সুদের ব্যবসার সেকাল-একাল
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
সুদের ব্যবসার সেকাল-একাল

  ড. আর এম দেবনাথ  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনটা ‘ভালো’ ব্যবসা? এখানে ‘ভালো’ ব্যবসা মানে লাভজনক ব্যবসার কথা বলছি। আমি জানি, এ প্রশ্নের উত্তর একেকজন একেকটা দেবেন। এটাই স্বাভাবিক। কেউ বলবেন হুন্ডি ব্যবসা ভালো ব্যবসা, কেউ বলবেন চোরাচালানের ব্যবসা ভালো ব্যবসা।

আবার কারও মতে, ভালো ব্যবসা হবে সোনার ব্যবসা, মজুদদারি ব্যবসা অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি ব্যবসা; উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে সয়াবিন তেলের ব্যবসার কথা, যার দাম বছরে কয়েকবার বাড়ানো হয়। এভাবে লাভজনক ব্যবসার তালিকা দীর্ঘায়িত করা যায়। আমি ওই পথে হাঁটছি না। আমি ধরে নিচ্ছি এক পাঠকের কথা। তার মতে, সবচেয়ে ভালো ব্যবসা হচ্ছে সুদের ব্যবসা বা মহাজনি ব্যবসা।

এ ব্যবসায় কোনো লোকসান নেই। তবে ধার দেওয়া টাকা তোলার জবরদস্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই সুদের ব্যবসা দেশ বিভাগের (১৯৪৭) আগে জমিদার, তালুকদার শ্রেণির লোকরা করে প্রচুর পয়সা কামাই করত, জমির মালিক হতো। ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের একশ্রেণির ব্যবসায়ী, যারা সুদের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। তারাও অর্থবিত্তে ছিল বলীয়ান। তখন অবশ্য সুদের ব্যবসা হতো নিজস্ব টাকায়। আজকের দিনের মতো ‘আমানত’ (ডিপোজিট) সংগ্রহের মাধ্যমে নয়, যা করে ব্যাংকগুলো।

দেশ বিভাগ-পূর্ব সুদের ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড ক্ষমতাবান ছিল। তারা যেমন উচ্চ সুদে ঋণ দিত, যেমন রোজগার করত দেদার, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে তারা স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল-দাতব্য প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলত। এসবের উদাহরণ এখনো রয়ে গেছে। অবশ্য তখন সুদের ব্যবসায়ীরা ছিল নিন্দনীয় ব্যক্তি। এ ব্যবসা ছিল সমালোচনার বিষয়বস্তু। কারণ সুদের ব্যবসা সাধারণ মানুষ ও কৃষককে ফতুর করে ফেলত। আর এসব জমি চলে যেত সুদখোর মহাজনদের হাতে।

বস্তুত সুদখোর-মহাজনরা সমাজে তীব্র নিন্দার পাত্র হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে বহু। বহু লেখালেখি সুদের ব্যবসা ও সুদখোর মহাজনদের ওপর হয়েছে। সমাজ ছিল সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে, অথচ এ ব্যবসার অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। মানুষের বিপদে-আপদে টাকার দরকার। কোত্থেকে আসবে টাকা? তখন এত ব্যাংক ছিল না। অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখেই সুদের ব্যবসার জন্ম। অথচ সমাজ সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে, বিরুদ্ধে সুদখোর মহাজনদের। আজকের অবস্থা কী?

স্বাধীন বাংলাদেশে কি সুদের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে? দেশ বিভাগের (১৯৪৭) পর পূর্ব পাকিস্তান (১৯৪৭-৭১) পর্ব গেছে। তারপর স্বাধীনতার এখন ৫০-৫১ বছর। সুদের ব্যবসা কি হ্রাস পেয়েছে? মনে হয় না। মাঝে মাঝেই সুদের ব্যবসা, এর ফলাফল ইত্যাদির ওপর খবর ছাপা হয়। এখন সুদের ব্যবসার জন্য জমিদার, তালুকদার অথবা কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিশেষ সম্প্রদায় লাগে না। এখন সুদের ব্যবসা করে প্রচুর লোক। এনজিওগুলো তো করেই-প্রকাশ্যে।

অথচ তাদের কেউ নিন্দা করে না। হয়তো করে কিছুটা সমালোচনা। সুদের ব্যবসা করে এখন এমন অনেকেই, যার কিছু উদ্বৃত্ত টাকা আছে। ঢাকা শহরে উত্তরবঙ্গের রিকশাওয়ালাদের সঙ্গে কথা বললেই এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। রিকশাওয়ালাদের মধ্যে যারা অধিকতর বলীয়ান এবং যারা বেশ টাকা কমাই করে, তাদেরও অনেকে সুদের ব্যবসা করে গ্রামে। তারা তাদের উদ্বৃত্ত টাকা গ্রামাঞ্চলে লগ্নি খাটায়।

তারা ঢাকায় আসে ‘ক্যাশের’ জন্য। কেউ আসে দেনা শোধের টাকা উপার্জনের জন্য। আবার ‘ক্যাশের’ জন্য যারা আসে, তারা কিছু টাকা জমিয়েই ‘দেশে’ চলে যায়, আবার ফিরে আসে। সঞ্চিত টাকায় তারা গরু-ছাগল কিনে, জমিতে লগ্নি করে, আবার অনেকেই টাকা লগ্নি করে উচ্চ সুদে। এসব ব্যাপারে কোনো গবেষণা নেই, জরিপ চাই। অথচ জরিপ হওয়া দরকার। কীভাবে ‘গরিব’ মানুষদের একাংশও সুদের ব্যবসায় ঢুকছে, এটি বোঝা দরকার সমাজের পরিবর্তনকে বোঝার জন্য। সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে, প্রতীয়মান হচ্ছে, তা কতটুকু সত্য ও গভীরতর তা বোঝা দরকার।

কয়েকদিন আগেই আমি নেত্রকোনায় এক ‘বুয়া’র কাছ থেকে শুনেছি তার ‘ধার’ (লোন) করার কথা। সে প্রয়োজন হওয়ায় দুই হাজার টাকা ধার নিয়েছে। সুদের হার এক হাজার টাকায় মাসে ১০০ টাকা। পরিশোধ করার কথা ছিল মাসখানেক আগে। সে মনে করেছিল, তার যে জমি ‘বন্ধকি’ নেওয়া ছিল, ওই ক্ষেতের ধান বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু বিধি বাম! কিছুদিন আগে অগ্রহায়ণী ফসল ওঠার সময় যে আচমকা ঝড়-বৃষ্টি হলো, তাতে তার ফসল নষ্ট হয়েছে।

কিছু ফসল তুলতে পেরেছে, বাকিটা গেছে নষ্ট হয়ে। এতে সে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে কথামতো ‘সুদে’ নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। এর জন্য সে এখন ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত-কীভাবে ওই টাকা পরিশোধ করবে? অথচ উচ্চ সুদের বোঝা বইতে হবে। দেখা যাচ্ছে, কাজের ‘বুয়া’রাও তাদের অল্প-স্বল্প সঞ্চয় দিয়ে গ্রামে চুক্তিতে জমি রাখে, তার থেকে ফসল পায়। ওই ফসল বিক্রি করে টাকা ঢাকায় আনে।

এতে বাসার চালের খরচ আর লাগে না। পুষিয়ে যায়, সঞ্চয় বাড়ে। ওই সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সে গ্রামে গরু-ছাগল কেনে এবং তা অন্যদের পুষতে দেয় চুক্তির ভিত্তিতে। সুযোগ পেলেই টাকা গ্রামে ধারও দেয়।

বস্তুত, এ ধরনের ঘটনা এখন ডাল-ভাতের মতো। আগের দিনে সুদের ব্যবসায়ী ছিল হাতেগোনা কিছু লোক। এখন যারই কিছু সঞ্চয় আছে, সেই-ই সুদে টাকা খাটায়। এ ব্যবসায় নতুন অংশীদার হচ্ছে ‘রেমিট্যান্স’ প্রাপকরা। রেমিট্যান্স প্রাপকদের অনেকেরই বেশ উদ্বৃত্ত টাকা। তারা নানা ধরনের খরচ, বিনিয়োগ করার পরও তাদের সঞ্চয় থাকে। যেহেতু এসব টাকা ব্যাংকে রেখে কোনো সুদ এখন পাওয়া যায় না এবং যেহেতু সঞ্চয়পত্রও পাওয়া যায় না, তাই তারাও বর্ধিত সংখ্যায় গ্রামে সুদের ব্যবসায় ঢুকছে। অথচ মজার বিষয়, কেউ এখন তাদের সুদখোর মহাজন বলে না।

সুদের ব্যবসাকে কেউ এখন নিন্দার চোখেও দেখে না। গণহারে সুদের এই ব্যবসার বিরুদ্ধে এখন কোনো আন্দোলন-সংগ্রামও নেই। ‘ধারের’ ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, ছোট ছোট মহাজনি ব্যবসা এখন জনপ্রিয় না হোক, বেশ দৃশ্যমান। সবাই বুঝেছে, সুদের ব্যবসায় লাভ বেশি। এ ব্যবসায় টাকা তুলতে পারলে কোনো লোকসান নেই। আবার গ্রামাঞ্চলে টাকা আদায়ের একটা ‘ব্যবস্থা’ও আছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সুদের ব্যবসা টিকে আছে, এর প্রসার ঘটছে। শত হোক প্রয়োজনমতো, সময়মতো, সঠিক পরিমাণের ঋণ সুদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। অতএব সুদের ব্যবসা এখন জমজমাট।

জমজমাট ব্যাংকের সুদের ব্যবসাও। কত সমস্যা যাচ্ছে, করোনায় কতকিছু ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, চারদিকে অনিশ্চয়তা। কিন্তু ব্যাংকের সুদের ব্যবসার কোনো কমতি নেই। ঋণখেলাপ সমস্যা যাদের নেই অথবা কম, তাদের লাভের ঘাটতি নেই। ২০২১ সালের যে খবর কাগজে দেখলাম তাতে প্রতীয়মান হয়, ব্যাংকগুলোর অধিকাংশই ‘প্রি-প্রভিশনিং’ মুনাফা অনেক বেশি করেছে। করবেই তো। ব্যাংকের সুদের ব্যবসার মজা আলাদা। সরকার নিয়ন্ত্রিত সুদের হার আমানতে কম এবং ঋণ বেশি। দুইয়ের তফাতই তাদের লাভ ও খরচের টাকা।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সুদের হারের নাম ‘নয়-ছয়’ নীতি। এমনিতে ‘নয়ছয়’ শব্দটি খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ব্যাংকের ক্ষেত্রে নয়। ব্যাংক আমানতকারীদের দেয় ছয় শতাংশ সুদ এবং ঋণের ওপর সুদ আদায় করে নয় শতাংশ। তফাতের তিন শতাংশকে বলা হয় ‘স্প্রেড’। সাধারণের ভাষায় ‘মার্জিন’। এই তিন শতাংশের টাকা দিয়ে যাবতীয় খরচ নির্বাহের পর যা থাকে, তা-ই তাদের ‘প্রফিট’ বা মুনাফা। মজা হচ্ছে, কোনো ব্যাংক সাধারণভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সুদ আমানতকারীদের দেয় না।

একবার তো এমন হলো যে, সুদের হার ২-৩ শতাংশে নামিয়ে আনে ব্যাংকগুলো-এ যেন আমেরিকা-জাপান, যেখানে আমানতের ওপর সুদ নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু সেখানে নাগরিকের জীবন সুনিশ্চিত। বেকার ভাতা আছে, অবসর ভাতা আছে, বার্ধক্য ভাতা আছে। এমনকি করোনাকালীন বেকারত্বে মাসে মাসে সরকার এত ডলার দিয়েছে যে, ওই ডলার দিয়ে বাংলাদেশিরা নাকি ফ্ল্যাট-বাড়ি কিনছে! এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে সঞ্চয়ের দরকার কী? আর ব্যাংকে টাকা রাখারই দরকার কী? সুদেরই বা কী দরকার? কিন্তু আমাদের দেশে সরকার তেমন কোনো সামাজিক দায়িত্ব পালন করে না।

বৃদ্ধদের দেখাশোনা, বেকারদের দেখাশোনা, অবসরপ্রাপ্তদের দেখাশোনা সরকার করে না। কিন্তু অপরপক্ষে সঞ্চয়কে করা হয় নিরুৎসাহিত। আমানতে থাকে না কোনো সুদ। সুদ কমাতে কমাতে যখন শূন্যে নিয়ে যাওয়ার অবস্থা, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম করে বলে দেয়-মূল্যস্ফীতির নিচে সুদের হার হবে না। ‘নয়-ছয়’ নীতি ঘোষিত হওয়ার পরও অনেক ব্যাংক ওই হারে সুদ দেয় না। যে যত কম পারে, তত দেয়। তাছাড়া রয়েছে সুদের ওপর উৎসে আয়কর কর্তন। তাও ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ নয়, একেবারে ১০ শতাংশ হারে। এতে প্রকৃত সুদ গিয়ে হয় মূল্যস্ফীতির অনেক নিচে।

ব্যাংকের এই নির্মম ব্যবহার-রীতি-নিয়ম মধ্যবিত্তের গলা টিপে ধরেছে। তার ওপর আছে আরেকটা অবিচার, যে কথা কেউ বলে না, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো নয়ই। এই ‘অত্যাচার’টা হচ্ছে সঞ্চয়ী আমানতের (সেভিংস ডিপোজিট) সুদের ওপর। খোঁজ নিলেই জানতে পারা যাবে, সঞ্চয়ী আমানতের ওপর সুদের হার কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ৬ শতাংশ নয়। সঞ্চয়ী আমানতে ব্যাংকগুলো পারলে কোনো সুদ দিতে চায় না। ২-৩ শতাংশ সুদ দেয় এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। অথচ সঞ্চয়ী আমানতকে ব্যাংকে বলা হয় ‘কোর ডিপোজিট’। অর্থাৎ আসল আমানত।

পাকিস্তান আমলে সঞ্চয়ী আমানতে মানুষের কোনো টাকাই থাকত না। বাঙালির তখন টাকা ধরে রাখার মতো শক্তি ছিল না; যা আয় তা-ই ব্যয়। পারলে ঋণ করে চলত। চাকরিজীবী যা বেতন পেত তার সবটাই খরচ করে ফেলতে বাধ্য হতো। সঞ্চয় বলে তাদের কিছু ছিল না। এ কারণে তখন ‘সঞ্চয়ী আমানতের’ টাকাকে তলবি আমানত (ডিমান্ড ডিপোজি) হিসাবে ধরা হতো। এখন আর এ অবস্থা নেই। বাঙালির সঞ্চয়ের ক্ষমতা হয়েছে। বেতনের টাকা অনেকের না ধরলেও চলে।

সঞ্চয়ী অভ্যাসও গড়ে উঠেছে। আয়-রোজগার বেড়েছে। ফলে সাধারণভাবে কেউ আর এখন সঞ্চয়ী আমানতের টাকা তোলে না। এই হিসাবে টাকা সবাই জমায়। এতে ‘সেভিংস অ্যাকাউন্টে’ ব্যালেন্স বাড়ে, আয় বাড়ে। মানুষ টাকা তোলে একান্ত প্রয়োজন হলে। আবার সঞ্চয়ী আমানতের টাকা এক সময়ে মেয়াদি আমানতে রূপান্তর করে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘মেয়াদি আমানতের’র (টাইম ডিপোজিট) সংজ্ঞাই বদল করে ফেলেছে। যতটুকু জানি, ৯০-৯২ শতাংশ সঞ্চয়ী আমানতের টাকা এখন ‘তলবি’ হিসাবে না ধরে ‘মেয়াদি আমানত’ হিসাবে ধরা হয়। ‘মেয়াদি আমানত’ ও ‘তলবি আমানত’ হিসাব করা হয় ‘ব্রড মানি’ ও ‘ন্যারো মানি’ হিসাবের জন্য।

এ অবস্থায় আমার প্রশ্ন, কেন সঞ্চয়ী আমানতে সুদের হার কম হবে? কেন এ ক্ষেত্রেও ছয় শতাংশ সুদ দেওয়া হবে না? সঞ্চয়ী আমানত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি মেয়াদি আমানত হয়, তাহলে সুদের হার এতে কম হবে কেন? এটা তো ঠকানোর ব্যবসা। ৩০-৩২ শতাংশ আমানত সঞ্চয়ী আমানত। এ খাতে ব্যাংকগুলো কত ঠকায়, তা হিসাব করলে সেটা প্রচুর টাকা হবে না কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

সুদের ব্যবসার সেকাল-একাল

 ড. আর এম দেবনাথ 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনটা ‘ভালো’ ব্যবসা? এখানে ‘ভালো’ ব্যবসা মানে লাভজনক ব্যবসার কথা বলছি। আমি জানি, এ প্রশ্নের উত্তর একেকজন একেকটা দেবেন। এটাই স্বাভাবিক। কেউ বলবেন হুন্ডি ব্যবসা ভালো ব্যবসা, কেউ বলবেন চোরাচালানের ব্যবসা ভালো ব্যবসা।

আবার কারও মতে, ভালো ব্যবসা হবে সোনার ব্যবসা, মজুদদারি ব্যবসা অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি ব্যবসা; উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে সয়াবিন তেলের ব্যবসার কথা, যার দাম বছরে কয়েকবার বাড়ানো হয়। এভাবে লাভজনক ব্যবসার তালিকা দীর্ঘায়িত করা যায়। আমি ওই পথে হাঁটছি না। আমি ধরে নিচ্ছি এক পাঠকের কথা। তার মতে, সবচেয়ে ভালো ব্যবসা হচ্ছে সুদের ব্যবসা বা মহাজনি ব্যবসা।

এ ব্যবসায় কোনো লোকসান নেই। তবে ধার দেওয়া টাকা তোলার জবরদস্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই সুদের ব্যবসা দেশ বিভাগের (১৯৪৭) আগে জমিদার, তালুকদার শ্রেণির লোকরা করে প্রচুর পয়সা কামাই করত, জমির মালিক হতো। ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের একশ্রেণির ব্যবসায়ী, যারা সুদের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। তারাও অর্থবিত্তে ছিল বলীয়ান। তখন অবশ্য সুদের ব্যবসা হতো নিজস্ব টাকায়। আজকের দিনের মতো ‘আমানত’ (ডিপোজিট) সংগ্রহের মাধ্যমে নয়, যা করে ব্যাংকগুলো।

দেশ বিভাগ-পূর্ব সুদের ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড ক্ষমতাবান ছিল। তারা যেমন উচ্চ সুদে ঋণ দিত, যেমন রোজগার করত দেদার, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে তারা স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল-দাতব্য প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলত। এসবের উদাহরণ এখনো রয়ে গেছে। অবশ্য তখন সুদের ব্যবসায়ীরা ছিল নিন্দনীয় ব্যক্তি। এ ব্যবসা ছিল সমালোচনার বিষয়বস্তু। কারণ সুদের ব্যবসা সাধারণ মানুষ ও কৃষককে ফতুর করে ফেলত। আর এসব জমি চলে যেত সুদখোর মহাজনদের হাতে।

বস্তুত সুদখোর-মহাজনরা সমাজে তীব্র নিন্দার পাত্র হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে বহু। বহু লেখালেখি সুদের ব্যবসা ও সুদখোর মহাজনদের ওপর হয়েছে। সমাজ ছিল সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে, অথচ এ ব্যবসার অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। মানুষের বিপদে-আপদে টাকার দরকার। কোত্থেকে আসবে টাকা? তখন এত ব্যাংক ছিল না। অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখেই সুদের ব্যবসার জন্ম। অথচ সমাজ সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে, বিরুদ্ধে সুদখোর মহাজনদের। আজকের অবস্থা কী?

স্বাধীন বাংলাদেশে কি সুদের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে? দেশ বিভাগের (১৯৪৭) পর পূর্ব পাকিস্তান (১৯৪৭-৭১) পর্ব গেছে। তারপর স্বাধীনতার এখন ৫০-৫১ বছর। সুদের ব্যবসা কি হ্রাস পেয়েছে? মনে হয় না। মাঝে মাঝেই সুদের ব্যবসা, এর ফলাফল ইত্যাদির ওপর খবর ছাপা হয়। এখন সুদের ব্যবসার জন্য জমিদার, তালুকদার অথবা কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিশেষ সম্প্রদায় লাগে না। এখন সুদের ব্যবসা করে প্রচুর লোক। এনজিওগুলো তো করেই-প্রকাশ্যে।

অথচ তাদের কেউ নিন্দা করে না। হয়তো করে কিছুটা সমালোচনা। সুদের ব্যবসা করে এখন এমন অনেকেই, যার কিছু উদ্বৃত্ত টাকা আছে। ঢাকা শহরে উত্তরবঙ্গের রিকশাওয়ালাদের সঙ্গে কথা বললেই এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। রিকশাওয়ালাদের মধ্যে যারা অধিকতর বলীয়ান এবং যারা বেশ টাকা কমাই করে, তাদেরও অনেকে সুদের ব্যবসা করে গ্রামে। তারা তাদের উদ্বৃত্ত টাকা গ্রামাঞ্চলে লগ্নি খাটায়।

তারা ঢাকায় আসে ‘ক্যাশের’ জন্য। কেউ আসে দেনা শোধের টাকা উপার্জনের জন্য। আবার ‘ক্যাশের’ জন্য যারা আসে, তারা কিছু টাকা জমিয়েই ‘দেশে’ চলে যায়, আবার ফিরে আসে। সঞ্চিত টাকায় তারা গরু-ছাগল কিনে, জমিতে লগ্নি করে, আবার অনেকেই টাকা লগ্নি করে উচ্চ সুদে। এসব ব্যাপারে কোনো গবেষণা নেই, জরিপ চাই। অথচ জরিপ হওয়া দরকার। কীভাবে ‘গরিব’ মানুষদের একাংশও সুদের ব্যবসায় ঢুকছে, এটি বোঝা দরকার সমাজের পরিবর্তনকে বোঝার জন্য। সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে, প্রতীয়মান হচ্ছে, তা কতটুকু সত্য ও গভীরতর তা বোঝা দরকার।

কয়েকদিন আগেই আমি নেত্রকোনায় এক ‘বুয়া’র কাছ থেকে শুনেছি তার ‘ধার’ (লোন) করার কথা। সে প্রয়োজন হওয়ায় দুই হাজার টাকা ধার নিয়েছে। সুদের হার এক হাজার টাকায় মাসে ১০০ টাকা। পরিশোধ করার কথা ছিল মাসখানেক আগে। সে মনে করেছিল, তার যে জমি ‘বন্ধকি’ নেওয়া ছিল, ওই ক্ষেতের ধান বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু বিধি বাম! কিছুদিন আগে অগ্রহায়ণী ফসল ওঠার সময় যে আচমকা ঝড়-বৃষ্টি হলো, তাতে তার ফসল নষ্ট হয়েছে।

কিছু ফসল তুলতে পেরেছে, বাকিটা গেছে নষ্ট হয়ে। এতে সে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে কথামতো ‘সুদে’ নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। এর জন্য সে এখন ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত-কীভাবে ওই টাকা পরিশোধ করবে? অথচ উচ্চ সুদের বোঝা বইতে হবে। দেখা যাচ্ছে, কাজের ‘বুয়া’রাও তাদের অল্প-স্বল্প সঞ্চয় দিয়ে গ্রামে চুক্তিতে জমি রাখে, তার থেকে ফসল পায়। ওই ফসল বিক্রি করে টাকা ঢাকায় আনে।

এতে বাসার চালের খরচ আর লাগে না। পুষিয়ে যায়, সঞ্চয় বাড়ে। ওই সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সে গ্রামে গরু-ছাগল কেনে এবং তা অন্যদের পুষতে দেয় চুক্তির ভিত্তিতে। সুযোগ পেলেই টাকা গ্রামে ধারও দেয়।

বস্তুত, এ ধরনের ঘটনা এখন ডাল-ভাতের মতো। আগের দিনে সুদের ব্যবসায়ী ছিল হাতেগোনা কিছু লোক। এখন যারই কিছু সঞ্চয় আছে, সেই-ই সুদে টাকা খাটায়। এ ব্যবসায় নতুন অংশীদার হচ্ছে ‘রেমিট্যান্স’ প্রাপকরা। রেমিট্যান্স প্রাপকদের অনেকেরই বেশ উদ্বৃত্ত টাকা। তারা নানা ধরনের খরচ, বিনিয়োগ করার পরও তাদের সঞ্চয় থাকে। যেহেতু এসব টাকা ব্যাংকে রেখে কোনো সুদ এখন পাওয়া যায় না এবং যেহেতু সঞ্চয়পত্রও পাওয়া যায় না, তাই তারাও বর্ধিত সংখ্যায় গ্রামে সুদের ব্যবসায় ঢুকছে। অথচ মজার বিষয়, কেউ এখন তাদের সুদখোর মহাজন বলে না।

সুদের ব্যবসাকে কেউ এখন নিন্দার চোখেও দেখে না। গণহারে সুদের এই ব্যবসার বিরুদ্ধে এখন কোনো আন্দোলন-সংগ্রামও নেই। ‘ধারের’ ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, ছোট ছোট মহাজনি ব্যবসা এখন জনপ্রিয় না হোক, বেশ দৃশ্যমান। সবাই বুঝেছে, সুদের ব্যবসায় লাভ বেশি। এ ব্যবসায় টাকা তুলতে পারলে কোনো লোকসান নেই। আবার গ্রামাঞ্চলে টাকা আদায়ের একটা ‘ব্যবস্থা’ও আছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সুদের ব্যবসা টিকে আছে, এর প্রসার ঘটছে। শত হোক প্রয়োজনমতো, সময়মতো, সঠিক পরিমাণের ঋণ সুদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। অতএব সুদের ব্যবসা এখন জমজমাট।

জমজমাট ব্যাংকের সুদের ব্যবসাও। কত সমস্যা যাচ্ছে, করোনায় কতকিছু ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, চারদিকে অনিশ্চয়তা। কিন্তু ব্যাংকের সুদের ব্যবসার কোনো কমতি নেই। ঋণখেলাপ সমস্যা যাদের নেই অথবা কম, তাদের লাভের ঘাটতি নেই। ২০২১ সালের যে খবর কাগজে দেখলাম তাতে প্রতীয়মান হয়, ব্যাংকগুলোর অধিকাংশই ‘প্রি-প্রভিশনিং’ মুনাফা অনেক বেশি করেছে। করবেই তো। ব্যাংকের সুদের ব্যবসার মজা আলাদা। সরকার নিয়ন্ত্রিত সুদের হার আমানতে কম এবং ঋণ বেশি। দুইয়ের তফাতই তাদের লাভ ও খরচের টাকা।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সুদের হারের নাম ‘নয়-ছয়’ নীতি। এমনিতে ‘নয়ছয়’ শব্দটি খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ব্যাংকের ক্ষেত্রে নয়। ব্যাংক আমানতকারীদের দেয় ছয় শতাংশ সুদ এবং ঋণের ওপর সুদ আদায় করে নয় শতাংশ। তফাতের তিন শতাংশকে বলা হয় ‘স্প্রেড’। সাধারণের ভাষায় ‘মার্জিন’। এই তিন শতাংশের টাকা দিয়ে যাবতীয় খরচ নির্বাহের পর যা থাকে, তা-ই তাদের ‘প্রফিট’ বা মুনাফা। মজা হচ্ছে, কোনো ব্যাংক সাধারণভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সুদ আমানতকারীদের দেয় না।

একবার তো এমন হলো যে, সুদের হার ২-৩ শতাংশে নামিয়ে আনে ব্যাংকগুলো-এ যেন আমেরিকা-জাপান, যেখানে আমানতের ওপর সুদ নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু সেখানে নাগরিকের জীবন সুনিশ্চিত। বেকার ভাতা আছে, অবসর ভাতা আছে, বার্ধক্য ভাতা আছে। এমনকি করোনাকালীন বেকারত্বে মাসে মাসে সরকার এত ডলার দিয়েছে যে, ওই ডলার দিয়ে বাংলাদেশিরা নাকি ফ্ল্যাট-বাড়ি কিনছে! এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে সঞ্চয়ের দরকার কী? আর ব্যাংকে টাকা রাখারই দরকার কী? সুদেরই বা কী দরকার? কিন্তু আমাদের দেশে সরকার তেমন কোনো সামাজিক দায়িত্ব পালন করে না।

বৃদ্ধদের দেখাশোনা, বেকারদের দেখাশোনা, অবসরপ্রাপ্তদের দেখাশোনা সরকার করে না। কিন্তু অপরপক্ষে সঞ্চয়কে করা হয় নিরুৎসাহিত। আমানতে থাকে না কোনো সুদ। সুদ কমাতে কমাতে যখন শূন্যে নিয়ে যাওয়ার অবস্থা, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম করে বলে দেয়-মূল্যস্ফীতির নিচে সুদের হার হবে না। ‘নয়-ছয়’ নীতি ঘোষিত হওয়ার পরও অনেক ব্যাংক ওই হারে সুদ দেয় না। যে যত কম পারে, তত দেয়। তাছাড়া রয়েছে সুদের ওপর উৎসে আয়কর কর্তন। তাও ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ নয়, একেবারে ১০ শতাংশ হারে। এতে প্রকৃত সুদ গিয়ে হয় মূল্যস্ফীতির অনেক নিচে।

ব্যাংকের এই নির্মম ব্যবহার-রীতি-নিয়ম মধ্যবিত্তের গলা টিপে ধরেছে। তার ওপর আছে আরেকটা অবিচার, যে কথা কেউ বলে না, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো নয়ই। এই ‘অত্যাচার’টা হচ্ছে সঞ্চয়ী আমানতের (সেভিংস ডিপোজিট) সুদের ওপর। খোঁজ নিলেই জানতে পারা যাবে, সঞ্চয়ী আমানতের ওপর সুদের হার কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ৬ শতাংশ নয়। সঞ্চয়ী আমানতে ব্যাংকগুলো পারলে কোনো সুদ দিতে চায় না। ২-৩ শতাংশ সুদ দেয় এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। অথচ সঞ্চয়ী আমানতকে ব্যাংকে বলা হয় ‘কোর ডিপোজিট’। অর্থাৎ আসল আমানত।

পাকিস্তান আমলে সঞ্চয়ী আমানতে মানুষের কোনো টাকাই থাকত না। বাঙালির তখন টাকা ধরে রাখার মতো শক্তি ছিল না; যা আয় তা-ই ব্যয়। পারলে ঋণ করে চলত। চাকরিজীবী যা বেতন পেত তার সবটাই খরচ করে ফেলতে বাধ্য হতো। সঞ্চয় বলে তাদের কিছু ছিল না। এ কারণে তখন ‘সঞ্চয়ী আমানতের’ টাকাকে তলবি আমানত (ডিমান্ড ডিপোজি) হিসাবে ধরা হতো। এখন আর এ অবস্থা নেই। বাঙালির সঞ্চয়ের ক্ষমতা হয়েছে। বেতনের টাকা অনেকের না ধরলেও চলে।

সঞ্চয়ী অভ্যাসও গড়ে উঠেছে। আয়-রোজগার বেড়েছে। ফলে সাধারণভাবে কেউ আর এখন সঞ্চয়ী আমানতের টাকা তোলে না। এই হিসাবে টাকা সবাই জমায়। এতে ‘সেভিংস অ্যাকাউন্টে’ ব্যালেন্স বাড়ে, আয় বাড়ে। মানুষ টাকা তোলে একান্ত প্রয়োজন হলে। আবার সঞ্চয়ী আমানতের টাকা এক সময়ে মেয়াদি আমানতে রূপান্তর করে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘মেয়াদি আমানতের’র (টাইম ডিপোজিট) সংজ্ঞাই বদল করে ফেলেছে। যতটুকু জানি, ৯০-৯২ শতাংশ সঞ্চয়ী আমানতের টাকা এখন ‘তলবি’ হিসাবে না ধরে ‘মেয়াদি আমানত’ হিসাবে ধরা হয়। ‘মেয়াদি আমানত’ ও ‘তলবি আমানত’ হিসাব করা হয় ‘ব্রড মানি’ ও ‘ন্যারো মানি’ হিসাবের জন্য।

এ অবস্থায় আমার প্রশ্ন, কেন সঞ্চয়ী আমানতে সুদের হার কম হবে? কেন এ ক্ষেত্রেও ছয় শতাংশ সুদ দেওয়া হবে না? সঞ্চয়ী আমানত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি মেয়াদি আমানত হয়, তাহলে সুদের হার এতে কম হবে কেন? এটা তো ঠকানোর ব্যবসা। ৩০-৩২ শতাংশ আমানত সঞ্চয়ী আমানত। এ খাতে ব্যাংকগুলো কত ঠকায়, তা হিসাব করলে সেটা প্রচুর টাকা হবে না কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

rmdebnath@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন