নারীর অগ্রগতিই তার স্বপ্ন ছিল
jugantor
নারীর অগ্রগতিই তার স্বপ্ন ছিল

  মনজু আরা বেগম  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ বেগম রোকেয়া দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত, আজকের নারী সমাজের অগ্রগতির প্রধান রূপকার মহীয়সী বেগম রোকেয়া।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের নারী সমাজ। ১৯৭১ থেকে ২০২১-এই ৫০ বছরে এ দেশের নারী সমাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে উদযাপিত হতে যাচ্ছে নারী জাগরণের অগ্রদূত, নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা মহীয়সী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।

নারীর অগ্রগতির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন শিক্ষা। একজন শিক্ষিত মা-ই পারে একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে। নারী-পুরুষের সমান অংশীদারত্ব ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বাস্তব সত্যটা সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে বসেও মহীয়সী এই নারী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

বেগম রোকেয়া রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর। নারী শিক্ষার উন্নয়নের কথা বলতে গেলে বাঙালি নারী হিসাবে ইতিহাসের পাতায় যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, যার কথা নারী জাতিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন-তিনি মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

বাঙালি সমাজ, বিশেষ করে নারী সমাজ যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, শিক্ষার আলো থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে ঘরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ ছিল, তখন এই মহীয়সী নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শত অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা উপেক্ষা করে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছিলেন তাদের জাগ্রত করতে। যদিও তার পরিবার ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল। ঘরের বাইরে গিয়ে নারী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কথা সে সময়ে কেউ চিন্তাও করতে পারত না।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলেও বিয়ের পর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের সাহচর্যে এবং তার পূর্ণ সহযোগিতায় তিনি সাহিত্যচর্চা করতে পেরেছিলেন। বাংলা ভাষার প্রতি তার গভীর টান থাকায় তিনি ‘মতিচূর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধ বাসিনী’, ‘পদ্মরাগ’ শীর্ষক বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম রচনা করতে পেরেছিলেন। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ছিল নারীবাদী সাহিত্যের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পশ্চাৎপদ ও রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষাবঞ্চিত, নিরক্ষর নারী সমাজকে আলোর পাদপ্রদীপে নিয়ে আসেন বেগম রোকেয়া। তিনি শুধু একজন শিক্ষাবিদই ছিলেন না, ছিলেন সমাজ সংস্কারক, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার অধিকারী, গবেষক ও লেখক। একটি রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম ও বড় হয়েও তিনি নারী জাতিকে আলোর পথ দেখাতে পেরেছিলেন। নারী শিক্ষার জন্য তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পুরুষশাসিত সমাজের কুসংস্কার ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বেগম রোকেয়া সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। খুব অল্প বয়সে তার বিয়ে হলেও স্বামী উচ্চশিক্ষিত এবং উদার মনের মানুষ হওয়ায় তার সার্বিক সহযোগিতায় তিনি পেরেছিলেন প্রচলিত রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে।

আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিপুলসংখ্যক নারীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন যে সম্ভব নয়, তা উপলব্ধি করতে পেরেছে বর্তমান সরকার। নারীকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক দিক থেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছে সরকার।

নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ আজ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে রোল মডেল। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রায় সব ক’টি খাতেই, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি।

প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে। সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। ২০১১ সালের ৭ মার্চ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

আমাদের সংবিধানে নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে প্রথম নারী স্পিকার, সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, সচিব, রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি উচ্চপদে দায়িত্ব পলন করেছে এবং করছে নারী। শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে একজন নারী মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও জেন্ডার গ্যাপ সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। বাঙালি নারী শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার অবদানকে স্মরণীয় করতে সরকার ২০০৮ সালে রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নত কলাকৌশল প্রয়োগ করে পিছিয়ে পড়া উত্তর জনপদ তথা দেশব্যাপী এর সুফল ছড়িয়ে দেবে।

প্রতিবছর এই দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বের হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দেন, যা নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য অনুপ্রেরণামূলক।

এ সবকিছুর পরও বলতে হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অনেক নিচে রয়েছে। ক্ষমতায়নে এখনো আমাদের অপূর্ণতা রয়েছে। এখনো নারীরা ঘরে-বাইরে ধর্ষণ, নির্যাতন তথা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এখনো নারীর কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া বা মূল্যায়ন করা হয় না।

এজন্য প্রয়োজন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। সেই সঙ্গে মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার পরিবর্তনসহ গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা। নারীর সার্বিক অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন তথা নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত হতে পারে।

মনজু আরা বেগম : সাবেক মহাব্যবস্থাপক, বিসিক

[email protected]

নারীর অগ্রগতিই তার স্বপ্ন ছিল

 মনজু আরা বেগম 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ বেগম রোকেয়া দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত, আজকের নারী সমাজের অগ্রগতির প্রধান রূপকার মহীয়সী বেগম রোকেয়া।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের নারী সমাজ। ১৯৭১ থেকে ২০২১-এই ৫০ বছরে এ দেশের নারী সমাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে উদযাপিত হতে যাচ্ছে নারী জাগরণের অগ্রদূত, নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা মহীয়সী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।

নারীর অগ্রগতির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন শিক্ষা। একজন শিক্ষিত মা-ই পারে একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে। নারী-পুরুষের সমান অংশীদারত্ব ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বাস্তব সত্যটা সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে বসেও মহীয়সী এই নারী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

বেগম রোকেয়া রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর। নারী শিক্ষার উন্নয়নের কথা বলতে গেলে বাঙালি নারী হিসাবে ইতিহাসের পাতায় যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, যার কথা নারী জাতিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন-তিনি মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

বাঙালি সমাজ, বিশেষ করে নারী সমাজ যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, শিক্ষার আলো থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে ঘরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ ছিল, তখন এই মহীয়সী নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শত অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা উপেক্ষা করে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছিলেন তাদের জাগ্রত করতে। যদিও তার পরিবার ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল। ঘরের বাইরে গিয়ে নারী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কথা সে সময়ে কেউ চিন্তাও করতে পারত না।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলেও বিয়ের পর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের সাহচর্যে এবং তার পূর্ণ সহযোগিতায় তিনি সাহিত্যচর্চা করতে পেরেছিলেন। বাংলা ভাষার প্রতি তার গভীর টান থাকায় তিনি ‘মতিচূর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধ বাসিনী’, ‘পদ্মরাগ’ শীর্ষক বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম রচনা করতে পেরেছিলেন। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ছিল নারীবাদী সাহিত্যের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পশ্চাৎপদ ও রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষাবঞ্চিত, নিরক্ষর নারী সমাজকে আলোর পাদপ্রদীপে নিয়ে আসেন বেগম রোকেয়া। তিনি শুধু একজন শিক্ষাবিদই ছিলেন না, ছিলেন সমাজ সংস্কারক, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার অধিকারী, গবেষক ও লেখক। একটি রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম ও বড় হয়েও তিনি নারী জাতিকে আলোর পথ দেখাতে পেরেছিলেন। নারী শিক্ষার জন্য তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পুরুষশাসিত সমাজের কুসংস্কার ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বেগম রোকেয়া সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। খুব অল্প বয়সে তার বিয়ে হলেও স্বামী উচ্চশিক্ষিত এবং উদার মনের মানুষ হওয়ায় তার সার্বিক সহযোগিতায় তিনি পেরেছিলেন প্রচলিত রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে।

আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিপুলসংখ্যক নারীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন যে সম্ভব নয়, তা উপলব্ধি করতে পেরেছে বর্তমান সরকার। নারীকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক দিক থেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছে সরকার।

নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ আজ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে রোল মডেল। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রায় সব ক’টি খাতেই, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি।

প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে। সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। ২০১১ সালের ৭ মার্চ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

আমাদের সংবিধানে নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে প্রথম নারী স্পিকার, সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, সচিব, রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি উচ্চপদে দায়িত্ব পলন করেছে এবং করছে নারী। শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে একজন নারী মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও জেন্ডার গ্যাপ সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। বাঙালি নারী শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার অবদানকে স্মরণীয় করতে সরকার ২০০৮ সালে রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নত কলাকৌশল প্রয়োগ করে পিছিয়ে পড়া উত্তর জনপদ তথা দেশব্যাপী এর সুফল ছড়িয়ে দেবে।

প্রতিবছর এই দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বের হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দেন, যা নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য অনুপ্রেরণামূলক।

এ সবকিছুর পরও বলতে হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অনেক নিচে রয়েছে। ক্ষমতায়নে এখনো আমাদের অপূর্ণতা রয়েছে। এখনো নারীরা ঘরে-বাইরে ধর্ষণ, নির্যাতন তথা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এখনো নারীর কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া বা মূল্যায়ন করা হয় না।

এজন্য প্রয়োজন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। সেই সঙ্গে মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার পরিবর্তনসহ গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা। নারীর সার্বিক অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন তথা নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত হতে পারে।

মনজু আরা বেগম : সাবেক মহাব্যবস্থাপক, বিসিক

[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন