এ অর্জন দীর্ঘ সংগ্রামের ফল
jugantor
শতফুল ফুটতে দাও
এ অর্জন দীর্ঘ সংগ্রামের ফল

  ড. মাহবুব উল্লাহ্  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসেম্বর এসেছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসের ১৬ তারিখ পাকিস্তানি বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশে অবসান ঘটল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং গ্রাম-গ্রামান্তরে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাঙালিদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনা। দেশের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের জনগণ বছরের পর বছর লড়াই ও সংগ্রাম করেছে। এ সংগ্রাম ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রয়াস পেয়েছিল এদেশেরই মুক্তিকামী জনতার একটি অংশ। সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর নেতৃত্বে জিহাদ সংগ্রাম এবং চট্টগ্রাম যুব-বিদ্রোহ ভারত উপমহাদেশের মুক্তি সংগ্রামে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। তবে এসব মহান সংগ্রাম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ধারা হয়ে উঠতে পারেনি।

বস্তুত গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানকে সংগ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধারণ করে এসেছিল আমাদের স্বাধীনতা ১৯৪৭-এ। একদিকে আন্দোলন এবং অন্যদিকে টেবিলে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

১৯৪৭-এর স্বাধীনতা অর্জনের সাফল্যকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটল ইংরেজদের গোলামির ২০০ বছর। পাশ্চাত্যের উপনিবেশবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন কোনোক্রমেই তাৎপর্যহীন নয়। ইংরেজরা এ উপমহাদেশে তাদের শাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে ভারত উপমহাদেশকে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিভক্ত করে যায়। একদিকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

অপরদিকে ভারত উপমহাদেশের বাকি হিন্দু অধ্যুষিত অংশ নিয়ে গঠিত হয় স্বাধীন ভারত। ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করত তখন ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে কিছু রাজ্য নবাব ও রাজা-মহারাজাদের শাসনাধীন ছিল। এগুলোকে বলা হতো দেশীয় রাজ্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ হায়দ্রাবাদ, জম্মু ও কাশ্মীর, পাতৌদি, কুচবিহার ও জলপাইগুড়ি, ত্রিপুরা, জুনাগড়-মানভাদার, কালাত, চিত্রল, সোয়াত, অম্ব এবং দির এগুলোর নাম উল্লেখ করা যায়।

এসব দেশীয় রাজ্য প্রকৃত অর্থে স্বাধীন-সার্বভৌম ছিল না। এ দেশীয় রাজ্যগুলো ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে অধীনতামূলক মিত্রতা স্থাপন করে তাদের সামন্ততান্ত্রিক কর্তৃত্ব বজায় রাখত। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশরা যখন ভারত উপমহাদেশ ত্যাগ করে চলে যায়, তখন এ মর্মে সমঝোতা হয়েছিল যে, এসব দেশীয় রাজ্য তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে অথবা এগুলোর শাসকরা পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় অঙ্গীভূত হতে পারবে।

কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত দেশীয় রাজ্যগুলোকে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত করে ফেলে। অঙ্গীভূতকরণের এ প্রক্রিয়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। জম্মু ও কাশ্মীর এর জলন্ত প্রমাণ। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হয় বর্তমান পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্ত লাগোয়া হয়েই একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি পায়। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ এবং পূর্ব অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল হাজার মাইলের। ভারত থাকল পাকিস্তানের দুই অংশের মাঝখানে।

পাকিস্তান আন্দোলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিশাল অবদান ছিল। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাস করত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। পাকিস্তানের জন্মের পর দেখা গেল পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে বিরোধ দানা বাঁধছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যেসব নেতা জনঘনিষ্ঠ হয়ে পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের রাষ্ট্র কাঠামোয় ঘেঁষতে দেওয়া হলো না। এর ফলে এসব নেতা পাকিস্তান সম্পর্কে হতাশ হয়ে উঠলেন। রাষ্ট্র কাঠামোয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যারা ঠাঁই পেয়েছিলেন তারা ছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুগত।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারে যারা আসন গেড়ে বসতে পেরেছিলেন তারা ছিলেন পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারত থেকে আগত। এ গোষ্ঠীটি কী করে পাকিস্তানের ক্ষমতা কাঠামোকে নিজেদের করায়ত্ত করল-এটি একটি রাষ্ট্রতাত্ত্বিক প্রশ্ন। জন্মলগ্নে পাকিস্তানের যে সামরিক বাহিনী ছিল তাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য কোনো অবস্থান ছিল না। জন্মলগ্নে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ছিল ব্রিটিশ ভারতের সামরিক বাহিনীর অংশ। এ বাহিনীতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। সামরিক বাহিনীর এ অংশটি পাকিস্তানি নেতৃত্বের উর্দু ভাষাভাষী অংশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। বস্তুত রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গের প্রীতিধন্য হতে না পারার ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সত্যিকারের গণতন্ত্রমনা নেতাদের কেন্দ্রীয় সরকার দূরে হটিয়ে দেয়।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলা ভাষার প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরোধী অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অবহেলা নতুন এক পরিস্থিতির জন্ম দেয়। পাকিস্তান সরকার বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত তা প্রধানত পূর্ব পাকিস্তানেরই সম্পদ। পূর্ব পাকিস্তানের পাট, চা ও চামড়া ছিল

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের প্রধান উৎস। তা সত্ত্বেও উন্নয়ন কাজে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে সম্পদ বণ্টন করত, তার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবাসভূমি পূর্ব পাকিস্তান হলো চরম বঞ্চনার শিকার। এসব রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের আত্মপরিচয় নির্মাণে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করল। পূর্ব পাকিস্তানিরা মুসলমান বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমানে নতুন পরিচিতি আবিষ্কার করল।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, স্বাধিকারের আন্দোলন, ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করল। এ লক্ষ্যটি ছিল স্বাধীনতা অর্জন। ১৯৪৭-এ যে পরিমাণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানিরা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটিকে আলিঙ্গন করেছিল, তার অবসান হতে ২৩ বছরই যথেষ্ট বলে গণ্য করা যুক্তিসঙ্গত। সমগ্র পাকিস্তানে একমাত্র গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭০-এ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি জাতীয় সংসদের আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। এতেই সমগ্র পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটা সম্ভব হয়েছিল ‘এক লোক এক ভোট’ নীতির কারণে। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনঘনিষ্ঠ নেতারা সংখ্যা সাম্যনীতির বিরোধিতা করেছিল। এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর। জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো সংখ্যা সাম্যনীতি। অর্থাৎ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে বাধ্য ছিল। সামরিক শাসক ইয়াহিয়া প্রথমবারের মতো পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান চালু করেন। কিন্তু ইয়াহিয়া কেন এত উদার হলেন তা একটি বড় প্রশ্ন।

১৯৭০-এর নির্বাচন হয়েছিল ১৯৬৯-এর বিশাল গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। গণঅভ্যুত্থানের বিস্ফোরণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ইয়াহিয়া খান বিধান করলেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি এমন কোনো সংবিধান অনুমোদন করবেন না, যা পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করে ফেলবে। অর্থাৎ জনরায়কে অবজ্ঞা করার সুযোগটি তিনি তার হাতে রেখে দিলেন।

১৯৭০-এর নির্বাচনের ফলাফল কার্যত রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলল। জুলফিকার আলী ভুট্টো নানা রকম ছলচাতুরির আশ্রয় নিলেন। এ ছলচাতুরির পরিণতিতে জাতীয় সংসদের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রচণ্ডভাবে সন্দেহগ্রস্ত করে তোলে। শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলন। এলো ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। একদিকে যেমন মুক্তিপাগল মানুষ রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছিল, তারই পাশাপাশি শুরু হলো সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য আলাপ-আলোচনা। কথা ছিল ২৫ মার্চের মধ্যে ইয়াহিয়া খান সমঝোতার ফর্মুলা ঘোষণা করবেন।

কিন্তু সেই ঘোষণা আর এলো না। ইয়াহিয়া খান অঘোষিতভাবে ঢাকা ত্যাগ করলেন। শুরু হলো অপারেশন সার্চলাইট। ঢাকার রাজপথে ট্যাংক নামল। পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান দিয়ে এক জঘন্যতম গণহত্যা শুরু করল। এ গণহত্যার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার ঘোষণা অনৈতিক কিংবা অন্যায় কিছু ছিল না। পাকিস্তানিরা স্বাধীনতার এ ঘোষণাকে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে অভিহিত করার নৈতিক বল হারিয়ে ফেলল। জনগণের গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নতুন এক জাতিরাষ্ট্রের উত্থান ঘটল। এ জাতি রাষ্ট্রটি হলো আজকের বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের বয়স এখন ৫০ বছর হতে যাচ্ছে। উপমহাদেশের জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় খুবই তাৎপর্যমণ্ডিত। উপমহাদেশের অন্য দুটি রাষ্ট্রে অনেক জাতির আবাস। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করায় অন্য জাতিগুলোও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের জন্য অনুপ্রেরণা পেতে পারে।

আগেই বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে। অস্ত্র হাতে নেওয়া বাঙালি জাতির মানসলোকে বিশাল পরিবর্তন সূচিত করেছে। বাংলাদেশ নতুন এক চেহারা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আসন পেতেছে। এর জনগোষ্ঠী অত্যন্ত সচেতন।

যুদ্ধ পরিত্যাজ্য। কিন্তু কখনো কখনো যুদ্ধ ন্যায়সঙ্গত হয়ে ওঠে। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের জনগণ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করেছে। সেই যুদ্ধ ছিল ন্যায়যুদ্ধ। যুদ্ধ একটি জনগোষ্ঠীকে বদলে দেওয়ার ভূমিকা পালন করে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশবাসীর ভিন্ন এক চেহারা দিয়েছে। লেনিন বলেছিলেন, যুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কাজ করে। একটি জাতি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহুগুণ সচেতন হয়ে ওঠে। নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা একটি জনগোষ্ঠীকে চক্ষুষ্মান করে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ এবং বিশ্বরাজনীতির হালহকিকত বোঝার জন্য বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা, আকাশবাণী এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবর শুনে এক ভিন্নধর্মী সত্তা খুঁজে পেয়েছে। এ সত্তাই নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। ২০২১-এর বিজয় দিবসে বাংলাদেশিদের শপথ হবে অজেয় বাংলাদেশের সত্তাকে আবিষ্কার করা এবং একটি অনন্য জাতি হওয়ার গৌরব অর্জন করা।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

শতফুল ফুটতে দাও

এ অর্জন দীর্ঘ সংগ্রামের ফল

 ড. মাহবুব উল্লাহ্ 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসেম্বর এসেছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসের ১৬ তারিখ পাকিস্তানি বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশে অবসান ঘটল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং গ্রাম-গ্রামান্তরে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাঙালিদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনা। দেশের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের জনগণ বছরের পর বছর লড়াই ও সংগ্রাম করেছে। এ সংগ্রাম ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রয়াস পেয়েছিল এদেশেরই মুক্তিকামী জনতার একটি অংশ। সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর নেতৃত্বে জিহাদ সংগ্রাম এবং চট্টগ্রাম যুব-বিদ্রোহ ভারত উপমহাদেশের মুক্তি সংগ্রামে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। তবে এসব মহান সংগ্রাম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ধারা হয়ে উঠতে পারেনি।

বস্তুত গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানকে সংগ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধারণ করে এসেছিল আমাদের স্বাধীনতা ১৯৪৭-এ। একদিকে আন্দোলন এবং অন্যদিকে টেবিলে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

১৯৪৭-এর স্বাধীনতা অর্জনের সাফল্যকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটল ইংরেজদের গোলামির ২০০ বছর। পাশ্চাত্যের উপনিবেশবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন কোনোক্রমেই তাৎপর্যহীন নয়। ইংরেজরা এ উপমহাদেশে তাদের শাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে ভারত উপমহাদেশকে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিভক্ত করে যায়। একদিকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

অপরদিকে ভারত উপমহাদেশের বাকি হিন্দু অধ্যুষিত অংশ নিয়ে গঠিত হয় স্বাধীন ভারত। ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করত তখন ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে কিছু রাজ্য নবাব ও রাজা-মহারাজাদের শাসনাধীন ছিল। এগুলোকে বলা হতো দেশীয় রাজ্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ হায়দ্রাবাদ, জম্মু ও কাশ্মীর, পাতৌদি, কুচবিহার ও জলপাইগুড়ি, ত্রিপুরা, জুনাগড়-মানভাদার, কালাত, চিত্রল, সোয়াত, অম্ব এবং দির এগুলোর নাম উল্লেখ করা যায়।

এসব দেশীয় রাজ্য প্রকৃত অর্থে স্বাধীন-সার্বভৌম ছিল না। এ দেশীয় রাজ্যগুলো ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে অধীনতামূলক মিত্রতা স্থাপন করে তাদের সামন্ততান্ত্রিক কর্তৃত্ব বজায় রাখত। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশরা যখন ভারত উপমহাদেশ ত্যাগ করে চলে যায়, তখন এ মর্মে সমঝোতা হয়েছিল যে, এসব দেশীয় রাজ্য তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে অথবা এগুলোর শাসকরা পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় অঙ্গীভূত হতে পারবে।

কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত দেশীয় রাজ্যগুলোকে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত করে ফেলে। অঙ্গীভূতকরণের এ প্রক্রিয়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। জম্মু ও কাশ্মীর এর জলন্ত প্রমাণ। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হয় বর্তমান পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্ত লাগোয়া হয়েই একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি পায়। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ এবং পূর্ব অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল হাজার মাইলের। ভারত থাকল পাকিস্তানের দুই অংশের মাঝখানে।

পাকিস্তান আন্দোলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিশাল অবদান ছিল। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাস করত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। পাকিস্তানের জন্মের পর দেখা গেল পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে বিরোধ দানা বাঁধছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যেসব নেতা জনঘনিষ্ঠ হয়ে পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের রাষ্ট্র কাঠামোয় ঘেঁষতে দেওয়া হলো না। এর ফলে এসব নেতা পাকিস্তান সম্পর্কে হতাশ হয়ে উঠলেন। রাষ্ট্র কাঠামোয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যারা ঠাঁই পেয়েছিলেন তারা ছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুগত।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারে যারা আসন গেড়ে বসতে পেরেছিলেন তারা ছিলেন পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারত থেকে আগত। এ গোষ্ঠীটি কী করে পাকিস্তানের ক্ষমতা কাঠামোকে নিজেদের করায়ত্ত করল-এটি একটি রাষ্ট্রতাত্ত্বিক প্রশ্ন। জন্মলগ্নে পাকিস্তানের যে সামরিক বাহিনী ছিল তাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য কোনো অবস্থান ছিল না। জন্মলগ্নে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ছিল ব্রিটিশ ভারতের সামরিক বাহিনীর অংশ। এ বাহিনীতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। সামরিক বাহিনীর এ অংশটি পাকিস্তানি নেতৃত্বের উর্দু ভাষাভাষী অংশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। বস্তুত রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গের প্রীতিধন্য হতে না পারার ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সত্যিকারের গণতন্ত্রমনা নেতাদের কেন্দ্রীয় সরকার দূরে হটিয়ে দেয়।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলা ভাষার প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরোধী অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অবহেলা নতুন এক পরিস্থিতির জন্ম দেয়। পাকিস্তান সরকার বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত তা প্রধানত পূর্ব পাকিস্তানেরই সম্পদ। পূর্ব পাকিস্তানের পাট, চা ও চামড়া ছিল

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের প্রধান উৎস। তা সত্ত্বেও উন্নয়ন কাজে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে সম্পদ বণ্টন করত, তার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবাসভূমি পূর্ব পাকিস্তান হলো চরম বঞ্চনার শিকার। এসব রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের আত্মপরিচয় নির্মাণে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করল। পূর্ব পাকিস্তানিরা মুসলমান বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমানে নতুন পরিচিতি আবিষ্কার করল।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, স্বাধিকারের আন্দোলন, ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করল। এ লক্ষ্যটি ছিল স্বাধীনতা অর্জন। ১৯৪৭-এ যে পরিমাণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানিরা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটিকে আলিঙ্গন করেছিল, তার অবসান হতে ২৩ বছরই যথেষ্ট বলে গণ্য করা যুক্তিসঙ্গত। সমগ্র পাকিস্তানে একমাত্র গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭০-এ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি জাতীয় সংসদের আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। এতেই সমগ্র পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটা সম্ভব হয়েছিল ‘এক লোক এক ভোট’ নীতির কারণে। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনঘনিষ্ঠ নেতারা সংখ্যা সাম্যনীতির বিরোধিতা করেছিল। এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর। জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো সংখ্যা সাম্যনীতি। অর্থাৎ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে বাধ্য ছিল। সামরিক শাসক ইয়াহিয়া প্রথমবারের মতো পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান চালু করেন। কিন্তু ইয়াহিয়া কেন এত উদার হলেন তা একটি বড় প্রশ্ন।

১৯৭০-এর নির্বাচন হয়েছিল ১৯৬৯-এর বিশাল গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। গণঅভ্যুত্থানের বিস্ফোরণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ইয়াহিয়া খান বিধান করলেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি এমন কোনো সংবিধান অনুমোদন করবেন না, যা পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করে ফেলবে। অর্থাৎ জনরায়কে অবজ্ঞা করার সুযোগটি তিনি তার হাতে রেখে দিলেন।

১৯৭০-এর নির্বাচনের ফলাফল কার্যত রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলল। জুলফিকার আলী ভুট্টো নানা রকম ছলচাতুরির আশ্রয় নিলেন। এ ছলচাতুরির পরিণতিতে জাতীয় সংসদের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রচণ্ডভাবে সন্দেহগ্রস্ত করে তোলে। শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলন। এলো ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। একদিকে যেমন মুক্তিপাগল মানুষ রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছিল, তারই পাশাপাশি শুরু হলো সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য আলাপ-আলোচনা। কথা ছিল ২৫ মার্চের মধ্যে ইয়াহিয়া খান সমঝোতার ফর্মুলা ঘোষণা করবেন।

কিন্তু সেই ঘোষণা আর এলো না। ইয়াহিয়া খান অঘোষিতভাবে ঢাকা ত্যাগ করলেন। শুরু হলো অপারেশন সার্চলাইট। ঢাকার রাজপথে ট্যাংক নামল। পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান দিয়ে এক জঘন্যতম গণহত্যা শুরু করল। এ গণহত্যার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার ঘোষণা অনৈতিক কিংবা অন্যায় কিছু ছিল না। পাকিস্তানিরা স্বাধীনতার এ ঘোষণাকে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে অভিহিত করার নৈতিক বল হারিয়ে ফেলল। জনগণের গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নতুন এক জাতিরাষ্ট্রের উত্থান ঘটল। এ জাতি রাষ্ট্রটি হলো আজকের বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের বয়স এখন ৫০ বছর হতে যাচ্ছে। উপমহাদেশের জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় খুবই তাৎপর্যমণ্ডিত। উপমহাদেশের অন্য দুটি রাষ্ট্রে অনেক জাতির আবাস। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করায় অন্য জাতিগুলোও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের জন্য অনুপ্রেরণা পেতে পারে।

আগেই বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে। অস্ত্র হাতে নেওয়া বাঙালি জাতির মানসলোকে বিশাল পরিবর্তন সূচিত করেছে। বাংলাদেশ নতুন এক চেহারা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আসন পেতেছে। এর জনগোষ্ঠী অত্যন্ত সচেতন।

যুদ্ধ পরিত্যাজ্য। কিন্তু কখনো কখনো যুদ্ধ ন্যায়সঙ্গত হয়ে ওঠে। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের জনগণ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করেছে। সেই যুদ্ধ ছিল ন্যায়যুদ্ধ। যুদ্ধ একটি জনগোষ্ঠীকে বদলে দেওয়ার ভূমিকা পালন করে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশবাসীর ভিন্ন এক চেহারা দিয়েছে। লেনিন বলেছিলেন, যুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কাজ করে। একটি জাতি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহুগুণ সচেতন হয়ে ওঠে। নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা একটি জনগোষ্ঠীকে চক্ষুষ্মান করে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ এবং বিশ্বরাজনীতির হালহকিকত বোঝার জন্য বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা, আকাশবাণী এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবর শুনে এক ভিন্নধর্মী সত্তা খুঁজে পেয়েছে। এ সত্তাই নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। ২০২১-এর বিজয় দিবসে বাংলাদেশিদের শপথ হবে অজেয় বাংলাদেশের সত্তাকে আবিষ্কার করা এবং একটি অনন্য জাতি হওয়ার গৌরব অর্জন করা।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন