মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির নিহিতার্থ
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির নিহিতার্থ

  ড. আর এম দেবনাথ  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষ সাধারণত কোনো সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্বাস করতে চায় না। এ কারণে গত মাসে যখন বলা হলো, আমাদের সবার মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বেড়েছে বেশ ভালো পরিমাণেই, তখন অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিল এ তথ্য কার? বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (বিবিএস), যা সরকারি।

তাদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের মাথাপিছু আয় ডলার ও টাকার হিসাবে বেড়েছে। কত বেড়েছে? আগে ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার; এখন বলা হচ্ছে, আসলে এ মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ ডলার। অর্থাৎ বেড়েছে মোট ৩২৭ ডলার। অনেকেই এতে আনন্দ প্রকাশ করলেন, কৃতিত্ব দাবি করলেন। তা করারই কথা।

মাথাপিছু আয় একটা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানের একটা নিয়ামক। মাথাপিছু আয় দিয়েই দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বলা হয়। যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি, সে দেশ তত বেশি উন্নত। আর যে দেশের মাথাপিছু আয় যত কম, সে দেশের অবস্থা তত অনুন্নত। যত দিন পর্যন্ত না আরেকটি সূচক অর্থাৎ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তত দিন মাথাপিছু আয়ই ছিল উন্নয়ন মাপার সূচক বা ইনডেক্স।

তবে অবশ্যই সমতা বিধানের জন্য মাথাপিছু আয়টি প্রকাশ করা হতো ডলারে। যার যার মুদ্রায় তা করলে এতে দেশওয়ারি তুলনা করা যায় না। অবশ্য ডলারের সঙ্গে যার যার মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতাভিত্তিক একটা হিসাবও ইদানীং ব্যবহৃত হচ্ছে। এর নাম পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি)।

মজার বিষয় হলো, মাথাপিছু আয়, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (এইচডিআই), পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ইত্যাদি সূচক দিয়ে পরিমাপ করলে একেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান একেক রকমের হয়। তবু বর্তমানে তিনভাবেই একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ণয়ে তিনটি সূচক ব্যবহারের রীতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে কম বিশ্বাসযোগ্য সূচক ‘মাথাপিছু আয়ের’ নিরিখে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩২৭ ডলার বেড়েছে। ৮৫ টাকা ধরে ৩২৭ ডলারের সমপরিমাণ টাকা হয় ২৭৭৯৫ টাকা।

একটি উন্নয়নশীল দেশে এটা অনেক টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব হলো? কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ করে মাথাপিছু আয় বাড়ে কীভাবে? যেখানে মানুষের আয় নেই, রোজগার নেই, অনেক মানুষ চাকরিচ্যুত, কর্মচ্যুত, সেখানে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ে কীভাবে? কঠিন প্রশ্ন। কোন জাদুবলে তা সম্ভব হলো? কোন ভিত্তিতে তা করা হলো? এর ব্যাখ্যা কী? এ তথ্য কি বিশ্বাসযোগ্য? বিবিএস একটি ‘বামন’ প্রতিষ্ঠান। তার ঢাল-তলোয়ার নেই। তার এ তথ্য কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য? জানতাম, আমাদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলার। হঠাৎ তা ২ হাজার ৫৫৪ ডলার হলো কীভাবে? এর একটা উত্তর দরকার।

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারণ একটি। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (বিবিএস) জাতীয় আয়, গ্রস ডমেস্টিক সেভিংস এবং গ্রস ক্যাপিটেল ফরমেশন হিসাব বা নিরূপণ করার জন্য ভিত্তি বছর (বেইস ইয়ার) পরিবর্তন করেছে। জাতীয় আয় (ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস) হিসাবের জন্য আগে ভিত্তি বছর ছিল ২০০৫-০৬ অর্থবছর। এবার হিসাব করা হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে।

২০০৫-০৬ অর্থবছর ছিল পুরোনো ভিত্তি বছর, যা পরিবর্তনের দরকার ছিল। বস্তুত সব দেশেই জাতীয় আয় সঠিকভাবে নিরূপণ বা পরিমাপ করার জন্য দশ বছর অন্তর অন্তর ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়। আমাদেরও তা করা উচিত ছিল অনেক আগেই। যদিও দেরিতে করা হয়েছে, তবু তা করা হয়েছে যথার্থভাবে। তা না হলে ১০ বছরের পরিবর্তন জাতীয় আয় হিসাবায়নে প্রতিফলিত হতো না। এর কারণ কী?

কারণ একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য ১০ বছর অনেক সময়। এ সময়ের মধ্যে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নানা ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। নতুন নতুন পণ্য এসেছে, সেবা এসেছে, যার হিসাব পুরোনো ভিত্তি বছরের পরিমাপে প্রতিফলিত হয়নি। অথচ তা না হলে জাতীয় আয়ের হিসাব ঠিক হলো না। আর সেই পুরোনো হিসাবের ভিত্তিতে এগোলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। কোনো কিছুই সঠিকভাবে হিসাবায়ন করা হবে না।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে অনেক খাত ছিল না, অনেক পণ্য ও সেবা ছিল না। তাই এসবের হিসাব করারও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ২০০৫-০৬ অর্থবছরের পর ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন নতুন কর্মকাণ্ড, পণ্য ও সেবা। একটি কাগজে দেখলাম, আলোচ্য ১০ বছরে কমপক্ষে ২০ ধরনের নতুন কৃষিপণ্য আমাদের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে।

২০০৫-০৬কে ভিত্তি বছর ধরার ফলে ওই ২০ পণ্যের মূল্য সংযোজন জাতীয় আয়ে প্রতিফলিত হতো না। অথচ নতুন ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করাতে এখন মোট ১৪৪টি কৃষিপণ্যের হিসাব জাতীয় আয়ে প্রতিফলিত হয়। আগে হতো মাত্র ১২৪টি কৃষিপণ্য। কী কী কৃষিপণ্য যোগ হয়েছে, তা বাজারের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায়। নতুন জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। নতুন জাতের সবজি বাজারে যোগ হয়েছে। একইভাবে শিল্প ও সেবা খাতে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা সংযোজিত হয়েছে।

কাগজে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়- বিবিএসের নতুন হিসাবে বেশকিছু শিল্পপণ্য যোগ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির বিদ্যুৎ আছে, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ আছে। রাজশাহী বিভাগের ওয়াসার কর্মকাণ্ড আছে। আছে শিপ ব্রেকিং শিল্প। এদিকে সেবা খাতে যোগ হয়েছে অনেক পণ্য। যেমন মোটরসাইকেলের ‘রাইড শেয়ারিং সেবা’, ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত মোটর ভেহিক্যাল, বিমানের সেবা, বেসরকারি খাতের বিমান সেবা, হেলিকপ্টার সার্ভিস, সাবমেরিন কেবল সেবা, সিনেমা হল, নতুন নতুন ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা। বলা বাহুল্য, এগুলোর সবই দৃশ্যমান। এসব সেবার ফলে যে জাতীয় আয় বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে কৃষি খাত, শিল্প খাত, সেবা খাত- সব খাতেই নতুন নতুন পণ্য ও সেবা এসেছে। এসব প্রতিবছর আমাদের জাতীয় আয়ে মূল্য সংযোজন করে যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো, যদিও এসব নতুন নতুন পণ্য ও সেবা মূল্য সংযোজন করে যাচ্ছে, তবু তা হিসাবে আসছিল না। কারণ ভিত্তিবছর ছিল ২০০৫-০৬ অর্থবছর। এখন ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরার ফলে নতুন নতুন পণ্য ও সেবার হিসাবও যোগ হচ্ছে। এর ফল কী?

বড় ফল দুটি। আমাদের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ, আমাদের অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে। অর্থনীতির আকার বড় হওয়া মানেই আমাদের মাথাপিছু আয় (পার ক্যাপিটা ইনকাম) বৃদ্ধি পাওয়া, যার কথা আগেই উল্লেখ করেছি। প্রশ্ন, তাহলে মোট জাতীয় আয়ের আকার এখন কত? ২০২১ সালের জুন শেষে আমাদের জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) বা আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৯ বিলিয়ন ডলার (এক বিলিয়ন সমান শত কোটি)।

অথচ পুরোনো হিসাবে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৫৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ জাতীয় উৎপাদন নতুন ভিত্তি বছরের হিসাবে মোট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এরও বিরূপ ফল আছে। জাতীয় আয় বেড়েছে, জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে, অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে; কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আকার বড় হলে তা-ই হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। নতুন ভিত্তি বছরে তা হ্রাস পেয়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এসবের নিহিতার্থ কী? আসলেই কি আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে? অঙ্কের হিসাবে তা-ই। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এর ফলে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অব লিভিং বা জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়নি। তাহলে এই বৃদ্ধির অর্থ কী? অর্থ হচ্ছে, আগের হিসাবটি নিখুঁত ছিল না। এখনকার হিসাবটি নিখুঁত। এতে ভুলভ্রান্তি কম। মাথাপিছু আয় বাড়া মানে আমাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে, সঞ্চয় বেড়েছে- তা নয়। এর অর্থ হলো, আগের ভিত্তি বছরের হিসাবে অনেক হিসাব ধরা হয়নি, এখন ধরা হয়েছে। বলাই বাহুল্য, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি মানে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি নয়। জীবনযাত্রার মান যা ছিল তা-ই আছে।

অঙ্কের হিসাবে শুধু মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বিষয়টি শুধু এমন নয়। এর প্রতিক্রিয়া পড়বে আমাদের অন্যান্য হিসাবে। সরকার জাতীয় আয়কে ভিত্তি করে নানা রেশিও বা অনুপাত তৈরি করে। সেসবে পরিবর্তন আসবে। অনুপাতগুলো আগের মতো আর থাকবে না। যেমন- রাজস্ব, বাজেট, উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ ইত্যাদির তুলনামূলক বিচারে সরকার ‘জিডিপি অনুপাত রাজস্ব’ কত তা হিসাব করে। এসব এবার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। লাভের মধ্যে লাভ- এখনকার হিসাবটি আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, সমসাময়িক।

জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয় ইত্যাদির হিসাবে একটা ‘গোমর’ আছে। জাতীয় আয়ের অথবা মাথাপিছু আয়ের যে অঙ্ক সরকার প্রকাশ করে, তা বলাই বাহুল্য একটি ‘গড়ের’ হিসাব। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির হিসাব যেমন আছে, তেমনি হিসাব আছে সবচেয়ে গরিব লোকেরও। এমনকি যার কোনো আয় নেই তারও। এ গড়ের হিসাবে আমি (লেখক) যেমন আছি, তেমনি আছেন পাঠকরা। আমার মাথাপিছু আয় বা আমার বার্ষিক আয় যেমন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার, তেমনি যিনি বেকার তারও বার্ষিক আয় ২ হাজার ৫৫৪ ডলার। গড়ের হিসাবের এই হচ্ছে মজা। এতে প্রকৃত অবস্থা লুক্কায়িত থাকে।

প্রকৃত অবস্থা প্রতিফলিত হয় না। ধনী-গরিব সব সমান হয়ে যায়। তবু এটা একটা সূচক, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন দেশের সরকার তা ব্যবহার করে, মানুষও এর ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করে। যেহেতু এ সূচকটি নির্ভরযোগ্য নয়, তাই আজকাল তৈরি করা হয় হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (এইচডিআই)। এতে শুধু আয়ের হিসাব থাকে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, আবাসন, সাংস্কৃতিক স্তর- সবকিছু মিলিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়। ফলে এ সূচক অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। এর দ্বারা একটি দেশের মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা কী তা বোঝা যায়।

আগেই উল্লেখ করেছি ‘পিপিপি’ভিত্তিক আরেকটি হিসাবের কথা। মাথাপিছু আয়ের হিসাব করতে গিয়ে দেশে দেশে তুলনার জন্য স্ব স্ব দেশের মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করা হয়। যেহেতু ডলার সর্বজনগ্রাহ্য, তাই ডলারে কোন দেশের মাথাপিছু আয় কত, তার দ্বারা এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পার্থক্য বোঝা যায়। এরও অসুবিধা আছে। ডলারের সঙ্গে কোনো দেশের মুদ্রার সম্পর্ক নির্ণয় করা খুবই কঠিন। রূপান্তর করে তার তুলনা করা, তা-ও নির্ভুল নয়।

উদাহরণ দিই। ধরা যাক চুল কাটার কথা। বাংলাদেশে চুল কাটাতে এখন হয়তো লাগে ৭০-৮০ টাকা। আবার এ চুল কাটাতেই আমেরিকায় হয়তো লাগে ১০ ডলার। তার মানে ৭০-৮০ টাকায় আমাদের দেশে যে সেবা পাওয়া, সেই সেবা আমেরিকায় পেতে লাগছে ১০ ডলার (এক ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে), যা ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ১০ ডলার সমান ৭০-৮০ টাকা। এভাবে বিচার করলে বোঝা যাবে স্ব স্ব দেশের মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করে হিসাব করাটা সব সময় ঠিক নয়। তাই এখন ব্যবহার করা হয় পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি তত্ত্ব (পিপিপি)। এই পিপিপির ডলার হিসাবে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থান হবে, তা টাকা ডলারে রূপান্তর করে যে হিসাব হবে তার চেয়ে উন্নত।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির নিহিতার্থ

 ড. আর এম দেবনাথ 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষ সাধারণত কোনো সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্বাস করতে চায় না। এ কারণে গত মাসে যখন বলা হলো, আমাদের সবার মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বেড়েছে বেশ ভালো পরিমাণেই, তখন অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিল এ তথ্য কার? বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (বিবিএস), যা সরকারি।

তাদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের মাথাপিছু আয় ডলার ও টাকার হিসাবে বেড়েছে। কত বেড়েছে? আগে ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার; এখন বলা হচ্ছে, আসলে এ মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ ডলার। অর্থাৎ বেড়েছে মোট ৩২৭ ডলার। অনেকেই এতে আনন্দ প্রকাশ করলেন, কৃতিত্ব দাবি করলেন। তা করারই কথা।

মাথাপিছু আয় একটা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানের একটা নিয়ামক। মাথাপিছু আয় দিয়েই দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বলা হয়। যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি, সে দেশ তত বেশি উন্নত। আর যে দেশের মাথাপিছু আয় যত কম, সে দেশের অবস্থা তত অনুন্নত। যত দিন পর্যন্ত না আরেকটি সূচক অর্থাৎ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তত দিন মাথাপিছু আয়ই ছিল উন্নয়ন মাপার সূচক বা ইনডেক্স।

তবে অবশ্যই সমতা বিধানের জন্য মাথাপিছু আয়টি প্রকাশ করা হতো ডলারে। যার যার মুদ্রায় তা করলে এতে দেশওয়ারি তুলনা করা যায় না। অবশ্য ডলারের সঙ্গে যার যার মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতাভিত্তিক একটা হিসাবও ইদানীং ব্যবহৃত হচ্ছে। এর নাম পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি)।

মজার বিষয় হলো, মাথাপিছু আয়, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (এইচডিআই), পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ইত্যাদি সূচক দিয়ে পরিমাপ করলে একেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান একেক রকমের হয়। তবু বর্তমানে তিনভাবেই একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ণয়ে তিনটি সূচক ব্যবহারের রীতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে কম বিশ্বাসযোগ্য সূচক ‘মাথাপিছু আয়ের’ নিরিখে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩২৭ ডলার বেড়েছে। ৮৫ টাকা ধরে ৩২৭ ডলারের সমপরিমাণ টাকা হয় ২৭৭৯৫ টাকা।

একটি উন্নয়নশীল দেশে এটা অনেক টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব হলো? কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ করে মাথাপিছু আয় বাড়ে কীভাবে? যেখানে মানুষের আয় নেই, রোজগার নেই, অনেক মানুষ চাকরিচ্যুত, কর্মচ্যুত, সেখানে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ে কীভাবে? কঠিন প্রশ্ন। কোন জাদুবলে তা সম্ভব হলো? কোন ভিত্তিতে তা করা হলো? এর ব্যাখ্যা কী? এ তথ্য কি বিশ্বাসযোগ্য? বিবিএস একটি ‘বামন’ প্রতিষ্ঠান। তার ঢাল-তলোয়ার নেই। তার এ তথ্য কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য? জানতাম, আমাদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলার। হঠাৎ তা ২ হাজার ৫৫৪ ডলার হলো কীভাবে? এর একটা উত্তর দরকার।

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারণ একটি। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (বিবিএস) জাতীয় আয়, গ্রস ডমেস্টিক সেভিংস এবং গ্রস ক্যাপিটেল ফরমেশন হিসাব বা নিরূপণ করার জন্য ভিত্তি বছর (বেইস ইয়ার) পরিবর্তন করেছে। জাতীয় আয় (ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস) হিসাবের জন্য আগে ভিত্তি বছর ছিল ২০০৫-০৬ অর্থবছর। এবার হিসাব করা হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে।

২০০৫-০৬ অর্থবছর ছিল পুরোনো ভিত্তি বছর, যা পরিবর্তনের দরকার ছিল। বস্তুত সব দেশেই জাতীয় আয় সঠিকভাবে নিরূপণ বা পরিমাপ করার জন্য দশ বছর অন্তর অন্তর ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়। আমাদেরও তা করা উচিত ছিল অনেক আগেই। যদিও দেরিতে করা হয়েছে, তবু তা করা হয়েছে যথার্থভাবে। তা না হলে ১০ বছরের পরিবর্তন জাতীয় আয় হিসাবায়নে প্রতিফলিত হতো না। এর কারণ কী?

কারণ একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য ১০ বছর অনেক সময়। এ সময়ের মধ্যে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নানা ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। নতুন নতুন পণ্য এসেছে, সেবা এসেছে, যার হিসাব পুরোনো ভিত্তি বছরের পরিমাপে প্রতিফলিত হয়নি। অথচ তা না হলে জাতীয় আয়ের হিসাব ঠিক হলো না। আর সেই পুরোনো হিসাবের ভিত্তিতে এগোলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। কোনো কিছুই সঠিকভাবে হিসাবায়ন করা হবে না।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে অনেক খাত ছিল না, অনেক পণ্য ও সেবা ছিল না। তাই এসবের হিসাব করারও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ২০০৫-০৬ অর্থবছরের পর ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন নতুন কর্মকাণ্ড, পণ্য ও সেবা। একটি কাগজে দেখলাম, আলোচ্য ১০ বছরে কমপক্ষে ২০ ধরনের নতুন কৃষিপণ্য আমাদের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে।

২০০৫-০৬কে ভিত্তি বছর ধরার ফলে ওই ২০ পণ্যের মূল্য সংযোজন জাতীয় আয়ে প্রতিফলিত হতো না। অথচ নতুন ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করাতে এখন মোট ১৪৪টি কৃষিপণ্যের হিসাব জাতীয় আয়ে প্রতিফলিত হয়। আগে হতো মাত্র ১২৪টি কৃষিপণ্য। কী কী কৃষিপণ্য যোগ হয়েছে, তা বাজারের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায়। নতুন জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। নতুন জাতের সবজি বাজারে যোগ হয়েছে। একইভাবে শিল্প ও সেবা খাতে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা সংযোজিত হয়েছে।

কাগজে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়- বিবিএসের নতুন হিসাবে বেশকিছু শিল্পপণ্য যোগ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির বিদ্যুৎ আছে, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ আছে। রাজশাহী বিভাগের ওয়াসার কর্মকাণ্ড আছে। আছে শিপ ব্রেকিং শিল্প। এদিকে সেবা খাতে যোগ হয়েছে অনেক পণ্য। যেমন মোটরসাইকেলের ‘রাইড শেয়ারিং সেবা’, ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত মোটর ভেহিক্যাল, বিমানের সেবা, বেসরকারি খাতের বিমান সেবা, হেলিকপ্টার সার্ভিস, সাবমেরিন কেবল সেবা, সিনেমা হল, নতুন নতুন ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা। বলা বাহুল্য, এগুলোর সবই দৃশ্যমান। এসব সেবার ফলে যে জাতীয় আয় বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে কৃষি খাত, শিল্প খাত, সেবা খাত- সব খাতেই নতুন নতুন পণ্য ও সেবা এসেছে। এসব প্রতিবছর আমাদের জাতীয় আয়ে মূল্য সংযোজন করে যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো, যদিও এসব নতুন নতুন পণ্য ও সেবা মূল্য সংযোজন করে যাচ্ছে, তবু তা হিসাবে আসছিল না। কারণ ভিত্তিবছর ছিল ২০০৫-০৬ অর্থবছর। এখন ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরার ফলে নতুন নতুন পণ্য ও সেবার হিসাবও যোগ হচ্ছে। এর ফল কী?

বড় ফল দুটি। আমাদের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ, আমাদের অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে। অর্থনীতির আকার বড় হওয়া মানেই আমাদের মাথাপিছু আয় (পার ক্যাপিটা ইনকাম) বৃদ্ধি পাওয়া, যার কথা আগেই উল্লেখ করেছি। প্রশ্ন, তাহলে মোট জাতীয় আয়ের আকার এখন কত? ২০২১ সালের জুন শেষে আমাদের জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) বা আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৯ বিলিয়ন ডলার (এক বিলিয়ন সমান শত কোটি)।

অথচ পুরোনো হিসাবে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৫৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ জাতীয় উৎপাদন নতুন ভিত্তি বছরের হিসাবে মোট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এরও বিরূপ ফল আছে। জাতীয় আয় বেড়েছে, জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে, অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে; কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আকার বড় হলে তা-ই হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। নতুন ভিত্তি বছরে তা হ্রাস পেয়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এসবের নিহিতার্থ কী? আসলেই কি আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে? অঙ্কের হিসাবে তা-ই। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এর ফলে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অব লিভিং বা জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়নি। তাহলে এই বৃদ্ধির অর্থ কী? অর্থ হচ্ছে, আগের হিসাবটি নিখুঁত ছিল না। এখনকার হিসাবটি নিখুঁত। এতে ভুলভ্রান্তি কম। মাথাপিছু আয় বাড়া মানে আমাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে, সঞ্চয় বেড়েছে- তা নয়। এর অর্থ হলো, আগের ভিত্তি বছরের হিসাবে অনেক হিসাব ধরা হয়নি, এখন ধরা হয়েছে। বলাই বাহুল্য, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি মানে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি নয়। জীবনযাত্রার মান যা ছিল তা-ই আছে।

অঙ্কের হিসাবে শুধু মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বিষয়টি শুধু এমন নয়। এর প্রতিক্রিয়া পড়বে আমাদের অন্যান্য হিসাবে। সরকার জাতীয় আয়কে ভিত্তি করে নানা রেশিও বা অনুপাত তৈরি করে। সেসবে পরিবর্তন আসবে। অনুপাতগুলো আগের মতো আর থাকবে না। যেমন- রাজস্ব, বাজেট, উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ ইত্যাদির তুলনামূলক বিচারে সরকার ‘জিডিপি অনুপাত রাজস্ব’ কত তা হিসাব করে। এসব এবার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। লাভের মধ্যে লাভ- এখনকার হিসাবটি আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, সমসাময়িক।

জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয় ইত্যাদির হিসাবে একটা ‘গোমর’ আছে। জাতীয় আয়ের অথবা মাথাপিছু আয়ের যে অঙ্ক সরকার প্রকাশ করে, তা বলাই বাহুল্য একটি ‘গড়ের’ হিসাব। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির হিসাব যেমন আছে, তেমনি হিসাব আছে সবচেয়ে গরিব লোকেরও। এমনকি যার কোনো আয় নেই তারও। এ গড়ের হিসাবে আমি (লেখক) যেমন আছি, তেমনি আছেন পাঠকরা। আমার মাথাপিছু আয় বা আমার বার্ষিক আয় যেমন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার, তেমনি যিনি বেকার তারও বার্ষিক আয় ২ হাজার ৫৫৪ ডলার। গড়ের হিসাবের এই হচ্ছে মজা। এতে প্রকৃত অবস্থা লুক্কায়িত থাকে।

প্রকৃত অবস্থা প্রতিফলিত হয় না। ধনী-গরিব সব সমান হয়ে যায়। তবু এটা একটা সূচক, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন দেশের সরকার তা ব্যবহার করে, মানুষও এর ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করে। যেহেতু এ সূচকটি নির্ভরযোগ্য নয়, তাই আজকাল তৈরি করা হয় হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (এইচডিআই)। এতে শুধু আয়ের হিসাব থাকে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, আবাসন, সাংস্কৃতিক স্তর- সবকিছু মিলিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়। ফলে এ সূচক অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। এর দ্বারা একটি দেশের মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা কী তা বোঝা যায়।

আগেই উল্লেখ করেছি ‘পিপিপি’ভিত্তিক আরেকটি হিসাবের কথা। মাথাপিছু আয়ের হিসাব করতে গিয়ে দেশে দেশে তুলনার জন্য স্ব স্ব দেশের মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করা হয়। যেহেতু ডলার সর্বজনগ্রাহ্য, তাই ডলারে কোন দেশের মাথাপিছু আয় কত, তার দ্বারা এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পার্থক্য বোঝা যায়। এরও অসুবিধা আছে। ডলারের সঙ্গে কোনো দেশের মুদ্রার সম্পর্ক নির্ণয় করা খুবই কঠিন। রূপান্তর করে তার তুলনা করা, তা-ও নির্ভুল নয়।

উদাহরণ দিই। ধরা যাক চুল কাটার কথা। বাংলাদেশে চুল কাটাতে এখন হয়তো লাগে ৭০-৮০ টাকা। আবার এ চুল কাটাতেই আমেরিকায় হয়তো লাগে ১০ ডলার। তার মানে ৭০-৮০ টাকায় আমাদের দেশে যে সেবা পাওয়া, সেই সেবা আমেরিকায় পেতে লাগছে ১০ ডলার (এক ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে), যা ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ১০ ডলার সমান ৭০-৮০ টাকা। এভাবে বিচার করলে বোঝা যাবে স্ব স্ব দেশের মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করে হিসাব করাটা সব সময় ঠিক নয়। তাই এখন ব্যবহার করা হয় পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি তত্ত্ব (পিপিপি)। এই পিপিপির ডলার হিসাবে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থান হবে, তা টাকা ডলারে রূপান্তর করে যে হিসাব হবে তার চেয়ে উন্নত।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন