মানবকল্যাণে নিবেদিত যিনি
jugantor
জন্মদিনের শুভেচ্ছা
মানবকল্যাণে নিবেদিত যিনি

  মানিক লাল ঘোষ  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে

আসে নাই কেহ অবনী পরে,

সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’

কবি কামিনী রায়ের এই মহৎ পঙ্ক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা পৃথিবীতে নিতান্তই কম। তাছাড়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার নাতনি এবং দেশের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কন্যার নিজেকে রাজনীতি ও ক্ষমতার বাইরে রেখে মানবকল্যাণে ব্যস্ত থাকার ঘটনাও বিরল। সেই বিরল মানবসেবীর নাম সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সায়মা ওয়াজেদ নিজের ভিন্ন পরিচয় গড়ে তুলেছেন। সারা বিশ্বে অটিস্টিক শিশুদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসাবে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য সায়মা ওয়াজেদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর লাভ করেন বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ের ওপর তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

আমাদের দেশের অনেক অটিস্টিক শিশু সমাজে আলোর মুখ দেখে না। অনেকে তাদের শনাক্ত করতে পারে না, আবার অনেক বাবা-মা মনের কষ্টে কিংবা সামাজিক চক্ষু লজ্জার ভয়ে অটিস্টিক শিশুদের আড়াল করে রাখে। সামাজিক সব অনুষ্ঠান থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। মানবাধিকার বঞ্চিত, চিকিৎসাবঞ্চিত সেই শিশুদের সামাজিক অধিকার এবং তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতেই আদর আর সোহাগের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, মানবসেবার ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে। মানবসেবায় নানি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা, মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব গুণ পেয়েছেন তিনি। আর চিন্তা-চেতনায় নানা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যেন তাকে তাড়িত করে মানবকল্যাণে ও দেশের সেবায়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়বিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুতুলকে ‘হু অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে। মনস্তত্ত্ববিদ পুতুল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকসের পরামর্শক হিসাবেও কাজ করেন। ২০১৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলেও অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

২০১১ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের জন্য শত সেরা নারীর তালিকায় স্থান পান তিনি। বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজমবিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হিসাবে স্বীকৃতি পান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

২০২০ সালে সায়মা ওয়াজেদের এগিয়ে চলার পথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সাফল্যের পালক। বেড়েছে আরও দায়িত্ব। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবল ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের জোট সিডিএফের চেয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এই সিডিএফের নির্বাচিত চারজন দূতের একজন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সিডিএফের পক্ষ থেকে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

দেশবাসীর প্রত্যাশা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শুধু অটিজম আর মানবসেবায়ই ব্যস্ত থাকবেন না, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মানুষের অন্যান্য সেবায়ও এগিয়ে আসবেন তিনি। আজ জন্মদিনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্য রইল অন্তহীন শুভকামনা। তার মানবিক আলোয় উদ্ভাসিত হোক এদেশের তরুণ সমাজ।

মানিক লাল ঘোষ : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য

জন্মদিনের শুভেচ্ছা

মানবকল্যাণে নিবেদিত যিনি

 মানিক লাল ঘোষ 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে

আসে নাই কেহ অবনী পরে,

সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’

কবি কামিনী রায়ের এই মহৎ পঙ্ক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা পৃথিবীতে নিতান্তই কম। তাছাড়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার নাতনি এবং দেশের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কন্যার নিজেকে রাজনীতি ও ক্ষমতার বাইরে রেখে মানবকল্যাণে ব্যস্ত থাকার ঘটনাও বিরল। সেই বিরল মানবসেবীর নাম সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সায়মা ওয়াজেদ নিজের ভিন্ন পরিচয় গড়ে তুলেছেন। সারা বিশ্বে অটিস্টিক শিশুদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসাবে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য সায়মা ওয়াজেদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর লাভ করেন বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ের ওপর তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

আমাদের দেশের অনেক অটিস্টিক শিশু সমাজে আলোর মুখ দেখে না। অনেকে তাদের শনাক্ত করতে পারে না, আবার অনেক বাবা-মা মনের কষ্টে কিংবা সামাজিক চক্ষু লজ্জার ভয়ে অটিস্টিক শিশুদের আড়াল করে রাখে। সামাজিক সব অনুষ্ঠান থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। মানবাধিকার বঞ্চিত, চিকিৎসাবঞ্চিত সেই শিশুদের সামাজিক অধিকার এবং তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতেই আদর আর সোহাগের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, মানবসেবার ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে। মানবসেবায় নানি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা, মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব গুণ পেয়েছেন তিনি। আর চিন্তা-চেতনায় নানা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যেন তাকে তাড়িত করে মানবকল্যাণে ও দেশের সেবায়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়বিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুতুলকে ‘হু অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে। মনস্তত্ত্ববিদ পুতুল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকসের পরামর্শক হিসাবেও কাজ করেন। ২০১৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলেও অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

২০১১ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের জন্য শত সেরা নারীর তালিকায় স্থান পান তিনি। বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজমবিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হিসাবে স্বীকৃতি পান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

২০২০ সালে সায়মা ওয়াজেদের এগিয়ে চলার পথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সাফল্যের পালক। বেড়েছে আরও দায়িত্ব। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবল ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের জোট সিডিএফের চেয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এই সিডিএফের নির্বাচিত চারজন দূতের একজন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সিডিএফের পক্ষ থেকে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

দেশবাসীর প্রত্যাশা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শুধু অটিজম আর মানবসেবায়ই ব্যস্ত থাকবেন না, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মানুষের অন্যান্য সেবায়ও এগিয়ে আসবেন তিনি। আজ জন্মদিনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্য রইল অন্তহীন শুভকামনা। তার মানবিক আলোয় উদ্ভাসিত হোক এদেশের তরুণ সমাজ।

মানিক লাল ঘোষ : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন