সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে বাংলাদেশ
jugantor
তৃতীয় মত
সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে বাংলাদেশ

  আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের আকাশে আজ আবার দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ঈগল আবার বঙ্গোপসাগরের ওপর পাখা মেলেছে। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের আমেরিকায় গমন নিষিদ্ধ করার পর এখন চৌত্রিশ জন এমপি ও ব্যবসায়ী, যারা টাকা-পয়সা আমেরিকায় সরিয়ে নিরাপদ আছেন বলে ভেবেছিলেন তাদের মাথায়ও বজ্রপাত হতে চলেছে। এক কথায় আমেরিকা খুবই শক্ত চাপ বাংলাদেশের ওপর দিয়েছে। দেশে যদি জাতীয় ঐক্য থাকত, তাহলে আমেরিকার এ চাপ সম্ভবত আসত না। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য নেই, বরং বিএনপি পারলে আমেরিকাকে এখনই বাংলাদেশে ডেকে আনে। আওয়ামী লীগও জনগণ এক প্রকার বিচ্ছিন্ন, মিত্র ভারতের মতিগতিও সুবিধার নয়। পদ্মা সেতু তৈরির সময় সরকার ও জনগণ একাত্ম ছিল, তাই পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু আজ সেই পরিস্থিতি নেই। আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতা তো বাড়ছেই, তদুপরি বিএনপি হাজার হাজার ডলার ঢেলে মার্কিন সরকারকে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে। এখানে আরও একটু পটভূমি আছে। বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই আমি লিখেছিলাম, বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত উপদেষ্টা হিলারি ক্লিনটনের শেখ হাসিনার ওপর রাগ আছে।

হিলারি যখন ওবামা প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন গ্রামীণ ব্যাংকসংক্রান্ত ব্যাপারে ড. ইউনূসের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটু চোখ রাঙাতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সেই চোখ রাঙানি গ্রাহ্য করেননি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণে এগিয়ে গিয়েছিলেন। হিলারির অহংকারে আঘাত লেগেছে। এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আবার ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং হিলারির প্রভাবও বেড়েছে। সেই প্রভাবকে সরকারের ওপর কাজে লাগিয়ে হিলারি এখন যদি প্রতিশোধ নিতে চান, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। আমেরিকা বাংলাদেশকে এতটা চাপ দিতে পারত না, যদি ভারত বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিত। যেটি ভারত আগে নিয়েছিল। এবার বাংলাদেশে চীনের আধিপত্য বিস্তারের সম্ভাবনায় ভারত ভীত। সেজন্য আমেরিকার চাপকে সে গোপন সমর্থন দিচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য হাসিনা সরকারের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু আমলা ও ব্যবসায়ী চীনের সঙ্গে কঠিন শর্তে বিভিন্ন প্রজেক্টে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছেন। চীনের শর্তগুলো এতই কঠোর, তাতে গোটা বাংলাদেশে চীনের সামরিক আধিপত্য বিস্তৃত হতে পারে।

চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সমর্থন করেনি। সে ছিল পাকিস্তানের মিত্র এবং এখনো সেই মিত্রতা বজায় রয়েছে। পাকিস্তানে আবার আধা তালেবান সরকার ক্ষমতায়। যদি চীনের চাপে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে অসম্মানজনক বন্ধুত্ব করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে তালেবানদের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা আছে। আফগান তালেবানদের চীন সমর্থন দিচ্ছে। সুতরাং চীনের অর্থনৈতিক সাহায্য গ্রহণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ শুধু আমেরিকার চাপের তলায় পড়বে না, ভারতের মিত্রতাও সম্পূর্ণ হারাবে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর আশঙ্কা ছিল তারা বাংলাদেশের বিএনপিকে সমর্থন দেবে। নরেন্দ্র মোদি তা করেননি বরং শেখ হাসিনার দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করেছেন। অনেকটা তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও রয়েছে। এ বন্ধুত্বের ফলে ভারত-বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান না হলেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা অনেক বেড়েছে। ভারত চীনের মতো আগ্রাসী আধিপত্যবাদী নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি দুর্দিনে সে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে।

চীনের মতো ভারত বাংলাদেশের নতুন বন্ধু নয়। নতুন বন্ধুর টাকার জোর দেখে তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া ঠিক নয়। কঠোর শর্ত ছাড়া চীন আর্থিক সাহায্য দিতে চাইলে দিক। তার বেশি তারা আশা করলে আমেরিকাকে ঠেকাবে কে? বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উল্লসিত বিএনপি ও জামায়াত। তারা আমেরিকায় হাজার হাজার ডলার ঢেলে হাসিনা সরকারবিরোধী যে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, তাতে অনেকটা সাফল্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানের এ তালগোল পাকানো পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকার কী করবে তা আমি জানিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত হয়ে কোনো দল যদি বাংলাদেশের এককালের শত্রুদের মিত্রতাকেই বড় করে দেখে এবং পুরোনো এবং পরীক্ষিত বন্ধুদের উপেক্ষা করে, তার ফল ভালো হবে না। আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে চীন অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়ার নাম করে ঢুকে কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী মূর্তি ধারণ করেছে তা আমাদের অজানা নয়। আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ সরকার এখন আর এক নয়। বাংলাদেশ সরকার আমলানির্ভর এবং আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও দুর্নীতিতে ভেঙে পড়ার মতো। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগকে আমি বহুবার সতর্ক করেছি। আওয়ামী লীগ গো ধরে আছে এই ভেবে যে, তাদের সংগঠন আগে এতটা শক্তিশালী ছিল না। এই যে আত্মপ্রসাদ তা আওয়ামী লীগকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জানিনা বর্তমান দুর্যোগ আওয়ামী লীগ কীভাবে ঠেকাবে। তবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুললে এবং জনবিচ্ছিন্নতা পরিহার করলে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ঠেকানো সম্ভব। চীনের সঙ্গে সখ্যের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে তারা ইসলামী জঙ্গি এবং তালেবান এ দুই শক্তির সঙ্গেই মৈত্রী স্থাপন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিতে এটি সম্ভবত দরকার। পাকিস্তানও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত। চীনের মৈত্রী তাদের দরকার হতে পারে, কিন্তু চীন বাংলাদেশের নতুন বন্ধু। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে যেসব প্রকল্প শেষ হয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রুটিপূর্ণ। কথায় বলে, নতুন বন্ধুর চেয়ে পুরোনো বন্ধুই ভালো। বাংলাদেশ সরকার সে কথাটা ভেবে দেখতে পারে। আগেই বলেছি, বাংলাদেশ সরকার আমলানির্ভর। এ আমলাদের মধ্যে আগে আমেরিকার একচেটিয়া প্রভাব ছিল। এখন চীনের প্রভাব বাড়ছে। কারণ চীন টাকা বিলাচ্ছে। আমি মনে করি, ভারতই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে। ভারতের সভ্যতা, কৃষ্টি এবং বাংলাদেশের সভ্যতা ও কৃষ্টি অভিন্ন। রাজনৈতিক বিবাদ দূর করতে পারলে, উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মৈত্রী জোরদার হলে এশিয়ায় গণতন্ত্রের বিকাশ অনিবার্য। অবশ্যই রাজনীতিতে এটি শেষ কথা নয়। শেখ হাসিনা ভেবে দেখুন তিনি কোন পথে যাবেন? দু-নৌকায় পা দিয়ে তিনি নদী পার হতে পারবেন না।

লন্ডন, ১৫ জানুয়ারি, শনিবার, ২০২২

তৃতীয় মত

সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে বাংলাদেশ

 আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের আকাশে আজ আবার দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ঈগল আবার বঙ্গোপসাগরের ওপর পাখা মেলেছে। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের আমেরিকায় গমন নিষিদ্ধ করার পর এখন চৌত্রিশ জন এমপি ও ব্যবসায়ী, যারা টাকা-পয়সা আমেরিকায় সরিয়ে নিরাপদ আছেন বলে ভেবেছিলেন তাদের মাথায়ও বজ্রপাত হতে চলেছে। এক কথায় আমেরিকা খুবই শক্ত চাপ বাংলাদেশের ওপর দিয়েছে। দেশে যদি জাতীয় ঐক্য থাকত, তাহলে আমেরিকার এ চাপ সম্ভবত আসত না। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য নেই, বরং বিএনপি পারলে আমেরিকাকে এখনই বাংলাদেশে ডেকে আনে। আওয়ামী লীগও জনগণ এক প্রকার বিচ্ছিন্ন, মিত্র ভারতের মতিগতিও সুবিধার নয়। পদ্মা সেতু তৈরির সময় সরকার ও জনগণ একাত্ম ছিল, তাই পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু আজ সেই পরিস্থিতি নেই। আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতা তো বাড়ছেই, তদুপরি বিএনপি হাজার হাজার ডলার ঢেলে মার্কিন সরকারকে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে। এখানে আরও একটু পটভূমি আছে। বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই আমি লিখেছিলাম, বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত উপদেষ্টা হিলারি ক্লিনটনের শেখ হাসিনার ওপর রাগ আছে।

হিলারি যখন ওবামা প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন গ্রামীণ ব্যাংকসংক্রান্ত ব্যাপারে ড. ইউনূসের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটু চোখ রাঙাতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সেই চোখ রাঙানি গ্রাহ্য করেননি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণে এগিয়ে গিয়েছিলেন। হিলারির অহংকারে আঘাত লেগেছে। এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আবার ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং হিলারির প্রভাবও বেড়েছে। সেই প্রভাবকে সরকারের ওপর কাজে লাগিয়ে হিলারি এখন যদি প্রতিশোধ নিতে চান, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। আমেরিকা বাংলাদেশকে এতটা চাপ দিতে পারত না, যদি ভারত বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিত। যেটি ভারত আগে নিয়েছিল। এবার বাংলাদেশে চীনের আধিপত্য বিস্তারের সম্ভাবনায় ভারত ভীত। সেজন্য আমেরিকার চাপকে সে গোপন সমর্থন দিচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য হাসিনা সরকারের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু আমলা ও ব্যবসায়ী চীনের সঙ্গে কঠিন শর্তে বিভিন্ন প্রজেক্টে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছেন। চীনের শর্তগুলো এতই কঠোর, তাতে গোটা বাংলাদেশে চীনের সামরিক আধিপত্য বিস্তৃত হতে পারে।

চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সমর্থন করেনি। সে ছিল পাকিস্তানের মিত্র এবং এখনো সেই মিত্রতা বজায় রয়েছে। পাকিস্তানে আবার আধা তালেবান সরকার ক্ষমতায়। যদি চীনের চাপে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে অসম্মানজনক বন্ধুত্ব করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে তালেবানদের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা আছে। আফগান তালেবানদের চীন সমর্থন দিচ্ছে। সুতরাং চীনের অর্থনৈতিক সাহায্য গ্রহণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ শুধু আমেরিকার চাপের তলায় পড়বে না, ভারতের মিত্রতাও সম্পূর্ণ হারাবে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর আশঙ্কা ছিল তারা বাংলাদেশের বিএনপিকে সমর্থন দেবে। নরেন্দ্র মোদি তা করেননি বরং শেখ হাসিনার দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করেছেন। অনেকটা তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও রয়েছে। এ বন্ধুত্বের ফলে ভারত-বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান না হলেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা অনেক বেড়েছে। ভারত চীনের মতো আগ্রাসী আধিপত্যবাদী নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি দুর্দিনে সে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে।

চীনের মতো ভারত বাংলাদেশের নতুন বন্ধু নয়। নতুন বন্ধুর টাকার জোর দেখে তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া ঠিক নয়। কঠোর শর্ত ছাড়া চীন আর্থিক সাহায্য দিতে চাইলে দিক। তার বেশি তারা আশা করলে আমেরিকাকে ঠেকাবে কে? বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উল্লসিত বিএনপি ও জামায়াত। তারা আমেরিকায় হাজার হাজার ডলার ঢেলে হাসিনা সরকারবিরোধী যে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, তাতে অনেকটা সাফল্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানের এ তালগোল পাকানো পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকার কী করবে তা আমি জানিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত হয়ে কোনো দল যদি বাংলাদেশের এককালের শত্রুদের মিত্রতাকেই বড় করে দেখে এবং পুরোনো এবং পরীক্ষিত বন্ধুদের উপেক্ষা করে, তার ফল ভালো হবে না। আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে চীন অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়ার নাম করে ঢুকে কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী মূর্তি ধারণ করেছে তা আমাদের অজানা নয়। আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ সরকার এখন আর এক নয়। বাংলাদেশ সরকার আমলানির্ভর এবং আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও দুর্নীতিতে ভেঙে পড়ার মতো। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগকে আমি বহুবার সতর্ক করেছি। আওয়ামী লীগ গো ধরে আছে এই ভেবে যে, তাদের সংগঠন আগে এতটা শক্তিশালী ছিল না। এই যে আত্মপ্রসাদ তা আওয়ামী লীগকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জানিনা বর্তমান দুর্যোগ আওয়ামী লীগ কীভাবে ঠেকাবে। তবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুললে এবং জনবিচ্ছিন্নতা পরিহার করলে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ঠেকানো সম্ভব। চীনের সঙ্গে সখ্যের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে তারা ইসলামী জঙ্গি এবং তালেবান এ দুই শক্তির সঙ্গেই মৈত্রী স্থাপন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিতে এটি সম্ভবত দরকার। পাকিস্তানও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত। চীনের মৈত্রী তাদের দরকার হতে পারে, কিন্তু চীন বাংলাদেশের নতুন বন্ধু। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে যেসব প্রকল্প শেষ হয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রুটিপূর্ণ। কথায় বলে, নতুন বন্ধুর চেয়ে পুরোনো বন্ধুই ভালো। বাংলাদেশ সরকার সে কথাটা ভেবে দেখতে পারে। আগেই বলেছি, বাংলাদেশ সরকার আমলানির্ভর। এ আমলাদের মধ্যে আগে আমেরিকার একচেটিয়া প্রভাব ছিল। এখন চীনের প্রভাব বাড়ছে। কারণ চীন টাকা বিলাচ্ছে। আমি মনে করি, ভারতই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে। ভারতের সভ্যতা, কৃষ্টি এবং বাংলাদেশের সভ্যতা ও কৃষ্টি অভিন্ন। রাজনৈতিক বিবাদ দূর করতে পারলে, উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মৈত্রী জোরদার হলে এশিয়ায় গণতন্ত্রের বিকাশ অনিবার্য। অবশ্যই রাজনীতিতে এটি শেষ কথা নয়। শেখ হাসিনা ভেবে দেখুন তিনি কোন পথে যাবেন? দু-নৌকায় পা দিয়ে তিনি নদী পার হতে পারবেন না।

লন্ডন, ১৫ জানুয়ারি, শনিবার, ২০২২

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন