখক বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে এরশাদ সাহেবই বেশি লাভবান হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ।’ আমার প্রশ্ন, এটা কি যথার্থ কথা? আমি একটু পূর্ববর্তী নির্বাচনের হিসাবের দিকে যেতে চাই। জেনারেল জিয়ার অধীনে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করে আসন পেয়েছে ৩৯টি। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ আসন পেয়েছে ৭৬টি। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ ১৫ দল নিয়ে নির্বাচন করে আসন পেয়েছে ৮৮টি। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করে আসন পেয়েছে ৬২টি। আর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠন করে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আসন পেয়েছে ২৩৩টি। অপরদিকে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করে দু’বার ক্ষমতায় গেছে। আর প্রতিকূল পরিবেশে দু’বার এককভাবে নির্বাচন করে ’৯১-তে পেয়েছে ৩৫ আসন এবং ’৯৬-তে পেয়েছে ৩৪ আসন। কিন্তু জোটগতভাবে নির্বাচন করে ২০০৮-এ জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২৭ আসন। তার থেকে আবার উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির ৩টি আসন নিয়ে নেয়া হয়েছে। এ পরিসংখ্যান দেয়ার পর আর কি কোনো প্রয়োজন আছে- আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির জোটে কে বেশি লাভবান হয়েছে তা প্রমাণের?

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ভেঙে হুদা-মতিনকে এনে দল গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। জাতীয় পার্টি তো গঠনই করা হয়েছে বিভিন্ন দল থেকে আসা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে। তিনি কি প্রথমে দল গঠন করতে চেয়েছিলেন? রাষ্ট্রপতি সাত্তার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। তৎকালীন সেনাপ্রধান হিসেবে এইচএম এরশাদ সেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময়কার পত্রিকা বাংলার বাণী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছিল। তারপর তিনি ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে নির্বাচন দিতে চেয়েছিলেন। তখন তো তার কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে এলো না কেন? তারপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাধ্য হয়েই তো রাষ্ট্রপতি এরশাদকে দল গঠন করতে হয়েছে। আজও যারা নিজের অবস্থান বিবেচনা না করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলতে চান, তাদের একটি চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা জাতির সামনে তুলে ধরা এক চুক্তিতে বলেছিলেন, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ কাউকে তারা নিজেদের দলে নেবেন না। নিশ্চয়ই মনে পড়বে সে কথা। কিন্তু এখন কী দেখছি- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আশপাশে কিংবা একান্ত আপনজন যারা ছিলেন এবং যাদের দিয়ে তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন, তাদের দ্বারাই তো সমৃদ্ধ হয়ে আছে দুটি দল।

আলোচিত লেখায় বিচারের কথা বলা হয়েছে। লেখা হয়েছে, এরশাদ সাহেবকে নাকি জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো দায় নেই। খুবই ভালো কথা। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে তো মামলার কোনো শেষ ছিল না। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার চেয়েও গুরুতর অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ময়মনসিংহের জনসভায় বলেছিলেন- ‘এরশাদ জেলে যাবে- একশ’ বছরেও বের হবে না। এরশাদ জীবিত জেলে ঢুকবে আর লাশ হয়ে বের হবে। এ কথা কি সোহরাব সাহেবের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি? তাকে বলতে চাই, এত বেশি পক্ষকানা হবেন না।

সোহরাব সাহেব তার লেখায় নব্বইয়ের আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে নূর হোসেন ও ডা. মিলনের কথা বলেছেন, কামরুল হাসানের কার্টুনের কথা বলেছেন। লিখেছেন ‘তিনি কি বলতে চান আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলোই সেই সময় নূর হোসেন, ডা. মিলনকে হত্যা করেছে? ’এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, এটি কোনো প্রশ্ন নয়- এটাই সত্য। নূর হোসেনের ছবিটা ভালো করে তাকিয়ে দেখুন। ছবিতে তার চোখ দেখুন। তার ঢুলুঢুলু চোখ দেখে কি মনে হবে- এটি কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের দৃষ্টি? তাকে নেশাগ্রস্ত করে তার বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক...’ কথাটা লিখে দেয়ার শিল্পী কে ছিল? সে তো ছিল মিছিলের মধ্যে। তাহলে গুলিটা তার পেছন থেকে লাগল কেন? পুলিশ তো ছিল সামনে। নূর হোসেনের মৃত্যু নিয়ে এমন অনেক প্রশ্ন আছে। মূলত সবই ছিল সাজানো। আন্দোলন বেগবান করার কৌশল। তাতে বলি হয়েছে হতভাগ্য নূর হোসেন। আর ডা. মিলন মারা গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুই দল ছাত্রের ক্রসফায়ারের মধ্যে পড়ে। তিনি তখন মিছিলেও ছিলেন না, আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যেও ছিলেন না। রিকশাযোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। আন্দোলন বেগবান করতে লাশের প্রয়োজনে আকস্মিকভাবে তা পাওয়া গেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শহীদ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। তারপর আন্দোলনে বিজয়ের পর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে কত শত-সহস্র মানুষ যে মারা গেছে- তাদের জীবন কি জীবন নয়? তাদের কেন শহীদ বলা হয় না? তাদের নামে কেন চত্বর হয় না?

সোহরাব হাসান যেসব অবাস্তব কথা লিখেছেন, তার জবাব দিতে গেলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়। পরিশেষে সোহরাব সাহেবের বক্তব্য আরও কিছুটা উল্লেখ করতে চাই। তিনি লিখেছেন, ‘এরশাদ একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; কিন্তু তাই বলে তার গায়ে লেগে থাকা স্বৈরশাসকের কালিমা মুছে ফেলতে পারি না।’ বেশ কথা, জনগণের রায় যদি গণতন্ত্র না হয়- তার যদি কোনো মূল্য না থাকে তাহলে আর বলার কিছু থাকে না। জনগণের রায়ে যদি স্বৈরাচারের কালিমা না মোছে তাহলে বলতে হয়- শুধু নির্বাচিত সরকার হলেই সেটা গণতান্ত্রিক সরকার হয় না। হিটলার-মুসোলিনিও নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নয় মাসের প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের কথা বলা হয়েছে। তিনি নাকি এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে কী লিখে গেছেন। আতাউর রহমান নয় মাসের মাথায় পদ হারিয়ে আবোল-তাবোল বলতে পারেন, লিখতে পারেন। পদ হারালে ওই দশা হতেই পারে! আলোচিত লেখক শেষ বক্তব্যে যা বলেছেন তা হল, ‘একদা স্বৈরাশাসক এখন গণতন্ত্র সম্পর্কে গণতান্ত্রিক দল ও নেতা-নেত্রীদের ‘সুপরামর্শ’ দিচ্ছেন। এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?’ মান্যবরকে বলি- আপনাদের বেদনাবোধের উদয় হোক সেটাই তো প্রত্যাশা করি। নব্বইয়ে গণআন্দোলনের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা-বিশৃঙ্খলতা এবং জ্বালাও-পোড়াও সৃষ্টি করে যে পাপ করেছেন তার জন্য গোটা জাতিকে এখনও ফল ভোগ করতে হচ্ছে। কতটুকু বেদনা আর বোধ করছেন? শাপমুক্তি তো এখনও হয়নি। নব্বই-পরবর্তী সময় যেভাবে পার হচ্ছে- এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পরামর্শই যে এখন একমাত্র পথ।

সুনীল শুভ রায় : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতিক

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter