আজীবন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর
jugantor
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি
আজীবন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর

  তানভীর শাকিল জয়  

১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমাদের অবজ্ঞা, শোষণ-বঞ্চনা, বিমাতাসুলভ আচরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করে বিশ্বের মানচিত্রে মুক্ত বাতাস বইয়ে দিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে যে কজন কালজয়ী মহাপুরুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অন্যতম। বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম অগ্রনায়ক, অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, জনদরদি নেতা শহিদ এম মনসুর আলী সমহিমায় হয়ে উঠেছিলেন চিরভাস্বর ও আলোকিত মানুষ। ১৯১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইতিহাসের এ আলোকিত মানুষ।

মনসুর আলী সিরাজগঞ্জ বিএল হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ১৯৪১ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিএ পাশ করে ১৯৪৫ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অর্থনীতিতে এমএ পাশ করেন। পরে এলএলবিতে প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মনসুর আলী পাবনা জেলা মুসলিম লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পিএলজির ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় থেকেই তিনি ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামে পরিচিত হন। ১৯৫১ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলের পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালে পাবনায় ভাষা আন্দোলন সংগঠনকালে গ্রেফতার হন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসাবে পূর্ব বাংলা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন পূর্ববঙ্গ কোয়ালিশন সরকারের আইন ও সংসদ, খাদ্য, কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি হলে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে মনসুর আলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন করে পাবনা-১ আসন থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে গঠিত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা লাভের পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় মনসুর আলী প্রথমে যোগাযোগ, পরে স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনে মনসুর আলী পুনরায় পাবনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এ বছর তিনি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি দলের সদস্যও নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন মনসুর আলী। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন খোন্দকার মোশতাক আহমদ। ক্ষমতা দখলকারী খুনি মোশতাক-ফারুক-রশীদ চক্র ১৫ আগস্ট থেকেই নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সাহসী ও দেশপ্রেমিক চার নেতা জাতির পিতার এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারেননি। মোশতাক সরকারের উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী ১৫ আগস্ট সকালেই ঘাতকচক্রকে নির্মূল করতে বিমানবাহিনী প্রধান একে খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এ মহান নেতা মোশতাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব মুখের ওপর ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৫ আগস্ট সকালেই মনসুর আলী সরকারি বাসভবন ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। একজন ব্যক্তিগত স্টাফের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ওবায়দুর রহমানের তৎপরতায় গোপন স্থান থেকে বঙ্গভবনে মোশতাকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ঘাতক মোশতাক প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের আহ্বান জানান। হতচকিত মনসুর আলী অবৈধ মোশতাককে বলেন, তুমি শেখ মুজিবকে হত্যা করলে, করতে পারলে? আবেগে-কান্নায়-ঘৃণায় বুজে এলো তার কণ্ঠ। বললেন, এরপরও তুমি কীভাবে ভাবলে তোমার মন্ত্রিসভায় আসব আমি!

মনসুর আলী পারতেন মোশতাক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে। তাহলে হয়তো প্রাণ দিতে হতো না তাকে। কিন্তু তিনি চাননি বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে। জীবন দেবেন, তবু আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

চার জাতীয় নেতা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগদানে অস্বীকৃতি জানালে ২৩ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর সোমবার ভোররাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুরক্ষিত নিরাপদ কক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মনসুর আলী জীবন দিয়েছেন। তবু আদর্শ বিসর্জন দেননি। হাত মেলাননি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে। তিনি মনে করতেন, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুই শ্রেয়। সেই আদর্শ ধারণ করে আজীবন পথ চলেছেন আমার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম। দাদার ও পিতার দেখানো পথে চলতে চেষ্টা করছি আমিও।

ন্যায়নিষ্ঠা ও সততার মূর্ত প্রতীক মৃত্যুঞ্জয়ী মহাপুরুষ শহিদ এম মনসুর আলীর মহান স্মৃতি দেশের অগণিত মানুষের মনের মণিকোঠায় চিরঅম্লান হয়ে থাকবে। আজ তার জন্মদিন। অনেক শুভেচ্ছা রইল।

প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় : সংসদ-সদস্য; এম মনসুর আলীর পৌত্র

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আজীবন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর

 তানভীর শাকিল জয় 
১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমাদের অবজ্ঞা, শোষণ-বঞ্চনা, বিমাতাসুলভ আচরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করে বিশ্বের মানচিত্রে মুক্ত বাতাস বইয়ে দিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে যে কজন কালজয়ী মহাপুরুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অন্যতম। বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম অগ্রনায়ক, অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, জনদরদি নেতা শহিদ এম মনসুর আলী সমহিমায় হয়ে উঠেছিলেন চিরভাস্বর ও আলোকিত মানুষ। ১৯১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইতিহাসের এ আলোকিত মানুষ।

মনসুর আলী সিরাজগঞ্জ বিএল হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ১৯৪১ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিএ পাশ করে ১৯৪৫ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অর্থনীতিতে এমএ পাশ করেন। পরে এলএলবিতে প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মনসুর আলী পাবনা জেলা মুসলিম লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পিএলজির ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় থেকেই তিনি ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামে পরিচিত হন। ১৯৫১ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলের পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালে পাবনায় ভাষা আন্দোলন সংগঠনকালে গ্রেফতার হন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসাবে পূর্ব বাংলা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন পূর্ববঙ্গ কোয়ালিশন সরকারের আইন ও সংসদ, খাদ্য, কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি হলে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে মনসুর আলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন করে পাবনা-১ আসন থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে গঠিত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা লাভের পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় মনসুর আলী প্রথমে যোগাযোগ, পরে স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনে মনসুর আলী পুনরায় পাবনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এ বছর তিনি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি দলের সদস্যও নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন মনসুর আলী। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন খোন্দকার মোশতাক আহমদ। ক্ষমতা দখলকারী খুনি মোশতাক-ফারুক-রশীদ চক্র ১৫ আগস্ট থেকেই নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সাহসী ও দেশপ্রেমিক চার নেতা জাতির পিতার এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারেননি। মোশতাক সরকারের উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী ১৫ আগস্ট সকালেই ঘাতকচক্রকে নির্মূল করতে বিমানবাহিনী প্রধান একে খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এ মহান নেতা মোশতাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব মুখের ওপর ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৫ আগস্ট সকালেই মনসুর আলী সরকারি বাসভবন ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। একজন ব্যক্তিগত স্টাফের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ওবায়দুর রহমানের তৎপরতায় গোপন স্থান থেকে বঙ্গভবনে মোশতাকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ঘাতক মোশতাক প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের আহ্বান জানান। হতচকিত মনসুর আলী অবৈধ মোশতাককে বলেন, তুমি শেখ মুজিবকে হত্যা করলে, করতে পারলে? আবেগে-কান্নায়-ঘৃণায় বুজে এলো তার কণ্ঠ। বললেন, এরপরও তুমি কীভাবে ভাবলে তোমার মন্ত্রিসভায় আসব আমি!

মনসুর আলী পারতেন মোশতাক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে। তাহলে হয়তো প্রাণ দিতে হতো না তাকে। কিন্তু তিনি চাননি বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে। জীবন দেবেন, তবু আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

চার জাতীয় নেতা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগদানে অস্বীকৃতি জানালে ২৩ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর সোমবার ভোররাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুরক্ষিত নিরাপদ কক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মনসুর আলী জীবন দিয়েছেন। তবু আদর্শ বিসর্জন দেননি। হাত মেলাননি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে। তিনি মনে করতেন, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুই শ্রেয়। সেই আদর্শ ধারণ করে আজীবন পথ চলেছেন আমার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম। দাদার ও পিতার দেখানো পথে চলতে চেষ্টা করছি আমিও।

ন্যায়নিষ্ঠা ও সততার মূর্ত প্রতীক মৃত্যুঞ্জয়ী মহাপুরুষ শহিদ এম মনসুর আলীর মহান স্মৃতি দেশের অগণিত মানুষের মনের মণিকোঠায় চিরঅম্লান হয়ে থাকবে। আজ তার জন্মদিন। অনেক শুভেচ্ছা রইল।

প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় : সংসদ-সদস্য; এম মনসুর আলীর পৌত্র

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন