ডুবন্ত শিক্ষাব্যবস্থা : উদ্ধার কোন পথে
jugantor
শতফুল ফুটতে দাও
ডুবন্ত শিক্ষাব্যবস্থা : উদ্ধার কোন পথে

  ড. মাহবুব উল্লাহ্  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের জন্য দেড় বছরেরও বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থেকেছে। এর ফলে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি এড়িয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার কথা আলোচিত হয়েছিল।

বাস্তবতা হলো, দেশে এখনো ইন্টারনেটের যোগাযোগ সর্বত্র পৌঁছতে পারেনি। যেসব স্থানে ইন্টারনেট লাইন রয়েছে সেসব স্থানেও নানাবিধ দুর্বলতার ফলে ইন্টারনেট যোগাযোগ শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। তদুপরি অনেক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তাদের পোষ্যদের ল্যাপটপ এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে দিতে পারেনি। ফলে ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাসের আয়োজন করতে পারেনি।

কিছুসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদান চালু করলেও নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সবাই যে সচ্ছল তাও বলা যাবে না। অনলাইনে পাঠদান আয়োজন করে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, আগামী দিনে সেসব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের সময় কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সমস্যা হলো, আমরা অন্যদের কাছ থেকে শিখতে চাই না।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা সংক্রমণকালে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এসব বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদানে তেমন কোনো চেষ্টা চালায়নি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকদের তুলনায় আর্থিক সামর্থ্যরে দিক থেকে অনেক বেশি দুর্বল। এটা একটি বড় কারণ যার ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পাঠদান চালু করা যায়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সংক্রমণ এখনো অব্যাহত আছে। সংক্রমণও আগের তুলনায় বেশ হ্রাস পেয়েছে। মানুষ সাধারণ জীবনযাত্রায় ফিরে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছে। এরকম আশাব্যঞ্জক অবস্থা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোলযোগের ফলে আশাবাদ স্তিমিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক মাসের মধ্যে তিনটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সেগুলোর ছাত্রাবাস বন্ধ করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব বা প্রভাব বলয় বৃদ্ধির দ্বন্দ্ব এতটাই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, যে কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থিরতাকবলিত হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো সমাধানের কথা কর্তৃপক্ষ ভাবতে পারেনি।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল-হোস্টেলগুলোতে অছাত্ররা সিট দখল করে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়। ভয়াবহ গণরুম সংস্কৃতি এখনো অব্যাহত আছে। গণরুমে থাকার জন্য অসহায় ছাত্ররা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়। তিন-চার বছর হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে গণরুমে ঠাঁই পাওয়া একজন ছাত্র শীতের রাতে নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

বুয়েটে আবরার ফাহাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেশবাসীকে প্রচণ্ড ব্যথা দিয়েছে। আবরার ফাহাদের অপরাধ সে তার দেশকে অত্যন্ত গভীরভাবে ভালোবাসত। ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হয়েছে। রায়ে ২০ ছাত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, বাকি ৫ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কথা ছিল আবাসিক হলগুলো থেকে অছাত্রদের বিতাড়ন করা হবে এবং গণরুম ব্যবস্থার অবসান ঘটবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে কোনোরকম পদক্ষেপ নেয়নি। অদূর ভবিষ্যতে নেবে বলে ভরসা করা যাচ্ছে না।

যখনই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখনই কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। হল-হোস্টেল থেকে ছাত্রছাত্রীদের চলে যেতে আদেশ করে।

গোলযোগের মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। একজন ক্যানসার রোগীকে কষ্টনাশক ওষুধ দিয়ে কষ্ট লাঘবের যে চেষ্টা করা হয়, তার ফলে রোগমুক্তি হয় না, ব্যথা-বেদনার সাময়িক উপশম হয় মাত্র, রোগীর মৃত্যু রোধ করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে অস্থিরতা সাময়িকভাবে কেটে গেলেও এর মূলোৎপাটন হয় না। সমস্যা থেকেই যায়। আবার অস্থিরতা দেখা দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার রীতি কখন থেকে শুরু হলো? আমার জানামতে, ১৯৬২’র প্রথম দিকে আইয়ুববিরোধী ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ১৯৬৪ সালে কনভোকেশন পণ্ড করার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে।

তখনো সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ) সক্রিয় ছিল। ৬২’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তারা বাধা দেয়নি। ১৯৬৪’র কনভোকেশন পণ্ড করার জন্য সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ওপর এনএসএফ সহিংসতা চালায়। পাকিস্তান আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্থির হয়ে উঠত রাজনৈতিক কারণে। যেসব ছাত্র সংগঠন সরকারবিরোধী আন্দোলন করত তাদের আদর্শিক ভিত্তি বেশ মজবুত ছিল। চাঁদাবাজি, হল হোস্টেল দখল কিংবা গেস্ট রুমের সংস্কৃতি এদের মধ্যে ছিল না। হলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ছিল। ছাত্রাবাসগুলোতে সিট বণ্টন করা হতো মেধার ভিত্তিতে।

সিট বণ্টন নিয়ে কোনো অসন্তোষ বা অভিযোগ ছিল না। ১৯৬৮-তে অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, এনএসএফের পেটুয়া বাহিনীর সদস্য সাইদুর রহমান ওরফে পাসপাত্তু হত্যাকে কেন্দ্র করে। বেশ ক’বছর ধরে সরকারপন্থি ছাত্রসংগঠন এনএসএফ সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের ওপর দৈহিক হামলার ঘটনা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়াতে থাকে। এনএসএফ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর অপমানজনক আচরণ করত। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, বিরোধী শিবিরের কর্মীদের থু থু ফেলে আবার তা জিহ্বা দিয়ে চেটে তুলতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এনএসএফ অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. আবু মাহমুদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। তাকে রক্তাক্ত করা হয়। তার ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নিজ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে সুবিচার পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরসহ কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিরা অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।

পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের রায় উলটে দিয়ে দণ্ডিতদের শাস্তি মওকুফ করে দেয়। ১৯৬৬’র প্রথম দিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো ড. আবু মাহমুদকে জানিয়েছিলেন, খোদ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষভুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ড বাতিল করতে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের ওপর প্রভাব খাটিয়েছেন।

পাকিস্তান আমলে সরকারপন্থি ও সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে যেসব দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতো সেগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক বিষয়। তখন লোভ-লালসা, অর্থবিত্ত অর্জন এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের মতো অন্যায় কর্মকাণ্ডে ছাত্র সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ত না। ব্যতিক্রম হিসাবে এনএসএফের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক মাস্তানিতে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের জনগণ গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর প্রচণ্ডভাবে আস্থাশীল ছিল।

ছাত্ররা ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে এমনটাই বিশ্বাস করত দেশের জনগণ। কিন্তু আজ যখন দেখি বিশেষ বিশেষ ছাত্র সংগঠন ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি অবাঞ্ছিত কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে, তখন যারপরনাই বেদনাহত হতে হয়। সাধারণ ছাত্ররা সংগ্রামী ছাত্রনেতাদের গভীরভাবে ভালোবাসত। কিন্তু এখন সে রকম কোনো আন্তরিক সম্পর্ক দেখা যায় না বললেই চলে।

এখন সাধারণ ছাত্রদের সরকারপন্থি ছাত্রদের মিছিলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে যারা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে কোনোরূপ বিবেকের দংশন বোধ করে না, তারা মনে করে এ পথেই তাদের আয় উন্নতি হবে। পাকিস্তান আমলে ছাত্রনেতাদের ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা ছাত্রসহ সাধারণ জনগণের ছিল, তা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ছাত্র আন্দোলন মতাদর্শগত শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। একসময় শহিদ দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, সুকান্তজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের বিভিন্ন শাখা থেকে বিশেষ সংকলন প্রকাশ করত। এগুলোর সাহিত্য মূল্য এবং উচ্চ চিন্তার মূল্য ছিল ঈর্ষণীয়। এখন ওই সময় প্রকাশিত সংকলনগুলো চোখে পড়ে না। বাংলা একাডেমি এগুলো তাদের সংগ্রহে রেখেছে, কিন্তু সেই সংগ্রহ সুপরিকল্পিত না হওয়ার ফলে অনেক মূল্যবান সংকলন এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।

গত কয়েক মাসে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ, খুলনার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অস্থিরতার মূলে রয়েছে আধিপত্য বিস্তারের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা, মূল দলের বিবদমান দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে একই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর উদ্ভব এবং হলের ডাইনিংয়ের ম্যানেজারের পদ করায়ত্ত করার বাসনা।

ডাইনিংয়ের ম্যানেজার হয়ে কী লাভ? বোঝা যায়, ডাইনিং ম্যানেজার পদে মধু আছে। কুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বের একাংশের ভয়াবহ চাপই কাজ করেছে বলে অনেকে মনে করেন। এ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতার জন্য সরকারি ছাত্রসংগঠনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কারও কারও দুর্নীতি ও একাডেমিক অন্যায়-অপকর্মও কোনো অংশে কম দায়ী নয়। দেশ ও জাতির জন্য বিপদ হলো আদর্শবাদ হারিয়ে যাওয়া। শিক্ষকের মতো পূজনীয় ব্যক্তিরা যদি দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ছাত্রদের সামনে কী আদর্শ থাকল? দলমত নির্বিশেষে সব শিক্ষক যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলেই কেবল ডুবন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে উদ্ধার করা সম্ভব।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

শতফুল ফুটতে দাও

ডুবন্ত শিক্ষাব্যবস্থা : উদ্ধার কোন পথে

 ড. মাহবুব উল্লাহ্ 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের জন্য দেড় বছরেরও বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থেকেছে। এর ফলে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি এড়িয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার কথা আলোচিত হয়েছিল।

বাস্তবতা হলো, দেশে এখনো ইন্টারনেটের যোগাযোগ সর্বত্র পৌঁছতে পারেনি। যেসব স্থানে ইন্টারনেট লাইন রয়েছে সেসব স্থানেও নানাবিধ দুর্বলতার ফলে ইন্টারনেট যোগাযোগ শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। তদুপরি অনেক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তাদের পোষ্যদের ল্যাপটপ এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে দিতে পারেনি। ফলে ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাসের আয়োজন করতে পারেনি।

কিছুসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদান চালু করলেও নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সবাই যে সচ্ছল তাও বলা যাবে না। অনলাইনে পাঠদান আয়োজন করে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, আগামী দিনে সেসব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের সময় কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সমস্যা হলো, আমরা অন্যদের কাছ থেকে শিখতে চাই না।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা সংক্রমণকালে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এসব বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদানে তেমন কোনো চেষ্টা চালায়নি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকদের তুলনায় আর্থিক সামর্থ্যরে দিক থেকে অনেক বেশি দুর্বল। এটা একটি বড় কারণ যার ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পাঠদান চালু করা যায়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সংক্রমণ এখনো অব্যাহত আছে। সংক্রমণও আগের তুলনায় বেশ হ্রাস পেয়েছে। মানুষ সাধারণ জীবনযাত্রায় ফিরে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছে। এরকম আশাব্যঞ্জক অবস্থা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোলযোগের ফলে আশাবাদ স্তিমিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক মাসের মধ্যে তিনটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সেগুলোর ছাত্রাবাস বন্ধ করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব বা প্রভাব বলয় বৃদ্ধির দ্বন্দ্ব এতটাই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, যে কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থিরতাকবলিত হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো সমাধানের কথা কর্তৃপক্ষ ভাবতে পারেনি।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল-হোস্টেলগুলোতে অছাত্ররা সিট দখল করে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়। ভয়াবহ গণরুম সংস্কৃতি এখনো অব্যাহত আছে। গণরুমে থাকার জন্য অসহায় ছাত্ররা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়। তিন-চার বছর হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে গণরুমে ঠাঁই পাওয়া একজন ছাত্র শীতের রাতে নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

বুয়েটে আবরার ফাহাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেশবাসীকে প্রচণ্ড ব্যথা দিয়েছে। আবরার ফাহাদের অপরাধ সে তার দেশকে অত্যন্ত গভীরভাবে ভালোবাসত। ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হয়েছে। রায়ে ২০ ছাত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, বাকি ৫ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কথা ছিল আবাসিক হলগুলো থেকে অছাত্রদের বিতাড়ন করা হবে এবং গণরুম ব্যবস্থার অবসান ঘটবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে কোনোরকম পদক্ষেপ নেয়নি। অদূর ভবিষ্যতে নেবে বলে ভরসা করা যাচ্ছে না।

যখনই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখনই কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। হল-হোস্টেল থেকে ছাত্রছাত্রীদের চলে যেতে আদেশ করে।

গোলযোগের মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। একজন ক্যানসার রোগীকে কষ্টনাশক ওষুধ দিয়ে কষ্ট লাঘবের যে চেষ্টা করা হয়, তার ফলে রোগমুক্তি হয় না, ব্যথা-বেদনার সাময়িক উপশম হয় মাত্র, রোগীর মৃত্যু রোধ করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে অস্থিরতা সাময়িকভাবে কেটে গেলেও এর মূলোৎপাটন হয় না। সমস্যা থেকেই যায়। আবার অস্থিরতা দেখা দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার রীতি কখন থেকে শুরু হলো? আমার জানামতে, ১৯৬২’র প্রথম দিকে আইয়ুববিরোধী ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ১৯৬৪ সালে কনভোকেশন পণ্ড করার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে।

তখনো সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ) সক্রিয় ছিল। ৬২’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তারা বাধা দেয়নি। ১৯৬৪’র কনভোকেশন পণ্ড করার জন্য সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ওপর এনএসএফ সহিংসতা চালায়। পাকিস্তান আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্থির হয়ে উঠত রাজনৈতিক কারণে। যেসব ছাত্র সংগঠন সরকারবিরোধী আন্দোলন করত তাদের আদর্শিক ভিত্তি বেশ মজবুত ছিল। চাঁদাবাজি, হল হোস্টেল দখল কিংবা গেস্ট রুমের সংস্কৃতি এদের মধ্যে ছিল না। হলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ছিল। ছাত্রাবাসগুলোতে সিট বণ্টন করা হতো মেধার ভিত্তিতে।

সিট বণ্টন নিয়ে কোনো অসন্তোষ বা অভিযোগ ছিল না। ১৯৬৮-তে অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, এনএসএফের পেটুয়া বাহিনীর সদস্য সাইদুর রহমান ওরফে পাসপাত্তু হত্যাকে কেন্দ্র করে। বেশ ক’বছর ধরে সরকারপন্থি ছাত্রসংগঠন এনএসএফ সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের ওপর দৈহিক হামলার ঘটনা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়াতে থাকে। এনএসএফ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর অপমানজনক আচরণ করত। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, বিরোধী শিবিরের কর্মীদের থু থু ফেলে আবার তা জিহ্বা দিয়ে চেটে তুলতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এনএসএফ অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. আবু মাহমুদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। তাকে রক্তাক্ত করা হয়। তার ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নিজ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে সুবিচার পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরসহ কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিরা অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।

পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের রায় উলটে দিয়ে দণ্ডিতদের শাস্তি মওকুফ করে দেয়। ১৯৬৬’র প্রথম দিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো ড. আবু মাহমুদকে জানিয়েছিলেন, খোদ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষভুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ড বাতিল করতে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের ওপর প্রভাব খাটিয়েছেন।

পাকিস্তান আমলে সরকারপন্থি ও সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে যেসব দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতো সেগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক বিষয়। তখন লোভ-লালসা, অর্থবিত্ত অর্জন এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের মতো অন্যায় কর্মকাণ্ডে ছাত্র সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ত না। ব্যতিক্রম হিসাবে এনএসএফের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক মাস্তানিতে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের জনগণ গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর প্রচণ্ডভাবে আস্থাশীল ছিল।

ছাত্ররা ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে এমনটাই বিশ্বাস করত দেশের জনগণ। কিন্তু আজ যখন দেখি বিশেষ বিশেষ ছাত্র সংগঠন ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি অবাঞ্ছিত কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে, তখন যারপরনাই বেদনাহত হতে হয়। সাধারণ ছাত্ররা সংগ্রামী ছাত্রনেতাদের গভীরভাবে ভালোবাসত। কিন্তু এখন সে রকম কোনো আন্তরিক সম্পর্ক দেখা যায় না বললেই চলে।

এখন সাধারণ ছাত্রদের সরকারপন্থি ছাত্রদের মিছিলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে যারা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে কোনোরূপ বিবেকের দংশন বোধ করে না, তারা মনে করে এ পথেই তাদের আয় উন্নতি হবে। পাকিস্তান আমলে ছাত্রনেতাদের ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা ছাত্রসহ সাধারণ জনগণের ছিল, তা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ছাত্র আন্দোলন মতাদর্শগত শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। একসময় শহিদ দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, সুকান্তজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের বিভিন্ন শাখা থেকে বিশেষ সংকলন প্রকাশ করত। এগুলোর সাহিত্য মূল্য এবং উচ্চ চিন্তার মূল্য ছিল ঈর্ষণীয়। এখন ওই সময় প্রকাশিত সংকলনগুলো চোখে পড়ে না। বাংলা একাডেমি এগুলো তাদের সংগ্রহে রেখেছে, কিন্তু সেই সংগ্রহ সুপরিকল্পিত না হওয়ার ফলে অনেক মূল্যবান সংকলন এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।

গত কয়েক মাসে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ, খুলনার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অস্থিরতার মূলে রয়েছে আধিপত্য বিস্তারের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা, মূল দলের বিবদমান দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে একই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর উদ্ভব এবং হলের ডাইনিংয়ের ম্যানেজারের পদ করায়ত্ত করার বাসনা।

ডাইনিংয়ের ম্যানেজার হয়ে কী লাভ? বোঝা যায়, ডাইনিং ম্যানেজার পদে মধু আছে। কুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বের একাংশের ভয়াবহ চাপই কাজ করেছে বলে অনেকে মনে করেন। এ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতার জন্য সরকারি ছাত্রসংগঠনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কারও কারও দুর্নীতি ও একাডেমিক অন্যায়-অপকর্মও কোনো অংশে কম দায়ী নয়। দেশ ও জাতির জন্য বিপদ হলো আদর্শবাদ হারিয়ে যাওয়া। শিক্ষকের মতো পূজনীয় ব্যক্তিরা যদি দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ছাত্রদের সামনে কী আদর্শ থাকল? দলমত নির্বিশেষে সব শিক্ষক যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলেই কেবল ডুবন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে উদ্ধার করা সম্ভব।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন